মৃত কৈটভ ১.৩
(৩)
গ্রামটা এমনিতেই অন্ধকারে ডুবে থাকে। তার উপর অমাবস্যার রাত হলে তো আর কথাই নেই। চারদিকে জনপ্রাণী বিশেষ কেউ থাকে না। এই গ্রামে আলাদাভাবে নজরদারি করার কেউ নিযুক্ত নেই। আর যদি থেকেও থাকে এই ক্রিয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কেউ কিছু বুঝতেই পারবে না।
গ্রামবাসীরা একে একে নিজের কুড়ে ঘড় ছেড়ে বেরিয়ে আসতে লাগল। রাত তখন তিনটে। গ্রামের ঠিক মাঝখানের অংশটায় একটা অগ্নিকুণ্ড জ্বলছে। অগ্নিকুণ্ডের সামনে আসনে বসে আসেন এই গ্রামের হামন্তাই। হামন্তাই শব্দের অর্থ যিনি পুজো করবেন। শুভ্র সাদা বসনে তিনি যজ্ঞ কুণ্ডের আগুনে ঘৃতাহুতি দিচ্ছেন। ঠিক সামনেই রয়েছে এই গ্রামের আরাধ্য দেবতার মন্দির।
একে একে গ্রামবাসী এসে জড় হতে শুরু করল। একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ওরা এবার সমগ্র পূজা পদ্ধতির প্রয়োগ দেখবেন।
হামন্তাই তার সামনে পোঁতা বিভিন্ন গাছের ডালের পুজো শুরু করেছেন। দু-জন সহকারী রয়েছে হামন্তাইয়ের পাশে। সে মাঝে মাঝে শিঙার মতো দেখতে একটা বাদ্যযন্ত্রে ফুঁ দিচ্ছে। ফলে তা থেকে জোরালো শব্দ বেরুচ্ছে। অপর সহকারী একইরকম দেখতে আরেকটি যন্ত্রে ফুঁ দিচ্ছে, তা থেকে আগুনের শিখা বেরুচ্ছে।
এর মাঝেই হামন্তাই তার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার গাছেদের পূজার্চনা করছে। পূজোপকরণে রয়েছে ঘি, মধু, দুধ, ফল, বনজ ফুল এবং বিভিন্ন প্রকার গাছের ডাল।
কিছু সময় পর গ্রামের অন্য প্রান্ত থেকে কিছু মানুষ এসে উপস্থিত হল। তাদের বেশভূষা সৈনিকদের মতো। ওদের হাতে রয়েছে অস্ত্র শস্ত্র। কারো হাতে কুঠার, কারো হাতে তীর ধনুক, কারো হাতে ধারালো অস্ত্রাদি। ওরা জঙ্গলের দিকে মুখে করে এবং অস্ত্র তাগ করে দাঁড়িয়ে রইল।
ওদের উদ্দেশ্য ঠিক কী, কাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে ওরা উপস্থিত তা বোঝা গেল না। ওরা আসতেই গ্রামবাসীরা কয়েক কদম পিছিয়ে গেল।
সকলের নজর তখন হেমন্তাই-এর উপর। তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করলেন। তিনি যখন ফিরে এলেন তখন তার হাতে একটা ছোট ঝুড়ি। ঝুড়ির মুখ বন্ধ। সহকারিরা ততক্ষণে তড়িদগতিতে শিঙায় ফুঁ দিচ্ছে। অগ্নি এবং শব্দ তেজিয়ান হচ্ছে। যজ্ঞের আগুনের লেলিহান শিখা ততক্ষণে প্রায় দশ ফুট উপরে উঠে গেছে।
শীতের রাতেও হেমন্তাই সহ সকলে দরদর করে ঘামছেন। সিপাহীরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ চোখ রেখেছেন জঙ্গলের দিকে।
ঠিক এমনই এক সময়ে হামন্তাই ঝুড়ির ঢাকনা খুলে দিলেন এবং অগ্নিকুণ্ডে ঝড় ঝড় করে কিছু একটা পড়ল। পটপট শব্দ হতে লাগল অগ্নিকুণ্ড থেকে। অগ্নিশিখা আরও বড় আকার নিল। রুক্ষ্ম দৃষ্টি নিয়ে হামন্তাই তাকিয়ে রইলেন শিখার দিকে।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যে একটা তীব্র ঝাঁঝাল গন্ধে চারদিক ভরে উঠল। সমস্ত গ্রামবাসী নিজের নাক চেপে ধরল। সৈনিকেরা তাদের শিরস্ত্রানের সঙ্গেই একটি কাপড় বেঁধে এনেছিলেন। সেটা দিয়েই নাক ঢেকে নিলেন। এরপর শুধু অপেক্ষা করতে লাগলেন সবাই।
