Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
0/49
বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – ১৮

পর্ব ১৮

সিঁড়ির সন্ধান খুঁজে পেতে তাঁদের বিশেষ বেগ পেতে হল না। তার কয়েকটা ধাপ ধসে গেছে ঠিকই। তবে সাবধানে সেই সিঁড়ি বেয়ে সকলে দোতলায় উঠে এল। ছোট ছোট বেশ কিছু চত্বরে বিগ্রহ শূন্য উপমন্দির আর অলিন্দ আছে। ছোট ছোট সিঁড়ির ধাপ অতিক্রম করে একটা প্রাঙ্গণ থেকে আর একটা প্রাঙ্গণে উঠতে হয়। সেসব প্রাঙ্গণ পাহারা দিচ্ছে রক্ষী মূর্তি। তারা যেন কঠিন পাহারার মধ্যে রেখেছে আঙ্করের এই রহস্যময় প্রাচীন মন্দিরকে। দোতলার অলিন্দ থেকে মন্দিরের প্রবেশ তোরণের বাইরেটা, স্বাগতদের ঘরগুলোও দেখা যাচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে একসময় তারা এসে পৌঁছল, ঠিক সেই জায়গাতে যেখানকার অলিন্দ লাগোয়া কার্নিশ থেকে নীচে পড়ে গিয়েছিল মজুরটা। কয়েকটা লতাগুল্ম এখনও রয়ে গেছে সেখানে। তাই অলিন্দের এ জায়গাটা এখনও একটু ছায়াময়। রামমূর্তির নির্দেশে হেরুম কাটতে শুরু করল সেই লতাগুলো। ধারালো অস্ত্রের কোপে কয়েক মিনিটের মধ্যে সাফ হয়ে গেল সেগুলো। আলোকিত হয়ে উঠল অলিন্দ। তারপর সে জায়গা ছেড়ে তারা যখন এগতে যাচ্ছে তখন কিছুটা কাকতালীয়ভাবেই স্বাগতর চোখ গেল মাটির দিকে। সূর্যের আলোতে সেখানে জেগে আছে ছোট ছোট কয়েকটা পায়ের ছাপ! স্বাগত সঙ্গে সঙ্গে তার পাশে দাঁড়ানো রামমূর্তি স্যরের কব্জিটা স্পর্শ করল। তিনি তার দিকে তাকাতেই স্বাগত চোখের ইশারায় দেখিয়ে দিল ছাপগুলো। তিনি ছাপগুলোর দিকে তাকিয়ে স্বাগতকেও চোখের ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন, ‘ওগুলোর প্রতি অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণের দরকার নেই।’

সকলে এগতে থাকল এরপর। কখনও বা কোনও কক্ষের মধ্যে প্রবেশ করে দেখতে লাগল তারা। দেওয়ালের গায়ে সাধারণ কিছু অলঙ্করণ ছাড়া কোনও দেব-দেবীর অস্তিত্ব নেই যা দেখে মন্দির সম্পর্কে কোনও কিছু ধারণা করা যায়। বাইরে সময় এগিয়ে চলল তার সঙ্গে সঙ্গে। প্রীতম বলল, ‘স্যর, এমনকী হতে পারে যে চামেদের আক্রমণের পর এই মন্দির পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল? বিগ্রহগুলো অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল?’

রামমূর্তি জানালেন, ‘এমনটা হতেই পারে। ইতিহাস বলছে চামেদের থেকে আঙ্কর সাম্রাজ্যকে মুক্ত করার পর রাজা ধরণীন্দ্রবর্মন আঙ্করের সূর্য মন্দিরের উন্নতিসাধন করেন ঠিকই কিন্তু এ জায়গা থেকে তাঁর রাজধানীকে বেশ কয়েক মাইল দুরে সরিয়ে নিয়ে যান। তারপরই এ নগরী পরিত্যক্ত হতে শুরু করে।’

