Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী
0/59
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

চব্বিশ – সন্ধান চাই

শ্যানন হোটেলে গিয়ে বেনামে, আগাম ভাড়া দিয়ে ৩২১ নম্বর ঘরটা জুটল। ঘণ্টাখানেক পর ফোন বাজল। ডিক ফোলি বলল, ও আমার সঙ্গে দেখা করতে আসছে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ও এসে পড়ল। ওর মুখ, বা গলার স্বর, কোনোটাই ঠিক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না।

‘তোমার নামে ওয়ারেন্ট বেরিয়েছে।’ থেমে থেমে বলল ডিক, ‘দু-জনকে খুনের অভিযোগ– ডিনা ব্র্যান্ড আর প্রক্টর ডন। মিকিকে জানিয়েছি। ও বলল, ও থাকবে। পুলিশ এখন ওকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ও-ই বলল, তোমায় এখানে পাওয়া যাবে।’

‘হুঁ।’ আমি বললাম, ‘এরকম একটা আশঙ্কা ছিল বটে।’

‘আমারও।’ কড়া গলায় বলল ডিক।

‘তোমার ধারণা,’ আমি বললাম, ‘আমি ওদের মেরেছি। তাই না?’

‘যদি ধারণাটা ভুল হয়, তাহলে সত্যিটা বলার পক্ষে এটাই ঠিক সময়।’

‘আমাকে ধরিয়ে দেবে?’ আমি হালকা গলাতেই বললাম।

ডিকের মুখের রংটা গাঢ়তর হয়ে গেল। ওর পাতলা ঠোঁটজোড়া দাত থেকে পিছিয়ে যেতে লাগল।

‘সানফ্রানসিস্কো ফিরে যাও ডিক।’ আমি শান্ত গলায় বললাম, ‘এখানে আমাকে এমনিতেই অনেক কিছু করতে হবে। তার সঙ্গে যদি তোমার ওপরেও লক্ষ রাখতে হয়…’

ডিক সযত্নে টুপিটা পরল। তারপর খুব সাবধানে দরজাটা বন্ধ করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

চারটে নাগাদ আমি লাঞ্চ, সিগারেট আর খবরের কাগজ চেয়ে পাঠালাম। ‘ইভনিং হেরাল্ড’-এর প্রথম পাতাটা দেখলাম ডিনা ব্র্যান্ড আর চার্লস প্রক্টর ডনের মৃত্যু নিয়ে রোমহর্ষক আলোচনাতেই ভাগাভাগি করা হয়েছে। দুটো ভাগের মধ্যে যোগসূত্র হয়ে রয়েছে হেলেন অ্যালবারি।

রবার্ট অ্যালবারি-র বোন হেলেন অ্যালবারি-র দৃঢ় ধারণা ছিল, তার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে। নিরপরাধ রবার্টকে ছাড়ানোর জন্য ও নাকি চার্লস প্রক্টর ডনকে নিযুক্ত করে, যদিও আমার ধারণা ব্যাপারটা উলটো ছিল। ডনের সঙ্গে কথা বলার পরেও রবার্ট নাকি নিজের স্বীকারোক্তি বদলায়নি। কিন্তু মেয়েটি ডনের সোৎসাহ সমর্থন পেয়ে হাল ছাড়েনি। তাই ডিনা-র বাড়ির উলটোদিকে একটা ফাঁকা ফ্ল্যাট পেয়ে সেটা হেলেন ভাড়া নেয়। তারপর শুরু হয় দিনরাত ডিনা-র বাড়ির ওপর নজরদারি। হেলেন নিঃসন্দেহ ছিল, ওর ভাইকে ফাঁসিয়েছে ডিনা আর তার কয়েকজন সহকারী।

