তেইশ – চার্লস প্রক্টর ডন
পরদিন সকালে ডিক ফোলি-র শুভাগমন হল। ওর সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট থেকে জানলাম, বিল কুইন্ট আগের দিন মাইনার্স হোটেল থেকে চেক-আউট করেছে। গন্তব্য সম্বন্ধে ও কাউকে কিছু বলে যায়নি। বারোটা পঁয়ত্রিশে পার্সনভিল থেকে ওগডেনের উদ্দেশে একটা ট্রেন ছাড়ে। ডিক কন্টিনেন্টালের সল্ট লেক ব্রাঞ্চে খবর পাঠিয়েছে, যাতে কুইন্টের সন্ধানে ওখানে কাউকে পাঠানো হয়।
‘এই মুহূর্তে সবাই সন্দেহভাজন।’ আমি বললাম, ‘তবে আমার নিজের ধারণা, কুইন্ট খুনটা করেনি। ওর সঙ্গে ডিনা-র ছাড়াছাড়ি হয়েছিল অনেকদিন আগে। কিন্তু ওর কাছ থেকে ডিনা এককালে অনেক ভেতরের খবর পেত। সেইসব ব্যাপার তদন্তে উঠে এলে ওর বিপদ। ডিনা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ও আর এখানে থাকার ঝুঁকি নেয়নি।’
ডিক সহমত হল। তারপর সংক্ষেপে বলল, ‘কাল রাতে বড়োরাস্তায় প্রচুর গুলিগোলা চলেছে। চার গাড়ি মদ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
আমি বুঝলাম, রেনো স্টার্কি তার মতো করে পিট দ্য ফিনের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর মিকি লিনেহান হাজির হয়ে রিপোর্ট পেশ করল।
‘ড্যান রল্্ফ ওই বাড়িতেই ছিল। হারিকেন স্ট্রিটের কোণে যে গ্রিক দোকানদার বসে, সে ওকে কাল সকাল ন-টা নাগাদ ওখান থেকে বেরোতে দেখেছিল। ড্যান টলমল করে হাঁটছিল, আর আপন মনে কী-সব বলছিল। দোকানদার ভেবেছিল, ড্যান হয়তো মাতাল হয়ে আছে।’
‘ও পুলিশকে কথাটা বলেনি কেন? নাকি বলেছিল?’
‘কে জানে। এখানকার পুলিশেরও বলিহারি! আমাদের এখন কী করণীয়? ওকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেব?’
‘ম্যাকগ্র ধরেই নিয়েছে যে হুইস্পার ডিনাকে খুন করেছে।’ আমি বললাম, ‘তাই ও আর কিছু, বা কাউকে নিয়ে মাথা ঘামাবে না। তা ছাড়া রল্্ফ শুধু ওই শিকটার জন্য যদি তখন ফিরে আসে, তাহলে আলাদা কথা। নইলে খুনটা ও করেনি। ডিনা রাত তিনটেয় খুন হয়েছে। অন্তত সকাল সাড়ে আটটায় ড্যান ওখানে ছিল না, আর শিকটা ডিনা’র বুকেই বিঁধে ছিল।’
আমার খুব কাছে এসে, শান্ত গলায়, ডিক জানতে চাইল, ‘তুমি কী করে জানলে?’
