Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী
0/59
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

পাঁচ – এলিহু’র সুমতি

রাত আড়াইটা নাগাদ হোটেলে পৌঁছোলাম। কাউন্টার ক্লার্ক চাবির সঙ্গে একটা কাগজ দিল। দেখলাম, আমাকে বলা হয়েছে পপলার ৬০৫-এ ফোন করতে। নম্বরটা আমার চেনা। ওটা এলিহু উইলসনের।

‘এটা কখন এল?’ আমি জানতে চাইলাম।

‘ঘণ্টা দেড়েক আগে।’

রাত একটায় আমার খোঁজ করা হয়েছে মানে ব্যাপারটা জরুরি। একটা বুথে গিয়ে ফোন করলাম। বুড়োর সেক্রেটারি ফোন ধরল। আমাকে তক্ষুনি যেতে বলা হল। হোটেলে একটা ট্যাক্সির জোগাড় করতে বলে আমি নিজের ঘরে গেলাম এক পাত্তর চড়াতে। এই মোলাকাতের জন্য মাথা ঠান্ডা রাখলেও গা গরম রাখা জরুরি বলে মনে হল।

এলিহু উইলসনের বাড়ির সবকটা আলো জ্বলছিল। আমি কলিং বেলে হাত রাখার আগেই সেক্রেটারি দরজা খুলল। হালকা নীল পাজামা আর গাঢ় নীল বাথরোব পরা শীর্ণকায় শরীরটা দস্তুরমতো কাঁপছিল। কারণটা শীত নয়, উত্তেজনা।

‘তাড়াতাড়ি!’ হুড়মুড়িয়ে বলল স্ট্যানলি, ‘মিস্টার উইলসন অপেক্ষা করছেন। আর দোহাই আপনার, ওঁকে বোঝান যাতে লাশটা আমরা সরাতে পারি।’

আমি সায় দিয়ে লোকটার পেছন পেছন বুড়োর শোয়ার ঘরে গেলাম। এখনও এলিহু নিজের বিছানায় শুয়ে ছিলেন। তবে এবার একটা কালো অটোমেটিক পিস্তল ওঁর হাতের কাছেই পড়ে ছিল। আমি ঘরে ঢোকামাত্র বালিশ থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে বসল বুড়ো। তারপর আমার উদ্দেশে চেঁচাল, ‘এই যে! পালোয়ানের আসার সময় হল তাহলে?’

এলিহুর মুখের রং ছিল ঘোর লাল। সেইরকম লাল, যা দেখলেই ডাক্তাররা স্ট্রেচার, সিলিন্ডার এসব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু বুড়োর চোখে কোনো অস্বচ্ছ ভাব ছিল না। সেগুলো জ্বলছিল প্রায়!

আমি কোনো কথা না বলে, বিছানা আর দরজার মাঝামাঝি জায়গায় পড়ে থাকা লাশটা দেখছিলাম।

বেঁটে, কিন্তু গাট্টাগোট্টা একটা লোক চিত হয়ে, ফাঁকা চোখে ছাদের দিকে তাকিয়ে পড়ে ছিল। একটা ধূসর টুপি পরা থাকলেও লোকটার উড়ে যাওয়া থুতনি, আর ফুটো হয়ে যাওয়া গলা আমার নজর এড়াল না। লোকটার হাতের কাছে একটা মাথা-থেঁতলানোর মতো ডান্ডা পড়েছিল। আর ছিল রক্ত। অনেক রক্ত।

আমি নীচ থেকে মাথা তুলে এলিহুর দিকে তাকালাম। বুড়োও হাসিমুখে আমার দিকে তাকাল। তবে হাসিটা ছিল কিছুটা বোকা বোকা, আর হিংস্র।

‘তোমার মুখে বুলি তো প্রচুর ফোটে।’ বুড়ো বলল, ‘কথা বলার সময় তুমি কারো পরোয়া কর না। কিন্তু বুলি ছাড়া আর কিছু আছে তোমার? অ্যাঁ?!’

আমি বিরক্ত মুখে বললাম, ‘আপনাকে না বলেছিলাম, যদি কাজের কথা থাকে তাহলেই আমাকে বিরক্ত করবেন!’