আমি নাকি ওই ‘সহকারী’-দের একজন। ‘সানফ্রানসিস্কো থেকে আসা একজন তথাকথিত প্রাইভেট ডিটেকটিভ, যে এই শহরে এসেছে কয়েকদিন হল।’ হেরাল্ড এভাবেই আমার বর্ণনা দিয়েছে, ‘লোকটির সঙ্গে ম্যাক্স (হুইস্পার) থ্যালার, ড্যানিয়েল রল্্ফ, অলিভার (রেনো) স্টার্কি, এবং ডিনা ব্র্যান্ডের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।’ আমরাই নাকি সবাই মিলে রবার্ট অ্যালবারিকে ফাঁসিয়েছি।

যে রাতে ডিনা খুন হয়, সেই রাতে হেলেন এমন কিছু দেখেছিল যা নাকি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। খুনের খবর পাওয়ামাত্র মেয়েটি যা জানত তা চার্লস প্রক্টর ডনকে জানায়। ডনের কেরানির কাছ থেকে পুলিশ জেনেছে, ডন নাকি তৎক্ষণাৎ আমাকে ডেকে পাঠায়। আমার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার কক্ষে কিছু আলোচনা হয় ডনের। তারপর ডন তার কেরানিকে বলে, আমি নাকি পরদিন সকাল দশটায় আবার আসব। কিন্তু আমি আসিনি। বরং সকাল দশটা পঁচিশে ওখানকার সাফাইওয়ালা সিঁড়ির নীচে খুন হওয়া অবস্থায় ডনকে আবিষ্কার করে। অনুমান করা হচ্ছে, ডনের কাছ থেকে মূল্যবান কাগজপত্র সরানো হয়েছিল।

লাশ যখন পাওয়া যায়, সেই মুহূর্তে আমি হেলেন অ্যালবারি-র ফ্ল্যাটে ছিলাম। জোর করে তার ফ্ল্যাটে ঢুকে আমি নাকি ওকে হুমকি দিচ্ছিলাম। কিন্তু হেলেন আমাকে ফ্ল্যাট থেকে ভাগিয়ে দেয়। তারপর ও ডনের অফিসে যখন পৌঁছোয়, তখন পুলিশও সবে সেখানে এসেছে। ওর কাছ থেকে ‘সব’ শুনে পুলিশ আমার খোঁজ করে। আমাকে পাওয়া যায়নি, তবে আমার ঘরে মিকি লিনেহান নামে আরেকজন ছিল। সেও নিজেকে সানফ্রানসিস্কো থেকে আসা এক প্রাইভেট ডিটেকটিভ বলে পরিচয় দিয়েছে। পুলিশ এখনও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। হুইস্পার, রল্্ফ, রেনো আর আমাকে খুঁজছে পুলিশ।

কাগজের দ্বিতীয় পাতায় অর্ধেক কলাম নিয়ে একটা ছোট্ট খবর ছিল। ডিনা ব্র্যান্ডের মৃতদেহ যে দুই পুলিশ অফিসার খুঁজে পেয়েছিল সেই শেপ আর ভ্যানামান রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়েছে। কাগজ এর পেছনেও উক্ত ‘সহকারী’-দের হাত দেখতে পেয়েছে।

কাল রাতে মদের ট্রাক জ্বালানো বা মারিজ-এ পুলিশি হামলার ব্যাপারে কাগজে কিছু ছিল না।

অন্ধকার একটু ঘন হলে আমি বেরিয়ে পড়লাম। রেনো-র সঙ্গে কথা বলা জরুরি হয়ে পড়েছিল। একটা ওষুধের দোকান থেকে আমি মারি’জ-এ ফোন করে পিককে চাইলাম।

‘আমি পিক বলছি।’ একটা সম্পূর্ণ অচেনা গলা বলল, ‘কে বলছেন?’

মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। নিজেকে হলিউডের এক অভিনেত্রী বলে দাবি করে আমি ফোনটা রেখে দিলাম।

বিপদসংকুল শহরে রেনোর জন্য হাতড়ে বেড়ানোটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে হল না। ভাবলাম, আমার পুরোনো ক্লায়েন্ট এলিহু উইলসনের সঙ্গে দেখা করে ওই প্রেমপত্রগুলো তার নাকের ডগায় ধরি। তাহলে হয়তো বুড়ো ভদ্র ব্যবহার করবে। সেইমতো, শহরের সবচেয়ে অন্ধকার রাস্তাগুলোর অন্ধকার ফুটপাথ ধরে এগোলাম। নেহাত কম পথ ঠ্যাঙাতে হল না। যতক্ষণে আমি উইলসনের ব্লকে পৌঁছোলাম ততক্ষণে আমার মেজাজ টগবগিয়ে ফুটছে। ওর আর আমার মধ্যে যে ধরনের প্রেমালাপ হয়, তার পক্ষে আমার মুডটা ঠিক ছিল। তবে কথাটা তখনই হল না।

গন্তব্যের থেকে দুটো রাস্তা দূরে ছিলাম তখন। হঠাৎ কেউ আমার উদ্দেশে ‘শ…শ…শ…শ!’ করে আওয়াজ দিল।

আমি যে কী কষ্টে লাফানো থেকে নিজেকে আটকালাম, কী বলব!

‘ঠিকাছে-ঠিকাছে!’ একটা ফিসফিসানি ভেসে এল।

জায়গাটা ঘোর অন্ধকার। নীচু হয়ে, প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে আমি পাশের বাড়ির লনের ধারে একটা ঝোপের নীচে গুঁড়ি মেরে থাকা একটা লোকের চেহারা খুঁজে পেলাম। ততক্ষণে বন্দুকটা আমার হাতে এসে গেছে। যা দিনকাল তাতে কেউ বললেই সব ঠিক হয়ে যায় না। তবে অন্ধকারে চোখ সয়ে গেলে আমি লোকটাকে চিনতে পারলাম। রেনোর সঙ্গে শহরের প্রান্তে যে বাড়িতে গিয়ে আমি অ্যালিবাই নিয়ে কথা বলেছিলাম, তার কাছেই এই লোকটা ছিল।

‘রেনোকে কোথায় পাব?’ আমিও ফিসফিস করলাম, ‘হ্যাংক ও’মারা বলছিল, ও আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়।’

‘ঠিকই বলেছে। আপনি কিড ম্যাকলিওড-এর জায়গাটা চেনেন?’

‘না।’

‘মার্টিন স্ট্রিটে কিং-এর রেস্তরঁা-র ওপরেই। ওইদিকে তিনটে ব্লক পিছিয়ে যান। কোণে বাড়িটা দেখতে পাবেন। ফসকানোর কোনো চান্স নেই।’

আমি লোকটার দেখানো পথে রওনা হলাম। লোকটা ওখানে আধশোয়া হয়ে এলিহু-র বাড়ির দিকেই নজর রাখল। মনে হল, রেনো-র না-বন্ধুদের মধ্যে কেউ এলিহু-র সঙ্গে দেখা করতে এলে তাদের গরমাগরম অভ্যর্থনা জানানোর দায়িত্ব ও পেয়েছে। কিছুক্ষণ হেঁটে একটা দোকানে পৌঁছোনো গেল। তার দেওয়ালজোড়া লাল-হলুদ রং দেখে মাথা ধরে যাচ্ছিল। ওখানে কিড ম্যাকলিওডের খোঁজ করলাম। পেছনের ঘরে বসে থাকা একটা মোটা, নোংরা জামা পরা, মুখ খুললেই একগাদা সোনা-বাঁধানো দাঁত-দেখানো লোকের কাছে আমাকে নিয়ে যাওয়া হল। লোকটা বলল, সে-ই ম্যাকলিওড।

‘রেনো আমাকে ডেকে পাঠিয়েছে।’ আমি বললাম, ‘ওকে কোথায় পাব?’

‘আপনি কে?’