কীসের অপেক্ষা কেন অপেক্ষা বোঝা গেল না। হেমন্তাই মন্দির কক্ষের বাইরে একটা পাথরের তৈরি উঁচু আসনের উপর বসলেন। তার সহকারিরা আগের মতোই শিঙায় ফুঁ দিতে থাকল।
এভাবে কেটে গেল প্রায় আধ ঘণ্টা সময়। আগুনের রেখা ধীরে ধীরে নীচে আসছে। গন্ধও প্রায় সহ্য হয়ে এসেছে সবার। তবুও কেউ মুখে থেকে কাপড় সরায়নি। অমাবস্যার নিশুতি রাতকে কেন্দ্র করে এই অনুষ্ঠানের উপাচার এক অন্য মাত্রা যোগ করছে।
গ্রামের বাচ্চাদের ঝিমুনি আসছে। কিন্তু তাদেরকে মাতা পিতারা কাছ ছাড়া করছে না। সবাই অপেক্ষা করছে এক ভয়ংকর মুহূর্তের। এই মুহূর্ত কেটে গেলে আবার অনেক দিনের শান্তি।
আগুনের শিখার তেজ কমে আসায় হেমন্তাই তাঁর জায়গা থেকে উঠলেন। কাঠের বড় হাতা দিয়ে ঘি ঢাললেন আগুনে। পোড়া কাঠগুলো আবার ঘিয়ের ছোঁয়া পেয়ে জ্বলে উঠল। সহকারীরা তাতে নতুন জ্বালানি কাঠ দিলে সে আগুন আবার তেজ ফিরে পেলো।
আর ঠিক তখনই জঙ্গল কাঁপিয়ে শব্দটা হল।
শব্দটা হতেই গ্রামবাসীরা ভয়ে আরও কয়েক কদম পিছিয়ে গেল। চোখ বড় বড় হয়ে গেল অভিজ্ঞ বর্ষীয়ান গ্রামবাসীদের। তারা জানে আগামী কয়েক মুহূর্ত তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। শব্দটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। একদল মানুষ যেন গোঙাচ্ছে। খুব জোরে এই গোঙানি, কিন্তু আর্তনাদ নয়। ক্ষিদে পেলে যেরকমভাবে কোনো জানোয়ার সেই ক্ষিদে প্রকাশ করে, লড়াই শেষে যেভাবে যুদ্ধ জয়ী খুশিতে চিৎকার করে উঠে সেরকম মিশ্র এই গোঙানি।
যেন কোনো বোবা জানোয়ার এই প্রথম একসঙ্গে অনেক শিকার দেখতে পেয়েছে। যত মুহূর্ত এগল, তত এই শব্দ বাড়তে থাকল।
সিপাহীরা ততক্ষণে তীর ধনুক থেকে শুরু করে বর্ষা, তলোয়ার যার কাছে যে অস্ত্র আছে তা উঁচিয়ে ধরেছে।
হেমন্তাই মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করে তাদের দেবতার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়েছেন।
সহকারীদ্বয় শিঙা রেখে দু’টো তলোয়ার নিয়ে মন্দির দ্বারের কাছে পাহারায় ব্যস্ত। আর যাই হোক, নিরস্ত্র হেমন্তাই-কে বাঁচাতেই হবে। তার কিছু হয়ে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। গ্রামে পুজো বিধি আর কেউ জানে না।
হেমন্তাই এই পুজো শেষে পুজো বিধি কাউকে শিখিয়ে তারপর চিরতরে বিশ্রামে যাবেন। পুরো জীবনে এই পুজো একজন একবারেই করতে পারে। আর পুজো শেষের আগে এই বিধি কাউকে শেখানো যাবে না। যদি তা করা হয়, তবে এই পুজোর গুণ নষ্ট হবে অভীষ্ট কখনোই পূর্ণ হবে না।
এদিকে শব্দ বাড়তে বাড়তে চরমে পৌঁছেছে। যে কোনো সময় দেখা যাবে এই তীব্র গোঙানির উৎস। আর বেশি অপেক্ষা করতে হল না।
উপস্থিত হল শব্দের উৎসরা। একজন দু-জন নয়। বারোজন উৎস, বারোজন মানুষ। আদৌ মানুষ ওরা!
