Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
0/27
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

প্রেত লামার মন্দির – ৫

বাড়িটার সামনে ফিরে এল দীপাঞ্জনরা। অবনীবাবু তাদের সাথে হেঁটেই এলেন। কড়া নাড়তেই দরজা খুললেন অ্যান। দীপাঞ্জনদের সাথে অবনীবাবুকে দেখে তার দিকেই প্রথমে তাকালেন অ্যান। দীপাঞ্জন বৃদ্ধাকে বলল, ‘ইনি আমাদের বন্ধু। আপনি বলছিলেন যে একটা ঘর ফাঁকা আছে সেখানে উনি থাকতে চান।’

বৃদ্ধা জিজ্ঞেস করলেন, ‘টুরিস্ট?’

অবনীবাবু বললেন, “আমি একটা কাজ নিয়ে এসেছি। বুদ্ধ মন্দির নিয়ে একটা গবেষণা করছি আমি। এই পোড়ো মন্দিরটা দেখতে এসেছিলাম। তবে আমি জানতাম না ওটা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি আজ আর কালকের রাতটা এখানে থাকতে চাই।’

কথাটা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন অ্যান। তারপর প্রশ্ন করলেন, “অন্য কোথাও ঠাঁই মেলেনি?”

অবনী জোয়ারদার বললেন ‘মিলেছে। কিন্তু সে জায়গা আমার ঠিক পছন্দ নয়।’ কথাটা শুনে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন বৃদ্ধা। তারপর বললেন ‘ঘর প্রতি ওনাদের মতোই হাজার টাকা ভাড়া লাগবে কিন্তু। ভিতরে আসুন।’

বাড়ির ভিতর ঢোকার পর বৃদ্ধার সাথে একটা ঘরে হাজির হল দীপাঞ্জন। বাড়ির সামনের দিকের একটা ঘর। বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন খাট-বিছানা পাতা আছে। ঘরে ঢুকে অবনীবাবু বললেন, ‘ফ্যান্টাস্টিক, এমনই একটা ঘর আমি খুঁজছিলাম। এই বলে তিনি বুক পকেটের ভিতর থেকে এক গোছা নোট বার করে তার থেকে একটা দু-হাজার টাকার নোট নিয়ে এগিয়ে দিলেন ল্যান্ড লেডি অ্যানের দিকে। অ্যান টাকাটা হাতে নিয়ে বললেন ‘ক-দিন থাকবেন? বাজার করে দিলে রান্না করে দেব।’

অবনীবাবু বললেন ‘দু-দিন থাকব। তবে বাজার করার হাঙ্গামার মধ্যে নেই। সঙ্গে শুকনো খাবার আছে তাই খাব! অথবা লোলেগাঁও বাজারে গাড়ি নিয়ে খেয়ে আসব।’

দীপাঞ্জন বলল, ‘আপনি আমাদের সাথেও খেতে পারেন কিন্তু। আমাদের বাজার নিয়ে লোক আসবে।’

কথাটা শুনে অবনীবাবু বললেন, ‘তাহলে তো ভালোই হয়। তবে টাকা নিতে হবে কিন্তু।’ দীপাঞ্জন হেসে বলল, ‘আচ্ছা তাই হবে।’

আর এর পরমুহূর্তেই বাড়ির সামনে নীচের রাস্তায় গাড়ির হর্ন শোনা গেল। আর তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘর লাগোয়া বারান্দাতে এসে দীপাঞ্জন দেখতে পেল বাড়িটার সামনে উঠে এসেছে সুব্বা। তার এক কাঁধে ধরা মুরগির খাঁচা আর অন্য হাতে একটা ব্যাগ। রসদ নিয়ে এসেছে সে। তাকে দেখে ঘর থেকে সদর দরজার কাছে উপস্থিত হল সবাই। অ্যান দরজা খুললেন। সামনে দাঁড়িয়ে সুব্বা। সে দীপাঞ্জনকে প্রশ্ন করল ‘এ সব কোথায় রাখব?’

