বারো – পরের রাউন্ড
ম্যাকসোয়েনের সন্ধানে বেরোলাম। ফোনবুক বা ডাইরেক্টরি থেকে কিছু জানা গেল না। পুলরুম, চুরুট স্টোর, মদ্যপানের আসর… কোনো জায়গা বাদ দিলাম না। দেখতে না পেয়ে সাবধানি প্রশ্নও করলাম জায়গা বুঝে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। শেষে ঠিক করলাম, হোটেলে ফিরে ঘুমোব। তারপর রাতে আবার লোকটাকে খুঁজব। হোটেলে ঢুকতেই দেখলাম, লবির কোণে খবরের কাগজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা লোকটা উঠে দাঁড়িয়ে আমার দিকে আসছে।
বব ম্যাকসোয়েন।
আমি যে উৎকণ্ঠ তাহার লাগি প্রতীক্ষিয়া ছিলাম, সেটা বুঝতে দিলাম না। আলগাভাবে নড্ করে এলিভেটরের দিকে এগোলাম। লোকটা আমার সঙ্গেই এগোল।
‘ইয়ে… আপনার একটু সময় হবে?’
‘হবে।’ আমি আলগাভাবেই ঘুরলাম, ‘তবে বেশিক্ষণ থাকতে পারব না।’
‘একটু আড়ালে গেলে ভালো হয়।’ বুঝলাম, লোকটা ভালোমতোই নার্ভাস হয়ে আছে। আমি ওকে নিজের ঘরে নিয়ে গেলাম। একটা চেয়ারে বসে, মুখে একটা দেশলাই কাঠি ভরে কিছুক্ষণ সেটা চিবোল ও। তারপর বলল, ‘দেখুন, আমি বলতে চাইছি যে…’
‘যে, কাল আমার সঙ্গে দেখা করার আগেই আপনি জানতেন আমি কে। যে, বুশ আদৌ আপনাকে কোথায় বাজি ধরা উচিত সেই নিয়ে কিছু বলেনি। যে, ওর ইতিহাস আপনি জানতেন নিজে এককালে পুলিশ ছিলেন বলে। যে, আপনি ভেবেছিলেন আমাকে দিয়ে বুশকে নাড়িয়ে-চাড়িয়ে নিজে একটা দাঁও মারবেন। তাই তো?’
‘অত কিছু বলব ভাবিনি।’ ম্যাকসোয়েনের মুখে একটা ক্লিষ্ট হাসি ফুটল, ‘তবে বলাই যখন হয়ে গেছে, তখন সবকটারই শেষে ‘হ্যাঁ’ বসিয়ে নিন।’
‘কাল কত কামালেন?’
‘আমি ছ-শো কামালাম।’ টুপিটা সরিয়ে নিজের চিবোনো দেশলাই কাঠিটা দিয়ে কপাল চুলকোল ম্যাকসোয়েন, ‘তারপর সেটা, আর আরও দু-শো ডলার তাসে হারলাম। শেষে ব্রেকফাস্টের জন্য লোকের কাছে হাত পাততে হল। ভাবতে পারেন!’
‘জীবন এইরকমই’ টাইপের কিছু একটা ফাঁপা উত্তর দিলাম। তার উত্তরে ও বলল, ‘সেজন্যই আমি ভাবলাম আপনার কাছে আসি। দেখুন, আমিও তো এককালে এই লাইনে ছিলাম। আমি জানি এখানে…’
‘আপনাকে নুনান তাড়িয়েছিল কেন?’
‘তাড়িয়েছিল! মোটেই না। আমার স্ত্রী গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছিলেন। সেই বিমার টাকা নিয়ে আমি চাকরি ছেড়ে দিই। ওসব আর ভালো লাগছিল না।’
‘আমি যে শুনলাম, ওর ভাইয়ের আত্মহত্যার পরেই নুনান আপনাকে বের করে দেয়!’
‘ভুল শুনেছেন। চাইলে আপনি নুনানকেই জিজ্ঞেস করতে পারেন।’
‘তার কোনো দরকার নেই। তা আপনি কী যেন বলছিলেন?’