জঙ্গলের এক কোণায় এসে জমা হয়েছে ওই প্রাণীগুলো। দেখতে অবিকল মানুষের মতো। দুটো হাত, দুটো পা, দুটো চোখ ইত্যাদি। শুধু ভাবখানা পশুর মতো। পরনে এক খণ্ড কাপর, সাদা রঙের। সাদা আলখাল্লাটাকে এরকমভাবে পরেছে ওরা যেন ডান হাতটা উন্মুক্ত থাকে।
চোখ মুখে ওদের জান্তব অভিব্যক্তি। প্রত্যেকে প্রায় পশুর মতো তাকিয়ে আছে সমস্ত গ্রামবাসীর দিকে।
সিপাহীরা সবাই ততক্ষণে ওদের সামনে গিয়ে হাজির হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে ওরা মানুষের রক্ত পান করতে ইচ্ছুক। সিপাহীরা সে কাজে বাঁধা দিতে গেছে দেখে ওরা গোঙানি বাড়িয়ে দিল। লাল বিস্ফারিত চোখ থেকে যেন রক্তের মতো জল গড়াচ্ছে।
হাত-পাগুলো সাদা সাদা ছোপ ছোপে ভর্তি। ওদের মস্তক সম্পূর্ণ মুণ্ডিত। বীভৎস লাগছে ওদের দেখতে। শরীর মুচরে ওরা এগিয়ে আসছে সামনে।
হেমন্তাই মন্দিরের ভিতর থেকে চিৎকার করে উঠলেন, “নিধন।” সিপাহীরা যেন এই নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন। আর এক মুহূর্ত দেরি না করে হই হই চিৎকার করে ওরা এগিয়ে গেল ওই মনুষ্যরূপী শয়তানগুলোর দিকে।
বারোজনের চারজন তীরে বিদ্ধ হল। তীরগুলো লাগল মাথার ঠিক মাঝখানে। লুটিয়ে পড়ল চারজন। বাকি আটজনের গায়ে তীর লাগল, মাথায় লাগল না। ওদের কিছুই হল না সেরকম। শুধু যন্ত্রণায় তীব্রভাবে চিৎকার করে সামনে যে সিপাহীদের পেল তাদের আক্রমণ করল ওরা।
তলোয়ার দিয়ে দু-জন সিপাহীর মাথা কেটে ফেলল বটে, কিন্তু তৃতীয়জনের মাথা কাটার আগেই তার গলায় কামড় বসিয়ে দিল একটা জানোয়ার।
এক সিপাহীর বর্ষা কেড়ে নিয়ে তার বুকেই ঢুকিয়ে দিল অন্য এক মনুষ্যবেশী জানোয়ার। তারপর মাটিতে বসে তার ঘাড়ে কামড় বসাল সে। এরই মধ্যে অন্য একজন সিপাহী এসে তার মাথা বরাবর ঢুকিয়ে দিল একটা বর্ষা। সে বর্ষা শয়তানের মুণ্ডিত মস্তক ভেদ করে পৌঁছালো নীচে কামড়ে ধরা সিপাহীর চোখে। চিৎকার করে উঠল দু-জনেই। মানুষ সিপাহীর মৃত্যু ঘটল তৎক্ষনাৎ।
জানোয়ারটা কাতড়াতে কাতড়াতে ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকল চার সিপাহী আর এক শয়তান। অন্য এক সিপাহী বেঁচে ছিল কিন্তু ঘাড়ে অসহ্য কামড় নিয়ে মাটিতে পড়ে রইল।
যে শয়তানটা বেঁচে গেল সে জঙ্গলের সীমা টপকে গ্রামের সীমায় প্রবেশ করল। চারজন সিপাহী দৌড়ে এসেও তাকে ধরতে পারল না। গ্রামবাসী ভয়ে অনেকটা পিছিয়ে গেল। হেমন্তাই চিৎকার করে বললেন, “কেউ হুলস্থুল করবেন না। সব মরেছে, এটাও মরবে।”
শয়তানটা ঠিক মন্দিরের সামনে এসে থামল। হেমন্তাই উঠে দাঁড়ালেন। মন্দিরের পাহারায় থাকা দুই সহকারি তলোয়ার উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
শয়তান এবার স্থির হল। চারদিকে তাকাল সে। যারা জীবনে প্রথম এই দৃশ্য দেখছে তারা দেখল এ মধ্যবয়সী এক মনুষ্যই বটে। তবে এর আচরণ আর বোধবুদ্ধি অন্য মানুষের মতো নয়। এ যেন এক যন্ত্রমানব। এর নিয়ন্ত্রক আর সেই মস্তিষ্ক নয় যে মস্তিষ্ক নিয়ে সে জন্মেছিল। এর নিয়ন্ত্রক এখন অন্য কেউ। তাই এই সম্পূর্ণ মানুষটা পালটে পরিণত হয়েছে শয়তানে। এর চোখে মণি সাদা, এর শরীর হাড়গোড় প্রায় সমস্তই ভাঙা। তবুও এ দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টিশক্তিহীন হয়েও এ সমস্ত দেখছে। এর গায়ের জোর এতক্ষণ সবাই দেখেছে।