ওর তাকানো, আর গলার সুর আমার ভালো লাগল না। দাঁত খিঁচিয়ে বললাম, ‘তোমরা জানলে, কারণ আমি তোমাদের বলছি।’
ডিক কিছু বলল না। মিকি দন্তপাটি বিকাশ করে বলল, ‘তাহলে এখন কী করব আমরা? এখানকার পাট তাড়াতাড়ি চুকোনো দরকার।’
‘আমাকে সকাল দশটায় একজনের সঙ্গে দেখা করতে হবে।’ আমি বললাম, ‘আমি না ফেরা অবধি তোমরা হোটেলের আশেপাশেই থেকো। হুইস্পার আর রল্্ফ খুব সম্ভবত খুন হয়ে গেছে, তাই ওদের নিয়ে আর মাথা ঘামাতে হবে না আমাদের।’
আমি ডিকের দিকে তাকিয়ে ভ্রূ কুঁচকে বললাম, ‘আমি খবরটা জানি। তবে আমি ওদের মারিনি।’ ডিক আমার দিক থেকে চোখ না সরিয়েই মাথা নাড়ল।
আমি একা একা ব্রেকফাস্ট সারলাম। তারপর বেরিয়ে পড়লাম। কিং স্ট্রিট ধরে হাঁটতে গিয়ে দেখি গ্রিন স্ট্রিটে একটা গাড়ি ঢুকছে। গাড়িটায় হ্যাংক ও’মারা আর একটা অচেনা লোক বসে ছিল। আমার দিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে ও’মারা গাড়ি থামাল। আমি ওর কাছে গেলাম।
‘রেনো আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়।’ ছোকরা বলল।
‘কোথায় পাব ওকে?’
‘বসে পড়ুন।’
‘এখন যেতে পারব না।’ আমি বলতে বাধ্য হলাম, ‘বিকেলের আগে সুযোগ হবে না বোধ হয়।’
‘সময় পেলে মারির সঙ্গে দেখা করে ওকে বলে দেবেন।’
আমি রাজি হলাম। গাড়িটা চলে গেল। আমি রুটলেজ ব্লকের দিকে ঘুরলাম। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় আমি একটা জিনিস দেখলাম। দোতলার একটা টিমটিমে কোণে একটা জুতো পড়ে ছিল। জুতোটা এমনভাবে ছিল যেটা খালি জুতোর সঙ্গে ঠিক মানায় না। একটু এগিয়ে জুতোর সঙ্গে গোড়ালি আর একটা ট্রাউজারের কিছুটা অংশও দেখতে পেলাম। মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নিলাম ওটুকু থেকেই।
সিঁড়ির নীচে যে ছোট্ট জায়গাটা থাকে সেখানেই দুটো ঝাঁটা, একটা বালতি, একটা ন্যাতা– এসবের মধ্যে পড়ে ছিলেন চার্লস প্রক্টর ডন। কপাল চিরে দেওয়া একটা ক্ষতস্থান থেকে বেরোনো রক্ত লোকটার দাড়ির রঙ লাল করে দিয়েছিল। মাথাটা শরীরের সঙ্গে যে কোণে ছিল সেটা একমাত্র ঘাড় মটকে দেওয়া হলেই হয়।
আমি খুউব সাবধানে লোকটার কোটের একটা দিক সরালাম। ভেতরের পকেট ঘেঁটে একটা ছোট্ট নোটবই আর কিছু কাগজ পেলাম। সেগুলো পকেটস্থ করলাম। কোটের ভেতরের অন্য পকেটগুলোয় এমন কিছু পেলাম না যা আমার কাজে লাগে। বাকি পকেটগুলোর নাগাল পেতে হলে শরীরটা নড়াতে হত। সেই ঝুঁকিটা আমি নিতে চাইছিলাম না।
পাঁচ মিনিট পরে আমি হোটেলে ফিরে এলাম। মিকি আর ডিক লবিতে বসে আছে বলে আমি পেছনের একটা দরজা দিয়ে ঢুকলাম। নিজের ঘরে গেলাম। সেখানে আমার ‘লুটের মাল’ পর্যবেক্ষণ করলাম।
নোটবইটা খুবই সাধারণ। তাতে ছোটোখাটো কিছু জিনিস লেখা আছে। তা বাদে ওতে আমি বত্রিশটা ঠিকানা পেলাম। তার মধ্যে মাত্র একটা আমার চোখে লাগল।
হেলেন অ্যালবারি
১২২৯ এ, হারিকেন স্ট্রিট
ইন্টারেস্টিং! প্রথমত, ডিনা ব্র্যান্ডের সঙ্গে ডোনাল্ড উইলসনের সম্পর্ক আছে এই ভেবে ঈর্ষাকাতর হয়ে একটি খুন করে বর্তমানে হাজতে থাকা ছোকরা হল রবার্ট অ্যালবারি। দ্বিতীয়ত, ডিনা ব্র্যান্ড থাকত আর খুন হয়েছে যে ঠিকানায় সেটা হল ১২৩২ হারিকেন স্ট্রিট!
