Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
0/27
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

প্রেত লামার মন্দির – ৭

তখন প্রায় শেষ রাত। হঠাৎই ঘুম ভেঙে গেল দীপাঞ্জনের। বালিশের পাশে রাখা মোবাইল ফোনটা বাজছে। ফোনটা তুলে নিয়ে দীপাঞ্জন দেখল মোবাইল ফোনে ফুটে উঠেছে অবনী জোয়ারদারের নাম। উঠে বসে কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে তার কণ্ঠস্বর ভেসে এল, ‘আমি অবনীবাবু বলছি…।’

দীপাঞ্জন বলল, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, বলুন বলুন।’

ওপাশ থেকে অবনীবাবুর গলা ভেসে এল, ‘আমাকে লা লা…।’

কী লা… লা…?’

কিন্তু এরপরই আর কোনো সাড়া মিলল না ওপাশ থেকে। ফোনটা কেটে গেল। দীপাঞ্জন ঠিক বুঝতে পারল না তাকে কলব্যাক করা উচিত হবে কি না? জুয়ান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ ফোন হাতে করে বসে থেকে দীপাঞ্জন আবার শুয়ে পড়ল।

সকাল সাতটা নাগাদ ঘুম ভাঙল দীপাঞ্জনের। জুয়ান অবশ্য তার আগেই উঠে পড়েছিলেন। ঘুম থেকে ওঠার পরই দীপাঞ্জনের মনে পড়ে গেল অবনীবাবুর ফোন কলের ব্যাপারটা। যে কথাটা জুয়ানকে বলতেই তিনি বললেন ‘লা…লা’ করে ভোর রাতে তিনি তোমাকে গান শোনাচ্ছিলেন নাকি? অবাক ব্যাপারতো! একবার এখন ফোন করে দেখ।”

দীপাঞ্জন কল করল বেশ কয়েকবার, কিন্তু রিং হয়ে গেল। হয়তো তিনি ঘুম থেকে এখনও ওঠেননি। কিছুক্ষণের মধ্যে দরজাতে টোকা পড়ল। চা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন অ্যান। মিষ্টি হেসে সুপ্রভাত জানিয়ে তিনি চায়ের ট্রে-টা নামিয়ে রাখলেন।

জুয়ান তাকে সুপ্রভাত জানিয়ে জানতে চাইলেন ‘আমাদের বন্ধু ঘুম থেকে উঠেছেন?’

অ্যান জবাব দিলেন, ‘উনি মনে হয় ভোরবেলা বেরিয়ে গেছেন। দরজা খোলা দেখলাম। কিন্তু বাইরেও তিনি নেই।’—এই বলে তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।’

দীপাঞ্জন জুয়ানকে বললেন, ‘এত ভোরে ভদ্রলোক কোথায় যেতে পারেন?’

জুয়ান বললেন, ‘আমার ধারণা তিনি সম্ভবত হিসাব মেলাবার জন্য ভোরবেলা উঠেই মন্দিরে ছুটেছেন। তাড়াতাড়ি চা খেয়ে নাও। ওখানে যেতে হবে।’

কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল তারা। ঢাল বেয়ে নামতেই তারা দেখতে পেল কয়েকজন গ্রামবাসীকে নিয়ে সেই লামার দল জঙ্গলের দিকে এগোচ্ছে। একটা কুকুরও এগোচ্ছে তাদের পিছন পিছন। লামার দল আর কুকুরটা অদৃশ্য হয়ে গেল জঙ্গলের ভিতর। মিনিট খানেকের মধ্যে দীপাঞ্জনরাও প্রবেশ করল পাইন বনে। কয়েক পা এগোতেই তারা দেখল সেই কুকুরটা ঝোপের ধারে বসে একপাটি চামড়ার চটি চিবুচ্ছে। আমাদের দল এগিয়ে গেছে মন্দিরের দিকে।

দীপাঞ্জনরা যখন মন্দিরের সামনে গিয়ে উপস্থিত হল ঠিক তখনই লামা আর গ্রামবাসীরা দুরদাড় করে বাইরে বেরিয়ে আসছে। তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। গ্রামবাসীদের মধ্যে গতকালের পরিচিত কয়েক জন আছে। তাদেরই একজনকে দীপাঞ্জন প্রশ্ন করল, ‘কী হয়েছে?’