বাকি শয়তানদের থেকে এ অনেক বেশি সুচতুর। প্রায় সমস্ত সিপাহীর মৃত্যুর কারণ এই শয়তানটাই। সবাইকে শেষ করে এ এখন হেমন্তাইকে মারার কথা ভাবছে। তাতে আগামীদিনে আর কেউ তাদের উপর নিয়ন্ত্রণের কথা চিন্তাও করতে পারবে না।
ক্রিয়া চলাকালীন হেমন্তাইয়ের মৃত্যু মানে এই শয়তানদের অমর হয়ে যাওয়া।
শয়তানটা ইলাস্টিকের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে চারদিক দেখে নিল। সিপাহীরা একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তার দিকে এগিয়ে আসছে। সবার হাতেই তলোয়ার। তীর ধনুক বা বর্ষাধারী সকলেরই মৃত্যু ঘটেছে। এখনও সবাই নাকে মুখে কাপড় দিয়ে রেখেছে। গ্রামবাসীরাও সারা মুখে কাপড় জড়িয়ে রেখেছেন।
গ্রামবাসীদের দিকে চেয়ে-থাকা অবস্থাতে ঠিক উলটোদিকে যেখানে মন্দিরের ভিতর হেমন্তাই আছে সেদিকে লাফ দিল শয়তানটা। সহকারীদ্বয় বুঝতেও পারল না। কারণ ওরা ভাবছিল শয়তানটা গ্রামবাসীদের দিকে তাকিয়ে আছে। রবারের মতো উলটোদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে যে তাদের আক্রমণ করবে তা ওরা মুহূর্তের অসতর্কতায় ধরতে পারেনি। তারই খেসারত দিতে হল একজনকে।
মুহূর্তের মধ্যে একজনের তলোয়ার ছিনিয়ে নিয়ে তা ঢুকিয়ে দিল অন্যজনের গলা বরাবর। কণ্ঠনালী দুই ভাগ হয়ে যাওয়ায় চিৎকার অব্দি করতে পারল না সে। মন্দির প্রাঙ্গণে পড়ে কাতরাতে লাগল। অসহনীয় দৃশ্য!
অন্যজন নিরস্ত্র অবস্থায় ছিল। সিপাহীরা ছুটল তাকে বাঁচাতে। ওদিকে হেমন্তাই তখন একা মন্দিরের ভিতরে। দ্রুততার সঙ্গে তিনি মন্দিরের লোহার দরজাটা লাগানোর চেষ্টা করলেন। এখন বীরত্ব দেখানোটা মূর্খামি হবে সেটা তিনি জানেন। কোনো কারণে তিনি আহত হলে, সমস্ত কিছু বিনষ্ট হয়ে যাবে। শয়তানটা সেদিকেই ধেয়ে গেল।
দ্বিতীয় সহকারী কোনো উপায়ান্তর না দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও জড়িয়ে ধরল শয়তানটাকে। গ্রামবাসীদের অনেকে চিৎকার করে উঠল, “ধরো না ওকে, ধরো না ওকে।” কিন্তু হেমন্তাইকে বাঁচাতে হলে শয়তানকে আটকানো জরুরি ছিল। ততক্ষণে সিপাহীরা চলে এল। শয়তান ঘাড় ঘুরিয়ে প্রথমেই সহকারীর মাথায় তলোয়ার দিয়ে আঘাত করল। সে তার শেষ কার্যটি সুষ্ঠুভাবে সমাধা করে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। আঘাতে মৃত্যু হল তার। ততক্ষণে সিপাহীরা আর কাল বিলম্ব না করে শয়তানের মাথায় আঘাত করল। পরপর চারটে তলোয়ার কোপ এসে পড়ল মাথায়। মস্তক চারভাগ হয়ে তরমুজের মতো ছড়িয়ে পড়ল। সগর্বে চিৎকার করে উঠল সিপাহীরা। গ্রামবাসীরাও উল্লাসে ফেটে পড়ল। স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন হেমন্তাই। কিন্তু খুশির দমকে গা ভাসালেন না। মন্দিরের লোহার দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে এলেন তিনি। প্রাঙ্গণে পড়ে-থাকা রক্তাক্ত একটা তলোয়ার তুলে নিলেন।
