Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)
বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)
0/45
বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

(চতুর্থ অধ্যায়) আত্মপ্রকাশ

নাবিকেরা তখন ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করেছে। রাজসৈনিকেরা খোলা তরবারি নিয়ে লাফ দিয়ে পড়ল সামনে।

কয়েকটা জীবের মধ্যে একটু অস্পষ্টভাবে হলেও মানুষের মতো আকার আছে। দুই হাত, দুই পা, আর কাঁধের ওপর মাথা দেখা যাচ্ছে বটে, তবে মিলটুকু ওখানেই শেষ। ধূসর রঙের জন্তুগুলোর চামড়ার ওপর শক্ত আঁশের আবরণ; প্রত্যেকের দেহ থেকে পচা মাছের বিশ্রী গন্ধ ছাড়ছে। এদের অনেকের শরীরেই জড়িয়ে আছে সামুদ্রিক শ্যাওলা। দেখেই ইরার মনে পড়ে গেল, এইরকম একটা জন্তুকেই সে কিছুদিন আগে রাজার কক্ষে দেখে এসেছিল।

প্রাণীগুলোর হাতে বাঁকানো ছোরা আর বর্শা। তারা এমন একটা অদ্ভুত ভাষায় গর্জন করে কথা বলছিল যে ইরা কিছুই বুঝতে পারছিল না।

আপনা থেকেই তার হাত চলে গেল কোমরে, আর অমনি সর্বনেশে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে সে চমকে উঠল।

তার বজ্রধাতুর তরবারি তার সঙ্গে নেই। জাহাজে নিজের কক্ষে ফেলে এসেছে সে অস্ত্রটা।

দ্রুত ফিরে তাকাল সে দরজার দিকে। কমদারের সামনে এখন এই মেছোগন্ধযুক্ত জন্তুরা ভিড় করে এসেছে। তাদের মাঝখান দিয়ে কক্ষের দিকে যাওয়াটা আদৌ বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। জন্তুগুলো তাকে আঘাত করে কাবু করতে পারবে না, সে জানে। কিন্তু ওরা যদি তার মায়াবী তরবারির সন্ধান পেয়ে যায়?

জাহাজ তখন রক্তাক্ত রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে। দানবগুলোর সঙ্গে প্রবল পরাক্রমে লড়াই করছে রাজপ্রহরীরা, কিন্তু এই সমুদ্রদানবদের মধ্যে যেন ‘মৃত্যুভয়’ বস্তুটাই নেই। তাদের হাতে এক এক করে মারা পড়ছে রাজার সৈন্যরা; পিছু হটছে তারা। ইরা বুঝতে পারছিল, এই যুদ্ধ তারা হারতে চলেছে।

একটা দানব খোলা তরবারি নিয়ে ধেয়ে এল তার দিকে। ইরা চট্ করে পাশে সরে গিয়েছিল বটে, তবু তার কাঁধে এসে পড়ল তরবারির আঘাত। একটা ভোঁতা আওয়াজ হল। দানবটার হাতের অস্ত্র যেন শক্ত পাথরের তৈরি ভাস্কর্যে আঘাত করে লুটিয়ে পড়ল। ইরা হাসল।

“পরের বার আরও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসো, কেমন?”

দানবটার পেটে সজোরে ঘুষি বসিয়ে দেওয়া মাত্র সে অনুভব করতে পারল, এদের দেহের আঁশহীন অংশগুলো যেন একটু বেশিই নরম। তার লৌহকঠিন মুষ্টি জন্তুটার পেট বিদীর্ণ করে ভেতরে ঢুকে গেল। মৎস্যদানবের দুর্গন্ধযুক্ত নাড়িভুঁড়ি ‘থপ্’ করে খসে পড়ল জাহাজের বারান্দার ওপর।

অ্যাঃ! ছ্যা ছ্যা!

হাত বার করে এনে প্রাণপণে নিজের কক্ষের দ্বারের দিকে দৌড় দিল সে। দ্বারটা বন্ধ আছে বটে, কিন্তু একবার ভেতরে গিয়ে বজ্রধাতুর তরবারিটা তুলে আনতে পারলে এদের মুখোমুখি হওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে।

অন্য দানবেরা ততক্ষণে দেখে ফেলেছে, তার হাতে তাদের সঙ্গীর কী অবস্থা হল। তারা ছুটে গিয়ে দরজা ঘিরে দাঁড়িয়ে পড়ল, যাতে সে কোনোমতেই ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নিতে না পারে। তরবারি আর বর্শা নিয়ে তারা ঘিরে রইল কক্ষের প্রবেশপথ।

ইরা থমকে দাঁড়াল। খালি হাতে এতগুলো দানবকে পরাস্ত করা অসম্ভব।

মানুষদের বোধগম্য ভাষায় এবার ঘড়ঘড়ে গলায় একটা প্রাণী বলে উঠল, “আমাদের সঙ্গে এসো তুমি।”

“কী বললে?”

