চতুর্থ অধ্যায়—প্রেতাত্মার প্রতিহিংসা
দার্জিলিং ম্যাল থেকে যে রাস্তাটা রাজভবনের দিকে গেছে, তারই ডানদিকে ছোটো একটা বাঁধানো পথ নেমেছে। পথের প্রান্তে লাল চালার এক অতি সুদর্শন ক্যুইন-অ্যান বাংলো। বাংলোর নাম স্টেপ অ্যাসাইড। পিছনে ধাপে ধাপে জঙ্গল উঠতে উঠতে উপরের দীর্ঘ বনানীতে গিয়ে মিশেছে। দার্জিলিংয়ের দারোগা শ্রী নলিনীকান্ত চক্রবর্তী চুঁচড়োর দেশের বাড়ি বেচে সপরিবার এখানেই থাকেন। অবশ্য পরিবার বলতে তিনি আর তাঁর ষোড়শী কন্যা কল্যাণী। স্ত্রী গত হয়েছেন বছর দু-এক হল। পুলিশে দীর্ঘদিন কাজ করলেও পুলিশোচিত কর্কশতা এখনও তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। হয়তো এই স্থানের প্রকৃতির গুণে।
তারিণীরা দার্জিলিংয়ে পা রাখা মাত্র উর্দি পরা দুই গোর্খা সেপাই কেমন করে যেন তাদের খুঁজে একেবারে পাকড়াও করে নিল। তারিণীদের মালপত্র একটা ছ্যাকরা গাড়িতে উঠিয়ে, হাতের হোল্ডঅল বয়ে নিয়ে, শেষে যখন খাবার রাখার বেতের চুপড়িটা নিয়েও টানাটানি শুরু করল, মাখনলতা ঘাবড়ে গেল একেবারে। সে গাঁয়ের মেয়ে। পার্বত্য জাতির আতিথেয়তা দূরস্থান, আগে কোনও দিন গোর্খা দেখেনি। শুরুতেই দুইজন, তায় আবার পুলিশ। ভয়ে সে কোনওমতে তারিণীর গায়ে সেঁটে রইল। তারিণী অবশ্য কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিল। প্রিয়নাথবাবু আগেই বলেছিলেন, নলিনীকান্ত অতীব অতিথিবৎসল। বিশেষ করে তারিণী যখন তাঁর দেশের বাড়ির লোক, তখন আপ্যায়নে কিছু বাড়াবাড়ি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাড়িতে নলিনীবাবু নিজে উপস্থিত ছিলেন। তারিণীরা পৌঁছোতেই এগিয়ে এসে তাঁদের অভ্যর্থনা করলেন। কল্যাণী মেয়েটির স্বভাবও ভারি মধুর। বয়সে মাখনের প্রায় সমবয়সি হবে। সে দৌড়ে এসে মাখনের হাত ধরে, “তুমি এসো সই। আমার ঘরে এসো”, বলে প্রায় টেনে নিয়ে চলে গেল। মাখনের এখনও বিস্ময় কাটেনি। সে কী করবে বুঝতে না পেরে দু-একবার তারিণীর মুখপানে ব্যর্থ চেয়ে থেকে কল্যাণীর অনুগামিনী হল।
