Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
আমি নাথুরাম গডসে বলছি – কুশীলব বসু
আমি নাথুরাম গডসে বলছি – কুশীলব বসু
0/4
আমি নাথুরাম গডসে বলছি – কুশীলব বসু

এই বইয়ের মুখবন্ধ

মুখবন্ধ

ইতিহাসের এক বিতর্কিত চরিত্র নাথুরাম গডসে। একদা ঘোর গান্ধী অনুগামী এবং গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের অন্যতম সহযাত্রী নাথুরাম কি কারনে ঘোর গান্ধী বিরোধী হয়ে পড়লেন শুধু তাই নয় ভেবে নিতে এক মুহূর্তের জন্যেও দ্বিধান্বিত হলেন না যে হিন্দু ধর্মের স্বার্থে গান্ধীর মুসলিম তোষণ নীতিকে একমাত্র স্তব্ধ করা সম্ভব হবে যদি গান্ধীকে চিরতরে স্তব্ধ করা যায়। তাই ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারী অর্থাৎ ভারতের স্বাধীনতার প্রায় দু’মাসের মাথায় হত্যা করলেন গান্ধীকে। কিন্তু কে ছিলেন এই মাথুরাম গডসে? তিনি কি শুধু একজন হত্যাকারী মাত্র। গান্ধী হত্যার পর দেশবাসীর ধারণা ছিলো যে তার স্থান হবে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ এটা প্রমাণ করেছে যে নাথুরামের নামের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে হিন্দুজাতির মান-অপমানের প্রশ্নটিও। তাই এখনও নাথুরাম গডসের মৃত্যুদিন পালন করা হয়। শুধু তাই নয় গডসের স্মৃতিতে মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়। গত বছর মহারাষ্ট্রের থানে এবং উত্তরপ্রদেশের মেরঠে তার মৃত্যুদিন উপলক্ষে ‘বলিদান দিবস’ পালন করে ভারতীয় হিন্দু মহাসভা। উল্লেখ্য যে এই বলিদান দিবস উপলক্ষে নাথুরাম গডসের নামে একটি ওয়েবসাইটও চালু করে হিন্দু মহাসভা। নাথুরামকে দেশের অধিকাংশ মানুষ গান্ধী হত্যার আসামী হিসেবে ভেবে নিতেই অভ্যস্ত। কিন্তু নাথুরামের কর্মময় জীবন যে কত বর্ণময় ছিলো তা প্রকাশ করাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য। পুনের এক গোঁড়া ব্রাহ্মণ পরিবারের চতুর্থ সন্তান চিন্তা ভাবনায় ছিলেন খুবই উৎকৃষ্ট। গতানুগতিক শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও টেলারিং-এর ডিপ্লোমা ছিলো তার এবং পুণা শহরে ছিলো তার একটি টেলারিং এর দোকানও এবং বলা বাহুল্য এই টেলারিং-এর দোকান থেকেই তার সংসার চলতো। তবে টেলারিং-এর দোকান চালাবার সঙ্গে সঙ্গে তিনি কিন্তু নিরন্তর পড়াশোনাও চালিয়ে গিয়েছিলেন। এই পড়াশোনার ক্ষেত্রে ইতিহাস ছিলো তার অন্যতম আকর্ষনীয় বিষয় এই সময়ের মধ্যেই তার পড়া হয়ে গিয়েছিল শুধুমাত্র ভারতবর্ষের প্রাচীন ও আধুনিক ইতিহাসই নয়, ইংল্যান্ড ফ্রান্স এমনকি আমেরিকা ও রাশিয়ার ইতিহাসও। নাথুরাম যেমন সাভারকার নিয়ে খুব উৎসাহী ছিলেন ঠিক তেমনি গান্ধীকে জানার ক্ষেত্রেও ছিলো তার প্রবল উৎসাহ। তবে প্রথম থেকেই নাথুরাম হিন্দু ইতিহাস এবং বিশেষ করে হিন্দু সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্ত চিন্তার প্রতিও তার আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। জাতপাত প্রথা রোধ করতেও তাকে সচেষ্ট হতে দেখা যায়। নাথুরাম তার জবানীতে উল্লেখ করেছেন তার আগ্রহের বইগুলি সম্পর্কে। এর মধ্যে রয়েছে দাদাভাই নৌরজী, স্বামী বিবেকানন্দ, গোখলে এবং বালগঙ্গাধর তিলক। নাথুরাম মনে করতেন দেশের স্বাধীনতার জন্য যেমন ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা উচিত ঠিক একই ভাবে মুসলিম ‘বিজয়’ এর বিরুদ্ধেও বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করা উচিত। গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার সময় হিন্দু-মুসলমান বিষয়টি নিয়ে নাথুরাম চিন্তাভাবনা শুরু করেন এবং এই বিষয়টি নিয়ে চর্চা করতে করতেই তাঁর মনে হয় গান্ধীর নীতি অযোক্তিকভাবে মুসলিম তোষণেরই নামান্তর। বিশেষ করে গান্ধী যখন ‘কমিউনাল এ্যাওয়ার্ড’ কে মেনে নিলেন তখন থেকেই নাথুরাম অসহযোগ আন্দোলন পরিত্যাগ করে হিন্দু মহাসভার দিকে ঝুঁকলেন, কারন তার মনে হলো এই হিন্দু-মহাসভা, হলো হিন্দুদের একমাত্র সংগঠন এবং তারাই হিন্দুর স্বার্থে রুখে দাঁড়াতে পারবে এবং লড়াই করতে সক্ষম হবে।

