Accessibility Tools

মৃত কৈটভ ২ – সৌরভ চক্রবর্তী

ব্রহ্মপদার্থ – ৬

(৬)

পরীক্ষাগার থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। ভেতরে কেউ মন দিয়ে কাজ করছে। বাইরে ঠাকুরদা আর তার এক নাতি কথা বলছে।

“কিছু মনে করবেন না ঠাকুরদা, আপনার মনে হয় কৈটভ আমাদের সঙ্গ দেবে? ওকে যারা সব কিছু দিল সে তাদের সঙ্গেই বেইমানি করে এসেছে। হেমন্তাইকে খুন করেছে। ওকে বিশ্বাস করা যায়?”

ঠাকুরদা হাতে আপেল নিয়ে কেটে খাচ্ছিলেন। কথাটা শুনে স্বভাবসুলভ হাসলেন। তারপর এক টুকরো আপেল নিজে খেলেন, আরেক টুকরো নাতিকে দিলেন।

“তোকে কে বলল যে কৈটভকে আমি বিশ্বাস করছি? কাউকে বিশ্বাস করলে আমি তাকে রাতদিন পরীক্ষাগারে বসিয়ে রাখি না।”

বলে হাতের ইশারায় নিজের কানে লাগানো যন্ত্রটা দেখালেন আর চোখের ইশারায় আবার হাসলেন।

নাতিও এর ইঙ্গিত বুঝে হাসল আর গপাৎ করে কাটা আপেলের টুকরোটা মুখে চালান করল।

ঠাকুরদা সামনে যে পরীক্ষাগার থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে সেদিকে এগোলেন।

ভেতরে ঢুকে দেখলেন কৈটভ একমনে কাজ করছে।

“কৈটভ?”

ঠাকুরদার গমগমে কণ্ঠে কৈটভ ফিরে তাকাল। কৈটভের মুখ দেখে তার মনের অবস্থা কখনও বোঝা যায় না। একদম সপাট নিরেট মুখাবয়ব। কোনো ভাব প্রকাশ পায় না, ভাবলেশহীন মোঙ্গলীয় গড়ন।

“বলুন।”

“কেমন চলছে পরীক্ষানিরীক্ষা?”

“ঠিক পথেই এগোচ্ছে।”

“তোমার এই হিংস্র সেনানীর একটা নাম ভেবেছি।”

“কী নাম?”

“কৈটভ বাহিনী।”

ঠাকুরদার এই নামকরণের কৈটভের চোখ মুহূর্তের ভগ্নাংশের জন্য চকচক করে উঠল। ফলে এটা ঠাকুরদার চোখ এড়াল না। তিনি আবার বললেন, “একটা মারাত্মক কৈটভ বাহিনী গড়ে তোলো যা পরবর্তীকালে আমাদের কাজে সাহায্য করবে। নাও আপেল খাও।”

কৈটভ হাত তুলে জানাল সে খাবে না। ঠাকুরদা এটাও লক্ষ করল। কৈটভ বলল, “আমার মানুষ চাই। যাদের উপর মৃত কৈটভ প্রয়োগ করে কৈটভ বাহিনী গড়ে তুলব।”

“সব পেয়ে যাবে। তুমি মৃত কৈটভ তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করো। ততক্ষণে আমি মানুষের ব্যবস্থা করে ফেলব।

কৈটভ মাথা নেড়ে আবার মৃত কৈটভ তৈরিতে মন দিল। ঠাকুরদা পরীক্ষাগার ছেড়ে বেরোবার পথে বলে এল, “আজ সন্ধেবেলা একটু আমার অফিস ঘরে এসো। একটা শো দেখাব।”

কৈটভ টেস্ট টিউব নিয়ে কাজ করতে করতেই জিজ্ঞেস করল, “আমার প্রথম কৈটভ বাহিনী জঙ্গলের মধ্যে সময়ে সময়ে মৃত কৈটভের ডোজ আর খাবার পাচ্ছে তো?”

ঠাকুরদা আপেলের শেষ টুকরো মুখে ফেলে বললেন, “সব পাচ্ছে। তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারো।”

ঠাকুরদা বেরিয়ে গেলেন।

ওদিকে রামানুজ ত্রিবেদী স্যারকে ফোন করে ব্রহ্মপদার্থ সম্পর্কিত সমস্ত

তথ্য দিয়েছে। ফোনে ত্রিবেদী স্যার খুব উত্তেজিত, “আমি তো পুরীতে জগন্নাথদেব মন্দিরে ঘুরে এসেছি। জানি না তোমার গুরুদেবের কাহিনিতে কতটা দম আছে, কিন্তু আমাদের তবে সেখানকার সিকউরিটি বাড়াতে হবে। অভিনব যোশীকে ভেবেছিলাম ত্রিপুরায় পাঠাব। ব্রিলিয়ান্ট অফিসার।”

“কিন্তু স্যার, ত্রিপুরায় পাঠিয়ে লাভ নেই। এখানে সেরকম কিছু হবার চান্স কম। আর গুরুদেবকে অবিশ্বাস করার কোনো কারণ আপাতত আমার কাছে নেই।”

“কবে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে বলে তোমার মনে হয়।”

“সত্যি বলব! আমার মনে হয় না বর্তমানে কিছুই ঘটবে।”

“মানে ওই টাইম ট্রাভেল থিয়োরি?”