‘বলছিলাম যে আমি একদম পথে, বা তারও নীচে বসে গেছি। তবে আপনি এই শহরে কী করছেন, সেটা আমি ভালোই বুঝতে পারছি। আমাকেও দলে নিন না! আমি যা জানি, তা আপনাকে আর কেউ বলতে পারবে না।’
‘আপনি আমার খোঁচড় হতে চান?’
লোকটা সোজা আমার চোখে চোখ রেখে শান্ত গলায় বলল, ‘সব কিছুকে আজেবাজে নাম দেওয়াটা কাজের কথা নয়।’
‘আমি আপনাকে একটা কাজ দিচ্ছি ম্যাকসোয়েন।’ আমি পকেট থেকে মির্টল জেনিসনের সই করা কাগজটা বের করে ওকে দিলাম, ‘এই ব্যাপারটা আমাকে একটু বিশদে বলুন তো।’
শব্দগুলো রীতিমতো উচ্চারণ করে, তবে নিঃশব্দে পড়ল ম্যাকসোয়েন। ওর ঠোঁটের কোণে দেশলাই কাঠিটা ওপর-নীচ করছিল তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে। পড়া হয়ে যাওয়ার পর কাগজটা আমার খাটের পাশে রেখে ও কিছুক্ষণ ভ্রূ কুঁচকে সেদিকে তাকিয়ে রইল। তারপর গম্ভীরভাবে বলল, ‘আগে আমাকে একটা ব্যাপার জানতে হবে। আপনি একটু অপেক্ষা করুন। আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরছি।’
আমি হেসে ফেললাম। বললাম, ‘আপনি আমাকে কতটা বোকা ভাবেন? আপনি জানেন, এত সহজে এখান থেকে বেরোতে পারবেন না আপনি।’
‘উঁহু। আমি জানি না।’ গম্ভীরভাবেই মাথা নাড়ল ম্যাকসোয়েন, ‘আপনিও জানেন না। হ্যাঁ, আপনি এটুকু জানেন যে আপনি আমাকে আটকাতে চেষ্টা করবেন।’
‘ঠিক।’ কথাটা বলতে বলতেও আমি পরিস্থিতিটা নিয়ে ভাবছিলাম। ম্যাকসোয়েন বয়সে আমার চেয়ে বছর ছ-সাতেকের ছোটো। লোকটা এখনও শক্তপোক্ত আছে। হয়তো ওর ফিটনেসও আমার চেয়ে ভালো। তবে ভেবে যখন ফেলেইছি…!
খাটের পাশে দাঁড়িয়ে নিবিষ্টচিত্তে আমাকে দেখছিল ম্যাকসোয়েন। পা ঝুলিয়ে বসে আমিও ওকে একইভাবে দেখছিলাম। এভাবে মিনিট তিনেক কাটল। সেই সময়টায় আমি ভাবছিলাম, ও আমার ওপর ঝাঁপালে বন্দুক বের করা যাবে না। আমরা বড্ড কাছে আছি। তার বদলে চিত হয়ে, কোমরে ভর দিয়ে যদি ওকে একটা লাথি কষানো যায় তাহলে কী হতে পারে? এইসব ভাবার মধ্যেই ম্যাকসোয়েন বলে উঠল, ‘ওই আংটিটা মোটেই হাজার ডলারের ছিল না। আমি ওটা বেচে শ’দুয়েক ডলার পেয়েছিলাম।’
‘আপনি বসুন। তারপর আমাকে সবটা বলুন।’
মাথা নাড়িয়ে ও আমাকে বলল, ‘তার আগে আপনি বলুন, এসব জেনে আপনি কী করবেন?’
‘হুইস্পারকে ফাঁসাব।’
‘সেটা নয়। আমাকে নিয়ে কী করবেন?’
‘আপনাকে আমার সঙ্গে সিটি হল যেতে হবে।’
‘মাত্তা খারাপ!’