আমি আত্মপরিচয় দিলাম। লোকটা বাইরে কোথাও একটা গেল। দশ মিনিট ঠায় বসে রইলাম। লোকটা ফিরল, সঙ্গে একটা বছর পনেরোর ক্যাংলা গোছের ছেলেকে নিয়ে।

‘সনি’র সঙ্গে যান।’ বলল কিড ম্যাকলিওড। আমি ছেলেটার পিছু নিয়ে একটা ধারের গেট দিয়ে বেরোলাম। আরও দুটো ব্লক, কয়েকটা ভাঙা রাস্তা, বালি আর পাথরের স্তূপ– এসব পেরিয়ে আমি একটা ছিমছাম বাড়ির সামনে এলাম।

ছেলেটা দরজায় নক করল। ‘সনি।’ ভেতর থেকে আসা প্রশ্নের জবাবে ছেলেটা বলল, ‘সঙ্গে একজন আছে যাকে কিড পাঠিয়েছে।’

দরজা খুলল ও’মারা। সনি চলে গেল। আমি বাড়িটায় ঢুকে কিচেনে এলাম। সেখানে একটা টেবিলে রেনো স্টার্কি আর চারজন লোক বসে ছিল। টেবিলটায় প্রচুর বিয়ার রাখা ছিল। আসার সময় খেয়াল করেছিলাম, সদর দরজার ঠিক ওপরেই পেরেকে দুটো অটোমেটিক পিস্তল ঝোলানো ছিল। মানে দরজা যে খুলছে তাকে যদি হাত তুলতে বাধ্য করাও হয়, তাহলেও তার নাগালে দু’খানা আগ্নেয়াস্ত্র থাকছে!

রেনো আমাকে একটা গ্লাস ধরিয়ে সামনের ঘরে এল। আমিও এলাম।

জানলার পর্দার ফাঁক দিয়ে বাইরেটা দেখতে দেখতে রেনো বলল, ‘আপনার জন্য অ্যালিবাইয়ের বন্দোবস্ত করেছিলাম, কারণ আমার একজন বন্ধু দরকার ছিল।’

‘সে আপনার সামনেই বসে আছে।’

‘অ্যালিবাইটা এখনও ঠিকঠাক আছে?’

‘এখনও।’

‘ওটা ঠিক থাকবে,’ রেনো আমাকে আশ্বস্ত করল, ‘যদি না আপনার বিরুদ্ধে খুব বেশি কিছু ওদের হাতে থেকে থাকে। আছে নাকি তেমন কিছু?’

‘না।’ আমি বেমালুম মিথ্যেটা বলে দিলাম, ‘ম্যাকগ্র একটু হাত খুলে খেলার চেষ্টা করছে। আপনার কী অবস্থা?’

‘আমি এদিকটা সামলে নেব।’ গ্লাস খালি করল রেনো, ‘তবে একটা ব্যাপারে আপনার সাহায্য লাগবে।’

আমি তৈরি হলাম।

‘ম্যাকগ্র পিটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হুইস্পার আর আমার পেছনে লেগেছে। এদিকে আমি আর হুইস্পার একজন আরেকজনকে সাফ করতে ব্যস্ত। এই সুযোগে সব তো ওরাই লুটে নেবে!’

আমি বললাম, এটা আমিও ভেবেছি। রেনো বলে চলল।

‘হুইস্পার আপনার কথা শুনবে। ওকে খুঁজে বের করুন। দেখুন, ও আমাকে খুঁজছে জেরি হুপারের বদলা নেওয়ার জন্য। আর আমি চেষ্টা করছি তার আগেই ওকে পেড়ে ফেলার। কিন্তু এই ব্যাপারটা ক-দিন আটকে রাখতে হবে। ওকে আলাদা করে কিচ্ছু করতে হবে না। এসব খুনোখুনি করার জন্য ও আর আমি দু-জনেই নিজেরা না গিয়ে লোকেদের পাঠাই। তাই আমার কথা শুনলে ওর ঠকার কোনো আশঙ্কা নেই। স্রেফ ক’টা দিন আমাদের ছেলেরা একসঙ্গে পিট দ্য ফিনের একটা ব্যবস্থা করবে। ও সাফ হয়ে গেলে আমরা নিজেদের হিসেব মেটানোর জন্য বাকি জীবনটা পাব।