“আমাদের সঙ্গে এস, সব রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে।”

চমকে উঠল ইরা।

আমাকে ওরা নিয়ে যেতে এসেছে ডাইনিটার কাছে।

সে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে খুলে গেল। রজনীশদের আবির্ভূত হলেন একহাতে তার তরবারি আর অন্য হাতে লাঠি নিয়ে। আনন্দে লাফিয়ে উঠল ইরা।

ইষৎ খোঁড়াতে খোঁড়াতে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছেন রজনীশ। ইরা বুঝে ফেলল, দানবগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গে বিপদ বুঝে উনি ছুটেছিলেন তরবারিটা আনতে।

সে আশা করেছিল, রজনীশদের তাকে ছুড়ে দেবেন অন্ধটা। হাতটাও বাড়িয়ে দিয়েছিল সে। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি স্বয়ং ঝাঁপিয়ে পড়লেন যুদ্ধে। এই প্রথমবার ইরা বুঝতে পারল মানুষটা কী ভয়ংকর অভিযোদ্ধা।

সাদা রঙের বিরাট তরবারি বিদ্যুতের মতো ঝলসে উঠতে লাগল রাজমন্ত্রী রজনীশের হাতে। মুহূর্তের মধ্যে ধরাশায়ী হতে লাগল সমুদ্র থেকে উঠে আসা দানবের দল। বজ্রধাতুর যে কী ক্ষমতা, চোখের সামনে দেখছিল ইরা-সহ সারা জাহাজের লোকেরা। দিনের আলো যেন বজ্রশিখার মতোই বারবার ঠিকরে উঠছিল মৃত্যুময় অসিফলকের গায়ে।

জাহাজের বারান্দা ভরতি হয়ে উঠল ঐ অদ্ভুত প্রাণীদের রক্তাক্ত, ছিন্ন দেহে। তাদের মাঝখানে যেন এক উম্মত্ত মৃত্যুদেবতার মতো নৃত্য করে চললেন রজনীশ। হাঁ করে দাঁড়িয়ে তাঁকে দেখতে দেখতে ইরার একবার মনে হল, এই লোকটার মতো অমানুষিক অসিযুদ্ধ করার ক্ষমতা সম্ভবত তার নিজেরও নেই।

তাঁর বীরত্ব দেখে রাজার সৈনিকদের মধ্যেও প্রবল উৎসাহ জেগে উঠল। দ্বিগুণ বেগে যুদ্ধ শুরু করল তারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজে আর একটি সামুদ্রিক দানবও জীবিত রইল না।

শেষ জন্তুটার স্থির হয়ে যাওয়া, রক্তলিপ্ত বুক থেকে টেনে অস্ত্রটা খুলে নিয়ে রজনীশ ডাকলেন, “ইরা, এদিকে এসো।”

মরা প্রাণীগুলোর রক্তস্নাত দেহ পেরিয়ে ইরা এসে দাঁড়াল তাঁর সামনে। অস্ত্রটা তিনি তুলে দিলেন তার হাতে, “রাখো এটা। কখনও কাছ ছাড়া কোরো না।”

লজ্জিতভাবে মাথা নত করল ইরা। সে বুঝতে পারছিল, এই যুদ্ধে সে মনে রাখার মতো কোনো অবদানই প্রায় রাখতে পারেনি।

তরবারিটা যখন সে ওঁর হাত থেকে নিচ্ছে, তখন তার একবার মনে হল, কী যেন একটা অন্যরকম ব্যাপার ঘটে গেছে। কিন্তু সে এই মুহূর্তে বিষয়টা বুঝতে পারল না।

যুদ্ধক্লান্ত সৈনিকদের পেছনে এবার একে একে এসে জুটছিল সাধারণ নাবিকেরা। রজনীশ বললেন, “যা-ই হোক, আশার কথা, আমরা আমাদের গন্তব্যের কাছাকাছি এসে পড়েছি। এই দানবগুলোর আক্রমণ শুরু হতেই সেটা আন্দাজ করেছিলাম। ঐ দ্যাখো সবাই, নীলাশা দ্বীপ দেখা যাচ্ছে।”

