ছাব্বিশ – ব্ল্যাকমেইল
কলিং বেলটা প্রায় টিপেই রাখতে হয়েছিল। তাতেও দরজা খুলতে বিস্তর সময় লাগল। দরজা খুলল এলিহু-র শ’ফার। হাতের কাছে অস্ত্র হিসেবে আর কিছু না পেয়ে ও বিলিয়ার্ড খেলার কিউটাই নিয়ে এসেছিল।
‘কী চাই?’ দাঁত খিঁচোল লোকটা, তারপর আমাকে চিনতে পেরে বলল, ‘ও, আপনি? কী চাই আপনার?’
‘আমি মিস্টার উইলসনের সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
‘ভোর চারটের সময়! দূর হন।’
লোকটা দরজা বন্ধ করছিল। আমি দরজার ফাঁকে নিজের জুতো ঢুকিয়ে দরজাটা খোলা রাখলাম।
‘নিজের হাঁটুটা ভাঙার সাধ কি খুব বেশি হয়েছে?’
‘আমি মারামারি করতে আসিনি।’ আমি বললাম, ‘বুড়োর সঙ্গে দেখা করতে হবে আমায়। ওঁকে বলুন।’
‘আমিই বলছি।’ তেতো গলায় বলল লোকটা, ‘আমাকে আজ সন্ধেবেলা একেবারে স্পষ্টভাবে বলেছেন উনি। আপনার সঙ্গে উনি দেখা করতে চান না।’
‘তাই বুঝি?’ বলে আমি পকেট থেকে চারটে চিঠির মধ্যে যেটা সবচেয়ে কম বোকা বোকা, সেটা লোকটার হাতে দিলাম। তারপর বললাম, ‘ওঁকে বলুন, বাকি চিঠিগুলো নিয়ে আমি এই সিঁড়িতেই বসে আছি। ওঁকে বলুন, আমি পাঁচ মিনিট বসব। তারপর আমি বাকিগুলো নিয়ে কনসলিডেটেড প্রেসের টমি রবিন্সের সঙ্গে দেখা করব।’
শ’ফার ভ্রূ কুঁচকে চিঠিটা নিল। টমি রবিন্স ও তার চোদ্দো গুষ্টির উদ্দেশে গাল পাড়তে পাড়তে ও চিঠিটা নিয়ে ভেতরে গেল। তার আগে দরজাটা বন্ধ করে গেল।
ঠিক চার মিনিটের মাথায় দরজাটা আবার খুলে গেল। লোকটা মুখ বাড়িয়ে আমাকে বলল, ‘আসুন!’
আমি ওর পিছু পিছু এলিহু-র শোয়ার ঘরে গেলাম। কন্টিনেন্টাল-এর সম্মানিত ক্লায়েন্ট বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় ছিলেন। তাঁর একহাতে চিঠিটা, অন্যহাতে খামটা দোমড়ানো ছিল। লোকটার খাড়া চুল, চোখের নীল রং ঢেকে দেওয়া লাল ভাব, মুখময় হিংস্রতা দেখে বুঝলাম, লোকটা মুডে আছে।
‘তাহলে…!’ আমাকে দেখামাত্র চেঁচাল এলিহু, ‘অত বাতেলা দেওয়ার পর শেষে নিজের চামড়া বাঁচাতে আমার কাছেই আসতে হল তোমাকে।’
আমি আপত্তি জানিয়ে বললাম, ভদ্রলোক নিজের বোকামো জাহির করতে চাইলে গলার আওয়াজটা নামালে ভালো হয়। নইলে সবাই জেনে যাবে উনি কতটা বোকা।
