Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী
0/59
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

মরণ ঘুম – ১৪

১৪

রান্ডাল প্লেসের অ্যাপার্টমেন্ট হাউসের সামনে যখন গাড়িটা পার্ক করলাম, তখন পাঁচটা বাজতে দশ। লবিতে কেউ ছিল না। কয়েকটা জানলায় আলো আর রেডিয়ো থেকে ভেসে আসা হইহল্লা বুঝিয়ে দিচ্ছিল, বাড়িটায় লোকজন আছে। লিফটে চেপে চারতলায় গেলাম, তারপর ৪০৫ নম্বর ঘরের ঘণ্টিটা বাজালাম। বেশ কিছুক্ষণ পর, সতর্কভঙ্গিতে দরজাটা একটু ফাঁক হল।

সরু আঙুলগুলো দিয়ে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে ছিল একটা লম্বা-চওড়া চেহারার লোক। তার পোশাক ছাইরঙের, চোখগুলো ধূসর, এমনকী উঁচু কপালের পেছনে কাঁধ-ছাপানো চুলের রংও ওইরকম। লোকটার দৃষ্টি আর মাথার গড়ন বলে দিচ্ছিল, এ অনেক ঘাটের জল খেয়েছে, খাইয়েওছে। আপাতত লোকটা চুপচাপ আমায় দেখছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘গাইগার?’

অলসভঙ্গিতে লোকটা বলল, ‘কাকে চাই?’

‘গাইগার। আর্থার গুইন গাইগার। যিনি বইয়ের কারবার করেন।’

একটু ভেবে লোকটা বলল, ‘নাহ্! চিনতে পারলাম না। এখানেই থাকেন বুঝি?’

আমি হেসে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি কি জো ব্রোডি?’

‘যদি হই, তাতে আপনার কী?’ লোকটার মুখ শক্ত হয়ে গেল, ‘আমার সঙ্গে কোনো কাজ আছে? নাকি টাইমপাস করছেন?’

‘অর্থাৎ আপনিই জো ব্রোডি।’ আমি বললাম, ‘আর আপনি গাইগার বলে কাউকে চেনেন না। হাসালেন মশাই।’

‘তাই নাকি? আপনার রসবোধটা বড়োই ইয়ে টাইপের দেখছি। অন্য কোথাও গিয়ে হাসাহাসি করুন বরং। আমার কাজ আছে।’

‘বইগুলো আপনার কাছে আছে, জো।’ আমি দরজায় হেলান দিয়ে মিষ্টি করে বললাম, ‘আর লিস্টটা আছে আমার কাছে। আমাদের তো এই নিয়ে কথা বলা দরকার, তাই না?’

লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে রইল আরও কিছুক্ষণ। ঘরের ভেতর থেকে দু-একটা হালকা শব্দ পেলাম— যেন কেউ একটা হুকে আংটা লাগিয়ে একটা পর্দা টেনে দিল। আড়চোখে ঘরের ভেতরটা দেখে নিয়ে লোকটা দরজাটা আরও ফাঁক করে ধরল। তারপর একপাশে সরে বলল, ‘বেশ তো। ভেতরে আসুন।’

আমি ঘরে ঢুকলাম। ঘরটা বেশ সাজানো-গোছানো। বড়ো জানলা দিয়ে দিনের শেষ আলোটুকু ঘরে ঢুকছিল। ঘরে আরও দুটো দরজা ছিল, তাদের একটার কাছে একটা ভারী পর্দা টাঙানো আছে দেখলাম। উলটোদিকের দেওয়ালের গায়ে একটা সোফা রাখা ছিল। আমি সেখানেই গদিয়ান হলাম। ব্রোডি একটু দূরে একটা ইজিচেয়ারে বসল।

‘তারপর বলুন।’ পাশে রাখা সিগারের বাক্স থেকে একটা সিগার বের করে ঠোঁটে গুঁজে ব্রোডি বলল, ‘আমি শুনছি। ভালো কথা, আপনার সিগার চলে তো?’