লোকটা ভয়ার্ত ভাবে বলল, ‘ভিতরে গিয়ে দেখুন। আবারও একজন গেল সেই লামার হাতে!

কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে দীপাঞ্জন আর জুয়ান ছুটল মন্দিরের ভিতরে। সেই বড় ঘরটাতে পৌঁছে স্তম্ভিত হয়ে গেল তারা। সেই ভয়ঙ্কর অপদেবতার মূর্তির কিছুটা তফাতে উপুড় হয়ে পড়ে আছেন অবনী জোয়ারদার। তাঁর গায়ের জ্যাকেটের পিঠের দিকে একটা ফুটো দেখা যাচ্ছে। সেখান থেকে রক্তধারা বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। তাঁর হাতে তখনও ধরা আছে তাঁর মোবাইল ফোনটা। কিছুটা তফাতে একটা পোড়া মোমবাতিও আছে।

প্রাথমিক বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে উঠে দীপঞ্জনরা ঘরের চারপাশে তাকাল। কোথাও কিছু নেই ঘরে। শুধু সেই দণ্ডায়মান বীভৎস মূর্তি আর ভয়ঙ্কর মাথাগুলো যেন হিংস্র উল্লাসে হাসছে তাদের দিকে তাকিয়ে!

জুয়ান বললেন, “তাহলে কি সেই লামাই হত্যা করল লোকটাকে? তোমাকেও ‘লা…লা’ বলছিল। আসলে কি লামা বলতে যাচ্ছিল কথাটা? কিন্তু কথাটা শেষ করে উঠতে পারেনি?

দীপাঞ্জন বলল, “আমারও তাই মনে হচ্ছে এখন। ইনি লামাই হয়তো বলতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তা কি করে সম্ভব? সত্যিই কি তবে লামার প্রেত আছে?’

জুয়ান বললেন, ‘প্রেত লামা নয়। লামার বেশধারী যে লোকটাকে আমরা বাঁচিয়েছিলাম, যাকে আমরা পড়ন্ত বিকালে এখানে ঢুকতে দেখেছিলাম সে হতে পারে। চলো আগে আশেপাশের ঘরগুলো ঘুরে দেখি।’

হলঘর সংলগ্ন ঘরগুলো তারা দ্রুত দেখে নিল। কিন্তু সে সব জায়গাতে এমন কোনো চিহ্ন মিলল না যা অবনীবাবুর মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মনে হতে পারে। এরপর মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে এল তারা। ভীত-সন্ত্রস্ত মুখে সেখানে জটলা করছে গ্রামবাসী আর লামারা। জুয়ান একজনকে প্রশ্ন করল, ‘কী করবে এখন?’

লোকটা জবাব দিল, ‘পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এখনই আসছে।।’

সত্যিই কিছুক্ষণের মধ্যে বনের বাইরে গাড়ি থামার শব্দ শোনা গেল। আর তারপর জনা পাঁচেক পুলিশকর্মীকে পাইন বনের ভিতর দিয়ে হেঁটে আসতে দেখা গেল। তারা পৌঁছে গেল মন্দিরের সামনে। একজন পুলিশ অফিসার আর তার সাথে চারজন রাইফেলধারী পুলিশ। তারা সবাই এখানকারই ভূমিপুত্র মনে হয়। অফিসারের বুকের নেমপ্লেটে নাম লেখা আছে ‘পি. তামাং।’ অফিসার প্রথমে জটলার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন লাশটা কোথায়?’