নলিনীবাবুর চোখের ইশারায় ঘরের ভিতর থেকে দুইজন চাকর এসে মালপত্র নিয়ে কোথায় উধাও হল কে জানে। তারিণী খেয়াল করল, তারাও এই পার্বত্য জনজাতির। নলিনীবাবু পাহাড়ে থেকে একেবারে পাহাড়ি বনে গেছেন। ঘরের ভিতরটা অবশ্য ইউরোপীয় কায়দায় সাজানো। মেঝেতে পারস্যের কার্পেট, আবলুস কাঠের সোফা, অটোমান চৌকি, ইজিচেয়ার, সাইডবোর্ড আর টেবিল। সেই টেবিলে মার্বেলের শিশু কিউপিড তির-ধনু নিয়ে দাঁড়িয়ে। অপূর্ব সেই মূৰ্তি দেওয়ালে নলিনীবাবুর মৃতা স্ত্রীর বড়ো একটি অয়েলপেন্ট ছবির সঙ্গে কোরেজিও-র ম্যাগডেলিন, তিশিয়ানের ভেনাস আর লিওসিয়রের হরিণের অলিওগ্রাফ শোভা পাচ্ছে। এক কোণে রাখা সেতার দেখে মালুম হয় বাড়িতে সংগীতচর্চাও হয়। হয়তো কল্যাণীই এটা বাজায়।
“ঘন্টাখানেকের মধ্যে তৈরি হয়ে এই ঘরে চলে এসো হে। বহুদিন পরে দেশের লোকের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া যাবে।” বলে তারিণীকে অব্যাহতি দিলেন নলিনীবাবু। অতিথিশালাটিও মনোরম। খান দুই ইটের উপর বসানো খাট। তাতে ওঠার জন্য কাঠের একধাপ সিঁড়ি। বিছানায় তকতকে সাদা জাজিম, পশনের কাজ করা বিলিতি টৌকো বালিশ, আর গুটিয়ে রাখা মশারিতে গোলাপি রেশমের ঝালর। পাশে উঁচু জলচৌকিতে ঢাকা দেওয়া দুইটি জলের গেলাস, পানের ডিবে, মশলার কৌটা, পিকদানি আর পাট করা গামছা। দুইখানি ফুলদানিতে টাটকা ফুলের তোড়া। ঘরে হালকা ধুনো আর চন্দনের গন্ধ। প্রিয়নাথ যথার্থই বলেছিলেন, “অতিথি সৎকারের জন্য রায়বাহাদুর খেতাব দেওয়া হলে সেটা নলিনীবাবুই পাবেন।”
হাত পা ধুয়ে কলকাতার টমাস সাহেবের দোকান থেকে কিছুদিন আগেই কেনা সাহেবি পোশাক পরে তারিণী যখন নিচে বৈঠকখানা ঘরে নামল, ততক্ষণে নলিনীকান্ত একেবারে জমিয়ে বসেছেন। টেবিলে ডিক্যান্টার, মদের বোতল আর গেলাস রাখা। সঙ্গে পোর্সেলিনের প্লেটে নানা অচেনা খাবারদাবার।
“চলে তো নাকি?”-র উত্তরে তারিণী করজোড়ে জানাল, “একেবারেই চলে না।” ফলে তার জন্যে চা আনতে আদেশ হল। অতি ধীরে গেলাসে চুমুক দিতে দিতে গল্প শুরু করলেন নলিনীকান্ত। কীভাবে তিনি পুলিশে এলেন, কীভাবে প্রিয়নাথের সঙ্গে লালবাজারে আলাপ, টমসন সাহেব এই পার্বত্য জাতিকে বশে রাখতে নলিনীকেই কেন বেছে নিলেন দার্জিলিংয়ের জন্য ইত্যাদি। নলিনীকান্তর গল্প করার ঢং-টি বেশ আকর্ষণীয়। ফলে কখনোই অপর পক্ষ ক্লান্ত হয় না। অন্যদিকে ঘরের ভিতর থেকে অবরুদ্ধ হাসির আওয়াজ শুনে তারিণী বুঝতে পারছিল, কল্যাণীর সঙ্গে মাখনের অপরিচয়ের প্রাথমিক বাধাটুকু দূর হয়েছে। বেশ খানিক নিজের কথা বলে আচমকা যেন সংবিৎ ফিরল দারোগাবাবুর।