“জানি না। আমিও ধোঁয়াশায়। তবে এক কাজ করুন অভিনবকে পুরীতে পাঠিয়ে দিন। প্যানিক ক্রিয়েট না করে জাস্ট ওখানের সিকিউরিটি বাড়িয়ে দিতে বলুন।”

“আমিও তাই ভাবছি তবে রামানুজ, এই জীবনে তোমার ত্রিপুরার এই কেসের মতো কেস দেখিনি।”

রামানুজ বলল, “আর দেখবেন বলেও মনে হয় না। আমিও গ্রামে ঢুকছি। দেখি গুরুদেব আর কী কী বলেন। জয় হিন্দ স্যার।”

“জয় হিন্দ।”

রামানুজ ফোন কেটে গ্রামে ঢুকল। আজকাল গ্রামটাকে অদ্ভুত মরা-মরা লাগে। জঙ্গলের ফাঁকে এই বিকেলেই কুয়াশা নেমে যায়। শুরুর কিছু গাছপালা দেখা যাচ্ছে। পাতাগুলো ভিজে আছে। সূর্যের আলো সেই দুপুর বারোটায় একবার দেখা গিয়েছিল। তারপর সেই যে তিনি মেঘের ভেতরে লুকিয়ে পড়েছেন তার আর দেখা পাওয়া যায়নি।

আশ্রমে পৌঁছে দুর্গার সঙ্গে রামানুজের দেখা হল। দুর্গা নিজে থেকেই কথা বলল আজ, “গুরুদেব বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলছেন। আপনাকে কার্যালয়ে বসতে বলেছেন।”

“বেশ।”

রামানুজ চলে যাচ্ছিল কার্যালয়ের দিকে। দুর্গা তাকে আবার ডাকল, “কাঞ্চন গতকাল আপনাকে দাদা বলে ডাকল।”

রামানুজ থমকে দাঁড়াল। এই প্রথম সে দুর্গার মুখ থেকে সম্পূর্ণ একটা বাক্য শুনল। অদ্ভুত সুন্দর কণ্ঠ মেয়েটার। একটা আদিবাসী ঝংকার আছে তাতে।

“কাঞ্চন আমার ছোটো ভাইয়ের মতো।”

“হুম। পারলে ওকে একবার আমার সঙ্গে কথা বলতে বলবেন। আমি গতকাল চেষ্টা করেছিলাম, পারিনি।”

“কেন?”

“ওকে ওর নাম ধরে ডাকতেই পারিনি। কীভাবে কথা হবে?”

“হুম। বলব।”

কথা বলতে বলতেই গুরুদেব চলে এলেন।

“রামানুজ এসেছ। চলো কার্যালয়ে।”

“আসি।”

রামানুজ দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে কার্যালয়ের দিকে চলে এল। কার্যালয়ের ভেতরে গিয়ে রামানুজকে কাঠের চেয়ারটিতে বসতে বলে নিজে টেবিলের ওপারে চেয়ারে বসলেন।

“গতকাল ব্রহ্মপদার্থ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছ তো?”

রামানুজ মাথা নেড়ে বলে, “হ্যাঁ, ব্রহ্মপদার্থ সম্পর্কে ধারণা একদম পরিষ্কার। এ জিনিস কৈটভের হাতে পড়লে ঠিক কী হতে পারে আমি ভাবতেই পারি না। ইতিমধ্যে আমরা জগন্নাথ পুরীর সিকিউরিটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দিল্লি থেকে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে।”

“খুব ভালো কথা রামানুজ। কিন্তু আমার ধারণা তাতে কিছু হবে না। কর্কট আমার কাছে সময় যাত্রার বাকি অংশটা চেয়েছিল। এটা নিশ্চয়ই এই কাজে লাগাবার কথা ভেবেই চেয়েছে। সেক্ষেত্রে বর্তমান হাজার লক্ষ পুলিশ বাহিনী নামিয়ে দিলেও কোনো সুরাহা হবে না।”

“এই টাইম ট্রাভেলের অংশটাই আমার কাছে এখনও পরিষ্কার হচ্ছে না। আমি কাল রাতেও একটু পড়াশোনা করলাম। কিন্তু…”

“বেশ জিজ্ঞেস করো তোমার প্রশ্ন। আমি চেষ্টা করছি।”

“টাইম ট্রাভেলের থিয়োরিটা বুঝে গেছি। কিন্তু আপনি এই যে স্পেস আর টাইমের জালিকার কথা বলছেন তার মাধ্যমে যদি টাইম ট্রাভেল করতে হয় তবে প্রচুর গ্র্যাভিটির প্রয়োজন। তাই তো?”