‘বলেছিলে।’ এলিহুর গলায় একটা অদ্ভুত আবেগ খুঁজে পাচ্ছিলাম, ‘কাজের কথা বলার জন্যই তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছি। আমি পয়জনভিল সাফ করার একটা লোক চাই। এমন কেউ যে এখানে যত ইঁদুর, বাদুড়, শুয়োর আছে, সে ছোটো হোক বা বড়ো, তাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে। এর জন্য শুধু লোক নয়, যাকে বলে, মর্দ হওয়া দরকার। তা, তুমি কি মর্দ?’

‘এসব হাবিজাবি বকছেন কেন?’ আমি প্রায় গর্জে উঠলাম, ‘আমি যা করি সেরকম কিছু যদি আপনি করাতে চান, আর সেটা আমার দরে পোষায়, তাহলে আমি কাজটা করতেই পারি। কাজের কথা বলুন।’

‘আমি চাই পার্সনভিল যেন বজ্জাত আর ধান্দাবাজদের হাত থেকে মুক্ত হয়। নাও, হল এবার ‘‘কাজের কথা’’?’

‘আজ সকালে তো চাইছিলেন না।’ আমি বললাম, ‘তাহলে এখন কেন?’

এলিহু ব্যাখ্যা দিলেন। ভূরি ভূরি গালাগাল এবং বিষাক্ত মন্তব্য বাদ দিলে যা দাঁড়ায় তার সরলার্থ হল, তাঁর সাজানো বাগান শুকিয়ে যাচ্ছে এটা তিনি দেখতেই পাচ্ছিলেন। তাও তিনি সব বরদাস্ত করছিলেন। কিন্তু এবার যখন তাঁকে, স্বয়ং এলিহু উইলসনকেই ভয় দেখিয়ে ‘‘লাইনে আনার’’ চেষ্টা হচ্ছে, তখন তিনি আর চুপ করে থাকবেন না।

‘আমি ওদের দেখিয়ে দেব…’ লাশের দিকে আঙুল তুলে বুড়ো বলল, ‘আমার বিষদাঁত এখনও ভাঙেনি।’

আমার অস্বস্তি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, বুড়োর এই আচরণের পেছনে শুধু রাগ নয়, অন্য কিছুও আছে। লাশটা দেখিয়ে আমি জানতে চাইলাম, ‘ওকে কি আপনার পুরোনো বন্ধুরা পাঠিয়েছিল?’

‘ওর সঙ্গে কথা যা হওয়ার তা আমি নয়, এ বলেছিল।’ বুড়ো পিস্তলটা দেখাল, ‘তবে হ্যাঁ, মনে হয় তারাই পাঠিয়েছিল।’

‘ঘটনাটা কীভাবে ঘটল?’

‘আমি দরজা খোলার শব্দ পেলাম। আলো জ্বালালাম। দেখলাম, শ্রীমান হাতে ডান্ডা নিয়ে ঢুকছেন। আমি গুলি করলাম।’

‘কখন হল এটা?’

‘একটা নাগাদ।’

‘আর এতক্ষণ আপনি লাশটা এখানেই পড়ে থাকতে দিয়েছেন?’

‘আজ্ঞে।’ এলিহুর মুখে আবার সেই হিংস্র হাসিটা ফিরে এল, ‘কেন? লাশ দেখে ভয় পাচ্ছ বুঝি?

এইবার ব্যাপারটা বুঝলাম। বুড়ো ভয় পেয়েছে। ওই লাশটা আপাতত ওর কাছে একটা প্রমাণ যে ও আত্মরক্ষা করতে পারে। সেজন্যই এই আচরণ। আমিও হেসে বললাম, ‘আপনি সত্যিই ‘‘স্বচ্ছ শহর অভিযান’’ চালাতে চান?’

‘আর কতবার বলতে হবে?’

