Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
0/27
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

প্রেত লামার মন্দির – ১

লাভা মনাস্ট্রির চত্বরে দাঁড়িয়ে দীপাঞ্জন জিজ্ঞেস করল, ‘এ জায়গাটা কেমন লাগল আপনার?’

জুয়ান জবাব দিলেন ‘খুব সুন্দর পরিবেশ। এত টুরিস্টের ভিড় তবু মনাস্ট্রির ভিতরে কী শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ! তাছাড়া ওই যে নীচে কুয়াশাঘেরা পাইন বন, কেমন যেন রহস্যময়তা জেগে আছে ওর মধ্যে। এখন যে দেশে আছি সেই জাপানে মাউন্ট ফুজিয়ামা-সহ বেশকিছু পর্বত আছে বটে, তাতে বরফও জমে, কিন্তু সে সবই আগ্নেয় পর্বত। এমন কুয়াশা মাখানো নিবিড় পাইনবন সেখানে নেই। এখানকার লোকজনকেও বেশ ভালোই মনে হচ্ছে।’

দীপাঞ্জন বলল, ‘আপনি যে হঠাৎ এভাবে আবির্ভূত হবেন তা ভাবতেই পারিনি। আমাদের জেলাতে নিরিবিলি পাহাড়ি টুরিস্ট স্পট বলতে এ-অঞ্চলটার কথাই মনে হল আমার। এই লাভা, আর আমরা যেখানে যাব সেই লোলেগাঁও। আমি বারকয়েক এসেছি এখানে। তবে এখন দুর্গাপূজার ছুটি চলছে বলে লোকজনের ভিড়। তবে তারই মধ্যে নির্জনতা খোঁজার চেষ্টা করব। দেখা যাক কী হয়? তবে আপনার আসার খবর যদি একটা মাস আগেও জানতাম তবে ভালো হোটেল বুক করার ব্যবস্থা করতাম। চেষ্টা করেছিলাম তবুও, কিন্তু এখানকার সব হোটেল, তিনচার মাস আগে থেকে বুকড়। পুজোর সময় খুব চাপ চলে এখানে। তবে আপনি যে এমন হুট করে চলে আসবেন তা আমি ভাবতেও পারিনি। এখনও ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না ব্যাপারটা। কী যে আনন্দ হচ্ছে আমার!’

প্রফেসর জুয়ান হেসে বললেন, দিল্লিতে ‘হিস্ট্রি কংগ্রেস’-এ বক্তা হিসাবে যেদিন আমন্ত্রণের চিঠি পেলাম, সেদিনই আমি ঠিক করে নিয়েছিলাম যে তোমাকে একটা চমক দেব। আগে কিছু বলব না। দিল্লিতে নেমে তারপর ফোন করব তোমাকে। কয়েক মাস ধরে খুব কাজের চাপ যাচ্ছে ইউনিভার্সিটিতে। আমি এখন ইতিহাস বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে। নানা ঝামেলা। রেস্টেরও দরকার মনটাকে চাঙ্গা করার জন্য। তোমার সাথে এখানে নিরিবিলিতে কাটাব ক’টা দিন।’ দীপাঞ্জন বলল, ‘বেশ করেছেন। কত দেশে আমরা এক সাথে গেছি। আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জার্মানির কুখ্যাত হত্যাভূমি ডাকাউ ক্যাম্পে। রোমের গ্ল্যাডিয়েটরদের যুদ্ধভূমি কলোসিয়াম থেকে ইংলন্ডের গা ছমছমে শেরউড বনে। আর হালে গতবছর বেলজিয়ামের মানুষের চিড়িয়াখানায়। কিন্তু সত্যি বলতে কি, আমার নিজের দেশে এমনকি এই বাংলায় আমরা যে একসাথে ঘুরে বেড়াব তা ভাবিনি।’

ঘড়ি দেখলেন প্রফেসর। বেলা দুটো বাজে। সকাল আটটাতে বাগডোগরা এয়ারপোর্টে নেমেছেন জুয়ান। গতকাল সন্ধ্যার ফ্লাইটে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি এসেছিল দীপাঞ্জন। একটা হোটেলে রাত কাটিয়ে সকালবেলা এয়ারপোর্ট থেকে জুয়ানকে রিসিভ করে গাড়িতে করে সোজা প্রথমে কালিম্পং-এ। সেখানে একটা হোটেলে স্নান-খাওয়া সেরে একটু ফ্রেশ হয়ে নিয়ে লাভাতে মনাস্ট্রি দেখতে আসা। ঘড়ি দেখে জুয়ান বললেন, ‘এ জায়গাতো দেখা হয়ে গেল, এবার তুমি আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে বলো?’