একজন লোক জবাব দিল, ‘মন্দিরের ভিতর।’

এরপর অফিসার দীপাঞ্জনদের দেখে মৃদু বিস্মিতভাবে জানতে চাইলেন, ‘আপানরা?’

দীপাঞ্জন তাকে নিজেদের পরিচয় দেবার পর বলল, ‘ভিক্টিমের নাম অবনী জোয়ারদার। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। মন্দির নিয়ে গবেষণা করতে এসেছিলেন। এই পরিচয়ই তিনি আমাদের দিয়েছিলেন। গতকাল সকালে এখানেই তাঁর সাথে আমাদের পরিচয়। আমরা উঠেছি মিসেস অ্যানের বাড়িতে। তারপর তিনিও সেখানে ওঠেন। দুপুর থেকে রাত আটটা-নটা পর্যন্ত তিনি বাড়িতেই ছিলেন। তারপর কখন এসেছেন এখানে জানি না।’

তামাং শুনে বললেন, ‘চলুন, আগে লাশটা দেখি।’

গ্রামবাসীরা এরপর আর ভিতরে ঢুকতে সাহস পেল না মনে হয়। অফিসার আর পুলিশকর্মীদের সাথে আবার মন্দিরে ঢুকে সেই ঘরে লাশটার সামনে পৌঁছে গেল তারা। লাশটা দেখার পর তামাং বললেন ‘লাশটা উলটাও।’ একজন পুলিশকর্মী লাশটা উলটাল। অবনীবাবুর বুকের কাছে একই রকম ছিদ্র। যেন কোনো তীক্ষ্ণ অস্ত্রে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেওয়া হয়েছে তার বুক। তামাং বললেন, ‘এর আগেও এখানে সে সব লাশ পাওয়া গেছে সবারই বুকে এমন ক্ষত চিহ্ন ছিল। দেখে মনে হচ্ছে চার-পাঁচ ঘণ্টা আগে ব্যাপারটা ঘটেছে।’

এরপর তিনি একজন কনস্টেবলকে বললেন ‘ফোনটা তুলুন। দেখি কোন কোন ফোন শেষে গেছে বা এসেছিল? দীপাঞ্জন এবার বলল, ‘শেষ ফোনটা তিনি আমাকেই করেছিলেন ভোর রাতে আর আমি করেছিলাম একটু আগে।’ ও কথা বলার পর সে ফোনের ব্যাপারটা খুলে বলল অফিসারকে। পুরোটা শোনার পর অফিসার বিস্মিত ভাবে বললেন, ‘কিন্ত লা…লা…।’ –এ শব্দের মানে কি?

দীপাঞ্জন বললেন, ‘হয়তো তিনি লামা কথাটা বলতে চেয়েছিলেন।

এ কথা শুনে অফিসার বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। দীপাঞ্জন বলল, ‘হ্যাঁ, আমার সাথে তাঁর শুধু এইটুকুই কথা হয়েছে। মোবাইল কানেকশন যে কোম্পানির তাদের কাছে আমাদের কথোপকথন জানতে চাইলে আপনি পেয়ে যাবেন।

তামাং পুলিশকর্মীদের দিতে তাকিয়ে বললেন, ‘লাশটা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করো।’ আর দীপাঞ্জনদের উদ্দেশে বললেন, ‘চলুন মিসেস অ্যানের বাড়ি যাব। সেখানে বসে তার আর আপনাদের এজাহারগুলো লিপিবদ্ধ করতে হবে।’

পুলিশকর্মীরা মৃতদেহ ওঠাবার তোড়জোড় শুরু করল। আর তামাং-এর সাথে মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে এল দীপাঞ্জন-জুয়ান। তামাং অবশ্য বাইরে বেরিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে যারা মন্দিরে ঢুকে প্রথম লাশটা দেখেছিল তাদের নামধাম টুকে নিলেন। তারপর রওনা হলেন অ্যানের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

দরজাতে কড়া নাড়তেই দরজা খুললেন অ্যান। দীপাঞ্জনদের সাথে পুলিশ অফিসারকে দেখে বিস্মিত ভাবে জানতে চাইলেন, ‘কী হয়েছে?’

