Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
0/27
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

প্রেত লামার মন্দির – ৪

পরদিন বেলা সাতটা নাগাদ ঘুম ভাঙল দীপাঞ্জনদের। বাইরে বেরোবার জন্য তৈরি হতে লাগল তারা। ইতিমধ্যেই দরজা নক করার শব্দ হল। দরজা খুলে দীপাঞ্জনা দেখতে পেল ল্যান্ড লেডি চা নিয়ে হাজির হয়েছেন। মুখে হাসি। বেশ একটা মাতৃসুলভ স্নিগ্ধতা আছে বৃদ্ধার মুখমণ্ডলে। সুপ্রভাত বিনিময়ের পর চায়ের ট্রে নামিয়ে রেখে চলে গেলেন বৃদ্ধা। গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে জুয়ান বললেন, ‘চলো ওই পোড়ো মন্দিরটার ওদিকেই যাব। ভিতরটা একটু ঘুরে দেখব। দেখি কোনো ভূত-প্রেতের সন্ধান মেলে কিনা?”

দীপাঞ্জন হেসে বলল, ‘ভদ্রমহিলার থেকে কালকের গল্পটা শুনে ভূতের ব্যাপারটা আপনাকেও আকৃষ্ট করেছে তাই না?’

জুয়ান বললেন, “কিছুটাতো বটেই। এত জায়গা আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি কিন্তু ভূতের দেখা কোথাও পাইনি। তাও যে একবার শেরউড বনের জমিদারবাড়িতে স্কন্ধকাটা ভূতের দেখা মিলল পরে জানলাম সেটা আসলে সাজানো ভূত। সত্যি ভূতের দেখা মিললে মন্দ কি?’

জুয়ান আর দীপাঞ্জন আটটা নাগাদ বাড়ির বাইরে বেরলো। বাড়িটার পিছন দিকে যেতেই তাদের নজরে পড়ল পাইন বনে ঢোকার মুখটাতে একটা জিপ গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। দীপাঞ্জন বলল, ‘কেউ মনে হয় বনের ভিতর ঢুকেছে!

জুয়ান বললেন, “ভূত নিশ্চয়ই দিনের আলোতে গাড়ি চালিয়ে আসবে না। দেখা যাক লোকটা কে?”

ঢাল বেয়ে নেমে পাইন বনের প্রবেশ মুখে পৌঁছে গেল দীপাঞ্জনরা। গাড়িটার সামনে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার মারা আছে। পাইন বনের ভিতর প্রবেশ করল দীপাঞ্জনরা। কিছুটা এগিয়ে সেই পোড়ো মন্দিরটার সামনে পৌঁছেই তারা দেখতে পেয়ে গেল লোকটাকে। মাঝবয়সী একজন লোক, পরনে কোট-প্যান্ট, ছিপছিপে চেহারা, মাথায় টাক। তার এক হাতে ধরা একটা ফাইল আর অন্য হাতে ফিতে মাপার বড় রোল।’

দীপাঞ্জনদের দেখে ভদ্রলোক বললেন, ‘আপনারা কি এখানেই থাকেন?’

দীপাঞ্জন হেসে জবাব দিল, ‘না, আমরা টুরিস্ট। আপনার পরিচয়টা?’

 

ভদ্রলোক জবাব দিলেন, ‘আমি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করি।’

দীপাঞ্জন কথাটা শুনে প্রফেসর জুয়ানকে দেখিয়ে বললেন, ‘ইনিও অধ্যাপক। জাপানের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। এখানে আমার সাথে বেড়াতে এসেছেন।’

ভদ্রলোক বললেন, ‘জেনে ভালো লাগল। আমার নাম অবনী জোয়ারদার। কালই এখানে এসেছি আমি।’ দীপাঞ্জনও তাদের নাম পরিচয় জানাল ভদ্রলোককে। তারপর ভদ্রলোকের হাতের ফিতরে রোলটার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইল, ‘এখানে কোনো জরিপের ব্যাপার আছে?’