সৈনিক আর নাবিকেরা মিলে তখন দানবদের দেহগুলো সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলছিল। তারা থমকে গিয়ে একবার উত্তর দিগন্তরেখার দিকে তাকিয়েই বিড়বিড় করে রক্ষামন্ত্র উচ্চারণ করতে শুরু করল। কয়েকজন তো কপালে হাত ছুঁইয়ে দেবতাদের কাছে প্রার্থনাও করে ফেলল।

রজনীশ বিরক্তভাবে বললেন, “তোমাদের মহারাজ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মায়াবিদদের অন্যতম। তিনি যদি দেখতেন তাঁর সেনা হয়ে তোমরা এই সামান্য ডাইনিটাকে ভয় পাচ্ছ, তিনি অত্যন্ত হতাশ হতেন।”

এক সৈনিক বলল, “ক্ষমা করবেন, রজনীশদেব। আমাদের মহারাজ নিজে একজন অসামান্য মায়াধর, কিন্তু আমরা তো তা নই।”

আর একজন সৈনিক বলল, “ঐ দ্বীপে স্বয়ং ‘কল্মষেশ’-এর উপাসনা চলে। যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করা যায়, এমন কোনো কিছুকেই আমরা ভয় পাই না। এই দানবগুলোর সঙ্গেও তো আমরা মরণপণ লড়াই করলাম। কিন্তু ঐ অশরীরী অপাতা তো মূর্তিমান অশুভ তার বিরুদ্ধে কী আদৌ ঢাল-তলোয়ার দিয়ে লড়াই করা যায়?”

এক নাবিক সাহস করে বলে ফেলল, “ঐ রাঁধুনীকে কেন মারা হল, আমরা কী বুঝতে পারিনি?”

ইরা অবাক হয়ে বলল, “মানে?”

লোকটা বলল, “ওকে বলে, ‘রক্তসোপান আরোহন’। সিঁড়ির প্রথম ধাপে একটা জন্তুকে মেরে ক্রিয়াটা শুরু হয়, তারপর এক সাধারণ মানুষকে মারা হয়, তার পরের ধাপে থাকে তার চেয়েও বড়ো বলি। তারপর এই তিন রক্তের মিশ্রণ উৎসর্গ করা হয় ‘কস্মযেশ’-কে সন্তুষ্ট করার জন্য।”

অবাক হয়ে ইরা হাত তুলে বলল, “দাঁড়াও, দাঁড়াও। কী বললে? মানুষের চেয়েও বড়ো কিছুর বলি?”

রজনীশ গর্জন করে উঠলেন সৈনিকদের ওপর, “ঢের হয়েছে। যত সব কাপুরুষের দল। তোমাদের কাউকে যেতে হবে না ঐ দ্বীপে। আমি একাই যাব লৌহহৃদয় ইরাকে সঙ্গে নিয়ে। তোমাদের মতো এক ঝাঁক ভীরুর চেয়ে একজন সাহসী সহযোদ্ধা সঙ্গে থাকা অনেক ভালো। আমরা যাব, এবং কর্ম সমাধা করেই ফিরব।”

সৈনিকরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। ইরা বুঝতে পারছিল, এই অসম্ভব বিপজ্জনক অভিযানের ফল কী হতে পারে, ওরা জানে। কিন্তু রাজমন্ত্রী রজনীশদেবের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই।

রজনীশ বললেন, “নৌকা নামাও, আমরা এখনই যাব।”

তাঁর আদেশে জাহাজের ডিঙ্গি নৌকাটি দড়ি দিয়ে বেঁধে নামানো হল জলে। প্রথমে ইরা উঠল নৌকায়, তারপর তার পিছুপিছু উঠতে উঠতে রজনীশ আদেশ দিলেন, “যতক্ষণ না আমরা ফিরে আসছি, তোমরা জাহাজ পাহারা দেবে, কেউ কোথাও যাবে না।”

তাদের নৌকা নীলাশা দ্বীপের উদ্দেশে ভেসে চলল সমুদ্রের ওপর দিয়ে। জাহাজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মুখ দেখে ইরার মনে হল, “ওরা বোধহয় ভাবছে, আর আমাদের কোনোদিন ফেরা হবে না।”

দাঁড় টানতে টানতে রজনীশ সাবধান করে দিলেন, “হাত-পা ঝুলিয়ে রেখ না নৌকা থেকে। হাঙর আছে এই সমুদ্রে।”

“তাতে আমার খুব একটা সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।”

অনেকক্ষণ পরে রজনীশ একটু হাসলেন, “ঠিক। তোমার শরীরে বাইরের কোনো অস্ত্র দিয়েই আঘাত করা যায় না, মনে পড়েছে। বেশ ভালো ব্যাপারটা, তাই না?”