দীপাঞ্জন বলল, ‘ঘরে চলুন সব বলছি।’

অফিসার আর অ্যানকে নিজেদের ঘরেই আনল দীপাঞ্জনরা। বারান্দা থেকে চেয়ার এনে সে ঘরেই বসল চারজন। অ্যান উৎকণ্ঠিতভাবে বললেন, ‘এবার বলুন কি হয়েছে?’

জুয়ান বললেন, ‘অবনী জোয়ারদার খুন হয়েছেন মন্দিরের মধ্যে। তাই অফিসার আমাদের এজাহার নিতে এসেছেন।’

কথাটা শুনেই বৃদ্ধা ‘ও মাই গড!’ বলে আর্তনাদ করে উঠলেন। তারপর দু-হাতে ধরা লাঠিটার ওপর ঝুঁকে পড়ে মাথা ঠেকিয়ে স্থির হয়ে গেলেন।

বেশ কয়েক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেল ঘর। তারপর তামাং তার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘দেখুন আপনি বয়স্ক মানুষ। এখানে আপনাকে সবাই সম্মান করে জানি। আপনাকে বিব্রত করতে খারাপ লাগছে ঠিকই। কিন্তু আমাকে আমার ডিউটি পালন করতে হবে। যেহেতু লোকটা এখানে এসে উঠেছিল তাই আপনার সাথে কথা বলতে চাই।’

অফিসারের কথা শুনে ধীরে ধীরে মুখ তুললেন বৃদ্ধা। তারপর বললেন ‘বলুন কী জানতে চান?’ তাঁর মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে বিহ্বলতার ছাপ।

অফিসার এবার তাঁর প্রশ্ন করে যেতে লাগলেন বৃদ্ধাকে। অবনীবাবু কখন এসেছিলেন, কিভাবে এসেছিলেন, কেন এসেছিলেন এসব প্রশ্ন। ধীরে ধীরে জবাব দিতে লাগলেন বৃদ্ধা তার সাথে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে দীপাঞ্জনদেরও দু-একটা প্রশ্ন করতে লাগলেন অফিসার। উত্তর দিয়ে যেতে লাগল তারাও। গোঁফে হাত বোলাতে বোলাতে অফিসার মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলেন তাদের কথা। আর গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো তাঁর পুলিশের ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করতে লাগলেন। মিসেস অ্যানের কথার সাথে মিলে যেতে লাগল। জুয়ান আর দীপাঞ্জনের বক্তব্য। সেটাই স্বাভাবিক। অফিসার শেষ প্রশ্ন করলেন, ‘ভদ্রলোক কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন কোনো ধারণা আছে?

ভদ্রমহিলা বললেন ‘সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ দেখি ওনার ঘরের দরজা খোলা। ভিতরে উনি নেই। তার আগে কোনো সময় হবে।’

অফিসার জবাব শুনে উঠে দাঁড়িয়ে মিসেস অ্যানকে বললেন ‘আমার আর কিছু জানার নেই আপনার কাছে।’ তারপর দীপাঞ্জনদের উদ্দেশে বললেন ‘আপনাদের থেকেও আমার এই মুহূর্তে জানার কিছু নেই। তবে যেহেতু আপনারা এ ঘটনার সাথে কিছুটা হলেও জড়িয়ে পড়েছেন তাই আমি না বললে এ জায়গা ছেড়ে যাবেন না।’

দীপাঞ্জন বলল ‘আমাদের কিন্তু কাল ভোরেই ফেরার কথা।’