‘কেন? আপনি তো শুধু সাক্ষী হবেন।’
‘নুনান ঘুস নেওয়ার দায়ে আমাকে প্রথমে ফাঁসাবে। তারপর সাব্যস্ত করবে, আমিও খুনির সঙ্গে ছিলাম। কোনো লাভ না থাকলেও ও এটা করবেই।’
আমি দেখলাম, এভাবে কিছু হবে না। বলতে বাধ্য হলাম, ‘দেখুন, যাই হোক না কেন, নুনানের সঙ্গে আপনাকে দেখা করতেই হবে। চলুন আমার সঙ্গে।’
‘নিয়ে যেতে চেষ্টা করুন।’
আমি সোজা হয়ে বসে পেছন দিকে হাত বাড়ালাম। ও আমার দিকে ঝাঁপ দিল। আমি প্ল্যানমাফিক চিত হয়ে গোড়ালিটা ওর দিকে ছুড়লাম। দুঃখের বিষয়, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ম্যাকসোয়েন খাটে ধাক্কা খেয়েছিল। এতে খাটটাই সরে গেছিল বলে আমি গড়িয়ে মেঝেতে পড়ে গেলাম। তখনও আমি বন্দুকটা বের করার চেষ্টা করছিলাম। এদিকে ম্যাকসোয়েন তখনও থামেনি। খাটের ওপর ঝুঁকে, প্রায় ডিগবাজি খেয়ে ও আমার পাশেই এসে পড়ল।
আমি বন্দুকটা এতক্ষণে বের করতে পারলাম। ওর বাঁ-চোখের ঠিক ওপরে সেটা চেপে ধরে বললাম, ‘আর না। যথেষ্ট নাটক হয়েছে। এবার শান্ত হয়ে থাকুন, নইলে আপনার মাথাটা অন্যরকম দেখতে হয়ে যাবে।’
নিজে উঠে দাঁড়িয়ে কাগজটা পকেটে ভরলাম। তারপর ম্যাকসোয়েনকে দাঁড় করিয়ে ওর তল্লাশি নিলাম। অস্ত্রশস্ত্র কিছু পেলাম না। বললাম, ‘টুপিটা ঠিকঠাক করুন। টাইটা সোজা করে পরুন। এবার চলুন, যাতে লোকে না ভাবে যে আপনাকে মারধর করে নিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে এটা মাথায় রাখবেন, আমার ওভারকোটের পকেটে কিছু একটা আপনার দিকে মুখ করে থাকবে। আমার একটা হাত সেখানেই থাকবে।’
ম্যাকসোয়েন হাল ছেড়ে দিয়েছিল। নিজেকে যথাসাধ্য ফিটফাট করে ও বলল, ‘আমি পালাব না। বরং স্বেচ্ছায় এসেছি এটা জানলে হয়তো নুনান আমাকে… ইয়ে, আপনি কিছু মনে করেননি তো?’
‘মোটেই না।’
নুনান খেতে বেরিয়েছিল। ওর অফিসের বাইরের ঘরে আমাদের আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হল। ঢুকে ও আমাকে যথারীতি ‘কেমন আছেন?… যা বলেছেন… সে তো বটেই…’ এসব দিয়ে স্বাগত জানাল। ম্যাকসোয়েনের সঙ্গে ও কোনো কথা বলল না, শুধু খরচোখে ওকে একবার মেপে নিল। ওর চেম্বারে ঢুকলাম। আমার জন্য একটা চেয়ার টেনে নিজেও বসল নুনান। ম্যাকসোয়েন দাঁড়িয়েই রইল।
আমি নুনানকে কাগজটা দিলাম। নুনান কাগজটায় চোখ বোলাল। তারপর এক লাফে উঠে এসে ম্যাকসোয়েনের মুখে একটা ঘুসি মারল। ঘুসিটায় দম ছিল। ম্যাকসোয়েন প্রায় ঠিকরে গিয়ে পেছনের দেওয়ালে পড়ল। দেওয়ালটা কেঁপে উঠল। নুনান আর শহরের হোমরাচোমরাদের একটা ফ্রেম করা ফটোগ্রাফ দেওয়ালে ঝুলছিল, সেটাও ম্যাকসোয়েনের পাশে মেঝেতে পড়ল। নুনান উঠে দেওয়ালের কাছে গেল। ফটোফ্রেমটা তুলে ও সেটা ম্যাকসোয়েনের মাথা আর কাঁধে ততক্ষণ ধরে আছড়াল যতক্ষণ না জিনিসটা একেবারে চুর চুর হয়ে যায়।
‘ওর মতো বজ্জাত এই শহরে খুব একটা পাবেন না।’ নিজের সিটে ফিরে এসে হাসিমুখে বলল নুনান।
ম্যাকসোয়েন সোজা হয়ে বসল। ওর নাক, মুখ, এমনকী মাথা থেকেও রক্ত পড়ছিল। নুনান ওর উদ্দেশে একটা হুংকার ছাড়ল, ‘এখানে এসো।’
‘হ্যাঁ, স্যার।’ বলে ম্যাকসোয়েন উঠে দাঁড়িয়ে প্রায় দৌড়ে ডেস্কের কাছে গেল।
‘এবার সব সত্যি বলবে। নইলে…!’