বইটায় আমার নাম ছিল না।
এবার বাকি কাগজগুলো ঘাঁটতে বসলাম। বেশিরভাগই অকাজের জিনিস ছিল। কাজের বলতে ছিল সুতো দিয়ে বাঁধা চারটে চিঠি। চিঠিগুলো খামে ভরা ছিল, তবে খামের ধার ছুরি দিয়ে কাটা হয়েছে। মোটামুটি এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেখা সবক’টা চিঠিরই প্রাপক ছিল ডিনা ব্র্যান্ড। প্রথমটা মোটামুটি গোছানো। দ্বিতীয়টা তার তুলনায় খারাপ। চার নম্বরটা তো ভীমরতিগ্রস্তর প্রেম-নিবেদন কতটা কদর্য হতে পারে তার জ্বলন্ত নিদর্শন।
চারটে চিঠিতেই সই করেছেন এলিহু উইলসন।
মোদ্দা কথা, শ্রীযুক্ত চার্লস প্রক্টর ডন আমাকে কীসের ভিত্ততে ব্ল্যাকমেল করতে চাইছিলেন সেটা না বুঝলেও আমি প্রচুর চিন্তার খোরাক পেলাম। আরও দুটো সিগারেট ধ্বংস করে নীচে গেলাম।
মিকিকে বললাম, ‘চার্লস প্রক্টর ডন নামের এক ল-ইয়ার সম্বন্ধে খবর নাও। লোকটার অফিস গ্রিন স্ট্রিটে, তবে ওর খুব বেশি কাছাকাছি যাওয়ার দরকার নেই। স্রেফ দূর থেকেই যতটা পারা যায় জানার চেষ্টা করো।’
ডিককে বললাম, আমাকে পাঁচ মিনিট মতো এগোতে দিয়ে ১২২৯ এ হারিকেন স্ট্রিটের কাছে আসতে।
রাস্তার ওপাশে, ডিনা-র বাড়ির ঠিক উলটোদিকে একটা দোতলা বাড়ি হল ১২২৯ হারিকেন স্ট্রিট। ওতে দুটো ভাগের দুটো আলাদা দরজা আছে। ‘এ’ অংশটায় ঢোকার জন্য বেল বাজালাম। একটা আঠেরো-উনিশ বছর বয়সি রোগা মেয়ে দরজা খুলল। ছোটো করে ছাঁটা চুল আর হলদেটে মুখে বাদামি চোখজোড়া দেখে মেয়েটাকে আরও কমবয়সি মনে হচ্ছিল। দরজা খুলে আমাকে দেখে মেয়েটা গলার ভেতরে একটা আওয়াজ তুলে সভয়ে পিছিয়ে গেল।
‘মিস হেলেন অ্যালবারি?’ আমি নরম গলায় জানতে চাইলাম।
মেয়েটা সজোরে মাথা এদিক-ওদিক করে ‘না’ বোঝাল। তাতে কিছুমাত্র সত্যি নেই, এটা বোঝার জন্য গোয়েন্দা হওয়ার দরকার ছিল না। ওর চোখজোড়া দেখে ওকে আদৌ সুস্থ বলে মনে হচ্ছিল না।
‘আপনার সঙ্গে আমার কয়েকটা কথা আছে।’ আমি ঘরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করলাম। মেয়েটা কিছু বলল না। আমার সামনে ও সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠল, তবে সেই সময়েও ঘাড় ঘুরিয়ে ও আমাকে দেখছিল। আমরা একটা প্রায় ফাঁকা বসার ঘরে গেলাম। তার জানলা দিয়ে ডিনা-র বাড়িটা দেখা যাচ্ছিল।
মেয়েটা তখনও একটা শব্দও করেনি। আমি ওকে আশ্বস্ত করার বৃথা চেষ্টা করলাম। বাধ্য হয়ে কাজের কথায় আসতেই হল।
‘আপনি কি রবার্ট অ্যালবারি-র বোন?’
