Accessibility Tools

জলঙ্গীর অন্ধকারে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

জলঙ্গীর অন্ধকারে – ১২

খাওয়া সেরে রাত ন’টা নাগাদ ঘরের দাওয়াতে বেরিয়ে এল মল্লার আর চূর্ণী৷ মাথার ওপর ফ্যাকাশে চাঁদ উঠেছে৷ কুয়াশাও নামতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে৷ তারা দেখতে পেল সেই সরকারি গাড়িটা যেখানে রাখা তার সামনে পায়চারি করছেন মিস্টার বক্সী৷ আর তাঁর সঙ্গীরাও সেখানে দাঁড়িয়ে৷ তাদের দেখে মল্লাররা বুঝতে পারল ছেলেগুলোকে নিয়ে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে সরকারি লোকেরা৷ পায়চারি করতে করতে মাঝে মাঝে থমকে দাঁড়িয়ে ছেলেদের ঘরের দিকে তাকাচ্ছেন মিস্টার বক্সী৷ সময় এগিয়ে চলল৷ মল্লাররাও তাকিয়ে রইল তাদের দিকে। রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ মিস্টার বক্সী ঘড়ি দেখলেন, তারপর সম্ভবত তার সঙ্গীদের নির্দেশ দিলেন ছেলেদের ঘরের দিকে যাওয়ার জন্য৷ লোক দু’জন সেদিকে পা বাড়াতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় আধো-অন্ধকারে ডুবে থাকা ছেলেদের বাসস্থানের ভিতর থেকে একটা লণ্ঠনের আলো বইরে বেরিয়ে এসে দাওয়া ছেড়ে নীচে নামতে শুরু করল৷ সেই আলোর পিছনে বেশ কিছু অবয়বও দেখতে পেল মল্লাররা৷ চূর্ণী আর মল্লারও এরপর নিজেদের দাওয়া থেকে নেমে এগলো সরকারি গাড়িটার দিকে৷ বাচ্চাগুলোর বিদায় মুহূর্তের সাক্ষী হবার জন্য৷

মল্লাররা এসে দাঁড়াল গাড়িটার দিকে৷ মিস্টার বক্সী তাদের দিকে একবার তাকালেও বিশেষ পাত্তা দিলেন না৷ তিনি তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন ধীর পায়ে এগিয়ে আসা ছেলেদের দলের দিকে৷ প্রথমে লণ্ঠন হাতে বুনো, তারপর তমসাময়ের পিছন পিছন বাচ্চা ছেলেগুলো, আর সব শেষে সোহম৷ এভাবেই তারা এসে দাঁড়াল গাড়িটার সামনে৷ লাইনটা এরপর ভেঙে দিয়ে তমসাময়কে ঘিরে দাঁড়াল বাচ্চাগুলো৷ বিষণ্ণ মুখ তাদের৷ তমসাময়ের মুখমণ্ডলেও যেন বেদনার ছাপ ফুটে উঠেছে৷ বেশ কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপভাবে তিনি চেয়ে রইলেন ছেলেগুলোর দিকে৷ বিদায়বেলার এই দৃশ্য দেখে মল্লারেরও বেশ খারাপ লাগল৷

তবে আবেগঘন দৃশ্য যেন তেমনভাবে স্পর্শ করল না মিস্টার বক্সীকে৷ তিনি এ ধরনের দৃশ্য দেখতে নিশ্চয় অভ্যস্ত৷ মিস্টার বক্সী এবার বললেন, ‘এবার আমাদের যেতে হবে৷ নইলে দেরি হয়ে যাবে৷’

নবজীবন নামের ছেলেটার গলা থেকে বেরিয়ে এলে মৃদু আর্তনাদের স্বর—‘জীবনবাবা’! তমসাময় হাত রাখলেন নবজীবনের মাথায়৷ তারপর বললেন, ‘এবার রওনা দাও৷ ভালো না লাগলে ফিরে এসো৷’

সরকারি আধিকারিক মিস্টার বক্সীর এক সঙ্গী গাড়িতে উঠে ইঞ্জিন চালু করল৷ বুনো এগলো আশ্রমের দরজা খোলার জন্য৷ গাড়ির ভিতর এরপর এক এক করে উঠতে লাগল ছেলেরা৷ তারা সবাই উঠে যাবার পর মিস্টার বক্সী প্রথমে বললেন, ‘আপনাদের সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ৷ এরপর তিনি তমসাময়ের উদ্দেশে বললেন, ওদের যেখানে নিয়ে যাচ্ছি, তার ঠিকানা তো আমি আপনাকে দিয়েছি৷ সেখানে গিয়ে ওরা আগে দিন পনেরো একটু ধাতস্থ হয়ে নিক৷ তারপর আপনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন ওদের সঙ্গে দেখা করার ব্যাপারে৷’