‘হ্যাঁ, স্যার। মেয়েটা যা লিখেছে, তেমনই হয়েছিল। তবে হিরেটা একদম জালি ছিল। স্রেফ দু-শো ডলারের জন্য আমি তখন চুপ করে ছিলাম, স্যার। আমি যখন টিমের কাছে পৌঁছোলাম তখন মেয়েটা সবে ওকে জিজ্ঞেস করেছে, ‘‘কে গুলি করেছে তোমাকে?’’ টিম তার উত্তরে ‘‘ম্যাক্স!’’ বলে উঠল। জোরে। যেন ও চাইছিল, কথাটা অন্যরা জানুক। কিন্তু বিশ্বাস করুন, হিরেটা একদম…’
‘নিকুচি করেছে হিরের!’ নুনান গর্জে উঠল, ‘রক্ত ফেলে আমার ঘরের কার্পেট নষ্ট করবে না।’
পকেট হাতড়ে একটা নোংরা রুমাল বের করল ম্যাকসোয়েন। সেটা নাকে চেপে ও বলে চলল, ‘এটাই সত্যি। আমি আর কিছু লুকোইনি। জানি, আমার তখনই কথাটা বলা উচিত ছিল। কিন্তু বলিনি কারণ…’
‘চোপ!’ আবার হুংকার ছাড়ল নুনান। ও একটা বোতাম টিপল। একজন ইউনিফর্ম পরা পুলিশ ভেতরে ঢুকল। নুনান তাকে বলল, ‘এই বজ্জাতটাকে আমাদের অতিথি বানানোর ব্যবস্থা করো। তবে তার আগে বাকিদের বলো, ওর ওপর যেন হাতের সুখ করে নেয়।’
‘কিন্তু চিফ…! আমি তো…’ ওর কাতর আর্তনাদ দূরে সরে গেল।
নুনান একটা চুরুট বের করে আমাকে দিল। নিজেও একটা ধরাল। তারপর কাগজটা দেখিয়ে বলল, ‘এই মেয়েটাকে কোথায় পাব?’
‘হাসপাতালে। মুমূর্ষু অবস্থায়।’ আমি বললাম, ‘আমি যেভাবে এটা ম্যানেজ করেছি সেটা আদালত মানবে না। আপনাকে বেশি খাটতে হবে। ভালো কথা, শুনলাম পিক মারি এখন আর হুইস্পারের জিগরি দোস্ত নয়। ও হুইস্পারের অন্যতম অ্যালিবাই ছিল, তাই না?’
‘ছিল।’ ফোন তুলে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল নুনান, ‘ম্যাকগ্র, পিক মারিকে এখানে আসতে বলো। আর ওই ছুরি মারার কেসে টোনি আগস্তিকে তোলো।’
উঠে দাঁড়িয়ে বেশ কিছুক্ষণ চুরুট টানল নুনান। ওর চারপাশে ধোঁয়ার একটা আস্তরণ তৈরি হল। ও বলল, ‘এই ক-দিন আপনার সঙ্গে আমার ব্যবহারটা ঠিক… ঠিকমতো হয়নি।’
মনে মনে বললাম, এর চেয়ে কমিয়ে বলা যেত না বোধ হয়। মুখ বন্ধই রাখলাম। নুনান ভাষণ দিল।
‘আপনি জানেন, এসব ক্ষেত্রে কী হয়। আমি পুলিশ চিফ মানেই সব ব্যাপারের চিফ নই। আমাকে অনেকের মন জুগিয়ে চলতে হয়। বিশেষ করে সেইসব লোকের, যারা আমাকে এক হাটে কিনে অন্য হাটে বেচতে পারে। তবে এই ব্যাপারটা তাদের মধ্যে পড়ে না। এটা… অন্যরকম। মা যখন মারা যায়, তখন টিম ছোটো। ‘‘ওকে দেখিস জন।’’ মা আমাকে শুধু এটুকু বলে যেতে পেরেছিল। আর সেই টিমকে, ওই মেয়েটার জন্য, হুইস্পার মেরে দিল!’