‘আমার লেখা কয়েকটা চিঠি ঝেড়ে দিলেই কি তুমি বীর হয়ে যাবে?’ গলার আওয়াজ একধাপ নামিয়ে বলল এলিহু। চিৎকার আরও অনেকক্ষণ চলত, কিন্তু আমি কানে আঙুল দিলাম। তাতে লোকটা চুপ করল।
‘ওকে যেতে বলুন।’ আমি শ’ফারকে দেখিয়ে বললাম, ‘আমি আপনার ক্ষতি করতে আসিনি।’
‘বেরিয়ে যাও!’ এবার শফারের উদ্দেশে চেঁচাল এলিহু। ভ্রূ কুঁচকে আমাকে মাপতে মাপতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল লোকটা। কিছুক্ষণ আগে গোলা ও গুলিবর্ষণ সহ্য করেছিলাম। এবার আমার গালিবর্ষণ সহ্য করার পালা শুরু হল। আমি চিঠিগুলো কীভাবে পেয়েছি বা পেয়ে কী করেছি সেই নিয়ে নানারকম অপশব্দ ও কুৎসিত ইঙ্গিত শুনতে হল। আমি যেন চিঠিগুলো ওই মুহূর্তেই ফেরত দিই, এই আদেশও বারংবার শুনতে হল। আমি পাত্তা দিলাম না।
‘যাকে আপনি চিঠিগুলো উদ্ধার করতে দিয়েছিলেন, তার কাছ থেকেই ওগুলো ম্যানেজ করেছি। আপনার কপাল খারাপ, চিঠি জোগাড় করতে গিয়ে লোকটা ডিনাকে মেরেই ফেলে।’
বুড়োর মুখের লাল ভাব এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গেল। ‘অ,’ কুতকুতে চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল এলিহু, ‘তাহলে তুমি এইভাবে সাজাবে ব্যাপারটা?’
‘বলতে পারেন।’ আমি ওর বিছানার পাশে একটা চেয়ার টেনে বসলাম। মুখের হাসিটা যথাসাধ্য সরস করে বললাম, ‘আপনার মতো ক্লায়েন্ট আমি জীবনে দেখিনি। আমাকে শহর সাফ করার দায়িত্ব দিলেন। সিদ্ধান্ত বদলালেন। আমার পাশ থেকে সরে দাঁড়ালেন। যথাসাধ্য বিরোধিতা করলেন। যখন দেখলেন আমি জিততে শুরু করেছি, তখন আবার দলবদল করলেন। তারপর যেই দেখলেন আমার অবস্থা টাইট, তক্ষুনি বলে দিলেন, আমার মুখদর্শন করবেন না। ভাগ্যিস এই চিঠি ক-টা হাতে এসেছিল!’
‘ব্ল্যাকমেইল।’ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল বুড়ো।
‘গোলাপকে যে নামে ডাকো…’ আমি হেসে বললাম, ‘আপনি যা খুশি তাই বলতে পারেন। তবে যতই হোক, আপনি ‘ক্লায়েন্ট’ তো। তাই লেটেস্ট খবরগুলো দিয়ে যাই। আমি হারিনি স্যার, জিতেছি। আপনি দুঃখ করেছিলেন, ‘আপনার’ শহরটা আপনার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে ক-টা দুষ্টু লোক। পিট দ্য ফিন, লিউ ইয়ার্ড, হুইস্পার থ্যালার আর নুনান। তারা এখন কোথায়?