‘আমার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা চাই। কাউকে কোনোরকম দয়াদাক্ষিণ্য দেখাব না। কারো হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করব না। আর হ্যাঁ, আমার দশ হাজার ডলার রিটেইনার লাগবে।’

‘দশ হাজার ডলার? আমার কি মাথা খারাপ হয়েছে যে একটা অচেনা-অজানা লোককে এতগুলো টাকা দিয়ে দেব? তাও আবার এমন একজন, যাকে বাতেলা মারা ছাড়া অন্য কিছু করতে দেখিনি!’

‘আহ্‌! ‘‘আমার’’ মানে কন্টিনেন্টাল-এর। আপনি তাদের কাজকর্ম সম্বন্ধে নিশ্চয় জানেন।’

‘জানি। তারাও আমার সম্বন্ধে জানে। তারা জানে যে–’

‘উঁহু! ওভাবে নয়। আপনি যাদের ‘‘সাফ’’ করতে চাইছেন, তারা কাল অবধিও আপনার বন্ধু ছিল। কে জানে, আগামী সপ্তাহে তারা আবার আপনার বন্ধু হয়ে যাবে কি না। হতেই পারে। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু আপনি যদি ভাবেন আমাকে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করিয়ে তাদের আবার ‘‘লাইনে আনবেন’’, তাহলে হবে না। টাকার অংকটা আমি এমনই বলেছি, যাতে আপনার কাজটা পুরো হয়। যা বাঁচবে, আপনি ফেরত পাবেন। কিন্তু মাঝপথে আমি কাজ থামাব না। এবার ভালো করে ভেবে বলুন, আপনি কাজটা করাবেন, না ছেড়ে দেবেন?’

‘ছেড়ে দেব!’ চেঁচাল বুড়ো।

সিঁড়ি ধরে অর্ধেকটা নেমে আসার পর আবার ডাক পড়ল।

‘আমার এখন বয়স হয়েছে।’ বুড়ো গজগজ করল, ‘যদি বয়সটা দশ বছর কম হত তাহলে…! ঠিক আছে, তোমাকে চেকটা দিচ্ছি।’

‘সঙ্গে এটাও স্পষ্টভাবে বলা থাকবে তো, যে আমি কাজটা নিজের মতো করে করব?’

‘হ্যাঁ।’

‘শুভস্য শীঘ্রম। আপনার সেক্রেটারি কোথায়?’

এলিহু বিছানার পাশের একটা বোতাম টিপলেন। সেক্রেটারি নিঃশব্দে উদয় হল। আমি তাকে বললাম, ‘মিস্টার উইলসন কন্টিনেন্টাল ডিটেকটিভ এজেন্সি-র নামে দশ হাজার ডলারের একটা চেক কাটতে চান। তিনি এও চান যেন এজেন্সির সানফ্রানসিস্কো শাখার উদ্দেশে একটা চিঠি লেখা হয়। সেই চিঠিতে বলা থাকবে, মিস্টার উইলসন এজেন্সিকে দিয়ে, কাজের ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রেখে, পার্সনভিল-এ অপরাধ ও রাজনৈতিক দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করাতে চান। এই কাজের জন্য এজেন্সি দশ হাজার ডলার ব্যবহার করতে পারে।’

সেক্রেটারির সপ্রশ্ন দৃষ্টির সামনে বুড়ো ভ্রূ কুঁচকেও মাথা ঝোঁকাল। আমি তাকে বললাম, ‘কিন্তু তার আগে আপনি পুলিশকে ফোন করে বলুন যে একটি চোর মারা গেছে। তারপর মিস্টার উইলসনের ডাক্তারকে ডাকুন।’

এলিহু ডাক্তারদের জাহান্নমে পাঠাতে চাইলেও আমি গোঁ ধরে রইলাম।

‘ডাক্তার আপনাকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেবে, যাতে আপনি ঘুমোতে পারেন। আমি আজ রাতে এখানেই থাকব। কাল আমরা পয়জনভিল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করব।’

বুড়ো ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। আমার উদ্দেশে ওর গালাগালি জানলার কাচে অবধি তেমন কাঁপুনি তুলতে পারল না। ইতিমধ্যে আমি লাশের মাথা থেকে টুপি সরিয়ে তাকে ভালোভাবে দেখলাম, তবে লোকটাকে চিনতে পারলাম না। আমি সোজা হওয়ামাত্র বুড়ো জানতে চাইল, ঈষৎ নীচু স্বরে, ‘ডোনাল্ডের খুনির ব্যাপারে কিছু জানতে পারলে?’