একবার তাকালেন মাটিতে পড়ে থাকা শয়তানটার দিকে। সাদা পোশাকের উপর টাটকা রক্তের দাগ মিশে গিয়ে অদ্ভুত দেখাচ্ছে মৃতদেহটা। অগ্নিকুণ্ডের আলো পিছলে পড়ছে সেই রঙে। তলোয়ার হাতে চারদিকে তাকালেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে সমস্ত মৃতদেহ।
গ্রামবাসীদের চোখে এখন খুশির ঝলক। তাদের উদ্দেশ্যে হেমন্তাই বললেন, “বিজয়ম।”
ব্যস, আর দেখতে হল না। পুরো গ্রাম একত্রে হুল্লোর করে উঠল। গর্জন উঠল গ্রামে।
“বিজয়ম, বিজয়ম, বিজয়ম।”
সবাই গর্জে ওঠার পর হাত দেখিয়ে থামতে বললেন হেমন্তাই। তারপর ধীরে ধীরে হেঁটে হেঁটে সমস্ত মৃতদেহের সামনে গেলেন তিনি। প্রত্যেকটা মৃতদেহ পরখ করে দেখবেন এখন। পরখ করতেই করতেই বললেন, “কেউ মুখ থেকে কাপড় সরাবেন না। শয়তানগুলো মরেছে, জীবাণু মরেনি। ডোমদের ডাকুন আর যারা পরিষ্কার করবেন জায়গাগুলো তারাও এগিয়ে আসুন। আপনাদের জন্য বরাদ্দ পোশাক পরিধান করে এগিয়ে আসুন।”
কথা বলছেন আর একটা একটা করে মৃতদেহ উলটে পালটে দেখে অপরটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
পিছন পিছন সিপাহীরাও যাচ্ছে তাঁর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে। হেমন্তাই বললেন, “সিপাহীরা, তোমরা হচ্ছ এই যুদ্ধে সবচেয়ে সাহসী যোদ্ধা। তোমরা আছো বলেই আমরা আছি। কিন্তু এই যুদ্ধের শেষে আমাকেও কিছু অপ্রীতিকর কাজ করতে হয়। তোমরা যারা বেঁচে আছো তারা একটু নিজের শরীর পরীক্ষা করো। কোথাও কোনো কাটা বা ক্ষত আছে কি? থাকলে আমাকে জানাও, আমাকে দেখাও। তলোয়ারের ক্ষত হলে কিছু হবে না, শয়তানগুলোর দাঁত বা নখের আঁচড়ের ক্ষত থাকলে আমাকে দেখাও। শুশ্রূষা করে দিচ্ছি।” সিপাহীরা প্রত্যেকেই একবার করে নিজের সর্বাঙ্গ দেখে নিল।
তারপর জানাল, “না হেমন্তাই। আমাদের গায়ে জানোয়ারগুলোর দাঁত বা নখের কোনো ক্ষত নেই। যে ক্ষতগুলো আছে সেগুলো যুদ্ধকালীন তলোয়ার বা বর্ষা লাগার ক্ষত। সেগুলো আমাদের নিজেদের অস্ত্রের দ্বারা হয়েছে।”
হেমন্তাই নিশ্চিন্ত হলেন। কিন্তু তখনই কিছু দূরে শুয়ে থাকা এক সিপাহী, যাকে একটা শয়তান কামড়ে দিয়েছিল সে অনেক কষ্টে কথা বলল, “হেমন্তাই, আমার শুশ্রূষা করুন। আমাকে কামড়েছে ওরা।”
হেমন্তাই সজাগ হলেন। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলেন তার দিকে। বাকিরাও এগিয়ে গেল। সত্যিই খুব বাজেভাবে কামড়ে দিয়েছে ওই শয়তানগুলো ওকে। গল গল করে রক্ত বেরুচ্ছে ক্ষতস্থান দিয়ে। হেমন্তাই তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “শরীরে কীরকম অনুভূতি হচ্ছে তোমার?”
সেই সিপাহী তার বুজে আসা গলায় বলল, “মাথাটা ঘুরছে। মনে হচ্ছে রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছে আমার।”
“হুম! তোমার ওষুধের প্রয়োজন। তুমি কি উঠতে পারবে নিজে থেকে নাকি কেউ ধরলে সুবিধে হবে!”