ইরা বলল, “ভালো না মন্দ, বলতে পারব না। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে যে এটা খুব কাজে লাগে, তাতে সন্দেহ নেই।”

রজনীশ কিছুক্ষণ কী একটা ভাবলেন, তারপর বললেন, “একটা কথা তোমাকে বলব ভাবছিলাম, কিন্তু সবার সামনে আর বলতে চাইনি। তুমি হয়তো খেয়াল করেছ, ঐ লোকটা যখন ‘রক্তসোপান’-এর মতো অশুভ মায়াবিদ্যা নিয়ে বকবক করতে শুরু করেছিল, তখন তাকে এক ধমকে থামিয়ে দিয়েছিলাম।”

নীলাশা দ্বীপের নীলচে রঙের বালি প্রখর রৌদ্রে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ওদের নৌকা দ্বীপের আরও কাছে চলে এসেছে। অতি সূক্ষ্ম জলকণায় ভরা ঠান্ডা সামুদ্রিক বাতাস আর মাথার ওপরের তপ্ত সূর্য, দুটোই ইরার বেশ ভালো লাগছিল। সে বলল, “আমি খেয়াল করেছিলাম। আমিও পরে এই বিষয়টা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে ভেবেছিলাম। ‘সাধারণ মানুষের চেয়েও বড়ো বলি’ বলতে ঐ লোকটা কী বোঝাতে চাইছিল বলুন তো?”

রজনীশ বললেন, “তোমার কী মনে হয়?”

“সাধারণ মানুষের চেয়ে বড়ো কে হতে পারে? কোনো ‘অসাধারণ’ মানুষ?”

রজনীশ তাকিয়ে রইলেন, যেন তিনি দেখতে চাইছেন, উত্তরটা অনুমান করতে তার কতক্ষণ সময় লাগে। ইরা বলল (এবং বলার সময় সে নিজেই নিজের কথাগুলো বিশ্বাস করতে পারল না), “রাজা?”

রজনীশ একটু হাসলেন, “ঠিক এই কথাটাই ওদের সামনে উচ্চারিত হোক, এইটি আমি চাইছিলাম না। ঐ ডাইনি যে রাজার প্রাণ নিতে চেয়েছে, সে তো আমরা আগেই জানি। আমার আরও সন্দেহ, প্রথমে একটা জন্তুর, আর তারপর একটা মানুষের রক্তশূন্য দেহ পাওয়া গেছে মানে, ঐ জাহাজে এমন কেউ আছে যে ঐ ডাইনির হয়ে কাজ করছে।”

ইরা চুপ করে রইল। তার মাথায় ঘুরছিল সদ্য ঘটে যাওয়া যুদ্ধটার কথা। সে বলল, “আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করব।”

“করতে পারো।”

“আপনি আসলে কে বলুন তো?”

রজনীশ দাঁড় টানা থামিয়ে তার মুখের দিকে তাকালেন, “কী বলতে চাইছ?”

ইরা সরাসরি তাকাল তাঁর চোখের দিকে, “আপনি যে নিতান্ত সাধারণ কোনো মানুষ নন, তা আমি বুঝেছি, রাজমন্ত্রী মহোদয়। আপনি যে দুর্দান্ত অসিযোদ্ধা, তা আমি আগেও শুনেছি। কিন্তু আজ আপনি যেভাবে আমার মায়াবী বজ্রধাতুর তরবারি নিয়ে যুদ্ধ করলেন, তাতে আমি নিঃসন্দেহ যে আপনার শরীরে অত্যন্ত ক্ষমতাধর মায়াবী রক্ত বইছে। আপনি এমন সব কথা জানেন, যা আর কেউ জানে না। আপনি নিজেকে যতখানি প্রকাশ করেন, ঢেকে রাখেন তার অনেক বেশি। সব কিছুরই দুটো দিক থাকে, আপনিই আগে বলেছেন। এবার বলুন তো, আপনার অন্যদিকটা আসলে কী?”

পরক্ষণেই ভয়ংকরভাবে চমকে উঠল সে। রাজা স্বয়ং বসে আছেন তার সামনে। সমুদ্রের হাওয়ার উড়ে আসা জলের কণা চিকমিক করছে তাঁর লম্বা, কালো দাড়িতে।

তার হাঁ-হয়ে থাকা মুখটার দিকে তাকিয়ে রাজা হাসলেন, “মায়ের মতোই বুদ্ধিমতী হয়েছ তুমি।”