‘হ্যাঁ। তবে ব্যাপারটার এসপার-ওসপার করতে আরও একটা দিন লাগবে।’

‘কে?’

তখনই স্ট্যানলি নামক সেক্রেটারি আবার হাজির হল, চিঠি আর চেক নিয়ে। আমি বুড়োর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ওগুলোই তার হাতে দিলাম। এলিহু উইলসনের কাঁপা হাতের সই দুটো কাগজে নিয়ে আমি সেগুলো সযত্নে পকেটে ভরলাম। তখনই পুলিশ এল।

পুলিশ চিফ নুনান নিজেই সবচেয়ে আগে ঘরে ঢুকল। উইলসনের দিকে মাথা ঝাঁকিয়ে, আমার হাত ঝাঁকিয়ে ও পুরো মনোযোগ দিয়ে লাশটা দেখল।

‘চমৎকার!’ খুশিয়াল গলায় বলল নুনান, ‘খুব ভালো হয়েছে। ইয়াকিমা শর্টি। পুরোনো পাপী। ওর হাতের অস্তরটা দেখেছেন? এই দিয়ে তো হাতি পেড়ে ফেলা যায়! তা, এই সমাজসেবামূলক কাজটা কে করল? আপনি?’

‘আমি না।’ আমি সবিনয় বললাম, ‘মিস্টার উইলসন।’

‘দারুণ কাজ করেছেন।’ মেডেলজয়ীকে অভিনন্দন জানানোর মতো করে বলল নুনান, ‘আমাদের বিস্তর ভোগান্তি কমিয়ে দিয়েছেন আপনি।’

নুনানের নির্দেশমতো পুলিশেরা লাশটার সদ্‌গতি করতে সেটা নিয়ে গেল।

‘চোর-ডাকাতদের এই কায়দায় অভ্যর্থনা জানানোর রেওয়াজ ঘরে ঘরে থাকা উচিত।’ পকেট থেকে চুরুট বের করে বকবক করছিল নুনান, ‘ভালো কথা, একটা কাজে আপনি সঙ্গে থাকলে ভালো হয়। আমি তাতেই ব্যস্ত ছিলাম, যখন এই ফোনটা এল। তাই এত তাড়াতাড়ি খবর পেলাম।’

‘কী কাজ?’

‘হুইস্পারকে তুলব।’ আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করল নুনান, ‘যাবেন নাকি আমার সঙ্গে?’

‘যাব।’

‘জানতাম। আমিও আপনাকে খুঁজছিলাম সেজন্যই।’

ডাক্তার ঘরে ঢুকে, নুনানের সঙ্গে মৌখিক সৌজন্য বিনিময় করে এলিহুর পাশে গেল। ছোট্ট, গোলগাল মানুষটির গোল মুখ আর ধূসর চোখে তখনও ঘুম লেগে ছিল। নুনানের এক সঙ্গী, পরে নাম জেনেছিলাম লেফটেন্যান্ট ম্যাকগ্র, এলিহু-কে ‘ঘটনাটা’ নিয়ে প্রশ্ন করছিল। আমি স্ট্যানলির পিছু পিছু হলে গেলাম।

‘আপনি ছাড়া বাড়িতে আর কেউ আছে?’ আমি জানতে চাইলাম।

‘আছে। মিস্টার উইলসনের শ’ফার।’

‘শ’ফারকে বলুন আজ রাতে বুড়োর ঘরে থাকতে। আমি নুনানের সঙ্গে বেরোচ্ছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসব। তা ছাড়া আজ রাতে আর নতুন কিছু হবে বলেও মনে হয় না। তবু, যাই হোক না কেন, বুড়ো যেন আজ রাতে একা না থাকে। আর, নুনান বা তার কোনো লোকের সঙ্গে যেন বুড়ো একা না পড়ে যায়।’

সেক্রেটারির মুখ আর চোখ দুটোই গোল হয়ে গেল।

‘গতরাতে ডোনাল্ড উইলসনের সঙ্গে আপনার শেষ কখন দেখা হয়েছিল?’

