Accessibility Tools

মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

ব্রহ্মপদার্থ – ৪

(৪)

নয়ডা দেখতে দেখতে পালটে গেল। এন সি আরের মধ্যে সবচেয়ে ফাস্ট গ্রোইং এলাকা। কী সব বিল্ডিং! কী সব বিল্ডার! ফাঁকা জঙ্গলকে পুরো ঝাঁ চকচকে বানিয়ে দিল। দশ বছরে কয়েক হাজার বিল্ডিং উঠেছে। মল তৈরি হয়েছে অনেকগুলো। তারই একটা মলে মাল্টিপ্লেক্সে বসে রামানুজ শাহরুখ খানের নতুন মুভি ‘ডাংকি’ দেখছিল। ডাংকি-যাত্রা পায় অসম্ভব, অথচ কাজের খোঁজে কত মানুষকে যেতে হয়। এসব নিয়েই যখন সে মগ্ন, তখনই ফোনটা এল।

রামানুজের ভ্রু কুঁচকে গেল। ত্রিবেদী স্যারের ফোন। সে অনিচ্ছা সত্বেও ফোনটা তুলল।

“হ্যালো।”

“কোথায়?”

“ডাংকি দেখছিলাম।”

“ঠিক আছে। শেষ করে হেড কোয়ার্টারে এসো।”

রামানুজ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা কেটে দেয়। এক দণ্ড বিশ্রাম করার উপায় নেই। আবার কোথায় যাত্রা কে জানে! আপাতত সে শাহরুখের সঙ্গে ডাংকি যাত্রাতেই মন দেয়।

হেডকোয়ার্টারের লিফটে ওঠার সময় গার্ড জয়ের সঙ্গে দেখা হল। “রামানুজ স্যার, কতদিন পর? কোথায় ছিলেন?”

“আর বলিস না, এতদিন ত্রিপুরায় ছিলাম। তারপর সব কাজ সেরে ফিরলাম কলকাতা। সেখানেও ডিউটি। এতদিনে দিল্লি ফিরলাম। সেই আবার ডাক এল। এবার কোথায় যাব কে জানে? আবার কবে দেখবি তারও কোনো

ঠিক ঠিকানা নেই।

“আপনাদের এই তো জীবন স্যার। তবে এবার যেখানে যাবেন সেখান থেকে আমার জন্য কিছু একটা নিয়ে আসবেন। আমি তো কখনও যেতে পারব না। আপনার এনে দেওয়া জিনিস দেখেই ভাবব যে আমি সেখানে গিয়েছিলাম।”

রামানুজ একটা হাইফাই দিয়ে তার হাতটা জয়ের কাঁধে রাখে।

“নিশ্চয়ই আনব। ভালো থাকিস।”

রামানুজ লিফটে উঠে গেল। ত্রিবেদী স্যারের অফিস চেম্বারের সামনে গিয়ে নক করল।

“রামানুজ এসো।”

রামানুজ চেম্বারে ঢুকে পড়ল। ত্রিবেদী স্যার চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন। মুখে হাসি।

“কেমন কাটল ত্রিপুরা টুর?”

“আবার জিজ্ঞেস করছেন। মে আই?”

“প্লিজ সিট। কী বলেছিলাম, শহরটার প্রেমে পড়ে গেলে তো।”

“প্রেম খুব মারাত্মক। আর একটু হলে মেরে ফেলেছিল।”

ত্রিবেদী স্যার হো হো করে হেসে উঠলেন। তারপর বললেন, “কলকাতায় ছুটি কেমন কাটালে?”