“ঠিক তাই। গ্র্যাভিটি বাড়াতে হবে।”

“তাহলে এক্সট্রা গ্র্যাভিটি আপনি আর কর্কট পেলেন কোথায়?”

“মাধ্যাকর্ষণ আর চুম্বক শক্তির কাজ কাছাকাছি। দুটোই কনজারভেটিভ ফোর্স বা শক্তি। আমরা যে জায়গাটা বাছাই করেছিলাম সেটাকে আমরা পৃথিবীর মধ্যে হলেও পৃথিবী অপেক্ষা আলাদা বস্তু হিসেবেই দেখেছি। আর আমরা থেকেছি পৃথিবীতে। আমরা যে যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছিলাম তা শুধুমাত্র ওই স্থানের মাধ্যাকর্ষণ বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়। উদাহরণ হিসেবে ব্ল্যাক হোলের কথা ধরতে পারো। কোনো গ্রহ বা নক্ষত্রের খুব কাছে একটি ব্ল্যাক হোল থাকলে সেই গ্রহ বা নক্ষত্রে সেই গ্রহ বা নক্ষত্রের মাধ্যাকর্ষণের বাইরেও ব্ল্যাক হোলের মাধ্যাকর্ষণ কাজ করে। ফলে মোট মাধ্যাকর্ষণ বহু গুণে বেড়ে যায়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমাদের যন্ত্রটিকে যদি উদাহরণ হিসেবে ব্ল্যাক-হোল ধরে নাও আর আমাদের বাছাই করা জায়গাকে ধরো সেই গ্রহ, তবে সেখানে আমাদের পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণও কাজ করছে আবার আমাদের ব্ল্যাক-হোলস্বরূপ যন্ত্রটিরও। ফলে সময়ের গতি সেখানে ধীর। আর সেই স্থানটিতে বায়বীয় মাধ্যমও আমাদের এখানকার মতো নয়। যেহেতু আমাদের প্রায় সমস্ত আবিষ্কারেই গন্দবেরুন্দার নির্যাসের ভূমিকা বিশাল এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। সেই জায়গায় বায়বীয় মাধ্যম জেলির মতো থকথকে। বাইরে

থেকে মানুষটির চলাফেরা কিছুই বোঝা যাবে না। অথচ ভেতরে লোকটি দেখবে ঠিক অন্য দৃশ্য। বাইরের সবকিছুর গতি যেন বেড়ে গেছে। সে যদি সঠিক সময় নির্ণয় করে বেড়িয়েও আসে দেখবে সে পৌঁছে গেছে ভবিষ্যতে। এবার বুঝলেন পুলিশ কর্তা?”

রামানুজ মুগ্ধ হয়ে শুনছিল শুধু এবং অবাক হচ্ছিল। ঘোর কাটতেই সে মাথা নেড়ে বোঝায় যে সে বুঝেছে।

“আর কোনো প্রশ্ন?”

আমতা আমতা করে বলে, “হুম আছে একটা। ভবিষ্যতে যাওয়াটা তো বুঝতে পারলাম। কিন্তু অতীতে তো হিসেব বলছে যাওয়া সম্ভবই নয়।”

হাত তুলে রামানুজকে থামালেন গুরুদেব।

“সম্ভব সম্ভব। সব সম্ভব।”

“কিন্তু গুরুদেব ওয়ার্মহোল একটা থিয়োরি। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি এর তো কোনো অস্তিত্ব এখনও অবধি পাওয়া যায়নি।”

“খুব পাওয়া গেছে। মহাকাশে আমরা খুঁজে পাইনি। কিন্তু ২০১৫ সালে একটা ল্যাবেই ওয়ার্মহোল সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে সেটা গ্র্যাভিটি বা মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে নয়। চৌম্বক শক্তির মাধ্যমে। আর তারও বহুকাল আগে সেরকমই এক ওয়ার্ম হোল সৃষ্টি করেছিল কর্কট।”

“কিন্তু কীভাবে? ওয়ার্ম হোলের দু-দিকে দুই প্রকার শক্তি প্রয়োজন। এক মুখে সে সব গিলে নেবে অন্য মুখে ছুড়ে ফেলে দেবে। বিজ্ঞানের হাজারটা সমীকরণ প্রয়োজন যেমন এন্ট্রপি, শক্তির রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি। ওয়ার্ম হোল এলেই চলে আসে ব্ল্যাক আর হোয়াইট হোলের কনসেপ্ট। একদিকে ব্ল্যাক হোল আর অন্যদিকে সমতুল্য হোয়াইট হোল না থাকলে এই যে সময় জালিকা ছিঁড়ে এদিকে-ওদিকে এক হয়ে যাওয়া বা একটা টানেলে সৃষ্টি তা কখনোই সম্ভব নয়। হয়তো মানুষ এটা সৃষ্টি করে ফেলতে পারবে বা এর ভেতরে ঢুকেও পড়ল কিন্তু আজীবন এই ট্র্যাপে ঘুরতে থাকবে। বেরোতেই