“চেষ্টা করছি হেমন্তাই, একা উঠতে চেষ্টা করছি।”
“হ্যাঁ, আসলে তুমি ওদের সংস্পর্শে এসেছো তো, তাই তোমাকে এই মুহূর্তে ছোঁয়াটা উচিত হবে না।”
হেমন্তাই কথা শেষ করে অপেক্ষা করতে লাগল। সিপাহী অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়ালো। তার কাঁধ অনেকটি বেঁকে গেছে। তার যে কষ্ট হচ্ছে উঠে দাঁড়াতে তা বোঝা যাচ্ছিল। ঘাড়ের অনেকটা অংশ জুড়ে দাঁতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “চলুন হেমন্তাই।”
হেমন্তাই গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে ফিরে তাকালেন। তারপর বললেন, “সবাই শুনুন। যদি কখনো কোনো শয়তান দুর্ভাগ্যবশত আপনাকে কামড়ে দেয় বা তাদের রক্ত আপনাদের কারো রক্তে মিশে যায় তবে তৎক্ষনাৎ বাকিরা তাকে এই শুশ্রূষাটা দেবেন যেটা আমি এখন আমাদের এই বীর সিপাহীকে দেবো। মনে রাখবেন এটাই একমাত্র শুশ্রূষা। এর বাইরে আর কোনো ওষুধ কাজ করবে না।”
গ্রামবাসীরা এক বাক্যে বলে উঠল, “ঠিক আছে হেমন্তাই।” ক্ষত চিহ্ন নিয়ে সিপাহীটি পাশে দাঁড়িয়ে শুনছিল এসব।
জীবনে প্রথমবার তাকে দেখিয়ে কেউ কিছু নির্দেশ দিচ্ছে দেখে গর্বে তার বুকটা বড় হচ্ছিল। ব্যথা সহ্য করে সে সোজা হয়ে দাঁড়াবার চেষ্টা করছিল হাসি হাসি মুখ করে।
কিন্তু হাসিটা ঠিক মতো ঠোঁটে আনার আগেই হেমন্তাইয়ের ধারালো তলোয়ারের আঘাতে তার মাথাটা ধর থেকে ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। ধর ধীরে ধীরে হাঁটু ভেঙে শুয়ে পড়ল মাটিতে।
এক ঝটকায় সম্পূর্ণ গ্রাম আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কারো মুখে কোনো শব্দ নেই, সামান্য আবেগটুকুও আসার অবকাশ মিলল না। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেল এই বিপর্যয়, তাও খোদ হেমন্তাইয়ের হাতে। হেমন্তাই তলোয়ারটা রেখে দিলেন মাটিতে। তারপর বললেন, “তাহলে বোঝা গেল শুশ্রূষা! শয়তানের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত যেকোনো মানুষের একটাই শুশ্রূষা, তাকে যথা শীঘ্র মস্তক ছেদন করে হত্যা করো। না হলে সেও একটা শয়তানে পরিণত হবে। আর এই পরিবর্তন খুব তাড়াতাড়ি হয়। এই জীবাণু একবার কারো রক্তে প্রবেশ করলে সেই ব্যক্তিকে আমরা মৃত বলে ধরে নেবো। তখন তাকে মারতে আমাদের আর হাত কাঁপবে না। আর যদি আমরা তা না করতে পারি, এই গ্রাম হোক বা এই শহর বা এই মানবসভ্যতা —কোনোটাই শেষ হতে বেশি দেরি লাগবে না। আমি কি তোমাদের বোঝাতে পেরেছি।”
হেমন্তাই কথা শেষ করার পরেও গ্রামবাসী আগের মতো উচ্ছ্বাস আর দেখাতে পারল না। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রত্যেকের মনই উদ্বেল হয়ে পড়েছে। আবেগশূন্য দৃষ্টি নিয়ে শুধু মাথা নাড়ছে সবাই। হেমন্তাই ব্যাপারটা ধরতে পেরে এবার গর্জন করে উঠলেন, “এবার সম্পূর্ণ বিজয়ম।”
এবার সকলের সম্বিত ফিরল। সকলে তারস্বরে গর্জন করলেন, “বিজয়ম। বিজয়ম। বিজয়ম।”
হেমন্তাই মন্দিরে ফিরে গেলেন। পরবর্তী দু-ঘণ্টায় ডোমেরা প্লাস্টিকের পোশাকে এসে দাহ কার্য শুরু করল।