ইতিমধ্যে ১৯৩২ সালে ডক্টর হেডগেওয়ার নাগপুরে প্রতিষ্ঠা করেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। নাথুরাম যোগ দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘে। নাথুরাম ছিলেন এই দলে যোগ দেওয়া প্রথম পর্যায়ের স্বেচ্ছসেবকদেরই একজন। কিছুকাল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক দলে থাকলেও পরে তিনি সক্রিয় সদস্য হন হিন্দু মহাসভা দলের। হিন্দু মহাসভা দলের নেতা এবং সভাপতি তখন বীর সাভারকার।

১৯৩৮ সালে নাথুরাম যোগ দিলেন ‘হায়দরবাদ সত্যগ্রহ’ আন্দোলনে এবং এই সত্যগ্রহ আন্দলনে অংশগ্রহণ করার জন্য তাকে কারাবরণও করতে হয়। এক বছর জেলে থাকাকালীন নাথুরাম জেলের মধ্যেই গড়ে তোলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক দলের এক শাখা। শুধু জেলে বন্দিই নয়, জেলের মধ্যে তাকে সম্মুখীন হতে হয়েছিল এক নারকীয় ও বর্বর অত্যাচারেরও। জেলের মধ্যে ‘বন্দেমাতরম’ গানটি গাওয়ার জন্য তাকে নিজামের লেঠেল বাহিনীর হাতে বেত্রাঘাতের আঘাতও সহ্য করতে হয়েছিল। নিজামের জেল থেকে বেরিয়ে নাথুরাম হিন্দু-জাগরণ আন্দোলনের সঙ্গে আরও একাত্ম হয়ে পড়লেন এবং হিন্দু মহাসভা দলকে আরও আন্দোলনমুখী করে তুলতে সচেষ্ট হলেন। কিন্তু এই বিষয়ে দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার মতভেদের কারণে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক দল তিনি পরিত্যাগ করলেন এবং গড়ে তুললেন পুনা শহরে এক নতুন দল যার নাম হল “হিন্দু রাষ্ট্র দল”। এই দল গঠন করার সঙ্গে সঙ্গেই নাথুরামের মনে হতে লাগল যে প্রচারের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এই ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করলেন তারই অন্যতম সহযোদ্ধা এবং পুণা শহরেরই বাসিন্দা নারায়ণ আপ্তে (গান্ধী হত্যা বিচারে নাথুরামের সঙ্গে আপ্তেরও ফাঁসি হয়)। নাথুরামের সম্পাদনায় মারাঠা দৈনিক সংবাদপত্রের প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালের ২৫শে মার্চ। দৈনিক সংবাদপত্রের নাম হয় “অগ্রণী”। এই পত্রিকায় বিশেষ প্রতিবেদন লিখতেন নাথুরাম এবং তাতে গান্ধীর নীতিকে চাঁছা ছোলা ভাষায় আক্রমণ করা হতো, বিশেষ করে কংগ্রেস এবং গান্ধী সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে যে ভুল গুলো করেছিলেন বস্তুনিষ্ঠ কলমে তাকেই উন্মোচন করে দিতেন নাথুরাম।

কিন্তু ইংরেজ সরকার এই বিদ্রোহী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার জন্য বেশি বিলম্ব করেনি। তাই বন্ধ হয়ে গেল মারাঠা দৈনিক সংবাদপত্র অগ্রণী। এতেও কিন্তু নাথুরামকে দমানো গেল না। নাথুরাম এবারে বার করলেন আরেকটি নতুন দৈনিক পত্রিকা। নাম “হিন্দুরাষ্ট্র”। নাথুরাম তাঁর সম্পাদক আর ম্যানেজিং ডিরেক্টর নারায়ণ আপ্তে। গান্ধী হত্যা বিচার শুধু ভারতবর্ষই নয় বিশ্ব-ইতিহাসেও এক বিরল হত্যা বিচার ছিল। বিচারে অভিযুক্তদের তালিকা হল :

