ম্যামথের খোঁজে – ৬
৬
ফাউলিংরা বাঁশ বনের মধ্যে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই বাঁশঝাড়ের মাথাগুলো যেন প্রবলভাবে আন্দোলিত হতে লাগল। থেমে গেলেন ফাউলিং আর তার অনুচর বারকিন। সুদীপ্তরাও তাকাল বাঁশঝাড়ের মাথার দিকে। এক ঝাঁক লেজহীন বাঁদর। তাদের মুখগুলো যেন মানুষের মতো দেখতে। চিবুকে দাঁড়ি আছে। লুমানি বলেছিল বটে ওখানে বাঁদর আছে।
একটু থমকে দাঁড়াবার পর বাঁদরগুলোকে দেখে হেসে উঠে ফাউলিং বারকিনকে বললেন ‘চলো এগোনো যাক।’ কিন্তু এরপর দু-পা এগোতে না এগোতেই মাটির ঢেলা আর পাথরের টুকরো এসে পড়তে লাগল তাদের সামনে। অদ্ভুত ব্যাপার! পাথর ছুঁড়ছে বাঁদরগুলো!
আবারও দাঁড়িয়ে পড়তে হল ফাউলিংদের। কিছুটা তফাতে দাঁড়িয়ে সুদীপ্তরা দেখতে লাগল সেই দৃশ্য। ঝাঁকে ঝাঁকে শক্ত মাটির ঢেলা আর পাথরের টুকরো উড়ে আসছে বাঁশ বনের মাথা থেকে!
হঠাৎই একটা পাথরের টুকরো এসে পড়ল ফাউলিং-এর কপালে। ‘উঃ’ বলে আর্তনাদ করে এক হাতে প্রথমে কপাল চেপে ধরলেন ফাউলিং। কয়েক মুহূর্ত পর তিনি যখন হাতটাকে চোখের সামনে মেলে ধরলেন তখন তাঁর হাতে রক্ত লেগে আছে তার। কপাল ফেটে গেছে! ফাউলিং এবার আর ধৈর্য রাখতে পারলেন না। বাঁশঝাড়ের মাথার দিকে রাইফেল তাগ করে ঘোড়া টেনে দিলেন তিনি। প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে উঠল চারপাশ। রাইফেলের শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল বাঁশঝাড়ের পিছনে পাহাড়ের বুকে। একটা বাঁদর ঝুপ করে মাটিতে পড়ে গেল। গুলি লেগেছে তার। সে মাটিতে পড়ার পরই অদ্ভুত শব্দে বাঁদরগুলো ডেকে উঠল—ও লা-লা-লা-লা, ও লা-লা-লা!’—এমন ডাক এর আগে কোনোদিন শোনেনি সুদীপ্তরা। কয়েকটা বাঁদর নিচে নেমে তাদের নিহত অথবা আহত সঙ্গীদের তুলে নিন, তারপর চিৎকার করতে করতে পুরো দলটাই অদৃশ্য হয়ে গেল বনের গভীরে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে শোনা যেতে লাগল তাদের ‘ও-লা-লা-লা’ ডাক।
ফাউলিং একবার পিছন ফিরে তাকালেন সুদীপ্তদের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। নিশ্চুপ তারা। এরপর তিনি বারকিনকে নিয়ে ঢুকলেন বাঁশবনে। ঠিক যে জায়গা দিয়ে সেই ঐরাবত তার দুই সঙ্গীকে নিয়ে প্রবেশ করেছে বাঁশবনে। বাঁশবনের আড়ালে তারা মিলিয়ে যেতেই সুদীপ্ত বলল ‘এবার কি করব আমরা? ফিরে যাব?”
হেরম্যান, লুমানির দিকে তাকিয়ে বললেন ‘সব পথ কি বন্ধ? তবে কি হাতিদের কবরখানায় পৌঁছান হবে না আমাদের?”