দীপাঞ্জন অ্যানকে বলল ‘আপনার ভাঁড়ার ঘরেই এসব রাখুন।’

অ্যান ভিতরে প্রবেশ করতে বলল সুব্বাকে। বৃদ্ধার সাথে সুব্বা চলে গেল জিনিসপত্রগুলো রাখার জন্য। বাড়ির বাইরে এসে দাঁড়াল দীপাঞ্জন আর জুয়ান। সঙ্গে অবনীবাবু। জুয়ান তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘এখন কি করবেন? আমি ভাবছি একটু গ্রামটা ঘুরে দেখব।’

অবনীবাবু বললেন, “হ্যাঁ, দেখে আসুন। কিছুটা এগিয়ে কয়েকটা দোকান আছে। গ্রামের লোকেরা আড্ডা দেয় সেখানে। আর আপনাদের ফোন নম্বরটা দিন। আমারটাও রাখুন। দু-দিনতো একসাথে আছি, প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যাবে।’

দীপাঞ্জন ফোন নম্বরটা বলল তাকে। অবনী জোয়ারদার তার মোবাইলে নম্বরটা তুলে নিয়ে একটা মিসড কল দিল দীপাঞ্জনের মোবাইল ফোনে। দীপাঞ্জনও জোয়ারদারের ফোন নম্বরটা সেভ করে নিলেন নিজের ফোনে। অবনী জোয়ারদার এগোলেন পাইন বনের মন্দিরে ফিরে যাবার জন্য।

সুব্বা বাজারগুলো যথাস্থানে রেখে বাইরে বেরিয়ে এলো। জুয়ান তাকে বললেন, ‘সামনে কয়েকটা ছোট দোকান আছে। চলো সেখানে যাব।’

নীচে নেমে গাড়িতে উঠে বসল তারা। কিছুটা এগিয়েই রাস্তার গায়ে কয়েকটা দোকান নজরে পড়ল তাদের। জায়গাটা এত কাছে যে গাড়ি না আনলেই চলত। অনায়াসে পায়ে হেঁটেই আসা যেত। একটা চায়ের দোকান আর তার পাশের দোকান দুটো মুদি দোকানের মতো। গাড়ি থেকে নেমে দীপাঞ্জন আর জুয়ান এগোল চায়ের দোকানের দিকে। দোকানের সামনে কয়েকটা কাঠের বেঞ্চ আছে। তাতে বসে কথা বলছে স্থানীয় গ্রামবাসীরা। তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট একটা উত্তেজনার ভাব। দীপাঞ্জন আর জুয়ান এগিয়ে যেতেই তাদের বসার জন্য একটা বেঞ্চ ছেড়ে দিল লোকগুলো। বসল দীপাঞ্জনরা। এক পাহাড়ি মহিলা দোকানটার কর্ত্রী। তাকে চা আর ওমলেট দিতে বলল দীপাঞ্জন। গ্রামের লোকেরা তাদের কথা থামিয়ে দেখছে দীপাঞ্জনদের। বিশেষত জুয়ানকে। হয়তো তিনি বিদেশি বলেই তার ওপর বাড়তি কৌতূহল জাগছে তাদের। দীপাঞ্জনদের লোকগুলোর সাথে আলাপ করার জন্য চেষ্টা করতে হল না। একজন প্রৌঢ় লোক দীপাঞ্জনকে বলল, ‘আপনারাতো অ্যান মেমসাহেবের বাড়ি উঠেছেন তাই না?’

দীপাঞ্জন হেসে বলল, ‘হ্যাঁ, কালকেই এসেছি। আপনাদের গ্রামটা খুব সুন্দর। শান্ত নিরিবিলি। বেশ লাগছে।’

যে লোকটা তাদের প্রশ্ন করেছিল তার পাশ থেকে একটা লোক তাকে বলল, “আমরা যখন সেই প্রেতকে তাড়া করছিলাম তখন ওনাদের গাড়িটাকেই ওপরে উঠে আসতে দেখেছিলাম। তারপরই তো সে অদৃশ্য হয়ে গেল।’

দীপাঞ্জন বলল, ‘কোন প্রেতের কথা বলছেন আপনারা?’

প্রথম লোকটা জবাব দিল ‘লামার প্রেত। পাইপ বনের ভিতরের মন্দিরের প্রেত। কাল দিনের আলোতে মন্দির ছেড়ে বেরিয়েছিল সে। আমরা পাইন বনে কাঠ কাটতে গেছিলাম। আমাদের চোখে ধরাও পড়ে গেছিল। ধরা পড়েও হাত ছিটকে পালিয়ে গেল সে। তারপর অদৃশ্য হয়ে গেল। প্রেতের সাথে কি লড়াই করে পারা যায়? তাকে ধরা যায়?’

দীপাঞ্জন জানতে চাইল, ‘কী করে জানলে ও লোকটা প্রেত?’