দীপাঞ্জন বলল, ‘আমরা এবার কাছেই একটা ছোট পাহাড়ি জনপদে যাব। লোলেগাঁও নাম। খুব সুন্দর জায়গা। ওই লাভা থেকে ঘণ্টাখানেকের পথ সেটা। ওখানে থাকার জায়গার খোঁজ করতে হবে। আপনি নিরিবিলি পরিবেশ চাচ্ছেন। তেমন হলে ওখানেই দু-তিনটে দিন থাকা যেতে পারে।’

জুয়ান বললেন ‘আচ্ছা, চলো তবে রওনা হওয়া যাক।”

লাভা মনাস্ট্রি চত্বর থেকে নীচে নেমে বাইরে বেরিয়ে এল দীপাঞ্জনরা। টুরিস্ট সিজিন বলে বাইরে গাড়ির ভিড়। কিন্তু কাছেই দাঁড়িয়েছিল দীপাঞ্জনদের গাড়ির ড্রাইভার সুব্বা। বছর পঁচিশেক বয়স তার। দীপাঞ্জনদের দেখে হাত নেড়ে সে গাড়ির কাছে ডেকে নিল। গাড়িতে উঠে দীপাঞ্জন সুব্বাকে বলল, ‘লোলেগাঁওতে দু-দিনের জন্য একটা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। তোমার চেনাশোনা যদি কোন হোটেল-রিসর্ট থাকে তবে সেখানেও নিয়ে যেতে পার।’

সুব্বা গাড়ির এঞ্জিন স্টার্ট করে বলল ‘চেনাতো কিছু আছে সাহেব। কিন্তু এখন পুজোর সিজিন। আগাম বুকিং না থাকলে ঘর পাওয়া মুশকিল। দেখা যাক কি করা যায়?’

লোলেগাঁওর পথে রওনা হল দীপাঞ্জনরা। চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এগিয়ে চলল তাদের জিপ। রাস্তা বিশেষ ভালো নয়। প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগছে গাড়িতে। কিন্তু চারপাশের নৈসর্গ যেন ভুলিয়ে দিচ্ছে সেই কষ্টকে। রাস্তার পাশে কখনও কয়েকটা ছোটছোট বাড়ি নিয়ে পাহাড়ি গ্রাম। কাঠের বারান্দার সিলিং থেকে অর্কিডের টব ঝুলছে। টুরিস্ট জিপ দেখে হাত নাড়ছে ছোট ছোট পাহাড়ি শিশুরা। গালে তাদের লাল আভা। কোথাও আবার রাস্তার পাশে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে গেছে পাইন বন। গাছগুলোর আড়ালে বিরাজ করছে অপার নৈঃশব্দ আর আদিমতা। সময় সেখানে যেন থমকে আছে। পথের পাশের গাছগুলো থেকে উঠে আসছে ঝিঁঝি পোকার ডাক। আবার কখনও বা পাহাড় জঙ্গলের ফাঁক গলে দেখা যাচ্ছে তুষারধবল কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য। এসব দেখতে দেখতে আর পুরনো নানা ঘটনার গল্প করতে করতে ঘণ্টখানেক বাদে দীপাঞ্জনরা পৌঁছে গেল লোলেগাঁওতে। কিন্তু ছোট্ট জনপদটাতে প্রবেশ করেই দীপাঞ্জনরা বুঝতে পারল এখানে ঠাই মেলা মুশকিল হবে। পথের ডানপাশে যে হোটেল রিসর্ট আছে তার সামনে গাড়ি আর লোকজনের ভিড়। ছোট্ট চত্বরটার ঢাল দিকের মাঠটাতে ছোট্ট একটা বুদ্ধমন্দির আর বেশ বড় একটা বুদ্ধমূর্তি আছে। যে মাঠটাতে সবসময় কুয়াশার আনাগোনা চলে সেখানেও লোকজন গিজগিজ করছে। গাড়িটাকে এক জায়গাতে দাঁড় করিয়ে সুব্বা হোটেলের খোঁজে গেল ঠিকই, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে এসে সে বলল, ‘হল না সাব। আমার চেনাশোনা যেসব হোটেল আছে বা অন্য হোটেল আছে, কোথাও একটা ঘর খালি নেই। চলুন এগিয়ে দেখা যাক।’