“স্যার ওটাকে আপনি ছুটি বলছেন? ত্রিপুরায় সমস্ত কাজ সেরে মাসখানেকের জন্য কলকাতা এলাম। তারপর সেই আপনি আবার ডিউটিতে পাঠিয়ে দিলেন। ছয় মাস সুন্দরবনে ছিলাম।”

“নিজের রাজ্যে থাকা মানেই ছুটি কাটানো।”

“তা তো বলবেনই। তা এবার আমাকে কোথায় পাঠাবেন ছুটিতে? আমার টুরিজম তো আপনিই ঠিক করেন।”

দুজনেই এবার হাসিতে ফেটে পড়ল।

“তবে এবার সিরিয়াস কেস কিন্তু। তোমার ডিপার্টমেন্টের কেস নয় মনে হচ্ছে। তবু তোমাকে যেতে হবে। সঙ্গে অন্য কেউ থাকলেও তোমাকে থাকতে হবে টিমের সঙ্গে।”

রামানুজ এবার সিরিয়াস হল। জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে স্যার?”

ত্রিবেদী স্যার বললেন, “তোমার ফোন নম্বর তো বাছাই কয়েকজন ছাড়া কারও কাছে থাকে না। ত্রিপুরার জঙ্গলের গুরুদেবকে মনে আছে?”

“হ্যাঁ। কেন থাকবে না?”

“তিনি অনেক চেষ্টা করে তোমাকে না পেয়ে আমাদের ডিপার্টমেন্টে ফোন করেছিলেন। সেটা আমার কাছে ফরোয়ার্ড করা হয়। তিনি আমায় শুধু বললেন, রামানুজ কোথায়? পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ঘোর বিপদ আসতে চলেছে।”

আমি জিজ্ঞেস করলাম যে, “আমায় বলুন কী বিপদ। রামানুজ তো ফরেস্ট অফিসার। ওকে এই কেসে দেওয়া যাবে না।”

কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা। বললেন, “রামানুজ না থাকলে এদের আটকানো যাবে না।”

“আমি তখন মনে মনে ভাবলাম যে, এই কেসটা এমনিতেও স্পেশাল কেস। তাই এটাকে আলাদাভাবে দেখা যেতেই পারে। অ্যাপ্রুভ্যাল লাগবে কিন্তু সেটার ব্যবস্থা আমি করে দেব। আর এমনিতেও গতবার যে বীভৎস কাণ্ড ঘটেছিল তা অফ রেকর্ডে আছে। মানুষ জানলে প্যানিক অবস্থার সৃষ্টি হত। তাই এরকমই যখন অবস্থা তোমাকে অ্যালট করতে আপত্তি নেই। ওখানে গিয়ে আমায় রিপোর্ট কোরো।”

ত্রিবেদী স্যার থামলেন। রামানুজ চিন্তিত মুখে বসে রইল।

“কী ভাবছ?”

“আমি ত্রিপুরা থেকে ফেরার আগে গুরুদেব বলেছিলেন ঠিকই, খুব

গুরুতর দরকার পড়লে তোমার কথাই মনে করব। ভাবছি এই এক বছরের মধ্যে কী ঘটল। সেই বারোজন জম্বিকেও পাওয়া যায়নি। আবার কী হল কে জানে! এদিকে বলছে জগন্নাথ মন্দির। কিছুই বুঝতে পারছি না।”

বেয়ারা কফি নিয়ে ঢুকল।

“এসো কফি খাও। এরপর তাড়াতাড়ি একটা ফ্লাইট নাও, ত্রিপুরার জঙ্গলে যাও। সব বুঝে যাবে।”

রামানুজ আরও কিছু জরুরি আলোচনা করে কফি খেয়ে ত্রিবেদী স্যারকে স্যালুট করে বেরিয়ে গেল।

পরের দু-দিনের মধ্যে নয়ডার সমস্ত কাজ সেরে এয়ারপোর্ট।

ত্রিপুরায় জানুয়ারিতে ভালো ঠান্ডা পড়ে। গতবারের অভিজ্ঞতায় রামানুজ ভালোই জানে। আগরতলা এয়ারপোর্টে নামতেই ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপটা মারল। আর তখনই দাসবাবুর ফোনটা এল।