‘আপনি বলছেন, গতরাতের আগের রাতে? যে রাতে উনি খুন হয়েছিলেন?’

‘হ্যাঁ।’

‘ঠিক সাড়ে ন-টায়।’

‘বিকেল পাঁচটা থেকে রাত সাড়ে ন-টা অবধি আপনি ওঁর সঙ্গেই ছিলেন?’

‘সোয়া পাঁচটা থেকে। বেশ কিছু দলিল আর চিঠি নিয়ে আমরা ওঁর অফিসেই বসে ছিলাম প্রায় আটটা অবধি। তারপর আমরা বেয়ার্ডস-এ গেলাম, ডিনার সারলাম, বাকি আলোচনাও সারলাম। সাড়ে ন-টায় উনি বললেন, ওঁর কার সঙ্গে একটা দেখা করার আছে। উনি বেরিয়ে গেলেন।’

‘কোথায় গেলেন, বা কার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, এসব কিছু বলেননি?’

‘না।’

‘আপনার কোনো ধারণা নেই এই বিষয়ে?’

‘আমার! আমার কেন ধারণা থাকবে?’

‘মনে হল, হয়তো উনি কিছু বলে থাকবেন।’ আমি আজ রাতের ঘটনায় ফিরে আসি, ‘আজ মিস্টার উইলসনের সঙ্গে দেখা করতে কে কে এসেছিল? মানে যাকে উনি গরমাগরম সিসে দিয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন সে বাদে?’

‘মাফ্‌ করবেন।’ সেক্রেটারির মুখে একটা দুঃখিত হাসি ফুটল, ‘মিস্টার উইলসনের অনুমতি ছাড়া আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না।’

‘শহরের কোনো হোমরাচোমরা আসেনি ওঁর সঙ্গে দেখা করতে? ধরুন, লিউ ইয়ার্ড, বা …’

‘মাফ্‌ করবেন।’

‘ঠিক আছে, ঠিক আছে।’ আমি মাথা ঠান্ডা রেখে বলি, ‘আমরা এই নিয়ে তর্ক করব না।’

ডাক্তার তখনই ঘর থেকে বেরিয়ে আমাদের দিকে এলেন।

‘উনি এখন ঘুমোবেন।’ বললেন ডাক্তার, ‘তবে ওঁর সঙ্গে কারো থাকা উচিত। আমি আবার সকালে আসব।’

আমি শোয়ার ঘরে গেলাম। নুনান আর ম্যাকগ্র বিছানার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল।

‘আমাদের কাজ মিটেছে।’ নুনান হাসিমুখে বলল, ‘তাহলে এবার হাঁটি হাঁটি পা পা করে বেরিয়ে পড়া যাক?’

সেক্রেটারি স্ট্যানলি শ’ফারকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে আসার পর, এলিহুকে শুভরাত্রি জানিয়ে আমরা সবাই নীচে নামলাম। গাড়িতে পেছনের সিটে, আমার পাশে বসে নুনান বলল, ‘আমরা ভোর হওয়ার ঠিক আগে ওকে তুলব। কিং স্ট্রিটে হুইস্পারের একটা আড্ডা আছে। ও ওইসময়েই বেরোয়। আমরা তার আগেও যেতে পারি, কিন্তু অকারণ গুলিগোলা চলবে, রক্তপাত হবে। তার বদলে যখন ও বেরোচ্ছে তখনই…’

‘ওর বিরুদ্ধে অভিযোগটা প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট মালমশলা আপনার কাছে আছে তো?’ আমি জানতে চাই।

‘যথেষ্ট?’ শরীর দুলিয়ে হাসল নুনান, ‘মিসেস উইলসন আমাদের যা দিয়েছেন তাও যদি যথেষ্ট না হয় তাহলে আমি পুলিশ চিফ নই, চোর-ছ্যাঁচোড়!’

আমি কিছু বললাম না।