আমি সায় দিলাম। ও একটা সিগার বের করে আমার দিকে ছুড়ে দিল। আমি হাত বাড়িয়ে সেটা ধরতে গেলাম। সেই সুযোগে সিগারের বাক্স থেকেই একটা কোল্ট .৩৮ বের করে আমার দিকে তাক করল ব্রোডি।

‘এবার,’ সিনেমার ভিলেইনদের মতো টেনে টেনে বলল ব্রোডি, ‘উঠে দাঁড়িয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসুন, তবে ধীরে ধীরে।’

‘ইসস!’ আমি এক ইঞ্চিও না নড়ে বললাম, ‘শহরে বন্দুক-পিস্তলের ছড়াছড়ি, কিন্তু লোকের ঘটে বুদ্ধির এত অভাব! ওটা নামান। ভদ্রভাবে কথা বলা যাক।’

ব্রোডি-র দুই ভ্রূ কাছাকাছি এসে গেল। বুঝলাম, জ্বালা ধরেছে। শান্তভাবে বললাম, ‘ঘণ্টাদেড়েক আগেই আরেকজন ভদ্রলোক আমার দিকে, ঠিক আপনারই মতো করে, বন্দুক বাগিয়েছিলেন। তাঁর নাম এডি মার্স। চেনেন নাকি?’

‘না।’ ব্রোডি’র বন্দুক আমার দিকেই উঠে রইল।

‘ওহো! তা বেশ। কাল রাতে আপনি কোথায় ছিলেন সেটা ওঁকে বললে উনিই আপনাকে ডেকে বেশ ভালোভাবে আলাপ-পরিচয় করে নেবেন। তবে সেটা আপনার পক্ষে কতটা ভালো হবে…’

‘এডি মার্সের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক?’ ব্রোডি-র গলাটা ঠান্ডা থাকলেও বন্দুকটা একটু নেমে এল দেখলাম।

‘কিচ্ছু না।’

পর্দার নীচ দিয়ে একজোড়া স্লিপারের ডগা উঁকি দিচ্ছিল। সেদিকে না তাকিয়ে, বরং নির্বিকার ভঙ্গিতে ব্রোডি’র মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। ব্রোডি নীচু গলায় বলল, ‘আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি গুন্ডা-বদমাশ নই। আপনাকে চিনি না বলেই সাবধান হচ্ছি।’

‘মাফ করবেন। কিন্তু গাইগারের বইগুলো ওভাবে সরানো মোটেই সাবধানতার কাজ হয়নি।’

একটা মস্ত বড়ো শ্বাস নিল ব্রোডি, তারপর সেটাকে ধীরে ধীরে ছাড়ল। বন্দুকটা হাঁটুর ওপর রেখে বলল, ‘ওভাবে নয়, আপনার যা বলার তার সবটা বলুন। তবে হ্যাঁ, ভুলভাল বকলে আমি কিন্তু এটা চালাতে দ্বিধা করব না।’

‘তার আগে পর্দার পেছন থেকে আপনার বন্ধুটিকে বেরিয়ে আসতে বলুন। বেচারি এরপর দম বন্ধ হয়ে মারা পড়বে তো।’

আমার দিকে চোখ রেখেই ব্রোডি বলল, ‘এদিকে এসো, অ্যাগনেস।’

পর্দা সরিয়ে যে মহিলা বেরিয়ে এলেন তাঁকে আমি খুব ভালোভাবে চিনি। গাইগারের দোকানে কাউন্টারের পেছন থেকে ইনিই কটি-জঙ্ঘা ইত্যাদি দুলিয়ে আমার দিকে এসেছিলেন। তবে এখন মহিলার মেজাজটা যে রীতিমতো খারাপ, সেটা বোঝাই যাচ্ছিল। মদির হাসির বদলে চোখজোড়া থেকে উপচে পড়ছিল রাগ আর ঘেন্না। বেঁকে যাওয়া মুখে মহিলা বললেন, ‘জানতাম! জানতাম, আপনি আমার পিছু ছাড়বেন না। জো-কে বলেওছিলাম আপনার ব্যাপারে।’

