Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
0/27
অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

প্রেত লামার মন্দির – ৯

পাইন বনে প্রবেশ করল দীপাঞ্জনরা। কোথাও কোনো শব্দ নেই। সূর্য ডোবার সাথে সাথে কনকনে ঠান্ডা যেন মুড়ে ফেলেছে বনের ভিতরটাকে। এক হাত দূরের কিছু দেখা যাচ্ছে না। শুধু টর্চের আলো মাটির ওপরে পড়ে যেখানে হাঁটার জন্য আলোকবৃত্ত রচনা করছে সেখানেই শুধু আলো। সেই অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে দীপাঞ্জনরা উপস্থিত হল মন্দিরের সামনে। অন্ধকারের মধ্যে যেন আরও অন্ধকার মন্দিরটা। এক অদ্ভুত প্রেত অবয়ব নিয়ে সে দাঁড়িয়ে আছে। দীপাঞ্জন একবার টর্চের আলোটা মন্দিরের বাইরে চারদিকে ঘোরালো। কিন্তু তেমন কোনো কিছু চোখে পড়ল না। ধীর পায়ে মন্দিরের ওপর উঠলেন অ্যান। সঙ্গে দীপাঞ্জন আর জুয়ান। মন্দিরের ভিতর ঢুকে বেশ বড় একটা মোমবাতি জ্বালালেন জুয়ান। এবার বেশ কিছু মোমবাতি সঙ্গে করে এনেছে দীপাঞ্জনরা। একটার পর একটা ঘর অতিক্রম করে দীপাঞ্জনদের নিয়ে অ্যান প্রবেশ করলেন সেই হলঘরে। দীপাঞ্জন তার টর্চের আলো ফেলল ঘরের কোনগুলোতে আর মূর্তির সামনে যেখানে অবনীবাবুর দেহটা পড়েছিল সেই জায়গাতে। না, কেউ কোথাও নেই। পুলিশ দেহ তুলে নিয়ে গিয়ে রক্ত ধুয়ে দিয়ে গেছে। হলঘরটাতে ঢোকার পর আরও বেশ কটা মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘরের এদিকে ওদিকে বসিয়ে দিলেন। মোটামুটি আলোকিত হয়ে উঠল ঘরটা। যদিও ঘরের কোনের অন্ধকারগুলোতে সে আলো পৌঁছচ্ছে না। মেরী অ্যান দীপাঞ্জনদের নিয়ে হাজির হল সেই অদ্ভুত ভয়ঙ্কর মূর্তির সামনে। অদ্ভুত এক জিঘাংসা যেন ঝরে পড়ছে মূর্তির চোখ থেকে।

দীপাঞ্জনের হাত থেকে টর্চটা নিলেন মেরী অ্যান। তারপর দেওয়ালের গায়ে সিলিং-এর কাছে মূর্তির মাথার অনুরূপ যে মাথাগুলো আছে সেগুলোর ওপর টর্চের আলো ফেলতে ফেলতে বললেন, ‘দেখুন এই মাথাগুলো সব ক্লক ওয়াইজ সাজানো। কিছু বুঝতে পারছেন? আপনারা একজন মূর্তির পিছনে যান। আর একজন মূর্তির পাশে সরে দাঁড়ান। এই বলে তিনি নিজেও মূর্তির এক পাশে সরে দাঁড়ালেন। তার কথা অনুসরণ করে দীপাঞ্জন মূর্তির পিছনে গিয়ে দাঁড়াল। আর জুয়ান একপাশে সরে এলেন। অ্যান জুয়ানকে বললেন, ‘মূর্তির বুকের কাছটা ভালো করে খেয়াল করুন।

তারপর তিনি দীপাঞ্জনকে বললেন, ‘মূর্তির মাথাটা ক্লক ওয়াইজ, অর্থাৎ আপনার দিক থেকে অ্যান্টি ক্লক ওয়াইজ ঘোরাবার চেষ্টা করুন।’