“প্রিয়নাথ চিঠিতে তোমার খুব প্রশংসা করেছে। তুমি নাকি প্রাইভেট ডিটেকটিভ? সত্যি? কোন একটা গুরুতর কেসে নাকি গোটা পুলিশ বিভাগ আতান্তরে পড়েছিল, তোমার সহায়তায় সেই কেস সলভ হয়েছে! ব্যাপারটা কী খুলে বলো দেখি।”
খানিক মাথা নিচু করে তারিণী বললে, “আজ্ঞে আমায় ক্ষমা করবেন। ম্যাজিস্ট্রেট টমসন সাহেব, প্রিয়নাথবাবু আর বিলেত থেকে আসা সাইগারসন সাহেবের কাছে আমি কথা দিয়েছি। এই কেসের কথা কারও সঙ্গে আলোচনা করা যাবে না। তবে এককথায় যদি বলতে বলেন, তবে এটুকু বলতে পারি, কলকাতায় এক অদ্ভুত ভূতের উপদ্রব হয়েছিল। আমি সেই ভূতকে পাকড়াও করেছি।” বলে যেন খুব একটা হাসির কথা বলছে, এভাবে নিজেই হো হো করে হেসে উঠল।
নলিনীবাবুর দিকে চোখ পড়তেই সে হাসি থেমে গেল নিজে থেকেই। এতক্ষণ সোফায় প্রায় এলিয়ে বসেছিলেন তিনি। এবার উঠে বসেছেন। সামান্য ঘোলাটে হয়ে যাওয়া চোখ জ্বলজ্বল করছে। হাতের গেলাসটা পাশে রেখে তারিণীর দিকে সোজা তাকিয়ে তিনি শুধু একটাই কথা বললেন, “মাই গওড়!” বলেই দুই হাতে মাথা চেপে ধরে বসে রইলেন।
তারিণী অপ্রস্তুত। বুঝতে পারছে না কী বলবে। সে কি ভুল কিছু বলে ফেলল? মিনিটখানেক এইভাবে থাকার পর নিজে থেকেই মাথা তুললেন নলিনী দারোগা। কথা শুরু করতেই তারিণীর মনে হল এ এক অন্য মানুষ। এতক্ষণের সদালাপী গৃহস্বামী যেন মুহূর্তে ভোল পালটে থানার এক দায়িত্বশীল আধিকারিকে পরিণত হয়েছেন।
“শোনো তারিণী। তোমায় আমি কিছু ঘটনা বলতে চাই। তোমার সেই ভূতের ব্যাপারে আমার সম্যক ধারণা নেই ঠিকই, তবে তা নিয়ে যে বিরাট আলোড়ন উঠেছিল, সেই ঢেউয়ের কিছুটা এই পাহাড়ের উপরে বসেও আমরা টের পেয়েছি। আমি জানি এই কেস এমন কিছু, যাতে আমাদের ইংরাজ বাহাদুরের গদি টলে গেছিল। শুধু জানতাম না সেই কেসে তুমিও ছিলে। যাই হোক, তোমায় যখন পেয়েছি, তোমার সঙ্গে কিছু কথা ভাগ করে নিতে চাই। আমি বুঝেছি, গোপন কথা গোপন রাখতে তুমি সক্ষম। তবে একটাই অনুরোধ, আমি এখন যা বলব, তাকে এক প্রৌঢ়ের ভ্রম বা কুসংস্কার ভেবে উড়িয়ে দিয়ো না। আমি যা বলছি, তা আমার জ্ঞান-বুদ্ধি মতে সত্য।”
“বলুন।”
“তুমি জেফোর নাম শুনেছ?”