লুমানি সুদীপ্ত আর হেরম্যানের কথা শুনে বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল ‘একটা কাজ করা যেতে পারে। কিছুটা এগিয়ে আমরা বাঁশবনে প্রবেশ করি যাতে বারকিনরা আমাদের দেখতে না পায়। তারপর বাঁশবন পেরিয়ে আবার পাহাড়ে ওঠার রাস্তা যেখানে শুরু হয়েছে সেখানে পৌঁছবার চেষ্টা করব। যদি এমন হয় যে ওরা হাতিগুলোকে মারতে পারল না তবে হাতিগুলো ওখান দিয়েই পাহাড়ে উঠবে। আমরা তখন আবার তাদের অনুসরণ করতে পারব। কিন্তু ও সবই ভাগ্যর ব্যাপার।’
হেরম্যান বলল “তবে তাই করা যাক।
বাঁশবনের গা বেয়ে মাইলখানেক প্রথমে এগোল সুদীপ্তরা। তারপর প্রবেশ করল বনের ভিতর। হেরম্যান জানতে চাইলেন ‘এখান থেকে পাহাড়ে ওঠার ওই পথটা কত দূর হবে?
লুমানি জবাব দিল ‘মাইল চারেক হবে।’
ফাউলিংরা আর হাতিগুলো যে জায়গা দিয়ে বাঁশবনে প্রবেশ করেছে তার থেকেও অনেক গভীর বাঁশবন দাঁড়িয়ে আছে সুদীপ্তদের যাত্রাপথে। শুধু বাঁশঝাড়ই নয়, তাদের আড়ালে মাঝে মাঝে অন্য গাছও আছে তার আড়ালে। তাছাড়া বনটা পাহাড়ের পাদদেশে বলে মাটি সমতল নয়, খানাখন্দও প্রচুর। বাঁশঝাড়গুলো এত নিবিড় যে সূর্যের আলো প্রবেশ করছে না। কিছু বাঁশ নুইয়ে পড়ে পথ অবরোধ করে আছে। লুমানি তার থলের মধ্যে থেকে একটা বড় দা-এর মতো অস্ত্র বার করল। সেই দা দিয়ে কখনও বাঁশ কেটে, কখনও নুইয়ে পড়া বাঁশঝাড়ের নীচ দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বা লাফিয়ে টপকে এগোতে লাগল তারা।
লুমানি বলল ‘অন্তত ঘণ্টা চার-পাঁচেক লেগে যাবে বাঁশ বনের বাইরে যেতে। হাতিগুলো যে জায়গা দিয়ে বনে ঢুকেছে সে জায়গা এত ঘন না হলেও তাদেরও সময় লাগবে বন পেরোতে। বিরাট কলেবর তো। তাদেরও শুঁড় দিয়ে পথ পরিষ্কার করে এগোতে হবে পাহাড়ে ওঠার রাস্তায় পৌঁছনোর জন্য। অবশ্য তারা সে পথে পৌঁছনোর আগেই যদি না ‘মফলম টেম্বো’ মারা না পড়ে।”
এগোতে লাগল সুদীপ্তরা। বাঁশবনের ভিতর দিয়ে কোনাকুনি পাহাড়ের দিকে এগোচ্ছে তারা। আফ্রিকার অরণ্য পথে চলার অভিজ্ঞতা তাদের নতুন নয়। কিন্তু এত নিবিড়-ঘন বন তারা কোনোদিন দেখেনি। অনেক জায়গাতে বাঁশ না কেটে সামনে মাথা পর্যন্ত গলানো যাচ্ছে না। হাতি আর ফাউলিংরা যে পথে গেছে সেদিকে ওই বাঁদরগুলোর দেখা মিললেও এদিকে কোন পশুপাখি চোখে পড়ছে না সুদীপ্তদের। এমনকী তাদের ডাকও নয়, শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার অবিশ্রান্ত কলরব ভেসে আসছে বাঁশগাছের আড়াল থেকে।