১। নাথুরাম গডসে

২। নারায়ণ আপ্তে ৩। বিষ্ণু কারকারে

৪। মদন লাল পাওয়া

৫। গোপাল গডসে ৬। বীর সাভারকার

৭। ডঃ পারচুরে

৮। শঙ্কর

গান্ধী হত্যা বিচার পর্ব শুরু হয়েছিল ২২শে জুন, ১৯৪৮, দিল্লীর লাল কেল্লায়। বিচার পর্বে ১৪৯ জনের স্বাক্ষ্য গৃহীত হয়েছিল। সাক্ষীদের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ হয়েছিল ৭২০ পৃষ্ঠায়। এই হত্যাকান্ড সম্পর্কিত প্রায় ৪০৪টি নথি পেশ করা হয়েছিল এবং এছাড়াও হত্যাকান্ড সংক্রান্ত ৪০টি প্রামাণ্য সংবাদের কাগজপত্র জমা পড়েছিল। অভিযুক্তদের বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল ৮ই নভেম্বর থেকে এবং তা চলেছিল ২২শে নভেম্বর পর্যন্ত। অভিযুক্তদের বয়ানের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ১০৬।

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে দিল্লীর রেড ফোর্টের (লাল কেল্লা) এই বিচার প্রক্রিয়া ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘায়িত বিচার প্রক্রিয়া। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে প্রকৃত গান্ধী হত্যার (অর্থাৎ ৩০শে জানুয়ারী, ১৯৪৮) ১০দিন আগে অর্থাৎ জানুয়ারী মাসের ২০ তারিখে গান্ধীকে হত্যা করার আরও একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল যদিও সেই প্রয়াস ব্যর্থ হয়ে যায়। এই হত্যাকান্ড সংগঠিত করে অবিভক্ত পাঞ্জাব থেকে পালিয়ে আসা উদ্বাস্তু যুবক মদন লাল পাওয়া। তার নেতৃত্বেই বিড়লাবাড়ীর মধ্যেই বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। অবশ্য ঘটনাস্থল থেকে মদনলালকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। মদনলাল ছিল পাঞ্জাবের মন্টগোমারি জেলার অধিবাসী। ১৯৪৫ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার পর সে একজন টেলিগ্রাফিস্ট হিসেবে নৌবিভাগে চাকরী পায়। এর বছর খানেক পরে চাকরী থেকে ছুটি নিয়ে সে প্রস্তুতি শুরু করেছিল ‘প্রভাকর’ পরীক্ষায় বসার জন্য। কিন্তু দেশভাগ তাঁর জীবনকে খন্ড বিখন্ড করে দেয়। সব জমি ফেলে রেখে একজন উদ্বাস্তু হয়ে সে তার জন্মভূমি থেকে ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এই মদনলালকেও প্রকৃত গান্ধীহত্যা বিচারে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং বিচারের রায়ে তাকে যাবজীবন কারাদন্ড ভোগ করতে হয়।

গান্ধী হত্যাকান্ডে নাথুরামের সঙ্গে ফাঁসি দেওয়া হয় নারায়ণ আপ্তেকেও। এখানে উল্লেখযোগ্য যে গান্ধীকে হত্যা করবার জন্য কোথায় পিস্তল চালানোর মহড়া নাথুরাম করেছিলেন তা একমাত্র জানতেন এই নারায়ণ আপ্তেই। তরুণ মারাঠা ব্রাহ্মণ নারায়ণ আপ্তে নাথুরামের থেকে ২ বছরের ছোট ছিল। ১৯৩৯ সালে নারায়ণ আপ্তে আহমেদনগরে হিন্দু মহাসভা দলে নাম লেখায়। হিন্দু মহাসভা দলে যোগ দেওয়ার দু’বছর পরে নাথুরামের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয় এবং এই যোগাযোগ ক্রমশ প্রগাঢ় বন্ধুত্বে পরিণত হয়।