‘কথা না বাড়িয়ে ঘরের আলোটা জ্বেলে দাও।’ ব্রোডি বলল, ‘আমাদের অতিথিটিকে একটু ভালো করে দেখি।’

ঘরের আলো জ্বলে উঠল। আমি ধীরেসুস্থে দেশলাই বের করে ব্রোডি-র দেওয়া সিগারটা ধরালাম। বন্দুকটা আমার প্রতিটি নড়াচড়া অনুসরণ করছিল। ওসবে পাত্তা না দিয়ে আমি কথা শুরু করল।

‘লিস্টটা কোডে লেখা হয়েছে। আমি কোডটা এখনও ভাঙতে পারিনি, তবে ওতে যে শ-পাঁচেক লোকের নাম আছে— সেটা বুঝতে পেরেছি। আপনি বারো বাক্স বই জোগাড় করেছেন, যাতে কমপক্ষে শ-পাঁচেক বই আছে। এ ছাড়া বাইরে খদ্দেরদের কাছে দেওয়া আছে আরও বেশ কিছু, তবু আমি ধরে নিচ্ছি গাইগারের মোট বইয়ের স্টক ওই পাঁচশোর কাছাকাছিই। ধরে নিচ্ছি, ওই লিস্টের অর্ধেক কাস্টমারের কাছে বই ভাড়া দেওয়া থাকে। এও ধরছি যে গাইগারের স্টকের অর্ধেক বই-ই লোকে নেয়। এই বইয়ের ভাড়া কীরকম হয়, সেটা আপনার বন্ধু আপনাকে বিস্তারিতভাবে বলতে পারবেন। বইগুলোর দাম দশ ডলার ধরলেই আপনার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দাঁড়াচ্ছে প্রায় এক লাখ পঁচিশ হাজার ডলার। এবার ভাবুন, ওগুলো যদি এক ডলার রেটেও আপনি ভাড়া দেন, তাহলে আপনার…’

‘উন্মাদ!’ চিৎকার করে উঠল অ্যাগনেস, ‘বদ্ধ উন্মাদ! জো, তুমি এই পাগলটার কথায়…’

‘শান্ত হও!’ ব্রোডি মেয়েটার দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁত খিঁচোল, ‘মাথাটা দয়া করে ঠান্ডা করো। আমাকে কথাটা শুনতে দাও।’

‘এই কাজের জন্য ঠান্ডা মাথা ভী-ই-ষণ দরকার, জো!’ আমি মোলায়েম গলায় বললাম, ‘তবে বোঝেনই তো, যারা এইসব বই ভাড়া নিয়ে ক্ষণিকের আনন্দ খোঁজে, তারা খুব ভিতু হয়। বইয়ের কারবারি যদি ব্ল্যাকমেইলারও হয়, তাহলে তারা তো ভয়ে পালিয়ে যাবে। আমার মতে, এই ব্যাবসাটাই ভালোভাবে করুন। এর মধ্যে ব্ল্যাকমেইল-টেইল ঢোকাতে যাবেন না।’

‘তাই?’ ব্রোডি’র মুখে আলগা হাসি লেগে থাকলেও বন্দুকের ওপর ওর আঙুলগুলো শক্ত হয়ে চেপে বসছিল, ‘এইরকম লাভজনক ব্যাবসা কার আছে?’

‘আপনার,’ আমি বললাম, ‘প্রায়।’

‘কী!’ গুলতি থেকে বেরোনো ঢিলের মতো সোফা থেকে লাফিয়ে উঠল অ্যাগনেস, ‘আপনি কী বলতে চাইছেন? মিস্টার গাইগার অন্যদের ব্ল্যাকমেইল করতেন? সাধে বলেছিলাম, আপনি বদ্ধ উন্মাদ!’