নির্দেশ শুনে দীপাঞ্জন দু-হাতে মাথাটা চেপে ঘোরাবার চেষ্টা করতে লাগল। বেশ জোরে চাপ দেবার পর হঠাৎ কট করে একটা শব্দ হল। জুয়ান দেখতে পেল মাথাটা ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে হাতখানেক লম্বা একটা তীক্ষ্ণ লৌহ শলাকা বাইরে বেরিয়ে এল। দীপাঞ্জন এরপর মাথা থেকে হাত তুলে নিতেই মাথাটা দ্রুত নিজের জায়গাতে ফিরে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই শলাকাটা আবার সুড়ুৎ করে মূর্তির স্ফীত শরীরের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। এরপর জুয়ান ব্যাপারটা পরখ করার জন্য মূর্তির পিছনে গিয়ে দাঁড়ালেন, আর দীপাঞ্জন সামনে এক পাশে। জোরে চাপ দিয়ে জুয়ান মূর্তির মাথাটা এক পাশে ঘোরাতেই আবার বেরিয়ে এল সেই মৃত্যু শলাকা। মাথাটা ছেড়ে দিতেই আবার সেটা অন্তর্হিত হল। মূর্তির পিছন থেকে জুয়ান বেরিয়ে আসার পর অ্যান দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘এবার কীভাবে লোকটার মৃত্যু হয়েছিল নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন? সামনে থেকে কেউ মাথাটা ঘোরালেই শলাকাটা বেরিয়ে এসে বুক বা পেট ফুঁড়ে দেয়। আঘাত পেয়ে মূর্তির মাথা থেকে হাত খসে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই, মাথা মাপের জায়গাতে ফিরে আসে, আর শলাকাটাও দেহ থেকে বেরিয়ে মূর্তির মধ্যে ঢুকে যায়।’

এরপর তিনি বললেন, ওই ভদ্রলোকের ঘরে আমি কাল সন্ধেবেলা গেছিলাম। কথা প্রসঙ্গে আমি তাঁকে গল্প করেছিলাম যে আমার স্বামী একবার আমাকে বলেছিলেন যে এই মূর্তির মাথাটা নাকি ঘোরে। এতে আমি ব্যাপারটার সত্যি মিথ্যা জানি না। সত্যিই আমি কিন্তু শলাকা বেরিয়ে আসার ব্যাপারটা কাল রাতের আগে জানতাম না। তাহলে তাকে সাবধান করে দিতাম। যাই হোক কাল রাত দুটো নাগাদ তিনি আমার ঘরে কড়া নাড়লেন। দরজা খুলতেই তিনি আমাকে বললেন যে কিছুতেই তাঁর ঘুম আসছে না। সামনের লনে তিনি একটু হাঁটবেন। ঘুম চোখে আমি গিয়ে দরজা খুলে দিলাম। বাইরে বেরোলেন তিনি। আমি ঘরে ফিরে এলাম। কিন্তু তার পরই হঠাৎ আমার মাথায় এল যে ভদ্রলোক সত্যি বলেছেন তো? নাকি তিনি অন্য কোনোখানে যাচ্ছেন? সঙ্গে সঙ্গে ঘুম ভাব আমার কেটে গেল। আমি বাড়ির বাইরে বেরোলাম। বাড়ির পিছনে এসে দেখি চাঁদের আলোতে পাইন বনের দিকে যাচ্ছেন তিনি। আমি বুঝতে পারলাম তাঁর গন্তব্য ওই মন্দির। কিন্তু এত রাতে এভাবে কেন? কৌতূহলবশত আমিও তাকে অনুসরণ করলাম। আমি খোঁড়া মানুষ। স্বাভাবিক নিয়মেই তিনি আগে মন্দিরে ঢুকেছিলেন। আমি যখন ও ঘরে ঢুকলাম তখন এই মূর্তির কাছে একটা বড় মোম জ্বলছিল। আমি সেই আলোতে দেখলাম ভদ্রলোক মূর্তিটার সামনে দাঁড়িয়ে দু-হাতে মাথাটা ঘোরাবার চেষ্টা করছেন। আর তারপর যা হল আপনারা বুঝতে পারছেন। ঘটনাটা দেখে আমি এত ভয় পেয়ে গেছিলাম যে মন্দির থেকে বেরিয়ে বাড়িতে ফেরার জন্য ছুটতে শুরু করলাম। তখনই আমার পা থেকে চটি খসে গেছিল। বাড়িতে ফিরে আমি আপনাদের বা পুলিশকে কিছু বললাম না এই ভয়ে যে পাছে আমাকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনাদের কথার জালে আটকে গিয়ে ব্যাপারটা আমাকে বলতেই হল। এখন মনে হচ্ছে আগে বললেই ভালো হত। এত উৎকণ্ঠা আর ভয়ের মধ্যে আমাকে থাকতে হত না।—দীর্ঘশ্বাস একটানা কথা বলে থামলেন বৃদ্ধা।