পারবে না। আর কী ভীষণরকম ফোর বা ফাইভ ডাইমেনশনাল বিষয়। ২০১৫ সালে কেউ যদি কৃত্রিমভাবে তৈরি করেও থাকে, আপনারা সেটা করেছেন আপনার কথা মতো অন্তত এক-দেড়শো বছর আগে। কীভাবে বিশ্বাস করি বলুন তো?”

রামানুজ উত্তেজনায় বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়েছে। গুরুদেব ওর কথা শেষ হলে ওর দিকে জলের গ্লাসটা এগিয়ে ধরে।

সে ঢকঢক করে জল খায়।

“শান্ত হও। এটা বোঝো যে এতটা অসম্ভব বলেইতো কর্কটের এই আবিষ্কার আমাদের সকলকে সেই সময় অবাক করে দিয়েছিল। আর এটা এক-দেড়শো বছর আগের কথা নয়, নব্বই বছর আগের কথা। আমি আগেরবার তোমাকে বলেছিলাম আইনস্টাইনের আবিষ্কারের কথা। তখন আমাদের প্রশিক্ষণ দিতে বৌদ্ধ লামারা আসতেন। তাদের থেকেই আমরা থিয়োরি অব রিলেটিভিটি জানতে পারি। পৃথিবীর বাকি বিজ্ঞানীদের হাতে গন্দবেরুন্দা ভগবানের দেহ নিঃসৃত দৈব পদার্থ ছিল না। এটা মনে রাখতে হবে। তাই আমাদের কাছে একটা অন্তত সুবিধে আগে থেকেই ছিল। আর বাকি প্রশ্নের উত্তর তোমাকে সময়-যন্ত্র দেখিয়ে বোঝাব। তুমি যে পড়াশোনা করে এসে এত প্রশ্ন করবে জানলে আমি তোমাকে সরাসরি যন্ত্রটা দেখিয়ে দিতাম। এত কথা বাড়াতাম-ই না।”

গুরুদেব এত রসিয়ে কথাটা বললেন যে উপস্থিত দুজনেই কথা শেষে হেসে উঠল।

রামানুজ হাসতে হাসতেই বলল, “ঠাকুরদা আর এসেছিলেন নাকি আলোর বলয়ে বেষ্টিত হয়ে?”

মজাচ্ছলেই প্রশ্নটা করেছিল রামানুজ। কিন্তু তাতেও গুরুদেবের মুখের রং পালটে গেল।

বললেন, “এসেছিল হে এসেছিল। ওই একই কথা। আমি যেন রাজি হয়ে যাই।”

“আচ্ছা গুরুদেব, এই ঠাকুরদা বা কর্কট মানুষটা আপনার সাহায্য চাইছে কেন?”

গুরুদেব এবার স্মিত হাসলেন, “এখনও ধরতে পারলে না পুলিশ প্রধান?”

রামানুজ চোখ ছোটো করল। তারপর হঠাৎই বলে উঠল, “তার মানে দুটো যন্ত্র চালানোর সুবিধে না থাকলে এই সময় যাত্রা ব্যর্থ।”

গুরুদেব দ্রুত মাথা নাড়লেন, “একদম তাই। যে ভবিষ্যতে যাবে সে ওখানেই আটকে থাকবে আর যে অতীতে যাবে সে ওখানেই আটকে যাবে। বর্তমানে ফিরতে হলে দরকার দুটো যন্ত্র ওই একই জায়গায় বসানো। তবেই নির্ভয়ে সঠিক সময় যাত্রা সম্ভব।”

“তার মানে ওরা কখনোই আমাদের সাহায্য ছাড়া চুরি করতে পারবে না। মিটে গেল। ঝামেলাই নেই।”

“রামানুজ তুমি এত আত্মবিশ্বাসী এই কারণেই হচ্ছ যে মিথ সংঘ সম্পর্কে তোমার ধারণা শূন্য। ঠিক যেমন শুরুতে এই গ্রাম ও গন্দবেরুন্দা নিয়ে তুমি জানতে না। সমীহ করতে শেখো।”

রামানুজ গুরুদেবের কথায় হাসল, “গুরুদেব আমি সমীহ করছি বলেই এখানে বসে আছি। কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাটাই আমার শক্তি। ওটাকে সন্দেহ করতে আমি রাজি নই।”