উত্তর নেই। চোখে একটা বোধহীন ভয় ছাড়া অন্য কিছুর প্রকাশ নেই।
‘ডোনাল্ড উইলসনকে খুনের দায়ে ও গ্রেফতার হওয়ার পর আপনি এই ফ্ল্যাটটা নিয়েছিলেন ডিনা-র ওপর নজর রাখার জন্য। কিন্তু কেন?’
এবারও কোনো সাড়াশব্দ এল না। বাধ্য হয়ে আমাকেই উত্তর দিতে হল।
‘প্রতিহিংসা। আপনার ভাইয়ের দুর্গতির জন্য আপনি ডিনাকেই দায়ী করেছিলেন। সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন আপনি এই ক-দিন। সুযোগ এল পরশু রাতে। আপনি ওর বাড়িতে ঢুকলেন, ওকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পেলেন, তারপর বরফ ভাঙার শিকটা দিয়ে ওকে মারলেন। তাই তো?’
মেয়েটা ভয়ের কুয়ো থেকে উঠতে পারছিল না। আমিও কোনো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছিলাম না। বাধ্য হয়ে আমি একতরফা বলে চললাম।
‘চার্লস প্রক্টর ডন আপনাকে সাহায্য করছিল। ওর উদ্দেশ্য ছিল এলিহু উইলসনের লেখা প্রেমপত্রগুলো বাগানো। ও কি কাউকে পাঠিয়েছিল চিঠিগুলো ডিনা-র বাড়ি থেকে নিতে? সে-ই কি খুনটা করেছে? কে সে?’
কিচ্ছু হচ্ছিল না। আমার মনে হচ্ছিল, আমি একটা দেওয়ালের সঙ্গে কথা বলছি। ইচ্ছে হচ্ছিল মেয়েটাকে চড়-থাপ্পড় মেরে ওর কাছ থেকে একটা প্রতিক্রিয়া আদায় করি। সেসব না করে শান্ত গলায় বললাম, ‘আপনার কথাগুলো আমাকে বললেই পারতেন। কিন্তু তাতে আপনার কোনো আগ্রহ আছে বলে মনে হচ্ছে না। বেশ। আমার আর কিছু করার নেই।’
মেয়েটা চুপ করেই রইল। আমি বুঝতে পারছিলাম, এর চেয়ে বেশি খোঁচালে হয়তো আরও ভয়ানক কিছু হতে পারে। তাই চুপচাপ বেরিয়ে এলাম। রাস্তার কোণে ডিক ফোলির সঙ্গে দেখা হল। ওকে হেলেন অ্যালবারি-র বর্ণনা দিয়ে বললাম মেয়েটাকে অনুসরণ করতে। এও বললাম, মেয়েটার হাবভাব স্বাভাবিক নয়, তাই ও যেন সাবধানে থাকে।
আমি পিক মারি-র আড্ডার উদ্দেশে রওনা হলাম। রেনোর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু কিছুটা দূরেই থামতে হল আমাকে। মারি’জ-এর সামনে পুলিশের ভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। লোকজনকে ঠেলে, মেরে, হাতকড়া লাগিয়ে সেই গাড়িতে তোলা হচ্ছিল। যাদের তোলা হচ্ছিল আর যারা তুলছিল, তাদের চেহারায় আমি বিশেষ পার্থক্য খুঁজে পেলাম না। বুঝলাম, পুলিশের স্পেশাল ফোর্স তথা পিট দ্য ফিন এবার রেনোর সঙ্গে হিসেব মেটাচ্ছে। একটা অ্যাম্বুলেন্সও এল দেখলাম। তাতে কাকে কাকে তোলা হল, সেটা অত দূর থেকে বোঝা যায়নি।
হইচই আর ভিড় কমলে আমি নির্বিকার মুখে জায়গাটা এক চক্কর দিয়ে হোটেলে ফিরলাম। ইতিমধ্যে মিকি খবর নিয়ে এসে গেছিল। লবিতেই বসলাম।
‘চার্লস প্রক্টর ডন,’ মুখে বিতৃষ্ণা ফুটিয়ে বলল মিকি, ‘হল সেইরকম ল-ইয়ার যার কথা ভেবে জোকটা বানানো হয়েছিল।’
‘কোন জোক?’