ঘণ্টা দুই চলার পর দুপুরের দিকে হঠাৎই দূর থেকে রাইফেলের অস্পষ্ট শব্দ কানে এল তাদের। একবার নয়, পরপর বেশ কয়েকবার। পাহাড়ের পাদদেশে দুপাশে জঙ্গলটা অন্তত মাইল পাঁচেক বিস্তৃত হবে। সুদীপ্তরা অনুমান করল অন্তত দু-মাইল দূর থেকে ফাউলিংরা যে দিকে গেছে সেদিক থেকে শব্দটা এল।
শব্দ শোনার পর লুমানি থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে হতাশভাবে বলল ‘মনে হয় ওরা মফলমে টেম্বোকে শেষ করে দিল। মুহূর্তর জন্য হতাশা নেমে এল হেরম্যান আর সুদীপ্তর মনেও। কিন্তু এরপরই হেরম্যান বললেন ‘শোনো, লুমানি, এতটা পথ এতটা কষ্ট করে যখন এসেছি তখন ওই পাহাড়ে না উঠে ফিরব না। হাতিগুলোর দেখা পাই বা না পাই হাতিতের ওই গোরস্থান আর প্রেত হাতিগুলোকে খুঁজে বার করার চেষ্টা করব আমি। থামলে হবে না, চলো।”
লুমানি কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল ‘আচ্ছা, তাই হবে বাওয়ানা। দেখা যাক যদি সেই গোরস্থান খুঁজে পাওয়া যায়?’ আবার চলতে শুরু করল তারা। হাতিগুলোর আর দেখা পাওয়া যাবে না ধরে নিয়েই সবাই এগোতে থাকল। বাইরের পৃথিবীতে সূর্যদেব মধ্য গগনে উঠে আবার ধীরে ধীরে পশ্চিমে বা বাড়ালেন।
আরও ঘণ্টা দেড়েক সময় কেটে গেল। বাঁশ বন তখন প্রায় পেরিয়ে এসেছে সুদীপ্তরা। হঠাৎ তারা দেখতে পেল সামনের বাঁশঝাড়গুলো ভাঙা! জায়গাটা পরীক্ষা করে লুমানি উত্তেজিত ভাবে বলল ‘হাতি! হাতি গেছে এ পথে! এ তারই চিহ্ন! হাতি ছুটেছে এ পথে!
সঙ্গে সঙ্গে সুপ্তীরা সে পথ ধরল। সামনের পথ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে এগিয়েছে কেউ, মহাকলেবরের কোনো প্রাণী। দোমড়ানো ভাঙা বাঁশগুলো তারই সাক্ষী দিচ্ছে। কিছুটা এগোবার পর যে দৃশ্য সুদীপ্তদের চোখে পড়ল তার জন্য সুদীপ্তরা প্রস্তুত ছিল না। বাঁশবনের মধ্যে ছোট একটা খানা মতো জায়গা। সম্ভবত বর্ষাকালে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল জমে সেখানে। সেই খানার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে সুদীপ্তদের ‘মফলমে টেম্বো’—গজরাজ। ফাউলিংরা এখনও তাকে মারতে পারেনি। আর খানার পাড়ে বসে আছে সেই বাঁদরের ঝাঁকটা। তারা নানা অঙ্গভঙ্গি করছে হাতিটার দিকে তাকিয়ে। সেই খানা বা গর্তটা খুব গভীর নয়। খুব বেশি হলে ফুট ছয় হবে। কিন্তু তার দেওয়ালগুলো এত খাড়া আর কর্দমাক্ত যে হাতিটা যেদিক দিয়েই ওপরে ওঠার চেষ্টা করছে সেদিকের মাটিই ধ্বসে পড়ছে। ওপরে উঠতে পারছে না মহামাতঙ্গ। তবে তার সঙ্গী দুজন নেই। সম্ভবত ফাউলিং-এর গুলি থেকে বাঁচতে পালাবার সময় তাদের থেকে দলছুট হয়ে এই খানায় এসে পড়েছে হাতিটা।