মঙ্গলবার সকালে ইয়ার্ড মারা যায়। নুনান সেই রাতেই। হুইস্পার গতাসু হয় বুধবার সকালে। ফিন মরেছে ঘণ্টা দেড়েক আগে। সবগুলো দুষ্টু লোক ভ্যানিশ হয়ে ‘আপনার’ শহর আপনার কাছে ফিরে আসছে। আমার সৌজন্যে! তবে হ্যাঁ, এবার আপনাকে কিছু করতে হবে।
আমি জানি না পার্সনভিল শহরের দায়িত্বে মেয়র বলে কেউ আছে কি না। আপনাকে এবার তাঁকে এবং তারপর গভর্নরকে ফোন করতে হবে। আপনি তাঁদের জানাবেন, শহরের পুলিশ হাতের বাইরে চলে গেছে। দুর্নীতির ব্যাপারটা তো বরাবরই ছিল। মদের চোরাচালানকারী গুন্ডারা যে ইদানীং স্পেশাল ফোর্স হয়ে পুলিশে ঢুকেছে, এটাও বলুন। আপনি সাহায্য চেয়ে বলুন, পার্সনভিলের গোটা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট সাসপেন্ড করিয়ে শহরে ন্যাশনাল গার্ড নামাতে। শুনেছি মেয়র আর গভর্নর, দু-জনেই নাকি আপনার কথায় ওঠেন-বসেন। তাঁদের দিয়ে এগুলো করাতে আপনার সমস্যা হবে না।
যারা আপনাকে মুঠোয় ভরে রেখেছিল, তারা শেষ। তাদের জায়গা নেওয়ার জন্য এখন ক-দিন দেদার লড়াই চলবে। তাতে ক্ষতি নেই। ন্যাশনাল গার্ড যখন ধরপাকড় চালাবে তখন চুনোপুঁটির ঝাঁক ধরা সহজ হবে। তা ছাড়া ওই চুনোপুঁটিরা আপনার কিছু করতে পারবেন না। এগুলো করাতে পারলে আপনার শহর আবার ‘‘আপনার’’ হবে। কিছুদিনের মধ্যেই সেটা আবার নরক হয়ে যাবে, জানি। তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
যদি আপনি এগুলো না করান তাহলে আমি চিঠিগুলো নিয়ে প্রেসের কাছে যাব। না, আপনার ওই কেনা গোলাম ‘‘হেরাল্ড’’ নয়। আমি যাব প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের কাছে। চিঠিগুলো আমি ডনের কাছ থেকে পেয়েছি। আপনি যে ওকে চিঠিগুলো ফিরিয়ে আনার জন্য লাগাননি, আর সেই মহৎ কাজ করতে গিয়ে ডনই যে ডিনাকে খুন করেনি, এগুলো প্রমাণ করতে আপনার কেমন লাগবে জানি না। তবে চিঠিগুলো কাগজে পড়তে যে পাঠকদের ব্যাপক লাগবে, সেটা জানি।’
বুড়ো কাঁপছিল। তবে সেই কাঁপুনিতে কোনো নার্ভাস ভাব ছিল না। ওর মুখটাও আবার লাল থেকে গোলাপি হয়ে উঠছিল।
‘ছাপো! আর তারপর জাহান্নমে যাও!’ চিৎকার করল এলিহু।
আমি উঠে দাঁড়ালাম। পকেট থেকে চিঠিগুলো বের করে ওর খাটের ওপর ফেলে দিলাম। মাথায় টুপিটা চড়িয়ে বেরোবার আগে বললাম, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে চাইছি যে মেয়েটাকে আপনার পাঠানো কেউ মেরেছিল। আর সেটা যদি হয়, তাহলে আপনাকে ফাঁসিকাঠে না ঝোলানো অবধি আমার শান্তি হবে না।’
বুড়ো চিঠিগুলো ছুঁল না। আমাকে বলল, ‘তুমি সত্যি বলছ? ওই থ্যালার আর পিট…?’
‘হ্যাঁ। কিন্তু তাতে কী আসে যায়? আপনি এবার নতুন কারো কথায় চলবেন।’
বুড়ো এক ঝটকায় চাদর সরাল। তারপর খাট থেকে পা ঝুলিয়ে আমার দিকে গর্জাল, ‘তোমাকে আমি আগেও বলেছি। শেষবারের মতো বলছি। পুলিশ চিফের কাজটা করার মতো সাহস আছে তোমার?’
‘না। যখন আপনি বিছানায় লুকিয়ে আমার সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক কীভাবে মুছে ফেলা যায় সেটা ভাবছেন, তখন আপনার হয়ে লড়তে লড়তে আমার সব সাহস শেষ হয়ে গেছে। অন্য কাউকে খুঁজুন।’
বুড়ো জ্বলন্ত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ওর নজরটা ধারালো হয়ে উঠল।
‘তুমি কাজটা নিতে ভয় পাচ্ছ। তাহলে মেয়েটাকে তুমিই মেরেছ?’