প্রশ্নটা শুনে ভদ্রলোক হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ বলতে পারেন আবার নাও বলতে পারেন। আসলে আমি এই অঞ্চলের প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপত্যশৈলী নিয়ে একটা গবেষণা করছি। মানে আর্কিটেকচার নিয়ে। স্থাপত্যগুলোর গঠন বোঝার জন্য ঘর, স্তম্ভ, দেওয়াল ইত্যাদি মাপামাপি করতে হয়। সেজন্যই এই ফিতে।’ এরপর একটু থেমে তিনি বললেন, ‘এই দার্জিলিং-কালিম্পং-এ যত প্রাচীন বুদ্ধ মন্দির বা মঠ আছে তার একটা সরকারি তালিকা আছে। সেই তালিকা দেখে আগে বেশ কটা মন্দিরে গেছিলাম। সেগুলো পুরনো হলেও মোটামুটি অক্ষতই আছে। কিন্তু এটার যে এমন অবস্থা তা কাল এখানে আসার পর জানতে পারলাম। ভিতরে ঢুকেছিলাম, কোথাও কিছু নেই। শুধু প্রেয়ার হল মতো একটা ঘরে একটা ভীষণ দর্শন পাথরের মূর্তি এখনও আছে। তবে কাঠামোটা যখন টিকে আছে তখন এটা নিয়েও কাজ করা যেতে পারে। ভাবছিলাম, কি করি? এমন সময় আপনারা এলেন।’

তার কথা শুনে জুয়ান হেসে বললেন, ‘আপনি মন্দিরের ভিতর আর অন্য কাউকে দেখেননি?’

অবনী জোয়ারদার হেসে ফেলে বললেন, “আপনি সেই লামা বা বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর প্রেতাত্মার কথা বলছেন তো! আরে তা নিয়েই তো গ্রাম তোলপাড়। সেই প্রেতাত্মা লামাকে নাকি কাল ধরেও ফেলেছিল গ্রামের লোকরা। কিন্তু সে তাদের হাত ফসকে পালিয়ে যায়। তারপর দিনের আলোতেই নাকি ভোজবাজির মতো মিলিয়ে যায়। আর এতেই তাদের বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে যে লোকটা প্রেতাত্মাই ছিল। নইলে অমন ভাবে কেউ উধাও হতে পারে! সেই প্রেতটা এখানে ফিরে এসে আবার আস্তানা গেড়ে থাকতে পারে। এই ভয়ে কেউ আমার সাথে এখানে আসতেই চাইল না। প্রেতাত্মাকে পিটিয়ে মারা সম্ভব নয় বুঝতে পেরেছে তারা। তাই এবার লাভা মনাস্ট্রি থেকে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বা লামাদের এখানে এনে শাস্তিস্বস্ত্যয়নের ব্যবস্থা করতে চাচ্ছে তারা। ভূতটা যখন লামা, এখন লামারাই তাকে তাড়াতে পারবে এই তাদের ধারণা।’

 

জুয়ান আর দীপাঞ্জন মৃদু দৃষ্টি বিনিময় করল অবনীবাবুর কথা শুনে। দীপাঞ্জন এরপর বলল, ‘আমরাও একই ঘটনা শুনেছি। তবে লামাদের এনে ভূত তাড়ানোর পরিকল্পনাটার কথা শুনিনি। আপনি যখন আশ্বস্ত করছেন যে সেই লামার প্রেতাত্মা ভিতরে নেই তখন একবার ভিতরটা দেখেই আসি।’ শেষ কথাগুলো হেসেই বলল সে। অবনীবাবু বললেন, ‘চলুন আমিও আপনাদের সাথে যাচ্ছি।’

মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করল তারা তিন জন। প্রথমে কয়েকটা ছোট ঘর। কোথাও কিছু নেই সেসব ঘরে। এক সময় হয়তো সেসব ঘরে কিছু জিনিসপত্র ছিল। আগুনে পুড়ে খাক হয়ে গেছে সেসব। সে ঘরগুলো অতিক্রম করে দীপাঞ্জনরা পৌঁছে গেল বিরাট হল ঘরের মতো জায়গাতে। সে ঘরে কোনো জানলা নেই। আশেপাশে কয়েকটা দরজা আছে বড় ঘরটার গায়ে লাগানো ছোট-ছোট ঘরগুলোতে যাবার জন্য। টিনের চালের ফোকর গলে কিছুটা আলো ঢুকছে ঘরে। আর ঘরের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক অদ্ভুতদর্শন পাথরের মুর্তি। এছাড়া ঘরে অন্য কিছু নেই। দীপাঞ্জনরা মূর্তিটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মানুষের আকারের একটা মূর্তি। নীচু বেদি সমেত উচ্চতা অন্তত সাড়ে পাঁচ ফুট বা তার বেশি হবে। লাফিং বুদ্ধের মতো ভুঁড়িঅলা স্থূলকায়। কিন্তু লাফিং বুদ্ধের মতো তার মুখে হাসি নেই, রয়েছে প্রচণ্ড বীভৎসতা। পাথরের তৈরি মূর্তি হলেও তার চোখগুলো যেন জীবন্ত। আদিম জিঘাংসার বর্তুলাকার চোখের মণিগুলো ছিটকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে অক্ষি কোটর থেকে। উন্মুক্ত মুখ গহ্বর থেকে উঁকি মারছে হিংস্র শ্বদন্ত। আর তার বিরাট লম্বা জিভটা যেন প্রচণ্ড রক্ত লালসায় নেমে এসেছে তার স্ফীত উদর পর্যন্ত। মূর্তির হাত দুটো এমনভাবে দু-পাশে অর্ধবৃত্ত সৃষ্টি করেছে, যেন সে নখরযুক্ত আঙুল দিয়ে এখনই জড়িয়ে ধরবে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে। তারপর তার বুক চিরে লম্বা জিভ দিয়ে রক্ত চেটেপুটে খাবে! মূর্তির সাজপোশাকও তার চেহারার সাথে মানানসই। মাথার মুকুটে বসানো আছে নর করোটি, কোমরেও রয়েছে মানুষের খুলির সাজ।

বেশ কিছুক্ষণ ধরে অবাক হয়ে এই বীভৎস মূর্তিটাকে দেখল জুয়ান আর দীপাঞ্জন। জুয়ান বললেন, ‘আমি বহু ভয়ঙ্কর মূর্তি দেখেছি। কিন্তু এত জীবন্ত-ভয়ঙ্কর মূর্তি কখনও দেখিনি। একলা ঘরে ঢুকলে ও মূর্তি দেখলে যে কোনো মানুষ চমকে যাবে। হয়তো আসলে প্রেতাত্মার ব্যাপারটার উৎস এই মূর্তিও হতে পারে। এই মূর্তি দেখেই প্রথমে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল মানুষের মনে। তারপর তারা সেই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীকেও প্রেত ভাবতে শুরু করে এবং পুড়িয়ে মারে।’

জুয়ানের কথা শুনে অবনীবাবু বললেন, ‘আমিও প্রথমে এই মূর্তিটা দেখে চমকে গেছিলাম। আমি কাজের সূত্রে গত কয়েক মাস এ অঞ্চলের বেশ কিছু বৌদ্ধ মঠে গেছি, বেশ কিছু বীভৎস তিব্বতী অপদেবতার মূর্তিও দেখেছি সে সব জায়গাতে। কিন্তু এমন বীভৎস-ভয়ঙ্কর মূর্তি কোথাও দেখিনি। দেখুন চার দেওয়ালে ওর চারটে মুখের ছবিও খোদাই করা আছে! যেন মূর্তিটা চারদিক থেকেও দেখছে আমাদের।’

 

অবনীবাবুর কথা শুনে দেওয়ালের দিকে তাকাল দীপাঞ্জন আর জুয়ান। হ্যাঁ মূর্তির চারটে মাথা খোদাই করা আছে দেওয়ালের গায়ে সিলিং-এর কাছে। তাদের একটা মুখ অবশ্য পিছন ফেরানো। বাকি তিনটে একটা সোজা আর অন্য দুটো দু-পাশে ফেরানো মাথাগুলো যেন চারদিক থেকে দেখছে তাদের। তিনটে মাথা দেওয়াল থেকে আর একটা মাথা স্বয়ং-মূর্তির মাথা। যারাই এ ঘরে ঢুকবে, তারাই এই ভয়ঙ্কর অপদেবতার নজরবন্দি হবে! ঘরটা ভালো করে দেখার পর জুয়ান, ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘চারপাশে যে ছোট ঘরগুলো আছে ওগুলো দেখেছেন?” ‘দেখেছি। ওর মধ্যে কোথাও কিছু নেই। শুধু একটা ঘরে একটা অনেক পুরনো মরচে ধরা জপযন্ত্র পড়ে আছে।’—জবাব দিলেন অবনীবাবু।

এরপর তিনি একটু ইতস্তত করে দীপাঞ্জনকে বললেন, ‘যদি কিছু মনে না করেন তবে আমাকে একটা কাজে একটু সাহায্য করবেন? সামান্য সময়ের ব্যাপার।’

দীপাঞ্জন বলল, ‘কী কাজ?’