জুয়ান বললেন, ‘হ্যাঁ, এ কথাটা আপনি আগেই আমাদের বললে কাউকে এ হাঙ্গামায় পড়তে হত না।’

বেশ কয়েক মুহূর্ত নিস্তব্ধে কেটে গেল। দীপাঞ্জন এক সময় প্রশ্ন করল, “কিন্তু এই ঘাতক মুর্তিটা বানানো হয়েছিল কেন?’

বৃদ্ধা জবাব দিলেন, ‘আমি জানি না।’

‘কিন্তু আমি জানি।’—হঠাৎ একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল ঘরের কিছুটা তফাৎ থেকে। কখন যেন ঘরের মধ্যে কোথা থেকে উপস্থিত হয়েছে সেই লামা। যাকে গ্রামবাসীদের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল দীপাঞ্জনরা। লোকটাকে দেখে অবাক হয়ে গেল দীপাঞ্জন আর জুয়ান। লোকটার এক হাতে ধরা একটা ব্যাটারি লাইট। তিনি লাইটটা এরপর জ্বালালেন। মনে হয় সেটা সংকেত ছিল। কারণ তার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে প্রবেশ করল সেই ভূত তাড়ানো লামার দল। তাদের কয়েকজনও ব্যাটারি ল্যাম্প জ্বালিয়ে ফেলল। আলোকিত হয়ে উঠল ঘর।

জুয়ান বিস্মিত ভাবে লোকটাকে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি কে?

লামা জবাব দিলেন, ‘আমি ভূত-প্রেত নই। আমার পরিচয় আমি পরে দিচ্ছি। আগে আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিই। এই ঘাতক মূর্তিটাকে আসলে বানানো হয়েছিল এ মন্দিরে যারা গুপ্তধন খুঁজতে আসবে তাদের ভুল পথে পরিচালিত করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবার জন্য।’

দীপাঞ্জন বলল, ‘তার মানে?’

লামা বললেন, “যারা গুপ্তধন খোঁজে তারা সাধারণত অনুসন্ধান করে গুপ্তধনের কাছে পৌঁছবার জন্য কোনো সংকেত কোথাও রাখা আছে কিনা? কারণ সাধারণত কোনো সংকেত ভেদ করেই গুপ্তধন হাতে আসে। আর এই ভাবনাটাকেই কাজে লাগিয়েছিল যারা এই মন্দিরের ধন সম্পদ রক্ষা করতে চেয়েছিল তারা। ধরা যাক, কোনো গুপ্তধন সন্ধানী এই মন্দিরে এল। এ ঘরে ঢুকে এই মূর্তিকে দেখেই তার মনে হবে এই মূর্তির মুখগুলোকে। মুখগুলোকে দেখে তাদের সন্দেহ দৃঢ় হবে যে নিশ্চয়ই এই মূর্তি আর মুখগুলোর মধ্যে গুপ্তধনের কোনো ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে। ব্যাপারটা নিয়ে ভাববে গুপ্তধন সন্ধানী। তারপর এক সময় সে আবিষ্কার করবে যে ক্লক ওয়াইজ সাজানো মাথাগুলো আসলে মূর্তির মাথাটা যে ঘোরে তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মাথাটা ঘোরালেই কি খুলে যাবে গুপ্তকক্ষের পথ বা দরজা? এই ভেবে গুপ্তধন সন্ধানী যেই মাথাটা ঘোরাতে যাবে ওমনি শলাকা বিদ্ধ হবে সে। গুপ্তধনের কাছাকাছি আর তার পৌঁছোন হবে না কোনোদিন।’