সেই ঘিঞ্জি জায়গা থেকে বেরিয়ে রওনা হল তারা। কিছুটা তফাতে তফাতেই দাঁড়িয়ে আছে হোটেল বা রিসর্ট। তাদের সামনে থামতে থামতে এগোতে লাগল গাড়ি। এ জায়গাগুলো তুলনামূলক ফাঁকা হলেও সব জায়গাতেই ‘নো রুম’।

দীপাঞ্জন বেশ হতাশ হয়ে পড়ল। সুব্বা বলল, ‘তেমন হলে আমাদের কালিম্পং ফিরে যেতে হবে।

চলতে চলতে পাহাড়ি বাঁকে একটা গাড়ি পাশ দিয়ে যাবার সময় হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে দিল সুব্বা। যে গাড়ি উলটোদিক থেকে আসছে তার গাড়ির ড্রাইভার সম্ভবত সুব্বার পরিচিত। তার সাথে জিপের জানলা দিয়ে স্থানীয় ভাষায় কিছু কথা হবার পর সুব্বা, দীপাঞ্জনদের বলল, ‘যা শুনলাম তাতে এখানে কোনো হোটেল-রিসর্ট খালি নেই। তবে আপনারা যদি ‘হোম স্টে’ করতে চান তবে শেষ একটা চেষ্টা করা যেতে পারে। এখানে কিছু পাহাড়ি গ্রাম আছে যেখানে ঘর ভাড়া দেওয়া হয়। তবে বিদ্যুতের আলো কিন্তু সেখানে নেই।’

দীপাঞ্জন ‘হোম স্টে’র ব্যাপারটা জুয়ানকে বুঝিয়ে বলতেই তিনি বললেন, যদি পাওয়া যায় মন্দ কি? বরং ওসব জায়গাই হোটেল রিসর্টের থেকে ভালো। যেখানে লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচি নেই, গাড়ি-ঘোড়ার ভিড় নেই। অমন জায়গাতেই বরং শান্তিতে প্রকৃতির শোভা উপভোগ করে যাবে।’

দীপাঞ্জনদের সম্মতি পেয়ে এবার তেমন কোনো গ্রামের খোঁজে এগোল সুব্বা। ক্ৰমে ক্রমে যেন এক অখণ্ড নীরবতার মধ্যে প্রবেশ করতে লাগল দীপাঞ্জনদের জিপ। পথের দুপাশে শুধু ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে গেছে বা খাদের ভিতর নেমে গেছে ঘন পাইন বন গাছগুলোর গায়ে সবুজ শ্যাওলার পুরু আস্তরণ। ওপরের বনের ভিতর থেকে কুয়াশা নেমে এসে রাস্তার ওপর দিয়ে ভাসতে ভাসতে আবার নীচে খাদের দিকে নেমে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে সে কুয়াশা গাড়ির ভিতর ঢুকে দীপাঞ্জনদেরও ভিজিয়ে দিচ্ছে। দীপাঞ্জন, সুব্বার কাছে জানতে চাইল, ‘জায়গাটা কত দূর?”

সুব্বা জবাব দিল, ‘মাইল তিনেক মতো।’

জুয়ান বললেন, ‘চারপাশের ওই নির্জনতা কিন্তু বেশ লাগছে।’

দীপাঞ্জন বলল, ‘আমারও লাগছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলে আরও ভালো লাগবে।’

এগোতে লাগল গাড়ি।

বেশ কিছুটা পথ চলার পর একটা ঢাল বেয়ে তখন জিপটা ওপরে উঠছিল। দুপাশে ঘন পাইন বন। হঠাৎই একটা বাঁকের মুখে খুব জোর ব্রেক কষে জিপ থামিয়ে দিল সুব্বা। পাহাড়ের ঢাল ভেঙে হুড়মুড় করে গাড়ির সামনে এসে পড়েছে একটা লোক। আর একটু হলেই চাকার নীচে পড়ত সে। সুব্বা মনে হয় তাকে ধমকে কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই সে গাড়ির জানলার কাছে এসে হাতজোড় করে হিন্দিতে বলল, ‘আমাকে বাঁচাও তোমরা। গাড়িতে তুলে নাও। নইলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’

লোকটার পরনে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মতো পোশাক। নেড়া মাথা, চোখে মুখে ফুটে আছে ভয়ার্ত ভাব। ঠোটের এক কোণ থেকে রক্ত বেরোচ্ছে।

সুব্বা জানতে চাইল, ‘ওরা কারা? তুমি কে?”

লোকটা ভয়ার্ত গলায় বলল, ‘ওরা, গ্রামের লোকরা। আমাকে ওরা প্রেত মানুষ ভেবে মারতে চাচ্ছে। বিশ্বাস করো আমি ভুত বা চোর ডাকাত নই। দয়া করো আমাকে। ওরা চলে এল বলে!’