রামানুজ কথাটা শেষও করতে পারল না আর ঠিক তখনই শব্দটা হল। ভয়ানক শব্দ শুনে দুজনেই চমকে উঠলেন। রামানুজ কালবিলম্ব না করে বাইরে ছুটল। পেছন পেছন গুরুদেব। আশ্রমের সদর দরজার কাছে এসে বিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল রামানুজ।

সে দেখল আশ্রমের সদর দরজা ভাঙা। একটি স্করপিও গাড়ি সোজা দরজা ভেঙে ঢুকেছে আশ্রমে। সেখানে দুর্গা সম্ভবত তাদের বাধা দিতে গিয়েছিল। দুর্গাকে গান পয়েন্টে রেখেছে লোকটা। মাঝবয়সি লোক, পরনে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি। এই সন্ধেতেও চোখে কালো চশমা। গাড়ির আশেপাশে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা সবাই একই পোশাক পরে আছে।

রামানুজ পিছন থেকে গুরুদেবের দীর্ঘশ্বাস শুনতে পেল। দাঁত কিড়মিড় করে তিনি বললেন, “ক-র্ক-ট।”

“রামানুজ সাহেব একদম চালাকি না। বন্দুকটা বের করে মাটিতে রাখুন।”

যে লোকটা দুর্গার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছে সে-ই রামানুজের উদ্দেশে কথাগুলো বলল।

রামানুজ চারদিকের অবস্থা বুঝে ধীরে ধীরে কোমর থেকে বন্দুকটা বের করে মাটিতে রাখল। তারপর বলল, “দুর্গাকে ছেড়ে দাও।”

“মশাই ওকে তুলে নিয়ে যেতেই তো এসেছি।”

এসব যখন ঘটছে তখন মিথ সংঘে নিজের অফিসে কৈটভকে নিয়ে বসে আপেলের রস খেতে খেতে ঠাকুরদা এই দৃশ্য উপভোগ করছিলেন।

আশ্রমের এক প্রান্তে আলোক বলয়টি ততক্ষণে ফুটে উঠেছে। গুরুদেব সেটি দেখে ফেলেছেন। তাঁর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে।

রামানুজ এখনও দাঁত খিঁচিয়ে তর্ক করে যাচ্ছে ঠাকুরদা বাহিনীর সঙ্গে, “একে নিয়ে যাবেন মানে? নিয়ে কোথায় যাবেন? পুরো শহরটাকে ফোর্স দিয়ে ঘিরে ফেলতে পারি জানিস।”

লোকটা এই কথায় যেন আমোদ পেল। বলল, “হ্যাঁ, কত্তামশাই ঘিরে ফেলুন। আমরা আসি। রাস্তায় দেখা হবে। এই কে আছিস, দেবীজিকে গাড়িতে তোল। দেখিস কোনো কষ্ট যেন না হয়, ম্যাডাম আপনি গাড়িতে গিয়ে বসুন।”

দুর্গা রামানুজের দিকে তাকাল। রামানুজ ঘাড় নাড়িয়ে সম্মতি দিল। দুর্গা মিথ সংঘের সদস্যদের দিকে ঘৃণা ভরা দৃষ্টি তাচ্ছিল্য করে ধীরে ধীরে গাড়িতে গিয়ে উঠল।

দুজন তার মাথার কাছে বন্দুক উঁচিয়ে থাকল।

লোকটা এবার ধীরে ধীরে রামানুজের দিকে এগিয়ে এল। “কাইন্ডলি একটু সরুন। গুরুদেবের সঙ্গে কথা ছিল।”

রামানুজ সরে গেল।

“এই তোরা এর দিকে একটু বন্দুক তাক করে রাখ। ইনি খুব ডেঞ্জারাস লোক।”

বলে খ্যাকখ্যাক করে হেসে রামানুজকে কাটিয়ে গুরুদেবের সামনে এসে দাঁড়াল।

“ওই দেখুন ঠাকুরদাও দেখছেন।”

বলে আলোক বলয়টা দেখাল। মাথার পেছন দিকে ছিল বলে রামানুজ এই প্রথম দেখতে পেল। তার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেল। অপার্থিব জিনিসপত্তর সব!”

“কী চাও তোমরা?”