প্রবীণ লোকটা বলল ‘হ্যাঁ, প্রেত। প্রেতাত্মা। বহু কাল আগে আমরা তখনও জন্মাইনি তখন একবার ওকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল। কিন্তু ও রয়ে গেল ওই মন্দিরেই। দেখাও দিত মাঝে মাঝে। বেশ কয়েকজন লোকের বুক চিরে ও রক্তও খেয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওকে মন্দির থেকে তাড়াবার জন্য মন্দিরটাই জ্বালিয়ে দেওয়া হল। মন্দির জ্বালাবার পর অনেকদিনের জন্য অন্য জায়গাতে চলেও গেছিল সে। কিন্তু কিছুদিন আগে আবার সে পোড়ো মন্দিরে ফিরে এসেছে। একটা লোককে মেরে রক্তও খেয়েছে। কাল যখন ওকে আমাদের লোকরা ধরে ফেলেছিল তখন ওর মুখে আমরা রক্তচোষার দাঁত দেখেছি।’

লোকটার বলা শেষ কথাটা যে মিথ্যা নয় তা বুঝতে পারল দীপাঞ্জন। গতকালের লোকটা যখন তাদের গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যাবার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছিল তখন তার মুখে অমন দাঁত দীপাঞ্জনও দেখেছিল। সে অবশ্য ব্যাপারটাকে প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়াল হিসাবেই মনে করেছে। অনেক মানুষের যেমন হাতে ছটা আঙুল থাকে তেমন কারও কারও অমন দাঁতও হয়।

দীপাঞ্জন প্রশ্ন করল, ‘কিন্তু সেই বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এতদিন পরে ওই পোড়া মন্দিরে ফিরে এল কেন?’

প্রশ্ন শুনে একজন লোক বলল, ‘মন্দিরটাতো আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, তাকে উচ্ছেদ করেছিলাম সেখান থেকে। হয়তো সে প্রতিশোধ নেবার জন্যই আবার ফিরে এসেছে। অথবা…।’ –এই বলে থেমে গেল লোকটা। দীপাঞ্জন জানতে চাইল, ‘অথবা কি?’

প্রশ্ন শুনে প্রবীণ লোকটা একটু ইতস্তত করে বলল ‘বাপ-ঠাকুর্দার মুখে শুনেছি ও মন্দিরে নাকি অনেক ধনরত্ন লুকানো আছে। এক তিব্বতী রাজা এই মন্দিরটা গড়ে দেন। কিন্তু যখন এই মন্দির তৈরি হয় তখন এখানে কোনো জনবসতি ছিল না। দিনের বেলাতে বাঘ ঘুরে বেড়াত। এমন জায়গাতে তিনি মন্দির গড়বেন কেন? আসলে তিনি নাকি এ মন্দিরে তাঁর ধনরত্ন লুকিয়ে রেখেছিলেন। আর তা পাহারা দেবার জন্য লামাদের প্রেত রেখেছিলেন। এখানে হয়তো এই ধনরত্নের টানেই আবার ফিরে এসেছে।’ চা আর অমলেট দীপাঞ্জনদের হাতে এনে দিল একজন। এই কথাটা দীপাঞ্জনদের জানা ছিল না। কথাটা শুনে বেশ আশ্চর্য হল সে। লোকগুলোর কথা সে তর্জমা করে জুয়ানকে জানাল। তিনি বললেন, ‘এবার ওরা কি করবে জিজ্ঞেস কর?’

দীপাঞ্জন এ প্রশ্নটা করতেই একজন লোক বলল, ‘লামাদের গতকাল রাতেই এখানে আসার জন্য খবর পাঠানো হয়েছে। তিব্বতীলামার ভূতকে তাড়ানোর মন্ত্র তিব্বতী লামাদেরই জানা আছে। তাদের এসে পড়ার কথা। লামাদের জন্যই আমরা অপেক্ষা করছি এখানে।

চা-য়ে চুমুক দিতে দিতে দীপাঞ্জন প্রশ্ন করল, ‘যদি তারা সেই ভূতকে তাড়াতে না পারে?’

এ প্রশ্ন শুনেই একটা অল্প বয়সি লোক আতঙ্কিতভাবে বলে উঠল, ‘তাহলে আমার মৃত্যু নিশ্চিত। আমার বুক চিরে নির্ঘাত রক্ত খাবে লামার ভূত। কেন যে আমি কাল ওর মুখে ঘুসি মেরে রক্ত বার করতে গেলাম। ওকে জাপটে ধরলাম। ও কিছুতেই আমাকে ছাড়বে না। এই জায়গা ছেড়ে কালই আমি লাভা চলে যাব।’

দীপাঞ্জন বলল, ‘কিন্তু ভূতের শরীরে কি রক্ত থাকে?”