ভদ্রলোক বললেন, ‘এখানে এসেই যখন পড়েছি তখন ভাবছি এটার আর্কিটেকচার নিয়ে ও কাজ করে যাই। এই ঘরটাকে কেন্দ্র করেই তো মন্দিরটা। এ ঘরটার আর বাইরে থেকে মন্দিরটার একটু মাপ নেব। দয়া করে যদি ফিতেটা ধরে একটু সাহায্য করেন?’

দীপাঞ্জন হেসে বলল, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই। এত সামান্য ব্যাপার।’

ভদ্রলোকের সাথে কাজে লেগে গেল দীপাঞ্জন। ফিতে ধরে লম্বালম্বি, চওড়াচওড়ি, কোনাকুনি নানা ভাবে মাপা শুরু হল ঘরটা। আর প্রফেসর জুয়ান ছোট ছোট ঘরগুলোকে উঁকি দিয়ে দেখতে লাগলেন। মাপগুলো খাতায় টুকতে টুকতে অবনীবাবু বললেন, “বুঝলেন মশাই, আমাদের দেশে থিসিস পেপার যত মোটা হয় তত তার দাম। তত বেশি গুরুত্ব। ভিতরে যাই থাকুক না কেন দিস্তে দিস্তে লিখে যেতে হবে। একটা চ্যাপ্টার অন্তত বাড়ানো যাবে এই মন্দিরটা নিয়ে।’

ভদ্রলোকের কথা শুনে হাসল দীপাঞ্জন। কথাটা তর্জমা করে বলল জুয়ানকে। তিনি বললেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সময় যে ভারতীয় রিসার্চ পেপার পাঠানো হয় তাতে তাই দেখি। আমাদের দেশে কিন্তু আকার নয় বিষয়ের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। তার নির্যাসটাই আসল, গুণগত মানই আসল, কলেবর নয়। মাত্র পঞ্চাশ পাতার রিসার্চ পেপার। তাতেই আমাদের দেশে অনেকে ডক্টরেট পেয়েছে জানি।’

 

অবনীবাবু বললেন, ‘সে জন্যই তো আপনাদের দেশ অত এগিয়েছে। আপনাদের ওখানে মানুষের সময়ের দাম আছে। আর আসল হল কাজটাই।’

হলঘরটা মাপা হবার পর বাইরে বেরিয়ে এল তারা তিনজন। ফিতে ফেলে এরপর কাঠামোর বাইরের মাপা শুরু হল। এ কাজে প্রফেসর জুয়ানও হাত লাগালেন। বাইরেটা মাপার কাজ শেষ হবার পর ফিতে গোটাতে গোটাতে অবনীবাবু হেসে বললেন, ‘কৃতজ্ঞতা স্বীকারে অবশ্যই আপনাদের নাম রাখব।’

জুয়ান বললেন, ‘ছোট-ঘরগুলো আর স্তম্ভ ইত্যাদির মাপ নেবেন না।’

অবনীবাবু বললেন ‘হ্যাঁ, নেব। এগুলো আমি একলাই করে নেব। কালকের দিনটাও আমি এখানে থাকব। আচ্ছা, আপনারা কোথায় উঠেছেন বলুনতো? কবে এসেছেন? কদিন থাকবেন?”

দীপাঞ্জন বলল ‘গত সন্ধ্যায় এসেছি। আগামী কালও থাকার ইচ্ছা আছে। পরিবেশটা ভালো! পলিউশন বা হই হট্টগোল নেই। কাছই এক অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ভদ্রমহিলার বাড়িতে হোম স্টে করছি।’

কথাটা শুনে অবনীবাবু বললেন, ‘আচ্ছা, ওখানে থাকার জন্য ঘর পাওয়া যাবে? আমি যেখানে যে বাড়িতে গতরাত কাটিয়েছি যে ঘরটা বড় স্যাঁতস্যাতে। তা ছাড়া বাথরুমেরও সমস্যা আছে।’

দীপাঞ্জন বলল ‘ভদ্রমহিলা বলছিলেন তাঁর আরও একটা ঘর খালি আছে। আপনি আমাদের সঙ্গে গিয়ে তাঁর সাথে একবার কথা বলতে পারেন।’

অবনীবাবু বললেন, ‘চলুন তবে তাঁর সাথে কথা বলে আসি। তারপর নয় আবার আমি এখানে ফিরে মাপজোক করব।’ দীপাঞ্জন বলল, ‘হ্যাঁ চলুন।’