‘ধরণীন্দ্রবর্মন’ নামটা শুনেই স্বাগতর মনে পড়ে গেল সেই খামের যুবতীর কথা। সম্রাট ধরণীন্দ্রবর্মনের সিংহাসন আরোহণ পর্যন্ত শুনিয়েই সেদিন সে শেষ করেছিল তার কাহিনি। মন্দিরের কক্ষ প্রাঙ্গণগুলো ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎই তারা এসে থেমে গেল এক জায়গায়। অলিন্দের এই জায়গা অনেকটা ঘরের মতো দেখতে। চারপাশের রক্ষী শোভিত স্তম্ভগুলো ধরে রেখেছে মাথার ওপরের ছাদকে। সেখানে তারা দেখতে পেল একদল মুণ্ডিত মানুষের মূর্তি। তবে এ মন্দিরে রক্ষী পরিবৃত যে ভাণ্ড হাতে মূর্তিগুলো আছে তার সঙ্গে এদের পার্থক্য আছে। এরা কর্ণকুণ্ডল ও অলঙ্কার শোভিত। যতটুকু বোঝা যাচ্ছে এদের স্কন্ধে উত্তরীয়র মতো বস্ত্রও আছে। দেওয়ালের গায়ে পাথরের ব্লকের ওপর বসানো মূর্তিগুলোর হাতের মুদ্রাগুলো দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে পুষ্প নিবেদন করছে, তাদের ঠিক মাঝখানে কোনও বস্তু বা মানুষের উদ্দেশে। কিন্তু মাঝের সেই পাথরের ব্লকটা নেই। দেওয়ালের গায়ের খাঁজ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কোনও একসময় সেখানে একটা পাথরের ব্লক ছিল, যার গায়ে খোদিত ছিল কোনও মূর্তি বা অন্য কিছুর ছবি।

সবাই দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল মূর্তিগুলো। সুরভী রামমূর্তি স্যরের উদ্দেশে বলল, ‘এগুলোই তো আসলে ব্রাহ্মণদের মূর্তি তাই না। বিষ্ণুমন্দিরের এক জায়গায় রাজা সূর্যবর্মনের রাজ্যাভিষেকের একটা প্রস্তর খোদিত ছবি দেখিয়েছিলেন আপনি। যেখানে ব্রাহ্মণরা রাজাকে আশীর্বাদ করছেন। সেই ব্রাহ্মণ আর এঁদেরকে একইরকম দেখতে।’

সুরভীর কথা শুনে স্বাগতরও মনে পড়ে গেল সেই ছবিটার কথা। বিষ্ণুমন্দিরের একটা অলিন্দে সবাইকে ছবিটা দেখিয়েছিলেন প্রফেসর। সুরভীর কথা শুনে রামমূর্তি স্যার প্রথমে তারিফের স্বরে বললেন, ‘বাঃ, তোমার মনে আছে দেখছি। হ্যাঁ, এগুলো ব্রাহ্মণদের ছবি।’

এ কথা বলার পর তিনি বললেন, ‘যে পাথরের ব্লকটা উধাও সেখানে কোনও দেবতা বা রাজার মূর্তি ছিল বলে আমার অনুমান। তাকেই পুষ্প নিবেদন করছিল ওরা। অদৃশ্য মূর্তিটা কোনও দেবতার মূর্তি হলে হয়তো বা এ মন্দির কার তার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যেত।’

বিক্রম বলল, “কিন্তু মূর্তি বা পাথরের ব্লকটা কোথায় গেল স্যর? দেওয়াল থেকে খসে পড়লে তো এখানেই পড়ে থাকার কথা।”

বিক্রমের কথা শুনে একটু ভেবে নিয়ে রামমূর্তি বললেন, ‘সেটা কেউ খুলে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। সে কাজটা অনেক পুরনো আমলে অর্থাৎ খামের রাজাদের আমলে হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। দীর্ঘদিন এই বিষ্ণু নগরী অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। ইউরোপীয় পর্যটকদের আনাগোনা যখন শুরু হয়েছিল তখন তারা বেশকিছু প্রত্নসামগ্রী নিজের দেশে নিয়ে গিয়েছিল বলে শোনা যায়। পাথরের ব্লকটা যেখানে বসানো ছিল ওই অংশটার মাপ নিতে হবে। বলা তো যায় না ওই আকারের পাথরের ব্লকের খোঁজ হয়তো কোথাও পেয়ে গেলাম। এখন সেটা এখানে বসিয়ে পুরো ছবির মর্মোদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে। আর তার সঙ্গে সঙ্গে অন্য মূর্তি আর ছবিগুলোরও মাপ নেওয়াও দরকার।’

স্বাগতরা সবাই মিলে এরপর সেই কাজে লেগে গেল। বেশ খানিকটা সময় লাগল সে কাজে। তারপর তারা কিছুটা এগতেই মন্দিরের এই অংশের ছাদে ওঠার সিঁড়ির খোঁজ পেল। অতি জীর্ণ সিঁড়ি। মাঝে মাঝে ধাপ খসে গেছে। সিঁড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে রামমূর্তি বললেন, ‘এ সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠা কি ঠিক হবে? খসে পড়বে না তো?’