গ্রাম পরিষ্কারের দায়িত্ব যাদের হাতে তারা প্লাস্টিকের পোশাক এবং মুখোশ পরে গ্রাম পরিষ্কার শুরু করলেন। ততক্ষণে প্রায় ভোর হয়ে এল।
যখন শ্মশানে প্রায় সমস্ত চিতা জ্বলে উঠল হেমন্তাই পুনরায় গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বললেন, “এবারে সময় উপস্থিত। ওদের নিয়ে আসুন।”
শ্মশানক্ষেত্র খুব দূরে নয়। গ্রামেরই এক অংশে এই শ্মশান। এতগুলো মৃতদেহ চিতায় জ্বলছে। ফলে চারদিকে ধোঁয়া বাড়তে লাগল।
এরই মধ্যে হেমন্তাইয়ের নির্দেশ পালনের প্রস্তুতি শুরু হল। ইতিমধ্যে বারোজন উপজাতি তাদের স্বদেশীয় বেশভূষায় উপস্থিত হল।
কটিদেশে রামধনু রঙের বস্ত্র, উর্ধাঙ্গে উপবীতের মতো পরিহিত এক খণ্ড বস্ত্র, হাতে বাজুবন্ধ, গলায় মালা, মাথায় ময়ূরপঙ্খী টুপি।
হেমন্তাই সবাইকে দেখে নির্দেশ দিল, “আমাদের ভবিষ্যৎ যাদের হাতে, তাদের সসম্মানে এখানে উপস্থিত করো। আজই ওদের আমাদের সঙ্গে শেষ রাত। মায়ার বন্ধন ত্যাগ করে ওদের যেতে হবে। ওদের প্রাপ্য সম্মানে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে। যাও ওদের নিয়ে এসো।”
বারোজন উপজাতি পুরুষ গ্রামের উত্তরদিকে রওনা হল। প্রায় কুড়ি মিনিট হেঁটে যাবার পর একটা আবাসগৃহ চোখে পড়ল।
সেখানে একজন গুরুদেব অপেক্ষায় ছিলেন। মুণ্ডিত মস্তক সেই গুরুদেব বারোজন উপজাতিকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেন।
তারপর বললেন, “আপনারা যাদের নিতে এসেছেন তারা তৈরি। সমস্ত শিক্ষায় ওরা শিক্ষিত ও পারদর্শী। ওদের সসম্মানে নিয়ে যান।”
বারোজন উপজাতির প্রত্যেকের কাছে একটি বাদ্যযন্ত্র ছিল। ছোট একটি ড্রাম ও বাঁশি। ওরা সেগুলো বাজাতে আরম্ভ করলেন। একই সুর একই তালে বাজতে লাগল প্রত্যেকের বাদ্যযন্ত্র।
শব্দ হবার মিনিটখানেকের মধ্যে আবাসন থেকে বেরিয়ে এল বারোজন যুবক।
ওদের হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে যে শয়তানদের কিছুক্ষণ আগে হত্যা করা হল ওরা যেন তারাই।
সেই মুণ্ডিত মস্তক, সেই সাদা আলখাল্লা, একটা নিরাভরণ। শুধু পার্থক্য এই যে ওরা সম্পূর্ণ মানুষ আর শয়তানগুলো ছিল রাক্ষস।
ওদের বরং যুব সাধকদের মতো দেখাচ্ছে।
একেকজন উপজাতির কাছে একেকজন মুণ্ডিত মস্তক যুব সাধক এসে দাঁড়ালেন। আবাসনের গুরুদেব এসে সবাইকে একে একে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
তারপর সবার উদ্দেশ্য বললেন, “শুভ মস্তু।”
একেকজন উপজাতি একেকজন যুব সাধককে সসম্মানে সঙ্গে নিয়ে সারা রাস্তা ড্রাম ও বাঁশি বাজাতে বাজাতে নিয়ে এল।
রাস্তার দু-ধারে গ্রামের মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওরা এই বারোজন যুব সাধকের উপর পুষ্পবৃষ্টি করতে লাগল।
যতক্ষণ তারা রাস্তায় হেঁটে হেমন্তাইয়ের কাছে পৌঁছালেন ততক্ষণ বাজনা ও পুষ্পবৃষ্টি চলতে লাগল।
হেমন্তাই ওদের দেখে খুশি হলেন। প্রাণ ভরে ওদের দেখতে লাগলেন। ওরা এসে হেমন্তাইয়ের সামনে অগ্নিকুণ্ডের কাছে পাতা বারোটি আসনে বসল।
তারপর হেমন্তাই উঠে দাঁড়ালেন। কিছুক্ষণ ধরে বারোজনকে প্রদক্ষিণ করলেন এবং মন্ত্রোচ্চারণ করতে লাগলেন। একসময় মন্ত্রোচ্চারণ শেষ হতে অগ্নিকে ঘৃতাহুতি দিলেন।