“আজ্ঞে না।”
“না শোনারই কথা। তবে শুরু থেকে শুরু করি। গোটা ঘটনার সূত্রপাত আজ থেকে বছর তিনেক আগে। আমি তখন লালবাজার থেকে সবে ট্রান্সফার হয়ে দার্জিলিং এসেছি। সঙ্গে স্ত্রী-কন্যা। চার্জ নেবার কিছুদিন পরেই শুনলাম বোংবস্তির একটা কার্মি বউ নিখোঁজ। কার্মি এখানকার একটা উপজাতি। শান্ত প্রকৃতির। তিব্বত থেকে নেপাল হয়ে এখানে এসে থাকে। কোনও ঝামেলায় যায় না। যে মেয়েটি হারিয়েছে, সে ওদের সর্দারের স্ত্রী। অপরূপা সুন্দরী। খোঁজ শুরু হল। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসত সে মেয়েকে নাকি দেখা গেছে। ছোটোলাটের তখন কলকাতায় থাকার সময়। ফলে ফোর্সেও বেশি লোক নেই। তবু হাতেগোনা কয়েকজনকে নিয়ে খবর পেলেই আমি ছুটে যেতাম। কোথাও কিছু নেই। শেষ পর্যন্ত…” বলে থেমে গেলেন দারোগা সাহেব। যেন সেই পুরোনো কথাই মনে করছেন, এমনভাবে খানিক ঘরের সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে আবার শু করলেন, “একদিন খবর এল, বডি পাওয়া গেছে। সেদিন কনকনে ঠান্ডা। এদিকে বৃষ্টি হচ্ছে। ঘুম স্টেশনের কাছে এক জঙ্গলে গিয়ে দেখি ফুলের মতো সুন্দর সেই মেয়েটিকে কে বা কারা যেন অকথ্য অত্যাচার করে গলা টিপে মেরে ফেলে রেখে গেছে। শরীরে একটুকরো কাপড় নেই। নিম্নাঙ্গ রক্তে মাখামাখি। আমরা মৃতদেহ মর্গে নিয়ে পোস্টমর্টেম করতে চাইলাম। পারলাম না। কার্মিরা দিল না। ওদের কেন যেন মনে হয়েছিল এই সব কিছুর পিছনে উইলিয়ামসন সাহেব দায়ী, আর পুলিশ ইচ্ছে করে সব জেনেও সাহেবকে আড়াল করছে।”
“এই উইলিয়ামসন সাহেব কে?”
“জর্জ উইলিয়ামসন। এখানেই একটা বিরাট চা বাগান আছে। গ্লেনডেল টি এস্টেট। তার সিকিভাগের মালিক।”
নামটা শুনেই চমকে উঠল তারিণী। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে দুবার এই এস্টেটের নাম শুনল সে। দারোগাবাবু বলেই চলেছিলেন, “চরম লম্পট, মাতাল। পাক্কা শয়তান যাকে বলে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এই কেসে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশের কিছু করার ছিল না।”
“ওরাই বা সাহেবকে সন্দেহ করল কেন?”
“মেয়েটি সাহেবের চা বাগানে কাজ করত। সাহেব বহুবার তার ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করেছেন। সুবিধে করে উঠতে পারেনি। কার্মিদের বিশ্বাস, সাহেবই মেয়েটির সর্বনাশ করেছেন। তারপর নিজের কুকীর্তি ঢাকতে মেয়েটাকে খুন করেন।
“সেক্ষেত্রে পোস্টমর্টেম করলে তো সত্যিটা বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল।”
“তা ছিল, কিন্তু ওরা সেই পথে গেল না। বদলে যেটা করল সেটা আরও ভয়ানক।”
“কী সেটা?”
“আমি জানি না, তুমি বিশ্বাস করবে কি না, কিন্তু আমি করি। তিব্বতি কিছু গূঢ় তান্ত্রিক আচার আছে। কালা জাদু। যাতে মানুষের চরম ক্ষতি করা যায়। ওরা সেই মৃতদেহ নিজেদের বস্তিতে বয়ে নিয়ে যায়। তারপর সবার চোখের আড়ালে সর্দার আর কয়েকজন পুরোহিত মিলে মেয়েটিকে কবর দিল। তবে সাধারণ কোনও পদ্ধতিতে না। কবর দেবার আগে ওরা মেয়েটাকে জেফো বানিয়ে দিল।”
“জেফো কী?”
“তিব্বতি ভাষায় জেফো মানে সুন্দরী মেয়ে। এক্ষেত্রে মৃতদেহকে মন্ত্র পড়ে সোজা খাড়া করে কবর দেওয়া হয়। মাথা নিচে পা উপরে। কবর দেবার সময় মৃতদেহের কানে বলে দেওয়া হয়, কার কার উপর সে প্রতিশোধ নেবে। প্রতিটা প্রতিশোধে কবরের মধ্যে সেই দেহ একটু একটু করে ঘুরতে থাকে। প্রতিশোধ নেওয়া শেষ হলে দেখা যায় মৃতদেহ শায়িত অবস্থায় আছে।”
“এসব আপনি সত্যিই বিশ্বাস করেন!”