সুব্বা বলল, “না, অচেনা লোককে আমি জিপে তুলব না।”

লোকটা কাতর স্বরে বলে উঠল ‘আমাকে বিশ্বাস করো, দয়া করো, দরকার হলে থানায় নিয়ে চলো। কিন্তু ওদের হাতে ছেড়ো না। কোনোরকম ওদের হাত থেকে পালিয়েছি। ওরা চলে গেলেই আমি নেবে যাব।’

আর এরপর একটা অস্পষ্ট কোলাহলের শব্দ ভেসে এল ওপরের দিক থেকে। আর সেটা শুনেই লোকটা বলল ‘ওই ওরা এসে পড়ল বলে। আমি ভূত-প্রেত নই। বাঁচাও আমাকে।’

সুব্বা তবুও বলল, ‘না, আমি কোনো ঝামেলাতে যাব না।’

লোকটা এবার আর কোনো কথার তোয়াক্কা না করে জিপের দরজার লক খুলে ফেলে জিপে উঠে সটান দীপাঞ্জনদের পায়ের ওপর শুয়ে পড়ে কাঁপতে থাকল! কোলাহলের শব্দটা ক্রমশ পাকদণ্ডীর ওপর থেকে নীচে নেমে আসছে। সুব্বা দীপাঞ্জনকে বলল, ‘কি করব?’

ব্যাপারটার আকস্মিকতায় একটু হকচকিয়ে গেলেন জুয়ান। ভাষার ব্যবধানের জন্য তিনি বুঝতে পারছেন না। ব্যাপারটা কি হল?

এ লোকটা যেই হোক না কেন গণপ্রহারে মৃত্যু নিশ্চয়ই আকাঙ্ক্ষিত নয়। মুহূর্তের মধ্যে কর্তব্য স্থির করে নিল দীপাঞ্জন।

গাড়ির দরজা বন্ধ করে দিয়ে, ব্যাগ থেকে দ্রুত চাদর বার করে লোকটাকে ঢেকে দিয়ে বলল ‘গাড়ি চালাও।’

দীপাঞ্জনের কথা শুনে এগোল সুব্বা। বাঁক নিয়ে গাড়িটা একটু ওপর দিকে উঠতেই ওপর থেকে একদল লোককে তারা নেমে আসতে দেখল। জনা পনেরো লোক। তাদের হাতে লাঠি, কুড়াল, একজনের হাতে একটা গাদা বন্দুকও আছে। গাড়ির সামনে এসে তারা একটু থমকে গেল। তারপর হইহল্লা করতে করতে গাড়িটাকে পাশ কাটিয়ে আবার নীচের দিকে নেমে গেল। তাদের হাতে পড়লে যে লোকটার দফারফা হত তা বুঝতে অসুবিধা হল না দীপাঞ্জনদের। গাড়ি আরও কিছুটা এগোবার পর লোকটা জানতে চাইল, ‘ওরা চলে গেছে?’

দীপাঞ্জন বলল, ‘হ্যাঁ।’

লোকটা এবার মাথা তুলে বাইরেটা দেখার চেষ্টা করল। সুব্বা বলল, ‘এবার তুমি নেমে যাও। আমরা কোনো ঝামেলাতে থাকতে চাই না।’

লোকটা শুনে বলল ‘নামছি, নামছি। আর একটু, আর একটু। সামনে একটা জঙ্গল আসছে ওখানেই আমি নেমে যাব।’

সত্যিই আর একটা বাঁকের পর পথের একপাশে বিরাট একটা পাইন বন শুরু হল। তার ভিতর কুয়াশা জমে আছে। টুপ টুপ করে জল ঝরছে গাছের মাথা থেকে। সে জায়গাটাতে পৌঁছতেই লোকটা বলল, ‘এবার আমি নামব।’

জিপ থেমে গেল। গাড়ি থেকে লোকটা নামল। তারপর দীপাঞ্জনদের উদ্দেশ্যে বলল আপনারা অনেক উপকার করলেন আমার। প্রাণ বাঁচিয়ে দিলেন।’

ঠিক এই সময় এতক্ষণ পর একটা অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করল দীপাঞ্জন। লোকটার ওপরের দাঁতের পাটির দুপাশে শদন্তের মতো তীক্ষ্ণ দুটো দাঁত আছে! কথাগুলো বলে লোকটা আর দাঁড়াল না। নিমেষের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল বনের অন্ধকারে। আবার চলতে শুরু করল গাড়ি। দীপাঞ্জন এবার ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলল জুয়ানকে।