একজন লোক সেই প্রশ্নর জবাবে বলল, ‘ওরা যখন মানুষের দেহ ধারণ করে থাকে তখন রক্ত থাকে, রক্ত খায়।’

দীপাঞ্জন এরপর বলল, ‘আমরাও সকালবেলা এই মন্দিরটা দেখতে গেছিলাম। আরও একজন বাঙালিবাবু এসেছেন। তিনিও ছিলেন। আমরা কিন্তু মন্দিরের ভিতরে ঢুকে কাউকে খুঁজে পাইনি।’

কথাটা শুনে প্রৌঢ় গ্রামবাসী বিস্মিত ভাবে প্রথমে বলল, ‘আপনারা সেখানে গেছিলেন! ওই লেখাপড়া করা বাঙালিবাবুতো আমাদেরও ওখানে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। যাইনি আমরা। ওনাকেও যেতে নিষেধ করেছিলেন, তবু উনি গেলেন!

তারপর লোকটা বলল, ‘আপনারা এক সাথে ছিলেন বলে কিছু হয়নি। সে অদৃশ্য হয়ে গেছিল। কিন্তু কেউ একা ঢুকলেই আর বাঁচতেন না। বুক ফুটো করে নির্ঘাত রক্ত খেত লামার ভূত।’

দীপাঞ্জন আরও কিছু জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল, কিন্তু ঠিক তখনই একটা লম্বাটে ধরনের ঢাকা জিপ গাড়ি এসে দাঁড়াল কিছু দূরে। তার দরজা খুলে একদল লামা নামতে শুরু করল লাল সারঙ পরা, মুণ্ডিত মস্তক একদল লামা। সঙ্গে তাদের ঝাঁঝর, কাঁসর, শিঙা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র। গ্রামবাসীদের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রেতাত্মা তাড়াতে হাজির হয়ে গেছে লামারা। আর তাদের দেখেই গ্রামবাসীরা ছুটল তাদের অভ্যর্থনা জানাবার জন্য। তারপর তাদের নিয়ে চলল একটা বাড়ির দিকে।

চা-অমলেট খেয়ে দীপাঞ্জনরা বেশ কিছুক্ষণ সেখানে বসে থাকার পর বাড়ির পথ ধরল। দীপাঞ্জন বাড়ি ফেরার পথে গ্রামবাসীদের সাথে পুরো কথোপকথনটাই বিস্তৃত ভাবে বলল জুয়ানকে। সবটা শুনে তিনি বললেন, ‘দেখো প্রেতাত্মার ব্যাপারটা আমি বা তুমি কেউই বিশ্বাস করি না। যে লোকটা আমাদের গাড়িতে উঠেছিল সে নিশ্চিত রক্ত মাংসের মানুষ। কিন্তু সে ঝুঁকি নিয়ে আবার কাল মন্দিরে ফিরে গেল কেন? যদিও আজ সকালে তাকে আমরা দেখতে পাইনি। গ্রামবাসীরা ধরতে পারলে হয়তো মরতে হবে জেনেও কেন সে মন্দিরে এল। সেও কি লামার ভেক ধরে মন্দিরে গুপ্তধন খুঁজতে এল? লোকটা খুব সন্দেহজনক।

দীপাঞ্জন বলল, ‘আপনি কি বিশ্বাস করেন যে ওই মন্দিরে গুপ্তধন থাকতে পারে?’ জুয়ান বললেন, ‘আমার বিশ্বাসের ব্যাপার নয়। কিন্তু এসব যারা বিশ্বাস করে তারা এ সবের খোঁজে অনেক সময় সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়। অনেক সময় মারাও পড়ে। তবে সবাই যে ধনী হবার জন্য গুপ্তধন খোঁজে তা নয়। অনেক সময় অ্যাডভেঞ্চারের নেশাতেও খোঁজে।

বাড়ি পৌঁছে গেল দীপাঞ্জনরা। অ্যান দরজা খুললেন। নিজেদের ঘরে চলে গেল দীপাঞ্জনরা। দুপুর বেলাতে তিনি খাবার নিয়ে এলেন। গরম ভাত, সবজি আর মুরগির ঝোল। জুয়ান তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমাদের বন্ধু ফিরেছেন?”

তিনি জবাব দিলেন এই মাত্র ফিরলেন। আপনাদের খাবার দিয়ে এবার তাকে খাবার দিতে যাব।

চলে গেলেন অ্যান। দুপুরের খাবার খেয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল দীপাঞ্জন আর জুয়ান।’