তারপর তিনি কৌতূহলবশত বললেন, ‘ঠিক আছে। আমি আর হেরুম ওপরে উঠি। অন্যরা নীচেই থাক। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তখন তো আমাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার লোকের দরকার হবে।’

তিনি এ কথা বলার পর আগ্রহবশত স্বাগত বলল, ‘আমিও ওপরে উঠি স্যর?’

রামমূর্তি তাকে না বলতে পারলেন না। তিনি বললেন, ‘ওঠ, কিন্তু ইটস ইওর ওন রিস্ক।’

অতি সাবধানে, ধীরে ধীরে সিঁড়ির ভাঙা ধারগুলো টপকে হেরুমই প্রথমে ওপরে উঠতে শুরু করল। তার পায়ের চাপে ধুলো খসে পড়ছে সিঁড়ি থেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে নিরাপদেই ওপরে উঠে হাঁক দিল, ‘চলে আসুন স্যর।’

এরপর একে একে রামমূর্তি স্যর আর স্বাগতও ছাদে উঠে এল। বিশাল ছাদ, সেখানে উঠে প্রথমেই তারা যেটা দেখতে পেল তা হল বিষ্ণুলোক। এত উপরে ছাদ থেকে তাকে আরও কাছে মনে হচ্ছে। বিষ্ণুলোক আর এই মন্দিরের মধ্যবর্তী স্থানটা গাছের সবুজ মাথাতে ছাওয়া। তার মাঝখানে সরু সিঁথির মতো কিছুটা ফাঁকা দাগ দেখে রামমূর্তি সার হেরুমকে জিজ্ঞেস করল, ‘ওটা কোনও রাস্তা নাকি?’

হেরুম জবাব দিল, ‘এখন আর নেই। আগে একটা পাথর বসানো পুরনো রাস্তা ছিল। ওখান থেকে পাথর তুলে নিয়ে গিয়ে বিষ্ণুলোকের পরিখার পাড় বাঁধানো হয়েছিল। যে অংশের পাথর তোলা হয়নি সেই অংশের রাস্তাটুকু দেখা যাচ্ছে। বাকি অংশে গাছ জন্মে গেছে।’

তার কথা শুনে রামমূর্তি বললেন, ‘অর্থাৎ বিষ্ণুলোক থেকে সরাসরি এদিকে আসার একটা রাস্তাও ছিল।’

ছাদের চারপাশে এবার ঘুরতে শুরু করল তারা। ওপর থেকে মন্দিরের নানান ছোটবড় অলিন্দ দেখা যাচ্ছে। যেগুলোকে গোলকধাঁধার মতো দেখতে লাগছে। ওপর থেকে তাকিয়ে সেগুলো দেখে স্বাগতরা বুঝতে পারল এর মধ্যে অনেকটা জায়গায় তাদের এখনও যাওয়া হয়নি। আসলে মন্দিরের বিভিন্ন অংশগুলো সত্যিই গোলকধাঁধার মতো। নানান দিকে নানান রাস্তা বেরিয়েছে। তিন-চার ঘণ্টা ঘুরেও মন্দিরকে ভালোভাবে বোঝা যাবে না, এ কথাটা স্বাগতরা উপলব্ধি করতে পারল।

চারপাশে কাছে দূরে দেখতে দেখতে একদিকে বেশ অনেকটা দূরে গাছের চাঁদোয়া ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা অন্য একটা স্থাপত্যের অংশ চোখে পড়ল স্বাগতর। সে প্রশ্ন করল, ‘ওটা কী দেখা যাচ্ছে স্যর?’

হেরুম জবাব দিল, ‘ওদিকে বায়ুম বুদ্ধমন্দির। ওটাই দেখা যাচ্ছে।’

রামমূর্তি স্যর স্বাগতকে বললেন, ‘ওই মন্দিরটাতে তোমাদের নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, তাছাড়া তোমার মুখে তো শুনলাম সন্ন্যাসী রত্নসম্ভব আমাকে ওঁর ওখানে যেতে বলেছেন। দেখি কবে যাওয়া যায়!’

