Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
0/43
আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কংগ্রেস সেশন ১৮৯৬

১৮৯৬ সালে কোলকাতায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের কথা আমার স্পষ্ট মনে নেই। তখন কোলকাতায় এ রকম জনসমাবেশ করার মত পার্ক বেশি ছিল না। ময়দান বা ইডেন গার্ডেনে দেশের মানুষ কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করুক সরকার তা চাইত না। জোড়াসাঁকোর কাছেই ছিল বিডন স্কয়ার। সম্মেলনের জন্য সে জায়গাটাই ঠিক করা হল। আজকের দিনে অবশ্য কংগ্রেসের মত এত বড় প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন ওরকম একটি স্থানে কল্পনাই করা যায় না। ইতোমধ্যে এ ধরনের অনুষ্ঠানের উপযোগী অনেক স্থান শহরে তৈরি হয়েছে। অবশ্য চিৎপুর রোড আর বিডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলটি আজও একেবারে অপাঙ্ক্তেয় হয়ে যায়নি।

আমাদের বাড়িতে এ বিষয়ে অনেক উৎসাহ দেখা গেল। প্রস্তুতি চলল সমান তালে। বাবা অনুষ্ঠানের সংগীতের ভার নিলেন, সরলাদি তাকে সহায়তা করলেন। কোলকাতার জনজীবনের সঙ্গে বাবা যত দিন সম্পৃক্ত ছিলেন, এরকম অনুষ্ঠানের গান-বাজনার দায়িত্ব তাঁর ওপরই থাকত। উদ্বোধনী সংগীত হিসেবে বাবা ঠিক করলেন বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’। নিজেই কবিতাটিতে সুর দিলেন এবং নিজেই গাইলেন। সরলাদি অর্গ্যান বাজালেন। জমায়েতের একেবারে শেষ প্রান্ত থেকেও বাবার কণ্ঠ শোনা গিয়েছিল। উপস্থিত সকলে মন্ত্রমুগ্ধের মত সে গান শুনলেন। আজকের লাউড স্পিকার ও মাইকের যুগে এরকম দৃশ্য নিশ্চয়ই অস্বাভাবিক ও অসম্ভব ঠেকবে। শব্দবর্ধক যন্ত্রের ব্যবহার ধীরে ধীরে গলার আওয়াজকে কমিয়ে এনেছে। জনসভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার এটাই ছিল প্রথম ঘটনা। গানটি এতটাই প্রভাব বিস্তার করে যে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় সংগীতের মত মর্যাদা পেয়ে যায়। আমার মনে হয় এর পর থেকে কংগ্রেসের সকল সভাতেই এটি গাওয়া হতো। ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান হিসেবে এসেছিল আরও অনেক পরে।