“আমরা চাই আপনি যাতে ঠাকুরদার কথায় রাজি হয়ে যান। তাড়াতাড়ি হয়ে গেলে দেবীজিকে তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবেন। চিন্তার কিছু নেই। রাজি না হলেই চিন্তার ব্যাপার। আদেশ করুন। আসি আমরা।”

লোকটা এই কথা বলে গুরুদেবের আদেশের তোয়াক্কা না করে গাড়ির দিকে হাঁটতে থাকল। গাড়িতে উঠে আলোক বলয়ের উদ্দেশে,

“মিথ সংঘ জিন্দাবাদ।”

চিৎকার করে উঠল। বাকি সাগরেদরাও সেই ধ্বনি তুলল,

“মিথ সংঘ জিন্দাবাদ। মিথ সংঘ জিন্দাবাদ।”

বলতে বলতে বেরিয়ে গেল। যাবার সময় লোকটা গাড়ির কাচ নামিয়ে রামানুজকে বলে গেল, “সদর দরজার এই অবস্থার জন্য দুঃখিত। আশা করি আপনারা ঠিক করে নেবেন। আসি।”

গাড়ি শব্দ করে বেরিয়ে গেল। গুরুদেব ক্রোধান্বিত হয়ে আলোক বলয়ের সামনে গেলেন। পিছন পিছন রামানুজ।

গুরুদেব বললেন, “কী চাস তুই কর্কট? এবার নিজের সর্বনাশ নিজে ডেকে আনছিস।”

কর্কট ওরফে ঠাকুরদা কথাটাকে অগ্রাহ্য করার ভঙ্গিতে হাত নাড়ল। তারপর আলোক বলয়টা অদৃশ্য হয়ে গেল।

নিজের অফিসরুমে বসে অট্টহাস্যে ফেটে পড়লেন ঠাকুরদা।

হা হা হা। কৈটভ কেমন দিলাম? আশ্রমের সকলের সামনে জাস্ট পাত্তা দিলাম না আশ্রম প্রধানকে। তুলে নিয়ে এসেছি ওর অন্যতম প্রধান অস্ত্রকে।

কিছু করতে পারল না।

কৈটভ ঠাকুরদাকে দেখছে শুধু। নিজেকে সে পিশাচ শ্রেষ্ঠ ভাবত। কিন্তু এই লোকটাও কোনো অংশে কম নয়।

ওদিকে আশ্রমে গুরুদেব হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছেন। রামানুজ গিয়ে তাঁকে ধরল।

“আপনি উঠুন। চলুন আমার সঙ্গে।”

গুরুদেবের চোখে জল। তিনি বললেন, “কেন এরকম হচ্ছে রামানুজ। আমার শান্ত গ্রামটা কার প্রকোপে ছারখার হয়ে যাচ্ছে?”

রামানুজের চোখও লাল হয়ে আছে। সে কোনো কথা না বলে গুরুদেবকে কোনোক্রমে তুলে কার্যালয়ে নিয়ে বসালেন।

সকলে এসে কার্যালয়ের বাইরে ভিড় করল।

রামানুজ ইতিমধ্যে সিনহাকে সমস্ত কিছু জানিয়ে দিয়েছে। সিনহা আশ্বস্ত করেছেন,

“স্যার ওদের পাতাল থেকেও খুঁজে বের করব। সব রাস্তায় চেক পয়েন্ট বসাচ্ছি।”

রামানুজ হাতে ফোন নিয়ে সকলকে ফোন করে যাচ্ছে। এদিকে গুরুদেব চুপচাপ বসে আছেন।

অল্প সময়ের মধ্যে দাসবাবু আর কাঞ্চন এসে উপস্থিত হল।

“শুনলাম দুর্গা-কে নিয়ে চলে গেছে?”

কাঞ্চন জিজ্ঞেস করল। রামানুজ মাথা নাড়ল। গুরুদেব তাকাল তার দিকে। এই ছেলেটাই একসময় দুর্গাকে নিয়ে পাগল ছিল। দুর্গাকে ভালোবাসত। অথচ আজকে দুর্গার অপহরণের পরে শুধুমাত্র খবরটা যাচাই করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।

এরকম সময় ফোনটা এল। রামানুজ তুলে নিল, “সিনহা সাহেব বলুন। হোয়াট? এটা সম্ভব নাকি?”

“ঠিক আছে দেখুন।”

রামানুজ ফোনটা কেটে দিল।

“কী খবর এল?” গুরুদেব জিজ্ঞেস করলেন।

“গাড়িটার কোনো ট্র্যাক নেই। জাস্ট হাওয়া হয়ে গেছে। কোনো দিকে বেরোয়নি।”

রামানুজ নিজেই অবাক হয়ে আছে। গুরুদেব বললেন, “এ গাড়ি তোমরা পাবে না। আমি একটু সাধনা কক্ষে যাচ্ছি, তোমরা থাকো এখানে।”

গুরুদেব সোজা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে গেলেন। সকলে কার্যালয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।

রাত বাড়তে লাগল। কিন্তু গুরুদেব সাধনা কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলেন না।

একসময় রামানুজ স্বেচ্ছাসেবকদের বললেন, “বাচ্চাদের জাগিয়ে রেখে কষ্ট দিয়ে লাভ নেই। আপনারা ওদের খাবারের ব্যবস্থা করুন। আপনারা ওদের নিয়ে চলে যান। গুরুদেব এলে নিশ্চয়ই আপনাদের ডেকে নেওয়া হবে।”