‘সেই যে, ‘উনি কি ক্রিমিনাল ল-ইয়ার?’ ‘‘ভীষণভাবে!’’ লোকটা ব্ল্যাকমেলিঙের দায়ে গতবার ভালো ঝামেলায় ফেঁসেছিল, টাকাপয়সা খাইয়ে কেসটা ম্যানেজ করে। অ্যালবারি, মানে যাকে তুমি ধরিয়ে দিয়েছিলে, গ্রেফতার হওয়ার পর ওর বাড়ির লোক এই ল-ইয়ার লোকটিকে লাগায়। ওর সঙ্গে কথা বলে রবার্ট অ্যালবারি জানিয়ে দেয়, সে চার্লস প্রক্টর ডনের মুখদর্শন করতে চায় না। লোকটার বাড়ি লিবার্ট স্ট্রিটে। এর বেশি কিছু লাগবে এখন?’
‘না। আপাতত ডিকের জন্য অপেক্ষা করা যাক।’
মিকি হাই তুলে সম্মতি জানাল। তারপর বলল, আমরা নাকি বিখ্যাত হয়ে গেছি।
‘মানে?’ আমি জানতে চাইলাম।
‘রাস্তায় টমি রবিন্সের সঙ্গে দেখা হল।’ মিকি বলল, ‘ওকে কনসলিডেটেড প্রেস এখানে পাঠিয়েছে। আরও সব নামকরা খবরের কাগজ থেকে নাকি সাংবাদিকরা এখানে আসছে, শহরটায় কী হচ্ছে সেটা জানার জন্য।’
আমি সবেমাত্র খবরের কাগজের গুষ্টির তুষ্টি করা শুরু করেছিলাম। তখনই শুনলাম, আমার নাম ধরে ডাকাডাকি হচ্ছে। যে ছেলেটা ডাকছিল তাকে খুচরো দিয়ে জানা গেল, আমার ফোন আছে।
‘মেয়েটা একটু পরেই বেরিয়েছিল।’ গোটা গোটা বাক্যব্যয় করছিল ডিক ফোলি, ‘ও সোজা ৩১০ গ্রিন স্ট্রিটে গেছিল। সেখানে তখন পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। ওরা মেয়েটাকে সিটি হল-এ নিয়ে গেছে।’
‘ও কি ওখানেই আছে?’
‘হ্যাঁ, চিফের দফতরে।’
‘ঠিক আছে। ব্যাপারটার ওপর নজর রাখো, আর কী হচ্ছে সেটা জানিয়ো।’
আমি মিকি লিনেহানকে আমার ঘরের চাবি দিয়ে বললাম, ‘আমার ঘরেই আপাতত থাকো। আমার জন্য খবর বা চিঠিচাপাটি এলে রাস্তার কোণের ওই শ্যানন হোটেলে পাঠিয়ে দিয়ো। আমি ওখানে জে ডব্লিউ ক্লার্ক নামে উঠছি। ডিক ছাড়া আর কাউকে এই নিয়ে বোলো না।’
মিকি ‘‘মানে?’’ বলে চেঁচাল। তারপর উত্তর না পেয়ে, হতাশভাবে মাথা নেড়ে ও লিফটের দিকে এগোল।