‘গাইগার অবশ্যই ব্ল্যাকমেইল করতেন।’ আমি হাসিমুখে বললাম, ‘ঠিক ওইজন্যই পুলিশ থেকে শুরু করে অন্যরা গাইগারকে এই কারবার চালাতে দিত। এই পূজার যজ্ঞভাগ সব দেবতাই পান।’

‘তু-তুমি এই লোকটাকে এইসব বকতে দেবে?’ রাগে অ্যাগনেসের মুখ গোলাপি হয়ে গেছিল, ‘ওর হাতে একটা সিগার, আর তোমার হাতে একটা বন্দুক। তারপরেও তুমি এইসব…!’

‘হ্যাঁ, আমি এইসব শুনব।’ ব্রোডি-র হাত আলগা হয়ে আসছিল, ‘দয়া করে চুপচাপ থেকে আমাকে কথাগুলো শুনতে দাও। হ্যাঁ, কী যেন বলছিলেন? কীভাবে যেন ব্যাবসাটা প্রায় আমার হয়ে গেছে?’

‘কাল রাতে আপনি গাইগারকে মেরেছেন। মুশকিল হল, ওকে আপনি যখন মারেন তখন ও একা ছিল না। ব্যাপারটা আপনি খেয়াল করেননি– এ হতেই পারে না। তাই আমার ধারণা, আপনি ঘাবড়ে গিয়ে তখনকার মতো ওখান থেকে কেটে পড়েছিলেন। পরে আপনি ওখানে ফিরে গিয়ে ফটোর প্লেটটা সরিয়ে নেন। গাইগারের লাশটাও গায়েব করে দেন, যাতে পুলিশি হাঙ্গামা শুরু হওয়ার আগেই ওর ব্যাবসাটা আপনি নিজের কবজায় নিতে পারেন।’

‘হুঁহ!’ ব্রোডি-র মুখটা শক্ত হয়ে গেছিল, ‘আপনি তো মারাত্মক গল্প বানাতে পারেন দেখছি। শুধু একটা তথ্য দিই, গাইগারকে আমি মারিনি।’

‘তাতে কী?’ আমি সহাস্যে বললাম, ‘খুনটা আপনার ওপর চাপানোই তো সবচেয়ে সহজ।’

‘কীভাবে?’ ব্রোডি-র গলাটা খসখসে শোনাল।

‘আরে, আমি আপনাকে বললাম না!’ আমি অধৈর্যভাবে বললাম, ‘একজন সাক্ষী আছে এই খুনের। সে-ই বলবে।’

‘ওই হারামজা…!’ বোমার মতো ফেটে পড়ল ব্রোডি, ‘ঠিক। ও বলবে, খুনটা আমিই করেছি!’

‘ওর ফটো নিয়ে আপনি ব্যাবসা করবেন,’ হেসে বললাম, ‘আর ও আপনাকে ফাঁসানোর এমন একটা সুযোগ ছেড়ে দেবে? সিরিয়াসলি!’

ব্রোডি আর অ্যাগনেস দুটো পুতুলের মতো বসে রইল বেশ কিছুক্ষণ। তারপর ব্রোডি’র মুখটা একটু স্বাভাবিক হল। বন্দুকটা একপাশে নামিয়ে রাখল ও, তবে ডান হাতটাও রাখল তার কাছেই। সিগারের ছাই ঝেড়ে ও আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার আমাকে খুব বোকা মনে হচ্ছে, তাই না?’

‘বোকা নয়, ওই গড়পড়তা আর কি। ফটো আর প্লেটটা নিয়ে আসুন।’

‘কোন ফটো?’