হেরম্যানরা বাঁশবনের আড়াল থেকে বাইরে বেরিয়ে খানার পাশে এসে দাঁড়াল। তাদের দেখেই বাঁদরগুলো তাড়াতাড়ি গর্তটার ওপর পড়ে বাঁশঝাড়ের মাথায় গিয়ে আশ্রয় নিল। আর হাতিটা যেন আতঙ্কে পাগলের মতো সেই গর্ত থেকে ওপরে ওঠার চেষ্টা করতে লাগল অসহায় ভাবে। তার শুঁড় আর দাঁতের আঘাতে ছিটকে উঠতে লাগল গর্তের কাদামাটি। গর্তের ভিতর পাক খেতে লাগল হাতিটা।
সুদীপ্ত ‘হাতির পাঁকে পড়া’ অর্থাৎ কাদায় পড়া কথাটা শুনেছে। এই প্রথম সে চাক্ষুষ করল অতবড় প্রাণী কাদায় পড়লে কেমন দুরবস্থা হয়।
হেরম্যান বললেন ‘ওকে ওঠাবার চেষ্টা করতে হবে।’
সুদীপ্ত বলল কিন্তু কীভাবে? ওকে তো আর ঠেলে ওপরে তোলা যাবে না।’
হাতিটাকে ওপরে ওঠাবার পন্থা খোঁজার চেষ্টা করতে লাগল সুদীপ্তরা।
হঠাৎ একটা অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ল তাদের। খানার ওপারে খানার গায়ে লাগানো একটা বাঁশের মাথায় উঠে পড়েছে কয়েকটা বাঁদর। তারা যেন বাঁশটাকে গর্তের দিকে নুইয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে গর্তের দিকে। যাতে সেটা শুঁড় দিয়ে ধরে গর্ত থেকে উঠে আসতে পারে হাতিটা। সেই মহামাতঙ্গও মাঝে মাঝে শুড় বাড়াচ্ছে সে দিকে। ব্যাপারটা অদ্ভুত হলেও একেবারে আশ্চর্যের নয়। বাঁদর বুদ্ধিমান প্রাণী। ভিন্ন প্রজাতির হলেও বন্য প্রাণীদের মধ্যে অনেক সময় পারস্পরিক সম্পর্ক থাকে। সুদীপ্তরা কয়েকবছর আগে বুরুন্ডিতে টাঙ্গনিকা হ্রদের ধারে বাঁদর আর জলহস্তির মধ্যেও এমন সম্পর্ক দেখেছিল। কিন্তু বাঁদরগুলোর শক্তি আর কতটুকু? তারা বাঁশটাকে হাতির শুঁড় পর্যন্ত পৌঁছতে পারছে না। এছাড়া ওই বাঁশ ধরে হাতিটা যদি উঠতে যায় তবে মুহূর্তের মধ্যে সেটা উপড়ে যাবে গোড়া থেকে।
কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বাঁদরগুলোর প্রচেষ্টা চোখ খুলে দিল হেরম্যানের। খানার পাড়ে মাঝারি আকৃতির একটা গাছ দাঁড়িয়ে আছে খানার দিকে একটু হেলে। হেরম্যান বললেন ‘ওই গাছটা যদি কেটে খানায় ফেলা যায় তবে ওর গুঁড়িটা আঁকড়ে ধরে হাতিটা ওপরে উঠে আসলেও আসতে পারে। চলো একবার চেষ্টা করে দেখা যাক।
সুদীপ্তরা গাছটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। গাছের গুঁড়িটা বারো-চোদ্দো ফুট উঁচু হবে। খুব মোটা নয়, তবে শক্ত। লুমানি কোপ মারতে শুরু করল প্রথমে। তারপর পালা করে কখনও সুদীপ্ত, কখনও বা হেরম্যান কোপ দিতে লাগল গুঁড়ির ওপর। সময় যত এগোতে লাগল তত তাদের উত্তেজনা বাড়তে লাগল। এই হয়তো হাতিটাকে খুঁজতে খুঁজতে এখানে এসে পড়লেন ফাউলিং বা বারকিন। তার ওপর হাতিটাও এবার ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করল। রাগে আতঙ্কে