দীপাঞ্জনদের কাছে এবার স্পষ্ট হয়ে গেল ব্যাপারটা।

এরপর লামা দীপাঞ্জনদের অবাক করে দিয়ে বললেন, ‘আমি অবশ্য কিছুটা কাকতালীয় ভাবেই সে কক্ষের সন্ধান পেয়েছি। একটা পাখির বাচ্চা মাটিতে পড়ে গেছিল তাকে তুলে দিতে গিয়ে।’

জুয়ান বললেন, “তাহলে এখানে সত্যি গুপ্তধন বা গুপ্তকক্ষ আছে?’

লামা বললেন, ‘হ্যাঁ, আছে। চলুন আপনাদের সেখানে আমি নিয়ে যাচ্ছি। বিশেষত মিসেস মেরী অ্যানের সেখানে অতি অবশ্যই যাওয়ার দরকার।’

দীপাঞ্জন বলল, ‘হ্যাঁ, চলুন।’

লামাবেশী লোকটা সেই হলঘরসংলগ্ন একটা ঘরের দিকে এগোলেন। দীপাঞ্জন, জুয়ান আর লাঠিতে ভর দিয়ে অ্যান তাকে অনুসরণ করলেন। ঘরের ভিতর ঢুকল সবাই। লামা একটা দেওয়ালের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। সেখানে দেওয়ালের গায়ে কোমরের উচ্চতায় বেশ কয়েকটা কুলুঙ্গি আছে। দেওয়ালটার মাথার ওপরে একটা ছোট তাকের মতো জায়গাতে একটা ফিঙে পাখির মতো পাখি বাসা বেঁধেছে। আলো আর লোকজন দেখে বেশ ঘাবড়ে গেছে পাখিটা। লামা বললেন ওর বাসায় ছানা আছে। সেটা পড়ে গেছিল। আমি এই কুলুঙ্গিতে ভর দিয়ে দেওয়ালের গা বেয়ে ওপরে উঠতে যেতেই ব্যাপারটা ঘটেছিল। কি ঘটেছিল দেখাচ্ছি। এই বলে তিনি কুলুঙ্গির ভিতর হাত ঢুকিয়ে একটু চাপ দিতেই তার হাতটা যেন কুলুঙ্গির একটু ভিতরে ঢুকে গেল। ঘড় ঘড় শব্দে পাশের দেওয়ালের একটা অংশ কিছুটা ফাঁক হয়ে গেল। উন্মোচিত হল গুপ্তকক্ষের দরজা।

দীপাঞ্জন জানতে চাইল ‘এ দরজা আবার বন্ধ হয় কী ভাবে?’

লামা জবাব দিল, ‘আবার ওখানে চাপ দিয়েই। চলুন ও ঘরটাতে যাওয়া যাক।’

সেই ফোকর গলে দীপাঞ্জনদের তিনজনকে নিয়ে লামা প্রবেশ করলেন সে ঘরে। তাকে অবশ্য কুঠুরী বলাই ভালো। ছয়-ফুট মতো চওড়া আর পনেরো ফুট মতো লম্বা একটা প্যাসেজ। দীপাঞ্জনরা এবার বুঝতে পারল কেন অবনীবাবুর হিসাব মিলছিল না।