ওরা চলে গেল। কার্যালয়ে বসে রইলেন শুধু দাসবাবু আর কাঞ্চন। রামানুজ একটা সিগারেট ধরাল।

“কাঞ্চন, তুই মেয়েটার উপর রাগটা ঝেড়ে ফেল। আজ দুর্গা আমাকে তোর কথা জিজ্ঞেস করছিল।”

কাঞ্চন রামানুজের কথা অবিশ্বাসের সঙ্গে উড়িয়ে দেয়, “দুর্গা কথা বলেছে? তাও আমাকে নিয়ে? ধ্যাৎ…”

রামানুজ কপটভাবে মারতে আসে কাঞ্চনকে, “মেয়েটাকে তুলে নিয়ে চলে গেছে। কোথায় গেছে কিছুই জানি না। এখন নিশ্চয়ই আমি তোর সঙ্গে ইয়ার্কি করব না। আর গতকালও দেখলাম মেয়েটার দিকে তাকাসনি তুই। নাহলে গতকাল-ই মেয়েটা তোর সঙ্গে কথা বলত। সেই আমাকে জানিয়েছে এসব।”

কাঞ্চন অবাধ্যের মতো বলে, “বেশ করেছি। ওর জন্যেই তো আমি গ্রামছাড়া। বাবার সঙ্গে শেষ ক-টা দিনও সেভাবে কাটাতে পারিনি। কেন

ক্ষমা করব?”

রামানুজ এবার ওর কাঁধে হাত রেখে বুঝিয়ে বলে, “ক্ষমা না করলে তুই নিজেই ভেতরে ভেতরে নিজেকে সাজা দিবি। ক্ষমা করতে শেখ। আমি নই, শ্রীকৃষ্ণ গীতাতে বলে গেছেন। যাকে খুঁজতে এসেছি তার বাণীগুলো আমরা মেনে চলব নিশ্চয়-ই। আর তাছাড়া এখন না আছে এই গ্রামের প্রথা, না আছেন হেমন্তাই, না আছে কোনো বাধা। সে যদি এসবের জন্যে করেও থাকে আজ তো তার উদ্দেশ্যটাই হারিয়ে গেছে। বরং তোরা এই গ্রামটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য হলেও একসঙ্গে থাক। ভালোবাসাবাসি তো ছিলই। ওর মধ্যেও নিশ্চয়-ই আছে, নইলে আজ আমায় ডাকবে কেন, গতকাল তোর সঙ্গে কথা বলতে চাইবে কেন? ভেবে দেখ।”

রামানুজ কথা শেষ করে ধোঁয়ার রিং বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। “কিন্তু…”

কাঞ্চন আরও কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। সিনহা সাহেব ফোর্স নিয়ে এসেছেন। কার্যালয়ে এসে ঢুকলেন।

“স্যার।”

তিনি এসেই রামানুজকে অভিবাদন করলেন।

“কোনো খবর?”

সিনহা মাথা থেকে টুপি খুলে বললেন,

“আশ্চর্য ব্যাপার স্যার। কোনো এক্সিট পয়েন্ট দিয়ে এই গাড়ি বেরোয়নি। তার চেয়েও বড়ো আশ্চর্যের ব্যাপার কোনো পয়েন্ট দিয়ে এই গাড়ি ঢোকেওনি।”

“পাতালপুরীতে আশ্রয় নিয়েছে কিনা বুঝতে পারছি না।”

“এই কেসে সবই আজব ঘটনা ঘটে, গতবার আমরা এটাই শিক্ষা পেয়েছিলাম। এবার শুধু এটাই দেখার শেষটাও কি গতবারের মতো ট্রাজিক হবে, নাকি আমাদের ভাগ্যও আমাদের প্রতি কিছুটা সদয় হবে।”

“এবারেও কি সেই জম্বি বাহিনী?”

“উঁহু, এবারে আরও ভয়ংকর। এবার কৈটভ মানে ওই যে যুবকটা বিদ্রোহ করেছিল এবং জম্বিদের সর্দার বনে বসে আছে, সেই ছেলেটার সঙ্গে যোগ দিয়েছে মিথ সংঘ।”

“মিথ সংঘ? এরা কারা?”

সিনহা আকাশ থেকে পড়লেন।

“আন্ডারগ্রাউন্ড একটা টিম। বিজ্ঞান নিয়ে ধ্বংসাত্মক কাজ করে। কোনো ট্রেস পাবেন না এদের। এদের লিডারের নাম কর্কট ওরফে ঠাকুরদা।”

“কী?”