আগুন পুনরায় বলবান হয়ে উঠল। লাল শিখা নিয়ে জ্বলতে লাগল আগুন। হেমন্তাই নির্দেশ দিলেন, “ভোজনম।”
এই নির্দেশেরই অপেক্ষায় ছিল যেন সকলে। থরে থরে সাজানো থালা এসে হাজির হতে লাগল যুব সাধকদের সামনে।
বারোজনকে বারোটি থালা দেওয়া হল। একেকটি থালার ব্যসার্ধ যেন পূর্ণিমার চাঁদের থেকেও বড়। কী ব্যঞ্জন নেই সেই থালায়।
নিরামিষ, আমিষ, ফল, মিষ্টান্ন- পৃথিবীর প্রায় সমস্ত খাবার সেখানে উপস্থিত। পরবর্তী এক ঘণ্টা ওদের খাওয়ার সময় নির্ধারিত হল।
যতক্ষণ ওরা খেল ততক্ষণ হেমন্তাই মন্ত্র পড়লেন এবং পুজো দিলেন। দেবতাকে খুশি করতেই এই সমস্ত আয়োজন।
দেবতার গ্রাস ও যুব সাধকদের গ্রাস প্রায় একত্রে সম্পন্ন হল। হেমন্তাই আবার নির্দেশ দিলেন, “মিলনম।”
এবার এই পর্বের সবচেয়ে দুঃখজনক ধাপের শুরু হল। এই বারো যুব সাধকের পরিবারের সকলে এসে একে একে দেখা করতে লাগল এদের সঙ্গে।
প্রত্যেকেই প্রায় ছলছল নয়নে ওদের মাথায় হাত বুলিয়ে এই জীবনের শেষ আবেগপূর্ণ কথাগুলো বললেন।
বারোজন যুব সাধকদেরও দেখা গেল একটু আবেগপ্রবণ হয়ে উঠছেন তারা। হেমন্তাই যখন এটা লক্ষ্য করলেন সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করলেন, “বিয়োগম।”
হেমন্তাই জানেন সামনে কঠিন সংঘর্ষ। তাই যুব সাধকদের দুর্বল হতে দিলে চলবে না। বিয়োগম বলা-মাত্র পরিবারকে নিষ্কাশিত করা হল ওদের সামনে থেকে। এবার মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করলেন হেমন্তাই। বাইরে এসে দেখলেন বারোজন যুব সাধকের সামনে বারোটি হাড়ি এনে রাখা হয়েছে।
তিনি নিজে একটি ঝুড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন মন্দির থেকে। হেমন্তাই প্রত্যেক হাড়ির সামনে গেলেন এবং তাতে মিশিয়ে দিলেন ঝুড়ি থেকে বের করা এক মুঠো পদার্থ।
এটা যে কী বস্তু তা একমাত্র হেমন্তাইয়েরাই জানেন। বারো হাড়িতে বারো মুঠো মিশিয়ে দেবার পর নিজে এগিয়ে গেলেন প্রত্যেকের কাছে এবং সেই হাড়ির জলে প্রত্যেককে স্নান করালেন নিজ হাতে।
এই শীতের সাত-সকালে হাড়ির মিশ্রণে স্নান করে ভিজে একসা হয়ে গেল যুব সাধকেরা।
তবুও ওদের দেখে মনে হল না ঠান্ডায় ওরা কষ্ট পাচ্ছে। এরকম আরও অনেক বিদ্যাই ওদের আবাসনে ওদের গুরুদেব ওদের শিখিয়েছেন।
এর চেয়ে খারাপ অবস্থাতে থাকার বিদ্যেও এদের রপ্ত আছে।
স্নান কর্ম শেষে হেমন্তাই বারোজনকে প্রণাম করলেন, “প্রস্থানম।” গ্রামবাসী সকলে উলুধ্বনি দিয়ে উঠল। বারোজন যুব সাধক পিছনে ফিরেও তাকাল না।
নিজেদের আসন ত্যাগ করে সোজা জঙ্গলের দিকে রওনা দিলেন তারা।
পিছন পিছন অনেকটা দূর অব্দি গ্রামবাসীরা এল, উলুধ্বনির শব্দ শোনা গেল পুরো জঙ্গল জুড়ে।
একসময় জঙ্গলের এক কিলোমিটার অঞ্চল ওরা পেরিয়ে আরও ভিতরে প্রবেশ করল।
ধীরে ধীরে সাদা ভিজে পোশাক পরিহিত যুব সাধকেরা জঙ্গলে হারিয়ে গেলেন। গ্রামবাসীরাও ফিরে এল গ্রামে।
ফিরে এসে দেখল হেমন্তাই নিজের মাথার হেমন্তাই টুপি খুলে ফেলেছেন। তিনি আর হেমন্তাই রইলেন না। নতুন হেমন্তাইয়ের খোঁজ চলবে এবার।
জঙ্গলের দেবতার সামনে প্রণিপাত হয়ে শুয়ে আছেন প্রাক্তন হেমন্তাই।