ঘরের ভিতরে কিছুটা এগিয়ে বাতিটাকে উঁচু করে তুলে ধরলেন লামা। এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ল তাদের। ঘরের কোনে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দুপা ছড়িয়ে বসে আছে একটা নরকঙ্কাল। এখনও তার পায়ে চামড়ার বুট জুতো, আর গায়ে লাল চাদরের অংশ লেগে আছে। আর তার কোলের কাছে ধরা আছে একটা ডালা-খোলা বক্স। বেশ কিছু অলংকার, গোলাকার চাকতি সেই বাক্স থেকে মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে আছে। মাকড়শার জাল আর ধুলোমাখা হলেও সেগুলো যে সোনার তা বুঝতে অসুবিধা হল না দীপাঞ্জনদের। পাশ থেকে অ্যান আর্তনাদ করে উঠলেন, ‘ও মাই গড! এ নিশ্চয়ই হেনরী। আমার স্বামী, ওইতো ওর গলায় একটা সোনার ক্রস ঝুলছে!’-এই বলে তিনি সম্ভবত বিহ্বল হয়ে টলে পড়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু জুয়ান তাকে ধরে ফেললেন। হ্যাঁ সত্যি একটা সোনার ক্রস ঝুলছে কঙ্কালের গলাতে। লাঠিতে ভর দিয়ে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন ভদ্রমহিলা। লামা বললেন, ‘এ অঞ্চলের পুরনো সব পুলিশ ফাইল আমি খুঁটিয়ে পড়েছি। সেখানে আপনার স্বামীর অন্তর্ধানের ব্যাপারটা আমি পড়েছিলাম। কদিন আগে ও ঘরে ঢুকে কঙ্কালটা দেখে আমিও একই কথা ভেবেছিলাম।’

আরও কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ ভাবে কেটে গেল। জুয়ান এরপর অ্যানকে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনারা কি এখানে গুপ্তধন খুঁজতে এসেছিলেন? কীভাবে জানলেন এখানে সত্যি গুপ্তধন আছে?’ অ্যান এবার চোখ মুছে কিছুটা ধাতস্থ হয়ে বললেন, ‘দাদুর ডায়েরি দেখে। তবে কোথায় গুপ্তধান লুকানো আছে তা তাতে লেখা ছিল না। গ্রামবাসীরা যে লামাকে পিটিয়ে মেরেছিল তাকে শেষ মুহূর্তে উদ্ধার করে দাদু বাঁচাবার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও সে চেষ্টা কাজে আসেনি। মৃত্যুর আগে সেই লামা দাদুকে শুধু এটুকু বলে গেছিলেন যে এ মন্দিরে ধন সম্পদ লুকানো আছে।’—এই বলে থেমে গেলেন তিনি।

জুয়ান জিজ্ঞেস করলেন ‘তারপর? আপনার স্বামীর মৃত্যু কী ভাবে ঘটল?’

অ্যান বললেন ‘গুপ্তধনের সন্ধানে এখানে চলে এলাম আমরা। আমার স্বামী প্রতি রাতে লামা সেজে এখানে এসে গুপ্তধনের সন্ধান করতেন। যেদিন গ্রামবাসীরা এই মন্দিরে আগুন লাগায় সেদিনও তিনি এখানে আসবেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। আজ বুঝতে পারছি উনি সেদিনই গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছিলেন, কিন্তু মন্দিরে আগুন লেগে যাওয়াতে আর বাইরে বেরোতে পারেননি। এখানে আগুন ঢোকেনি ঠিকই, কিন্তু নিশ্চয়ই ধোঁয়াতে মারা যান।’ লামার পোশাকে থাকা লোকটা জানতে চাইলেন, ‘পরে ওনাকে আপনি এখানে খুঁজতে আসেননি?”

চোখের জল মুছে বৃদ্ধা বললেন, ‘এ জায়গা আগুনে পুড়িয়ে দেবার কিছু দিন পর এসেছিলাম, কিন্তু খুঁজে পাইনি।’

লামা বললেন, এবার সব রহস্যের সমাধান হল। চলুন এবার ফেরা যাক। বাক্স আর কঙ্কালটা বাইরে বার করার ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত ফরেনসিক তদন্ত শেষ করে কঙ্কালটা যাতে মিসেস অ্যানের হাতে কবর দেবার জন্য তুলে দেওয়া যায় সেই ব্যবস্থাও আমি করব।’

অ্যান বললেন, ‘হ্যাঁ, দয়া করে সেই ব্যবস্থা করবেন।’

জুয়ান বললেন ‘হ্যাঁ, এবার তবে বাইরে চলুন। মিসেস অ্যান আপনাকে কি ধরতে হবে?’

অ্যান বললেন, না। আমি নিজেই যেতে পারব।’ এই বলে তিনি বাইরে বেরোবার জন্য এগোলেন।