তামাং বললেন ‘আপনারা কিছু মনে করবেন না একটা কথা বলি। পুলিশের কাছে কেউই কিন্তু সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। বিশেষত যখন মৃতের শেষ কলটা আপনাদের কাছেই এসেছিল।’-এই বলে আর কোনো কথা না বলে ঘর ছাড়লেন অফিসার। আর ঘর ছাড়লেন বৃদ্ধাও।

তারা চলে যাবার পর জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়াল দীপাঞ্জন আর জুয়ান। জানলা দিয়ে তারা দেখল অফিসার তামাং পাইনবনে ফিরে গেলেন। কিছুক্ষণ পর গ্রামবাসীরা, লামারা আর পুলিশকর্মীরা বেরিয়ে এল বনের ভিতর থেকে। যতদূর মনে হল অবনীবাবুর মৃতদেহটা তুলে নিয়ে পুলিশের গাড়িটা রওনা হল। লামার দল আর গ্রামবাসীরাও রওনা হল ফেরার জন্য। ফাঁকা হয়ে গেল জায়গাটা। দীপাঞ্জন বলল, ‘পুলিশ অফিসার শেষে আমাদেরও সন্দেহ করে বসলেন যে। আটকে পড়লে মুশকিল হবে।’

জুয়ান বললেন, ওকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ওটাই ওদের কাজ।’—এই বলে বাইরের বারান্দাতে চেয়ার টেনে নিয়ে গিয়ে বসলেন জুয়ান। দীপাঞ্জনও তার পাশে গিয়ে বসল। গভীরভাবে কী যেন ভাবতে লাগলেন জুয়ান। সময় এগিয়ে চলল। বেলা গড়াতে শুরু করল দুপুরের দিকে। বেলা একটা নাগাদ ঘরে ঢুকে বাথরুমে গিয়ে একে একে স্নান সেরে নিল দীপাঞ্জনরা। আর একটু পরই খাবারের ট্রে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন অ্যান। হাতে ট্রে-তে রাখা দুটো ডালের বাটি আর কয়েকটা হাত-রুটি। টেবিলের ওপর ট্রে-টা নামিয়ে রেখে বিষণ্ণ ভাবে বললেন, ‘মাফ করবেন। এর চেয়ে বেশি কিছু করা আজ আর আমার পক্ষে সম্ভব হল না। আসলে এই বয়সে এসব ঘটনা আর আমি নিতে পারিনা। ঘটনাটা শোনার পর থেকেই আমার মন আর শরীর দুটোই খারাপ লাগছে। কাল যখন ওর হাতের রক্ত মুছিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিলাম তখনও কি জানতাম…।-এই বলে থেমে গেলেন বৃদ্ধা। দীপাঞ্জন সহানুভূতির স্বরে বলল ‘আপনার মনের অবস্থা আমরা বুঝতে পারছি। আপনি বরং ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নিন।’ বিষণ্ণ হেসে ধীর পায়ে ঘর ছাড়লেন মেরী অ্যান।

খেতে বসল দীপাঞ্জন আর জুয়ান। কিন্তু একটা রুটির টুকরো ছিঁড়ে মুখে তুলতে গিয়েও হাতটা নামিয়ে নিলেন তিনি। দীপাঞ্জন জিজ্ঞেস করল ‘কি হল?’

জুয়ান বলল, ‘আমাকে এখনই একবার পাইন বনে মন্দিরের ওদিকে যেতে হবে।’ দীপাঞ্জন বলল, ‘এখনই? চলুন আমিও যাই।’

জুয়ান বললেন না। তুমি এখানেই থাকো। মিসেস অ্যানের খেয়াল রাখা দরকার। আমি আসছি।’—এই বলে বেরিয়ে গেলেন প্রফেসর জুয়ান। তিনি চলে যাবার পর দীপাঞ্জন কোনোরকমে খাওয়া সেরে নিল। তারপর প্রতীক্ষা করতে লাগল জুয়ানের ফিরে আসার জন্য। নিস্তব্ধ পাহাড়ি দুপুর এগিয়ে চলল বিকালের দিকে।’