“স্যার আমি বাইরেই আছি।”

“এইমাত্র নামলাম। লাগেজ নিয়ে বেরোচ্ছি কিছুক্ষণের মধ্যে।”

“স্যার আপনি বেরিয়ে পড়ুন। লাগেজ ওরা পাঠিয়ে দেবে গাড়িতে।”

“ঠিক আছে।”

এয়ারপোর্টটা এই এক বছরে আরও সাজানো হয়েছে। মন ভরে যায় এই এয়ারপোর্টে এলে।

বাইরে আসা মাত্র রামানুজ দাসবাবুকে দেখতে পেল। ফুলের তোড়াটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, “ওয়েলকাম এগেইন।”

“এবারের যাত্রায় কী আছে কে জানে? চলো চলো। ভালো ঠান্ডা এদিকে। আছো কেমন?”

“ভালো আছি স্যার। আপনি এসে গেছেন। ভেতর থেকে এনার্জি পাচ্ছি একটা।”

“এসে গেছি। আরও এনার্জি পাওয়ার ব্যবস্থা করব। ডোন্ট ওরি।”

গাড়িতে বসার কয়েক মিনিটের মাথাতেই লাগেজ চলে এল। গাড়ি গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিল।

সন্ধেবেলা। তাতে কী, ইতিমধ্যেই কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে।

“দেখে চালিও। এই কুয়াশায় পাহাড়ি পথে দুর্ঘটনা ঘটে বেশি।”

“স্যার এই রাস্তা ত্রিপুরার ইতিহাসের মতোই চিনি। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।”

অমিতবাবুর গলা শুনে ভারি খুশি হল রামানুজ।

“তুমি যে এসেছ বুঝতেই পারিনি। পেছনে বসে আছি তো, দেখিওনি ভালো করে।”

“আপনি কথা বলছিলেন, তাই বিরক্ত করিনি।”

“বেশ বেশ। পুরোনো টিম একত্র হচ্ছে। ভালো কথা, দাসবাবু এবারের ব্রিফটা দিন।”

দাসবাবু মাথা চুলকে বললেন, “এবারে কোনো ব্রিফ নেই স্যার। একমাত্র গুরুদেব বলতে পারবেন কেন তিনি আপনাকে ডেকেছেন আর কীসের উদ্দেশ্যে ডেকেছেন।”

গাড়ি ক্রমশ ঘন কুয়াশায় হারিয়ে গেল। লম্বা জার্নি। একেবারে গ্রামে গিয়ে থামবে।

গাড়ি যখন গ্রামে ঢুকল তখন চারদিক শুনশান। কুয়াশার চাদর সম্পূর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলটাকে ঢেকে রেখেছে। গাড়ির হেডলাইটের সাহায্যে কোনোক্রমে রাস্তা দেখা যাচ্ছে। গাড়ি সোজা ঢুকে গেল গ্রামের ভেতরে। বর্তমানে রামানুজের আর নিয়ম কড়া নয়। বেশ শিথিল। কয়েকজন গ্রামবাসী বাইরে বেরিয়েছিল পুলিশের গাড়ি দেখে। রামানুজকে দেখে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। রামানুজ যে এখন ওদের কতটা কাছের মানুষ ওরাও জানে না।

আশ্রমের বাইরে একটা বট গাছ আছে। তাতে একটা বেদি রয়েছে। সেখান বসে আছেন গুরুদেব। শ্বেতশুভ্র পোশাক। এই ঘন কুয়াশায় প্রায় দেখা যায়

না তাকে।

রামানুজ গাড়ি থেকে নামল। সে গুরুদেবকে দেখতে পেল না। সে আশ্রমের মূল দরজার দিকে হাঁটতে লাগল। আর তখনই কুয়াশা ভেদ করে গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বর শোনা গেল।

“রামানুজ, এদিকে এসো।”

রামানুজ থমকে দাঁড়াল। পেছন ফিরে সে কিছুই দেখতে পেল না।

“বটবৃক্ষের বেদির উপর বসে আছি। এসো।”

রামানুজ এবার এগিয়ে গেল বটগাছের দিকে।

“প্রণাম নেবেন। কিন্তু এই ঠান্ডায় এখানে বসে আছেন কেন? অসুস্থ হয়ে পড়বেন তো!”