‘জাহান্নমে যান!’ বলে আমি বেরিয়ে এলাম। বাইরে এলিহু-র শ’ফার তখনও ওই কিউ হাতে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। লোকটা বোধ হয় আমার সঙ্গে মারামারি করতে চাইছিল। আমার আগ্রহ ছিল না। ওই বাড়ি থেকে আমি বেরিয়ে আসার পর দরজাটা দড়াম করে বন্ধ করে দিল লোকটা।
সকালের আলোয় রাস্তাটা ধূসর লাগছিল। কিছুটা দূরে কয়েকটা গাছের অন্ধকারে গা মিশিয়ে একটা কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়িটায় কেউ আছে কি না আমি বুঝতে পারছিলাম না। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আমি উলটোদিকে হাঁটলাম। গাড়িটা আমার পিছু পিছু এল। আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে গাড়িটার জন্য অপেক্ষা করলাম। পকেট থেকে হাত বের করে নিলাম, কারণ মিকি লিনেহানের লাল মুখটা ততক্ষণে আমার চোখে ধরা পড়েছে।
‘ঢুকে পড়ো।’ দরজা খুলে বলল মিকি। আমি ওর পাশে বসলাম।
‘আমার মনে হয়েছিল তোমাকে এখানে পাব।’ গাড়ি চালাতে চালাতে বলল মিকি, ‘কিন্তু পৌঁছোতে কয়েক সেকেন্ড দেরি হয়েছিল। পৌঁছে দেখলাম, তুমি ঢুকে পড়লে।’
‘পুলিশি হাঙ্গামা সামলালে কীভাবে?’
‘আমি কিছুই জানতাম না। তাই কিছু আন্দাজ করাও আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল। তুমি কী নিয়ে কাজ করছিলে, তাই নিয়েও আমি কিচ্ছু জানতাম না। পুরোনো বন্ধু– এখানে এসে দেখা হয়ে যায়। আমি ওদের এই বলে চলেছিলাম। ওরা যখন এই নিয়ে কীভাবে এগোনো যায় তাই ভাবছে, তখনই সিটি হলে হামলা হয়। আমাকে পেছনের একটা ঘরে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল। হট্টগোলে আমি কেটে পড়ি।’
‘হামলাটা কীরকম ছিল?’
‘ধুর! যারা হামলা করেছিল তাদের একেবারে কচুকাটা করল পুলিশ, বিশেষত পিট যাদের ঢুকিয়েছিল সেই ‘‘স্পেশাল ফোর্স’’! পুলিশের কাছে নাকি খবর ছিলই। শুনলাম হুইস্পারের লোকজন নাকি হামলা করেছিল। ওরা অনেকক্ষণ লড়েছিল, তবে শেষে একেবারে সাফ হয়ে যায়।’
‘রেনো আর পিটের মধ্যেও একহাত হয়েছে কাল রাতে। ওই নিয়ে কিছু শুনেছ?’
‘ওই… একহাত হয়েছে, এটুকুই শুনেছি।’
‘রেনো পিটকে মেরেছে। তবে তারপর ওরা একটা বড়ো দলের আক্রমণের সামনে পড়েছিল। তারপর কী হয়েছে, জানি না। ডিকের কী খবর?’
‘আমি ওর হোটেলে গেছিলাম। গিয়ে শুনলাম ও নাকি চেক-আউট করে সন্ধের ট্রেন ধরেছে।’
‘আমিই ওকে ফেরত যেতে বলেছিলাম।’ আমি ব্যাখ্যা করলাম, ‘ও ভাবছিল, ডিনা ব্র্যান্ডকে আমিই মেরেছি। ব্যাপারটা আমার স্নায়ুর চাপ বাড়াচ্ছিল।’
‘তাহলে…?’
‘মানে আমি সত্যিই মেয়েটাকে মেরেছি কি না? জানি না, মিকি। জানতেই চেষ্টা করছি। তুমি ভেবে বলো, কী করবে। আমার সঙ্গে যাবে, নাকি ডিকের মতো তুমিও ফিরে যাবে?’