অস্থির হয়ে উঠেছে প্রাণীটা। কিন্তু ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর অবশেষে সুদীপ্তদের পরিশ্রম সার্থক হল। সড়সড় শব্দে ডালপালা সমেত খানার মধ্যে ভেঙে পড়ল গুঁড়িটা। এবার কিছুটা তফাতে সরে গেল সুদীপ্তরা। হাতিটা মনে হয় ব্যাপারটা বুঝতে পারল। গুঁড়িটা আঁকড়ে ধরে ওপরে ওঠার চেষ্টা করতে লাগল সে। বার কয়েক চেষ্টার পর এক সময় গুঁড়িটা আঁকড়ে ধরে পিছল কাদামাটির ভিতর থেকে ওপরে উঠে আসতে সে সমর্থ হল। বাঁদরের দল এবার উল্লাসে চিৎকার করে উঠল—ওলা ওলা ওলা ওলা!’ তবে ওপরে উঠে আসার পর কিন্তু হাতিটা আর দাঁড়াল না। আতঙ্ক তখনও তার কাটেনি। খানার অন্য পাশের জঙ্গল ভেঙে সে ছুটতে শুরু করল, আর তার সাথে সাথে বাঁদরগুলোও। সুদীপ্তরা অনুসরণ করল গজরাজকে। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা আবার হারিয়ে ফেলল হাতিটাকে। সাথীহারা হাতিটা প্রচণ্ড গতিতে সামনের সব বাধাকে চুরমার করে ছুটছে। তবে দুমড়ে যাওয়া, নুইয়ে পড়া বাঁশ তার যাত্রাপথ চিনিয়ে দিতে লাগল সুদীপ্তদের। রাস্তা ক্রমশ ওপরের দিকে উঠতে লাগল। পাহাড়ের ঢল শুরু হয়েছে। সুদীপ্তরা যখন বাঁশবনের বাইরে বেরিয়ে এল তখন বিকাল হয়ে গেছে। সামনে নেড়া পাহাড়। তারা দেখতে পেল কিছুটা তফাতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে হাতিটা ওপরে উঠছে। লুমানি বলল ‘আগের বার আমরা যে পথে পাহাড়ে উঠে ছিলাম এটা সে পথ নয়। হাতিটা অন্য পথ ধরেছে।
সুদীপ্তরা উঠতে শুরু করল পাহাড়ের ঢাল বেয়ে। তারা কিছুটা এগোবার পরই নীচের দিক থেকে রাইফেলের প্রচণ্ড গর্জন শোনা গেল। সুদীপ্তদের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে একটা বুলেট পাথরের গায়ে ধাক্কা খেয়ে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ তুলল। তারপর আবারও রাইফেলের শব্দ। হেরম্যান বললেন ‘শুয়ে পড়। হাতিটাকে দেখতে পেয়ে নীচ থেকে গুলি চালাচ্ছেন ফাউলিং। আমাদেরও মনে হয় দেখতে পেয়েছেন তিনি।’
গুলির আঘাত থেকে বাঁচার জন্য শুয়ে পড়ল সবাই। তারপর গড়াতে গড়াতে আশ্রয় নিল একটা পাথরের আড়ালে। সেখানে শুয়ে তারা দেখতে পেল ফাউলিং আর বারকিন উঠে আসছে ওপর দিকে। হাতিটা ইতিমধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেছে ওপরে একটা বাঁকের আড়ালে। কিছু সময়ের মধ্যেই ফাউলিং তার অনুচরকে নিয়ে ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে এলেন। সুদীপ্তদের অবশ্য তিনি দেখতে পেলেন না তারা পাথরের আড়ালে ছিল বলে। তাদের হাত দশেক তফাত দিয়ে ফাউলিংরা ওপরের দিকে এগোলেন।