ওকে সোজা ভাষায় এটা বুঝিয়ে বলুন। আমি অন্য কারো সঙ্গে হাত মেলাব না। এই লড়াই ছেড়ে পালিয়েও যাব না। পিট হুইস্কিটাউনে ডেরা বানিয়ে আছে। আমার একার অত জোর নেই যে সেখানে হামলা করে ওকে টাইট দিই। হুইস্পারেরও সেই দম নেই। তার বদলে আমরা একসঙ্গে পিটের ডেরায় হামলা চালালে ও শেষ হবে। তখন আমরা মনের সুখে নিজেদের হিসেব মেটাব। এটা ওকে বোঝান।’

‘হুইস্পার,’ আমি বললাম, ‘মরে গেছে।’

‘তাই বুঝি?’ রেনোর গলায় অবিশ্বাস স্পষ্ট ছিল।

‘গতকাল সকালে ড্যান রল্্ফ ওকে খুন করেছে। রেডম্যান হাউসে। বরফ ভাঙার যে শিকটা দিয়ে ডিনা ব্র্যান্ডকে মারা হয়েছিল, সেটা দিয়েই ও হুইস্পারকে মেরেছে।’

‘আপনি এটা নিশ্চিতভাবে জানেন?’ রেনোর গলাটা বদলে যাচ্ছিল, ‘বানাচ্ছেন না তো?’

‘নিশ্চিতভাবে জানি।’

‘ওর দলের লোকেরা কেউ জানে না কেন?’

‘ওরা এখনও জানে না। হুইস্পার লুকিয়ে ছিল। শুধু টেড রাইট ওর সঙ্গে ছিল। টেড জানে। সেটা কাজে লাগিয়ে ও কাল ভালোই কামিয়েছে। ও নাকি পিক মারির মাধ্যমে আপনার কাছ থেকেও দেড়শো ডলার নিয়েছে।’

‘সত্যি কথাটা বললে আমি ওর ডবল দিতাম।’ রেনো-র মুখের মেঘটা কেটে যাচ্ছিল, ‘যাক। তাহলে হুইস্পারের ঝামেলাটা মিটল।’

‘উহুঁ।’

‘মানে?’

‘ওর লোকেরা এখনও জানে না, হুইস্পার কোথায় আছে।’ আমি বললাম, ‘ওদের বলুন, তবে অন্যভাবে। ওর দলের লোকেরা একবার পুলিশ স্টেশনে বোম মেরে ওকে ছাড়িয়েছে। যদি ওদের বলা হয় যে ম্যাকগ্র চুপচাপ হুইস্পারকে তুলেছে, তাহলে ওর লোকেরা কি ছেড়ে দেবে?’

‘বলে যান।’

‘হুইস্পারের লোকেরা ওকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে পিটের যেসব গুন্ডা স্পেশাল স্কোয়াড হয়ে পুলিশে ঢুকেছে, তারা আটকে যাবে। তখন আপনি হুইস্কিটাউনে পিটের ওপর আক্রমণ চালাতে পারবেন।’

‘হয়তো।’ রেনোর মাথাটা খুব ধীরে ধীরে নড়ছিল, ‘হয়তো এটাই করলে লাভ হবে।’

‘হবে।’ আমি উঠে দাঁড়িয়ে বললাম, ‘তাহলে আমি এবার…’

‘আপনি বসুন। ওয়ারেন্ট বেরোনো অবস্থায় এই শহরে ঘোরাঘুরি আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়। তা ছাড়া এই মুহূর্তে আপনার মতো একজনকে আমাদের খুব দরকার।’

কথাটা শুনে ভালো লাগল না। তবে আপত্তি জানালে আরও বেশি বিপদ হতে পারে ভেবে আমি বসে পড়লাম।

রেনো গুজব ছড়ানোয় ব্যস্ত হল। লোকজনের আনাগোনা বেড়ে গেল। যত লোক বাড়িটায় ঢুকছিল তার তুলনায় অনেক কম বেরোচ্ছিল। ঘরগুলো ভরে যাচ্ছিল লোকে, ধোঁয়ায়, উত্তেজনায়!