এ কথা বলার পর তিনি বললেন, ‘চল এবার নীচে নামা যাক। রান্নার লোকটাও তো আসেনি। মন্দির থেকে ফিরে নিজেরাই কিছু বানিয়ে খেয়ে নেব। আজ আর মন্দিরের ভিতর ঘুরব না। আমাকে কিছু কাজে বসতে হবে।’

একে একে ছাদ থেকে নীচে নামতে শুরু করল তারা। সবশেষে নামার আগে স্বাগত একবার তাকাল বিষ্ণুমন্দিরের দিকে। আর তখনই সে খেয়াল করল বিষ্ণুমন্দিরের এক কোণের আকাশে কালো রঙের উড়ন্ত বিন্দুগুলোকে। তাদের চিনতে অসুবিধা হল না স্বাগতর। অর্থাৎ বিষ্ণুলোকের সর্বোচ্চ তলে কোণের যে ঘরে মুণ্ডিত মস্তক লোকেদের মূর্তিগুলো আছে সে ঘরে তারই মতো আজ কেউ ঢুকেছে। যে কারণে বাদুড়গুলো বাইরে বেরিয়ে পড়েছে। ওই কক্ষের সঙ্গে এ মন্দিরের কি কোনও গোপন সম্পর্ক আছে? এ কথা ভাবতে ভাবতে নীচে নেমে পড়ল সে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে এল তারা। সকলে মিলে মন্দির তোরণের একপাশের ছাওয়াতে খিচুড়ি রান্না করে, খাওয়া সেরে যে যার ঘরে বিশ্রাম নিতে চলে গেল। কারণ, বাইরে থাকার উপায় নেই। উন্মুক্ত চত্বরে গনগনে রোদে পাথরের চত্বরটা তেতে উঠেছে। ঘরে ঢুকে স্বাগত ভেবে নিল যে আজ বিকেলে যাবে সেই জায়গাতে যেখানে খামের মেয়েটা আসে। স্বাগত বিছানায় শুয়ে ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল ঠিকই, কিন্তু তার ঘুম এল না। নানা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল। মন্দিরের অলিন্দে দেখা ওই ছোট ছোট পায়ের ছাপ কোথা থেকে এল? সে-ই কি মজুরকে ধাক্কা মেরেছিল? প্রীতম কি সত্যিই গত রাতে অন্য কোনও লোককে মন্দিরে ঢুকতে দেখেছে? কে সে? নারেঙ খামের মন্দিরে ঢোকার সরকারি ছাড়পত্র আদায়ের ব্যাপারে কোনও অভিসন্ধি নেই তো? এ সব কথা ভাবতে ভাবতে একসময় বিকেল হয়ে গেল।

বিকেলবেলা রোদের তেজ একটু কমতেই স্বাগত ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে পড়ল। চত্বরের গায়ে অন্য ঘরগুলোর দরজা সব বন্ধ। সম্ভবত সবাই ঘুমচ্ছে। স্বাগত চত্বর ত্যাগ করে রওনা হয়ে গেল নির্দিষ্ট জায়গার দিকে। মাথার উপর গাছ-পালার ডালের চাঁদোয়া থাকায় জঙ্গলের পথটা সবসময়ই শীতল থাকে। স্বাগত সে পথে হাঁটতে হাঁটতে বেশ আরাম অনুভব করল। তবে সে জায়গার কাছাকাছি পৌঁছেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়তে হল তাকে। সে দেখল নারেঙ আর

নানা প্রশ্ন স্বাগতর মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল। মন্দিরের অলিন্দে দেখা ওই ছোট ছোট পায়ের ছাপ কোথা থেকে এল? সে-ই কি মজুরকে ধাক্কা মেরেছিল? প্রীতম কি সত্যিই গত রাতে অন্য কোনও লোককে মন্দিরে ঢুকতে দেখেছে? কে সে?

গাইড ফঙ দাঁড়িয়ে আছে সেই পাথর খোদিত নারী মূর্তির সামনে। নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছে তারা। এরপর নারেঙও দেখতে পেয়ে গেল তাকে। অগত্যা স্বাগতও এগল সেদিকে। সে তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই নারেঙ হেসে বলল, ‘গুড ইভিনিং।’

তারপর সে মূর্তিটা দেখিয়ে বলল, ‘এটা দেখেছেন? কী সুন্দর তাই না? এমন কত মূর্তি যে এই মন্দির নগরীর আনাচে-কানাচে অবহেলা, অনাদরে পড়ে আছে কে জানে।’

স্বাগত তার কথার জবাব দেওয়ার আগেই ফঙ বলল, ‘উনি দেখেছেন। উনি তো প্রায়ই আসেন এ জায়গায়।’

নারেঙ বলল, ‘তাই নাকি?’