মল্লারের মনে হল, কথাটা শুনে যেন একটা আবছা হাসি ফুটে উঠল তমসাময়ের মুখে৷ সরকারি আধিকারিক আর বাক্য ব্যয় না করে তার সঙ্গীকে নিয়ে গাড়িতে উঠে দরজা বন্ধ করে দিলেন৷ গাড়ি এগলো গেটের দিকে৷ ঠিক সেইসময় জলঙ্গীর পাড় থেকে হঠাৎই একদল শিয়াল ডেকে উঠল৷ মল্লার খেয়াল করল তার মাথার উপর দিয়ে এক ঝাঁক বাদুড় ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে উড়ে গেল নদীর দিকে৷ সরকারি গাড়িটা ছেলেগুলোকে নিয়ে এগিয়ে গিয়ে আশ্রমের বাইরে ঘন কুয়াশাতে অদৃশ্য হয়ে গেল৷

গাড়িটা বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পরও কয়েক মুহূর্ত চুপ করে গেটের দিকে তাকিয়ে রইলেন তমসাময়৷ মল্লার তমসাময়কে প্রশ্ন করল, ‘ওরা যে বাচ্চাগুলোকে নিয়ে গেল, কোনও কাগজপত্র দিয়েছে আপনাকে?’ তমসাময় বলল, ‘হ্যাঁ, বিকেলে আমার ঘরে এসে একটা কাগজ আমাকে দিয়ে গেছে ওরা৷’ এ কথা বলে তিনি মল্লারকে বললেন, ‘এবার আপনারা ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ুন৷ অনেক রাত হল৷’ এ কথা শুনে মল্লার সোহমকে বলল, ‘তুই কোথায় শুবি?’

সোহম জবাব দিল, ‘যে ঘরে আছি সে ঘরেই৷ এত রাতে আর আমার জিনিসপত্র অন্য ঘরে টেনে নিয়ে যেতে ভালো লাগছে না৷’

জটলাটা এরপর ভেঙে গেল৷ চুর্ণীকে নিয়ে মল্লার এগলো তাদের থাকার জায়গার দিকে আর তমসাময়, সোহম আর বুনোও এগলো যার যেখানে যাওয়ার কথা সেদিকে৷ ঘরে ফেরার পর চুর্নী পার্টিশানের ওপাশে চলে গেল ঘুমাবার জন্য৷ বেড়ে চলল রাত৷

ঘুম আসছে না মল্লারের৷ সোহমকে কি সত্যি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে এখান থেকে৷ দু’রাত কেটে গেল৷ আরও একটা রাত না হয় তারা এখানে কাটাবে৷ কিন্তু সোহম যদি কোনও কারণে ফিরে যাওয়ার আগে শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসে, তখন? সব থেকে বড় কথা, চূর্ণীও যদি সোহমের জন্য এখানে থেকে যায় তখন কী হবে? মল্লারের অফিসে অনেক কাজ পড়ে আছে৷ তার তো আর দিনের পর দিন এভাবে এখানে বসে থাকা সম্ভব নয়৷ মল্লারের খালি মনে হচ্ছে, এ আশ্রমের ভিতর কোনও একটা রহস্য আছে৷ কিন্তু কী সেই রহস্য? এসব নানান কথা ভাবতে ভাবতে বিছানাতে উঠে বসল মল্লার৷ এরপর সিগারেট ধরাবার জন্য বিছানা থেকে নেমে সিগারেট ধরাতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় মল্লার দেখতে পেল সোহমকে৷ তার থাকার জায়গা ছেড়ে নীচে নেমে সে হাঁটতে শুরু করেছে যেদিকে কালো ঘর আছে সেদিকে৷ তাকে দেখে মল্লারের কৌতূহল হলেও সে প্রথমে ভাবল, সোহম যেদিকে যাচ্ছে যাক৷ সে আর তার পিছু ধাওয়া করবে না৷ কিন্তু মল্লারের এর পরই আর একজনকে দেখতে পেল৷ একটা ঘরের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল একজন লোক৷ পরনে শার্ট-প্যান্ট, গায়ে জ্যাকেট৷ সেই জ্যাকেটের হুডটা মাথায় ঘোমটার মতো করে টানা৷ ঘরটার আড়াল থেকে বাইরে এসে ঘাড় ঘুরিয়ে একবার চারপাশে তাকাল লোকটা৷ তারপর সে অনুসরণ করল সোহমকে৷ এবার আর কৌতূহল দমিয়ে রাখতে পারল না মল্লার৷ দাওয়া ছেড়ে নেমে সেও হাঁটতে শুরু করল সেদিকে৷