বেশ মজা পেল সবাই।

“হ্যাঁ, এই ঠাকুরদা আর তার পৌত্ররা বা সাগরেদও বলতে পারো, এরা কৈটভকে শেলটার দিচ্ছে। এবার ওরা প্ল্যান করেছে…”

প্ল্যান বলার আগেই কার্যালয়ে গুরুদেব এসে উপস্থিত হলেন। এসেই বললেন,

“রামানুজ আমি কর্কটের সঙ্গে কথা বলেছি। আপাতত দুর্গার জন্য আমি ওদের শর্তে রাজি হয়েছি। আমি টাইম ট্রাভেলের জন্য ওদের শর্তে রাজি হয়েছি।”

রামানুজ এগিয়ে এল, “গুরুদেব আপনি ভেবে বলছেন তো?”

বাকিদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

“টাইম ট্রাভেল?”

একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে দাসবাবু, কাঞ্চন আর সিনহা। ফোর্স বাইরে অপেক্ষা করছে।

“হ্যাঁ রামানুজ। এই মুহূর্তে আর কোনো উপায় নেই। আমাদের হাতে সময় কম। তাই আমাদের যা কিছু পরিকল্পনা করতে হবে আর সেটা আজ রাতেই করতে হবে।”

রামানুজ বুঝতে পারল গুরুদেব এই প্ল্যানিংটা শুধু তার সঙ্গেই করতে চাইছেন।

বাকিদের উদ্দেশে সে বলল, “সবাই তাহলে বাইরে থাকুন। আমি ডেকে নেব।”

সবাই বেরিয়ে গেল। রামানুজ দরজা আটকে দিল।

“এবার বলুন গুরুদেব।”

“জগন্নাথ মন্দিরে কথা বলতে হবে। ওরা বর্তমানের ব্রহ্মপদার্থ চুরি করতে চাইছে। কারণ তাদের মতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রহ্মপদার্থের শক্তি বাড়তে থাকে। তাই তারা বর্তমানের-টাই চাইছে।”

“কিন্তু ওরা কী করবে এই ব্রহ্মপদার্থ দিয়ে?”

“জিজ্ঞেস করেছিলাম। উত্তর দেয়নি। আর তাছাড়া নেগোসিয়েশনে আমরা দুর্বল পক্ষ। আমি দুর্গাকে হারাতে পারব না।”

“হুম। বলুন তারপর।”

“ওরা প্রথমে চেয়েছিল আমরা যেন জগন্নাথ মন্দির থেকে ব্রহ্মপদার্থ চুরি করে ওদের দিয়ে দিই। আমি ওদের বললাম ২০২৩ সালে শ্রীবিগ্রহ পালটানো হয়েছে। বর্তমানে কোনোভাবেই শ্রীবিগ্রহে হাত দেওয়া যাবে না। পরিষ্কার জানিয়ে দিলাম যে বর্তমানের ব্রহ্মপদার্থ চুরি করা যাবে না। পরবর্তী শ্রীবিগ্রহ পরিবর্তন ২০৩৫ সালে অর্থাৎ এগারো বছর পর। এতকাল তো আর এরা অপেক্ষা করবে না। বুদ্ধি করে আমার মুখ দিয়েই ভবিষ্যতে যাবার কথাটা বের করল কর্কট। ওরা তো ভবিষ্যতে যেতে পারবে না। তো আমরা ভবিষ্যতে গিয়ে চুরি করব এবং অতীতে ফিরে অর্থাৎ যা আমাদের বর্তমান ওদের হ্যান্ডওভার করব। তারপর বর্তমানে ফিরে আসব। এই হচ্ছে ওদের পরিকল্পনা। এখন তুমি বলো আমাদের কীভাবে কী করা উচিত।”

“বেশ বেশ। আমাকে আজ রাতটা ভাবতে দিন। এরই মধ্যে আমি একটা বুদ্ধি বের করছি। আচ্ছা কবে এই সময় যাত্রা হবে।”

“আগামী পরশু দিন।”

“হুম, ততদিন দুর্গাকে নিয়ে চিন্তা করার কিছু আছে কি?”

“না, কর্কট ওকে পরশুদিন ভালোভাবে ফিরিয়ে দিলেই এই কাজ শুরু হবে।”

“বাহ, খুব ভালো। আগামীকাল পরিকল্পনা জানাচ্ছি। এখন আপনি বিশ্রাম করুন।”

রামানুজ আলোচনা শেষে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। বাইরে কতকগুলো উৎসুক আর কৌতূহলী মুখ।

সিনহাকে ডেকে রামানুজ বলল, “আজ ফোর্সকে ফিরে যেতে বলো। যা হবে পরশু হবে।”

সবাই ফিরে গেল। কিছুক্ষণ পর আশ্রমে গুরুদেবের কক্ষের আলো নিভে গেল। সিনহা গাড়ি দিয়ে রামানুজকে নামিয়ে দিয়ে গেলেন।

“আবার দেখা হবে স্যার।”

রামানুজ কোয়ার্টারের ভেতরে ঢুকে গেল। শেষ হল একটা ক্লান্তিকর অসহ্য দিন।