গুরুদেব হাসলেন। বললেন, “ওসব হবে না। এই শরীর এসবে অভ্যস্ত। বোসো।”

গুরুদেবের পাশে বসল রামানুজ। “তুমি এসেছ, কিছুটা নিশ্চিন্ত হলাম।”

“কী হয়েছে গুরুদেব? এটাও জরুরি তলব?”

“একটা গুরুতর কিছু ঘটতে চলেছে। যেখানে ঘটবে সেখানে আমার যাবার অনুমতি নেই। অন্য কারও উপর ভরসা করার মতো যোগ্যতা কেউ অর্জন করতে পারেনি। তাই তোমাকেই কষ্ট দিতে হল।”

“ছি ছি ওভাবে বলবেন না। আমাকে বলুন আগামীতে কী বিপদ আসতে চলেছে। যথাসাধ্য চেষ্টা করব।”

গুরুদেব হাসলেন, “আমি জানতাম তুমি এমনটাই বলবে। যাও আজ বিশ্রাম করো। কাল দুপুরে এসো। আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব।”

“বেশ বেশ।”

রামানুজ ফিরে আসার সময় একজন যুবতী এসে পাশে দাঁড়াল। “গুরুদেব আশ্রমে চলুন। আপনার আহারের সময় হয়েছে।”

রামানুজ দুর্গাকে চিনতে পারল। দুর্গা হাত জোড় করে প্রণাম করল রামানুজকে। রামানুজও সৌজন্য দেখাল। তারপর গুরুদেবকে প্রণাম করে রামানুজ আবার গাড়িতে এসে বসল।

সমগ্র গ্রামটাকে খুব অদ্ভুত লাগছে। আগেরবারের মতো উত্তাল নয়, বরং শান্ত। হবে নাই-বা কেন? আর কেই-বা বেঁচে আছে এই গ্রামে। দু-একটা ঘরে শুধু মানুষের বাসা। বাকি সমস্ত ঘর খালি হয়ে গেছে।

নিঝুম গ্রামটাকে পেছনে ফেলে গাড়িটা শব্দ করে বড়ো রাস্তায় এসে পড়ল।

“এবারেও কি কোয়ার্টার?”

রামানুজের কথা শুনে দাসবাবুর চোখ উজ্জ্বল হল।

“হ্যাঁ।”

“চলো চলো। কাল থেকে কাজ শুরু, আজ একটু ভালো-মন্দ খাওয়া-দাওয়া হোক। কী অজিতবাবু?”

ড্রাইভার অজিত নিজের নাম শুনে হাসল। জিভ কেটে বলল, “স্যার আপনি এই বাবু টাবু বলবেন না।”

“বেশ বেশ। চলো।”

কোয়ার্টারটা আগের মতোই আছে। বাইরে লনে আলো জ্বলছে। গাড়ি থেকে নেমে কিছুক্ষণ হেঁটে দেখল রামানুজ। তার মনে হচ্ছে সে যেন টাইম ট্রাভেল করে এক বছর পেছনে চলে এসেছে। এক বছর আগে এরকম সময়েই প্রথম এখানে আসা। আর তখনই তার হেমন্তাই-এর কথা মনে পড়ল। মনে পড়তেই মন খারাপ হয়ে গেল। খুব কষ্টের মৃত্যু হয়েছিল হেমন্তাইয়ের।

হেমন্তাই-এর কথা ভাবতে ভাবতেই ভেতরে ঢুকল সে। ছোটো বারান্দা পেরিয়ে মূল ঘর। দাসবাবু ইতিমধ্যে কলিং বেলে চাপ দিচ্ছিলেন। দরজা খুলে গেল। আর দরজা খুলতেই চমকে গেল রামানুজ।

“হেমন্তাই?”