কুয়াশার একটা চাদর যেন ঘিরে রেখেছে কালো ঘরটাকে৷ কুয়াশা বলয়ের মধ্যে আবছা দেখা যাচ্ছে ঘরটার অবয়ব৷ মল্লার দেখল প্রথমে সোহম, তারপর সেই লোকটাও হারিয়ে গেল সেই কুয়াশা বলয়ের মধ্যে৷ মল্লারও এক সময় প্রবেশ করল সেই কুয়াশার মধ্যে৷ আর তার সঙ্গে-সঙ্গেই একটা আঁশটে গন্ধ তার নাকে এসে লাগল৷ পোড়া শোল মাছের গন্ধ৷ মল্লারের কাছে পরিচিত এ গন্ধ৷

কালো ঘরটার কাছে পৌঁছে গেল মল্লার৷ কিন্তু সেখানে সোহম বা তাকে যে অনুসরণ করে এল, তারা দু’জন কেউই নেই৷ ঘরের বাইরে একপাশে কাঠের আঁচ এখনও ধিকিধিকি জ্বলছে৷ মল্লার অনুমান করল, মাছ পোড়াবার জন্যই সম্ভবত ওই আগুন জ্বালানো হয়েছে৷ মল্লার ভালো করে তাকিয়ে দেখল একটা আবছা আলো বেড়ার দরজার ফাঁক গলে বাইরে এসে পড়েছে৷ দরজার ঝাঁপ বন্ধ থাকলেও গায়ে তালাটা খোলা৷ অর্থাৎ ঘরের ভিতরে লোক আছে৷ তবে কি সোহম আর সেই লোকটা কালো ঘরের ভিতরে রয়েছে? মল্লার ঘরের ভিতর কী ঘটছে তা বোঝার জন্য সন্তর্পণে ঘরটার কাছে এগিয়ে গিয়ে ঝাঁপের যে ফাঁক গলে আলো বাইরে আসছে সেই ফাঁকে চোখ রাখল৷

মল্লারের চোখ ভেসে উঠল ঘরের ভিতরটা৷ বেশ কয়েকটা প্রদীপ জ্বলছে ঘরে৷ রক্তাম্বর পরিহিত তমসাময় আর সোহম দাঁড়িয়ে আছে সিঁদুর লেপা বেদীর সামনে৷ আর এরপরই একটা জিনিস দেখে মল্লার চমকে উঠল৷ বেদীর ওপর শোয়ানো আছে একটা ছোট ছেলের নগ্ন দেহ৷ একদম স্থির, অচঞ্চল সেই দেহ৷ গায়ে, মাথায় ঝুরো মাটি লেগে আছে৷ সম্ভবত সদ্য কবর থেকে দেহটা তুলে আনা হয়েছে৷ মল্লার অনুমান করল, এই দেহটা সম্ভবত সেই শিশুরই হবে, যাকে কবর দিয়ে বিকালবেলা ফিরছিল সেই লোকগুলো৷

দেহটার দিকে তাকিয়ে তমসাময় বললেন, ‘ওকে আমি আবার বাঁচিয়ে তুলব ঠিক যেমন তোমাকে বাঁচিয়ে তুলেছি৷ নতুন জীবন দিয়েছি৷ শোল মাছটা কাজে লেগে গেল৷’

সোহম বলল, ‘কিন্তু চূর্ণীর ব্যাপারটা কী হবে? আমি তো ওর জন্যই মাছটা আনালাম৷’

তমসাময় বললেন, ‘ওর জন্য কাল একটা মাছ আনিও৷ কালকের রাতটা তো আছে৷ তবে এখানে আর আমাদের থাকা চলবে না৷ সরকারি লোকেরা আবার খবর পেয়ে এখানে হানা দিতে পারে৷ বাঁকুড়া জেলার দ্বারকেশ্বর নদের পাড়ে শ্মশানের কাছে গুরুদেবের একটা বাড়ি আছে৷ সেখানে আপাতত সবাই মিলে চলে যাব৷ তাঁর তেমনই ইচ্ছা৷ তিনিই তো আমাকে পরিচালনা করেন৷ লোকে তা বুঝতে পারে না৷ তিনি তো আমার সঙ্গেই থাকেন দেহ মনে৷’

সোহম বলল, কাল রাতের পর আশা করি চূর্ণী আর আমার সঙ্গ ত্যাগ করবে না৷ জীবন-মরণে সাথী হব আমরা৷’

একথা বলে সোহম বলল, ‘তবে একটা সমস্যা আছে৷ মল্লার যদি তাকে এখানে ছেড়ে দিতে রাজি না হয় তখন?’