‘একটা মৃত্যু, যেটা খুন কি না সেটাই আমার কাছে পরিষ্কার নয়, সেটা নিয়ে এত মাথা গরম কোরো না।’ মিকি বিজ্ঞের মতো বলল, ‘কিন্তু, একটা কথা বলো। ওর ব্যাগ থেকে টাকাপয়সা তুমি সরাওনি, তাই না?’
‘খুনিও ওগুলো সরায়নি। সেদিন সকাল আটটায় আমি ওখান থেকে বেরোই। তখনও টাকাপয়সা ওখানেই ছিল। ড্যান রল্্ফ তারপর ঢুকেছিল, আবার ন-টায় বেরিয়েছিল। ও ওসব নেবে না। তাহলে… পেয়েছি!’
‘কী?’
‘শেপ আর ভ্যানামান! ওই দুই পুলিশ সকাল সাড়ে ন-টায় ডিনা-র মৃতদেহ আবিষ্কার করে। খবর পাঠানোর আগে ওরা বাড়িটা থেকে যা কিছু মোটামুটি ঝাড়া সম্ভব, সেগুলো নিয়ে নেয়। ওই করতে গিয়েই এলিহু উইলসনের চিঠিগুলোও ওরা পায়। নিজেরা এলিহু-র সঙ্গে দেখা করে টাকা চাইলে বিপদ আছে, এটা ওরা ভালোই জানত। তাই ওরা এই লাইনের পুরোনো লোক চার্লস প্রক্টর ডনকে চিঠিগুলো দেয়। কিন্তু কিছু করার আগেই ডন খুন হয়। এই খবর পেয়েই ওই দুই মক্কেল ডিনা-র বাড়ি থেকে নেওয়া টাকা আর অন্য যা হাতে ছিল তাই নিয়ে কেটে পড়ে। এইজন্যই ওরা গায়েব হয়েছে।’
‘ঠিকই তো শোনাচ্ছে।’ মিকি স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে বলল, ‘কিন্তু খুনি কে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না এখনও।’
‘খুনি কে কে নয়, সেটা কিছুটা বোঝা যাচ্ছে। তুমি পোর্টার স্ট্রিট খুঁজে বের করে সেখানে রেডম্যান কোম্পানির পুরোনো গুদামটা বের করার চেষ্টা কত তো। আমি যা শুনেছি তাতে রল্্ফ ওখানে হুইস্পারকে সেই শিকটা দিয়েই খুন করেছিল, যেটা দিয়ে ডিনাকে খুন করা হয়েছিল। হুইস্পার যদি খুনটা করত, ও কিছুতেই রল্্ফ বা ওই শিককে ত্রিসীমানায় আসতে দিত না। আমার মনে হচ্ছে, হুইস্পার খুনটা করেনি। লাশগুলো একটু খুঁটিয়ে দেখতে হবে।’
‘কিং স্ট্রিটের ওপাশে পোর্টার স্ট্রিট। আমরা বরং দক্ষিণ দিকটা আগে দেখি। ওদিকে কয়েকটা গুদাম আছে। আচ্ছা, এই রলফ্ কি খুনটা করতে পারে?’
‘উঁহু। তা ছাড়া ডিনা-র কবজি আর গালে মারের দাগ ছিল। রল্্ফের গায়ে অত জোর নেই। আমার ধারণা, ও হাসপাতাল থেকে পালিয়ে কোথাও রাতটা কাটায়। তারপর ও হারিকেন স্ট্রিটের বাড়িতে আসে। ততক্ষণে আমি ওখান থেকে বেরিয়ে গেছি। ও নিজের চাবি দিয়ে ঢোকে এবং ডিনাকে মৃত অবস্থায় আবিষ্কার করে। ও নিজের মতো করে হুইস্পারকে খুনি সাব্যস্ত করে। শিকটা ডিনা-র শরীর থেকে বের করে ও হুইস্পারের সঙ্গে হিসেব মেটাতে বেরিয়ে পড়ে।’
‘কিন্তু তোমার হঠাৎ এটা মনে হল কেন যে তুমি মেয়েটাকে মেরেছ?’
‘আর কথা নয়!’ আমি বললাম, ‘আগে গুদামটা খুঁজে বের করা দরকার।’