হেমন্তাই দাঁড়িয়ে আছেন দরজা খুলে।

“আসুন স্যার।”

রামানুজ অবাক হল। হেমন্তাই আবার বললেন, “ভুল হয়ে গেছে, রামানুজদা এসো।”

এবার রামানুজ চিনতে পারল।

“কাঞ্চন! আমি চিনতেই পারিনি।”

“যেদিন থেকে দাড়ি গোঁফ বড়ো করেছি সবাই একথাই বলে। সবাই বলে বাবার মতো দেখতে লাগে।”

কাঞ্চন হাসতে হাসতে বলল।

“আমিও এক পলকে হেমন্তাই ভেবেছিলাম।”

সবাই ঘরে ঢুকে পড়ল। দরজা ভেতর থেকে আটকে ফেলল কাঞ্চন।

“রাধামাধবদা রাতের জন্য আজ দুর্দান্ত সব খাবার রান্না করেছেন।” কাঞ্চন লাগেজ ভেতরে নিয়ে যেতে গিয়ে কথাটা বলল।

রামানুজের মুখেও ফুটে উঠল চওড়া হাসি।

“তাহলে আজ হয়ে যাক। কিন্তু জিনিস আছে?”

কেউ উত্তর দেবার আগেই দরজায় শব্দ হল।

“এখন আবার কে এল?”

কাঞ্চন বেশ অবাক হল। আই হোলে চোখ রাখতেই তার মুখ উজ্জ্বল হল। সে দরজা খুলে দিল, “স্যার আপনি এসেছেন?”

রামানুজ-সহ বাকিরা দেখতে পেল সিনহা সাহেব দাঁড়িয়ে।

“কী ভেবেছেন, আপনি আসবেন আর আপনার সঙ্গে দেখা করতে আসব না!”

সিনহা সাহেব এসে রামানুজকে জড়িয়ে ধরলেন।

“কী যে ভালো লাগছে আপনাকে দেখে। এবার গিয়ে টিম সম্পূর্ণ হল। কী বলেন দাসবাবু?”

দাসবাবু রামানুজের কথায় ঘাড় পুরো হেলিয়ে সম্মতি দিলেন।

“আমি কিন্তু জিনিস নিয়ে এসেছি।” সিনহা সাহেব বললেন।

“ইয়া সাব্বাস। ওটার কথাই এইমাত্র বলছিলাম। স্কচ তো?”

সিনহা সাহেব জোব্বার ভেতর থেকে বের করলেন বোতলটা। দেখে রামানুজ ঠোঁট উলটে বলল, “একেবারে সিঙ্গল মল্ট? কেয়াবাত!”

“আপনি এসেছেন। আনব না। স্পেশাল ডে।”

কিছুক্ষণের মধ্যে সেই পুরোনো ঘরটায় গিয়ে বসল ওরা। কাঞ্চন আর রাধামাধব মাংস দিয়ে গেল। সবাই পানাহারে মেতে উঠলেন।

কয়েক পেগ পরে যখন নেশা তুঙ্গে তখন সিনহা সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, “এবারে গুরুদেব কেন ডেকেছেন কিছু জানেন?”

রামানুজ উঠে দাঁড়াল। গ্লাস হাতে জানালার সামনে এগিয়ে গেল। বাইরে কুয়াশা সমস্ত জগতকে গ্রাস করেছে। গ্লাসের সোনালি জল পেটে চালান করে দিয়ে রামানুজ বলল,

“জানি না। তবে গুরুদেবের চোখ বলছে এবারে অবস্থা আরও ভয়ানক। খুব বাজে কিছু হতে চলেছে। খুব বাজে কিছু।”