ব্যবসায়ী রবীন্দ্রনাথ
কুষ্টিয়া শহরটি শিলাইদহ থেকে মাত্র পাঁচ মাইল দূরে। যোগাযোগের মাধ্যম ছিল একটি কাঁচা রাস্তা, মাঝখানে গড়াই নদীর উপর ফেরি পার হতে হতো। দ্রুত বেড়ে ওঠা এ শহরটি ছিল নদীয়া জেলার উত্তরাংশের বাণিজ্যকেন্দ্ৰ। কুষ্টিয়া রেলওয়ে স্টেশনের খুব কাছেই আমাদের কিছু জমি ছিল। বলেন্দ্র এবং সুরেন্দ্র সেখানে ব্যবসা করতে চাইলেন। তাঁরা বাবাকে রাজিও করিয়ে ফেললেন। শীঘ্রই এ তিনজনের অংশীদারিত্বে ঠাকুর অ্যান্ড কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলা হল। একটি ঘর এবং কয়েকটি গুদাম নির্মাণ করে তাঁরা শস্য মজুদ ও পাটের আড়তদারি শুরু করলেন। মুনাফা হতে লাগলে ব্যবসা আরও বড় করলেন। যতই সৃজনশীল, শিল্প ও সাহিত্যমনা হোন না কেন, ঠাকুর পরিবারের লোকজন সব সময়ই টাকা উপার্জনের জন্য উৎসুক থাকতেন। দ্বারকানাথ ঠাকুরের রক্ত বলে কথা!
আখচাষ লাভজনক হয়ে দাঁড়ালে এর আবাদ বেড়ে যায়। কিন্তু আখ মাড়াই করা কঠিন ছিল। তখনও আখচাষ হতো বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ফলে আখ মাড়াইয়ের কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব ছিল না। আবার পুরনো পদ্ধতিতে মাড়াই লাভজনক ছিল না। কেউ একজন একটি বহনযোগ্য মেশিন তৈরি করে। এর সিলিন্ডারগুলো বলদ দিয়ে ঘুরানো হতো। রেনউইক নামের এক ইংরেজ কুষ্টিয়ায় এ মেশিনের ব্যবসায় খোলেন। তিনি অনেক মেশিন তৈরি করে মাড়াইয়ের মৌসুমে চাষিদের নিকট ভাড়া দিতে শুরু করেন। ঠাকুর অ্যান্ড কোম্পানিও এ ব্যবসায়ে ঢুকলে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ম্যানেজার অসৎ হবার ফলে ব্যবসাটি ভালো চলেনি। কয়েক বছর পর কোম্পানিটি গুটিয়ে যায়। বাবা পুরো দায়-দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিলেন। ফলে তাঁর কাঁধে মোটা অঙ্কের ঋণের দায় বর্তায়। তাঁর ব্যবসা করার সাধ এখানেই চিরতরে মিটে যায়।
