Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
0/43
আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাবার লেখালেখি

শিলাইদহের বছরগুলোতে বাবা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি লিখেছেন। কবিতা, গান, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, বক্তৃতা নানাদিকে সমান তালে তাঁর কলম চলেছে। সারাদিন ধরে তো লিখেছেনই, কখনও কখনও লেখা চলেছে গভীর রাত পর্যন্ত। তিনি যখন পরিশ্রম করতেন তখন খুব কম খেতেন। মা বিরক্ত হতেন, তবে এটাও জানতেন যে বাবা কোনো বিষয়ে মনস্থির করলে অন্যদের কারও কিছু করার ছিল না। ফুফাত বোন সরলা দেবী তখন ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করছেন। পত্রিকাটি বড় জ্যাঠামশাই দ্বিজেন্দ্রনাথ শুরু করেছিলেন। পরেও সম্পাদনার ভার আমাদের পরিবারেই থেকে যায়। একসময় বাবাও এ দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীর জন্য ছোট নাটক লিখে দিতে সরলা দেবী বাবাকে অনুরোধ করেছিলেন। নাটক লেখার তাড়না পাচ্ছিলেন না বলে তিনি এতে গা করেননি। বিষয়টি বুঝতে পেরে সরলা দেবী পত্রিকায় ঘোষণা দিয়ে দিলেন যে পরবর্তী সংখ্যায় রবি ঠাকুরের নাটক ছাপা হবে। কয়েকদিন পর তিনি বাবাকে চিঠি দিয়ে জানালেন যে পত্রিকার কাটতি বাড়াতে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন, এখন বাবা যেন পাঠকদের হতাশ না করেন। বাবা প্রথমে প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলেন। পরদিন মাকে ডেকে বলেন যে তিনি একটা লেখা ধরবেন, তাঁকে যেন কেউ বিরক্ত না করে। এমনকি খাবারের জন্যও নয়। মাঝে মাঝে দুধ জাতীয় কিছু দিলেই খাওয়ার কাজ চলে যাবে। এ কথা বলে তিনি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করলেন। লেখা চলল টানা তিনদিন, কোনো রকম বিরতি ছাড়া। এ তিনদিন বাবা কিছু খানওনি। তৃতীয় দিনের শেষ নাগাদ লেখা শেষ হল হাসির নাটক চিরকুমার সভা। পাণ্ডুলিপি ডাকে পাঠাতে তিনি ভরসা পেলেন না, নিজেই কোলকাতা নিয়ে গেলেন। মা জানতেন যে ভারতীতে সময়মত পাঠানোই বাবার তাড়াহুড়ার একমাত্র কারণ ছিল না। তিনি যখনই কোনো লেখা শেষ করতেন, বন্ধু-বান্ধবকে তা পড়ে শোনাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠতেন। সে সময় বন্ধুদের কেউই শিলাইদহে ছিলেন না। তাই তিনি কোলকাতায়ই চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু এ কয়দিনের অনাহারে ও লেখার চাপে এতই দুর্বল হয়ে গিয়েছিলেন যে, জোড়াসাঁকোর বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে অজ্ঞান হয়ে যান। মা তখন বাবাকে স্বাভাবিক খাবার খেতে রাজি করাতে পেরেছিলেন।