সোহমের কথার জবাবে তমসাময় কিছু একটা বললেন, কিন্তু সেটা আর মল্লারের শোনা হয়ে উঠল না৷ কারণ, ঠিক সেই মুহূর্তে পিছনে শব্দ শুনে মল্লার ফিরে তাকিয়ে দেখল কুয়াশার চাদর ভেদ করে তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বুনো৷

আকস্মিক তার আবির্ভাবে বেশ হকচকিয়ে গেল মল্লার৷ বুনো তার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, ‘এখানে কী করছেন?’

মল্লার একটু আমতা আমতা করে বলল, ‘একজন অচেনা লোককে এদিকে আসতে দেখলাম৷ তাকে দেখে কেমন যেন সন্দেহ হল তাই তার পিছনে পিছনে এগিয়ে এলাম৷ কিন্তু এখানে এসে তাকে আর দেখতে পাচ্ছি না৷’

কথাটা শুনে বুনো কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে যেন বোঝার চেষ্টা করল সে সত্যি বলছে কি না? তারপর ঠান্ডা গলায় বলল, ‘এত রাতে বাইরে বেরোনো ঠিক নয়৷ ঘরে ফিরে যান৷’

বুনোর গলা শুনে মল্লারের মনে হল, অনুরোধ নয়, নির্দেশও যেন মিশে আছে সেই কণ্ঠস্বরে৷ মল্লার তার সঙ্গে আর কোনও কথা না বলে সে জায়গা ছেড়ে হাঁটতে শুরু করল৷

মল্লার ঘরে ফিরে এল ঠিকই৷ কিন্তু প্রচণ্ড উত্তেজনা শুরু হল তার মনের মধ্যে৷ এতদিন মল্লার কোনও অতিপ্রাকৃত ঘটনাতে বিশ্বাস করত না, কিন্তু আজ বাচ্চাটার মৃতদেহটা কালো ঘরের মধ্যে দেখার পর তার মনে হতে লাগল জলঙ্গীর পাড়ের আশ্রমে যে ঘটনা ঘটছে তা স্বাভাবিক নয়৷ মৃত মানুষকে কীভাবে বাঁচিয়ে তুলছেন তমসাময়? বিজ্ঞানের দ্বারা তো তা সম্ভব নয়, তবে কি কোনও অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত শক্তি কাজ করছে এর পিছনে? ভয়ঙ্কর কোনও শক্তি?

সোহমও কি তবে জলে ডুবে মারা গিয়েছিল? তারপর তার প্রাণ ফিরিয়েছেন তমসাময়? সবথেকে যে ব্যাপারটা মল্লারকে উত্তেজিত করে তুলল তা হল চূর্ণীকে নিয়ে বলা সোহম আর তমসাময়ের কথাবার্তা৷ শোল মাছটা চূর্ণীর জন্য আনানো হয়েছিল কেন? চূর্ণী কোনও মৃত মানুষ নয় যে শোল মাছ খাইয়ে তার প্রাণ ফেরাতে হবে! তবে কি কোনও ভয়ঙ্কর বিপদ নেমে আসতে চলেছে চূর্ণীর ওপর? চূর্ণীর জন্য শোল মাছ আনানোর একটা কারণ যেন অনুমান করতে পারল মল্লার, আর তা ভাবার সঙ্গে-সঙ্গেই একটা শীতল রক্তের স্রোত প্রবাহিত হল মল্লারের শরীরে! তবে কি চূর্ণীর মৃত্যু ঘটবে? আর তারপর তাকে বাঁচিয়ে তুলবেন তমসাময়? চূর্ণীকে তমসাময় আর সোহম নিয়ে যাবে তাদের সঙ্গে? মল্লার ভাবতে লাগল৷ যে ভাবেই হোক এই আশ্রম থেকে কাল দিনেরবেলায় চূর্ণীকে কলকাতা ফিরিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করতে হবে৷ সোহমের যা হয় হবে, কিন্তু চূর্ণীকে এভাবে তাদের সঙ্গে কোথাও যেতে দেওয়া যাবে না৷ এ সব কথা ভাবতে ভাবতে উত্তেজনায় ক্লান্ত-অবসন্ন মল্লার শেষ রাতের দিকে ঘুমিয়ে পড়ল৷