‘প্লিজ।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, ‘আমি কিন্তু বোকা নই। হয় আপনি নিজে কাল রাতে ওখানে ছিলেন। নয়তো আপনি এমন কারো কাছ থেকে ওগুলো জোগাড় করেছেন যে নিজে ওখানে ছিল। তার জোরেই আপনি আর আপনার বন্ধুটি মিসেস রেগানকে পুলিশের ভয় দেখিয়েছেন। নইলে ফটো তোলা ছাড়াও ওখানে আর কিছু হয়েছিল কি না, তা আপনারা জানবেন কীভাবে? সময় নষ্ট করে নিজেদের বিপদ বাড়াবেন না। ফটো আর প্লেট নিয়ে আসুন।’

‘টাকা লাগবে।’ আড়চোখে অ্যাগনেসকে দেখে নিয়ে বলল ব্রোডি। অ্যাগনেস অবশ্য সাড়াশব্দ করল না, নড়লও না।

‘পাবেন না।’

‘আপনি আমার খোঁজ পেলেন কীভাবে?’ রাগত গলায় বলল ব্রোডি।

ওয়ালেট খুলে নিজের ব্যাজটা ওকে দেখিয়ে বললাম, ‘আমি গাইগারের ওপর নজর রাখছিলাম। কাল রাতে বৃষ্টির সময় আমি ওর বাড়ির বাইরে ছিলাম। গুলির আওয়াজ পেয়ে আমি ভেতরে ঢুকি। খুনিকে দেখতে পাইনি, তবে বাকি সবই দেখেছিলাম।’

‘দেখেছিলেন, কিন্তু বলেননি।’ তেতো গলায় বলল ব্রোডি।

‘এখনও অবধি।’ আমি বললাম, ‘তা, আমি কি ফটো আর প্লেটটা পাব?’

‘বইয়ের ব্যাপারটা জানলেন কীভাবে?’

‘গাইগারের দোকান থেকে এখান অবধি আমি বইগুলোর পিছু পিছুই এসেছিলাম। আমার একজন সাক্ষীও আছে।’

‘বুঝেছি। নির্ঘাত ওই ছেলেটা।’

‘কোন ছেলেটা?’

‘দোকানে যে ছেলেটা কাজ করে।’ মুখ বেঁকিয়ে বলল ব্রোডি, ‘ট্রাক রওনা দেওয়ার পরেই ও দোকান থেকে বেরিয়ে গেছিল। ছোকরা কোথায় থাকে জানলে ওকে ম্যানেজ করতাম, কিন্তু ওর ঠিকানা জানি না।’

‘আরও একটা ধাঁধার উত্তর পাওয়া গেল।’ আমি মাথা দুলিয়ে বললাম, ‘কাল রাতের আগে আপনাদের মধ্যে কেউ গাইগারের বাড়িতে গেছেন কখনো?’

‘কাল রাতেও যাইনি।’ কড়া গলায় বলল ব্রোডি, ‘ওই মা… মেয়েটা বলছে বুঝি, যে আমিই গাইগারকে মেরেছি?’

‘ফটোগুলো ফেরত পেলে ওর বয়ান বদলাতেও পারে।’

‘মেয়েটার কীর্তি ধরে ফেলেছিলাম আমি।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল ব্রোডি, ‘তার জন্য টাকা পেয়েছিলাম ঠিকই, তবে মেয়েটা খুব প্যাঁচালো টাইপের। কিন্তু… আমি বলছিলাম, কিছুই কি পাওয়া যাবে না?’

‘আমার ক্লায়েন্টের কাছ থেকে এক পয়সাও পাবেন না।’

‘শুনুন…’

‘ফটো আর প্লেট— কোথায়?’

‘নিকুচি করেছে!’ বন্দুকটা কোটের ডান পকেটে ভরে উঠে দাঁড়াল ব্রোডি, ‘ওই ফটোর মুখে আমি…’

ওর মুখটা রাগে আর বিরক্তিতে একেবারে কুঁকড়ে ছিল। ভেতরের পকেটে হাত দিল ব্রোডি। ঠিক তখনই দরজার ঘণ্টিটা বেজে উঠল, আর বাজতেই থাকল।