“করি। মৃতদেহ যেদিন পাওয়া যায়, সেদিন কার্মিরা বাদে সেখানে তিনজন ছিল। আমি, ডাক্তার বেঞ্জামিন হান্টার আর উইলিয়ামসন সাহেব। মৃতদেহ দেখেই কার্নি সর্দার উইলিয়ামসনকে আক্রমণ করতে যায়। আমার আদেশেই তাকে জেলে পোরা হয়। নইলে অবস্থা কন্ট্রোল করা যেত না। অবশ্য চব্বিশ ঘণ্টা বাদেই তাকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। ছাড়া পেয়েও ও চিৎকার করে বলছিল, পাপের শাস্তি নেমে আসবেই। ওর মতো আমাদের প্রিয় মানুষরাও বেঘোরে প্রাণ হারাবে। ও আমাদের পিছনে জেফো লেলিয়ে দেবে। এই অভিশাপের অর্থ বুঝলাম ঠিক এক বছর বাদে।”
“কীরকম?”
“আমার এখনও সেই দিনটা মনে আছে। বছর দু-এক আগের কথা। সকাল থেকে প্রচণ্ড বৃষ্টি। আকাশ থেকে যেন ঘড়া ঘড়া জল ঢালছে। সাবিত্রী, আমার স্ত্রী সকালে খেতে বসে কিছু খেল না। জিজ্ঞাসা করতে বলল, কিছু হয়নি। সারাদিন কেমন একটা গুম হয়ে রইল। তখন কি জানতাম আসন্ন মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে সে? সন্ধে থেকে শুরু হল ভেদবমি আর পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। অত বৃষ্টিতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কী ঝামেলা বোঝোই তো, তাও নিয়ে গেলাম। ডাক্তার হান্টার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কিছু করা গেল না। শেষরাতে সাবিত্রী চলে গেল।”
নলিনীবাবুর চোখে জল টলটল করছে। আস্তিনে মুছে ধীরে ধীরে বললেন, “সেদিন সকাল থেকেই মনে একটা কাঁটা বিঁধে ছিল। এক বছর আগে ওইদিনই সেই কার্মি মেয়েটার দেহ পাওয়া যায়।”
দুজনেই চুপ। শুধু পাশের ঘর থেকে কল্যাণী আর মাখনের গলা ভেসে আসছে। তারিণী বুঝতে পারে না কী বলে সান্ত্বনা দেবে এই প্রৌঢ়কে। কিছু বলার আগে তিনি নিজেই আবার শুরু করলেন, “প্রথমে ভাবলাম কাকতালীয়। গত বছর আবার সেই দিনে মৃত্যু নামল এই শৈলশহরে। ডাক্তার হান্টারের স্ত্রীকে ঘাড় ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেল খাদের মধ্যে। কেউ বলল দুর্ঘটনা। কেউ বলল হয়তো দুষ্টু লোকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে। আমি জানতাম আসলে কী হচ্ছে। প্রেতাত্মা তার প্রতিশোধ নিচ্ছে কড়ায় গন্ডায়। দুই বছরে দুজন। এবার কি তবে…”
যেন তাঁর কথার উত্তর দিতেই বাইরের পোর্টিকোতে একটা ঘোড়ার গাড়ি থামার শব্দ শোনা গেল। সঙ্গে সঙ্গে কেউ একটা ছুটে আসার আওয়াজ। উর্দিধারী এক গোর্খা কনস্টেবল ঘরে ঢুকেই নেপালি ভাষায় কী যেন বলল। তারিণী পরিষ্কার দেখতে পেল দারোগাবাবুর মুখ রক্তশূন্য হয়ে গেছে। ক্ষীণ কণ্ঠে তিনি নেপালিতেই তাকে কিছু একটা নির্দেশ দিলেন। তারপর তারিণীর দিকে চেয়ে বললেন, “সম্পূর্ণ বন্ধ ঘরে উইলিয়ামসন সাহেবের স্ত্রীর লাশ পাওয়া গেছে… তোমায় আগেই বলেছিলাম… আমাকে এখুনি বেরোতে হবে ওদের বাড়ি ক্যামেলিয়ায়… সঙ্গে খাবে নাকি?”