গান্ধীহত্যা বিচারের অন্যতম অভিযুক্ত ছিল বিষ্ণু কারকারে। কারকারের জন্ম মহারাষ্ট্রের ছবির মতো গ্রাম রত্নাগিরিতে। মধ্যবিত্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান বিষ্ণু কারকারে সবসময়েই হিন্দু দর্শন ও হিন্দু সংস্কৃতির প্রতি অনুরক্ত ছিল। দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে তাকে পড়াশোনার পাঠ একেবারে চুকিয়ে ফেলতে হয়েছিল। পেট চালাতে তার নিজের বাসস্থান আহমেদনগরে বিষ্ণু কারকারে খুলেছিল এক চায়ের দোকান। কিন্তু বেশিদিন সে এই চায়ের দোকান চালাতে না পেরে সক্রিয় রাজনীতিতে ঢুকে পড়ে এবং হিন্দু মহাসভার নিচুতলার একজন কর্মী থেকে শেষ পর্যন্ত দলের জেলা কমিটির নির্বাচিত সম্পাদক হয়।

গান্ধীহত্যা বিচারের এই দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়ায় সারা দেশে তো বটেই এমনকি বিদেশেও প্রবল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দিনের পর দিন খবরের কাগজগুলো এই হত্যাকান্ডের উপর নানা খবর এবং বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে চলে। বিচারপর্ব শুরু হবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অন্যতম অভিযুক্ত দিগম্বর রামচন্দ্র বাদগে রাজসাক্ষী হয়ে যান। এই দিগম্বর বাদগে ছিল এক অস্ত্র দোকানের মালিক। উল্লেখ্য যে এই বাদগের সঙ্গেই নাথুরাম, নারায়ণ আপ্তে এবং বিষ্ণু কারকারের যোগাযোগ ঘটে উঠেছিল অস্ত্র ব্যবসার সূত্র ধরেই। এছাড়া অন্যতম অভিযুক্ত ডঃ পারচুরেই নাথুরাম এবং নারায়ণ আপ্তেকেই স্বয়ংক্রিয় পিস্তল দিয়েই সাহায্য করেছিল।

প্রত্যেক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেই হত্যা, অস্ত্রের ব্যবহার এবং বিনা লাইসেন্সে আগ্নেয়অস্ত্র রাখা ইত্যাদি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এই গান্ধী হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন বোম্বাইয়ের লব্ধপ্রতিষ্ঠ ব্যারিষ্টার এবং বিখ্যাত দেশপ্রেমিক বীর সাভারকারও। সাভারকার ছিলেন বোম্বাইয়ের দাদর অঞ্চলের বাসিন্দা। নাথুরাম এবং আপ্তের সঙ্গে তার ছিল ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। শুধু তাই নয় নাথুরাম যখন নারায়ণ আপ্তের সঙ্গে দৈনিক অগ্রণী পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন তখন এই সাভারকারই পত্রিকাটি যাতে সুষ্ঠুভাবে চলে তার জন্য ১৫ হাজার টাকা দান করেছিলেন।

গান্ধী হত্যাকান্ড বিচারপর্বে যে সমস্ত আইনজীবীরা অংশ নিয়েছিলেন তারা সব ছিলেন ভারত বিখ্যাত আইনজীবী। একথা মনে রাখা দরকার যে এই বিচারপর্বে সরকারি আইনজীবীদের প্রায় ১৪৯জন সাক্ষীকে জেরা করতে হয়েছিল। ফাঁসির আগে নাথুরাম গডসেকে রাখা হয়েছিল মহারাষ্ট্রের আম্বালা জেলে। সেই জেলের ১০ফুট বাই ১০ফুট ছোট্ট সেলে বসেই নাথুরাম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সামনে এক আবেদন তিনি পেশ করবেন যদিও নাথুরামের এই দাবি সরকার পক্ষ থেকে মঞ্জুর করা হয়নি। তাঁর আবেদনের মাধ্যমে ইংল্যান্ড এবং সারা বিশ্ব যাতে গান্ধী হত্যার প্রকৃত কারণ অনুধাবন করতে পারে সেটাই ছিল নাথুরামের একমাত্র উদ্দেশ্য। প্রিভি কাউন্সিলের কাছে আবেদনের অনুমতি বাতিলের ১৪ দিনের মাথায় বিশেষ বিচারক এস.এস. দৌলত দুই বন্দির (নাথুরাম গডসে ও নারায়ণ আপ্তে) ফাঁসির পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেছিলেন। বিশেষ বিচারক এস.এস. দৌলত ১৯৪৯ সালের ১৫ই নভেম্বর ফাঁসির দিন হিসেবে স্থির করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ঐ ১৫ই নভেম্বরই নাথুরাম গডসে এবং নারায়ণ আপ্তের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

নাথুরাম বিনায়ক গডসে
নাথুরাম বিনায়ক গডসে
জন্ম : ১৯ শে মে ১৯১০
ফাঁসি : ১৫ই নভেম্বর ১৯৪৯