আমার হাতটা নিজের মুঠোয় নিয়ে নুনান বলল, ‘দেড় বছর আগে এটা হয়েছে। আর এতদিনে, আপনি আমাকে প্রথম একটা সলিড জিনিস দিলেন যা দিয়ে আমি হুইস্পারের সঙ্গে হিসেবটা মেটাতে পারি। আজকের পর পার্সনভিলে আপনার পেছনে লাগতে এলে এবার আমার সঙ্গেও লাগতে হবে। পাক্কা।’
কথাগুলো শুনে খুশি হলাম। আমাদের বিশ্রম্ভালাপ চলার মাঝে একটা রোগা, লম্বা লোক ঘরে ঢুকল। লোকটার গোল, ব্রণর দাগে ভরা মুখের বদলে কুঁচকে থাকা নাকটাই আগে নজরে পড়ে। জানলাম, এই হল পিক মারি।
‘আমরা টিমের মৃত্যুর সময়টা নিয়ে কথা বলছিলাম।’ মারিকে চেয়ারে বসিয়ে, চুরুট দিয়ে আপ্যায়ন করে নুনান বলল, ‘তুমি তো সেই রাতে লেকেই ছিলে, তাই না?’
‘ছিলাম।’ মারি-র নাকটা আরও কুঁচকে গেল।
‘হুইস্পারের সঙ্গে?’
‘সবসময়ের জন্য নয়।’
‘গুলি যখন চলে তখন তুমি ওর সঙ্গে ছিলে?’
‘না।’
চিফ নুনানের সবজেটে চোখগুলো ছোটো, কিন্তু আরও জ্বলজ্বলে হয়ে উঠল। নরম গলায় ও বলল, ‘সেই সময় হুইস্পার কোথায় ছিল, তুমি জান?’
‘না।’
‘কিন্তু পিক,’ গভীর তৃপ্তির একটা শ্বাস ফেলে, চেয়ারে হেলান দিয়ে নুনান বলল, ‘আগেরবার যে তুমি বললে, তখন তুমি হুইস্পারের সঙ্গে বারে বসে ছিলে।’
‘বলেছিলাম।’ মেনে নিল পিক, ‘কিন্তু সেটা ছিল বন্ধুকৃত্য।’
‘অ। বন্ধুর জন্য তুমি আদালতকে মিথ্যে বলবে?’
‘বাজে কথা বলবেন না!’ মারি-র মুখ থেকে থুতু ছিটকে এল, ‘আমি আদালতে দাঁড়িয়ে কিচ্ছু বলিনি।’
‘জেরি, জর্জ কেলি, ও’ব্রায়েন… এরাও কি বন্ধুকে সাহায্য করার জন্য মিথ্যে বলেছিল?’
‘ও’ব্রায়েন বলেছিল। বাকিদের কথা বলতে পারব না। সেই রাতে আমি বার থেকে বেরিয়েই যাচ্ছিলাম। তখনই হুইস্পার, কেলি আর জর্জের সঙ্গে আমার দেখা হয়। ওদের সঙ্গ দেব বলে আমি ফিরে গিয়ে আরেকবার বসি। কেলি বলল, টিম খতম। হুইস্পার বলল, ‘‘এইরকম সময়ে অ্যালিবাই রেখে দিলে কাজ দেয়। আমরা সবাই এখানেই ছিলাম, পুরো সময়টা। তাই তো?’’ হুইস্পার ও’ব্রায়েনের দিকে তাকাল। ও বলল, ‘‘একদম।’’ আমার দিকে তাকালে আমিও তাই বললাম। কিন্তু এখন আমি তোতাপাখির মতো করে ওরকম কিছু বলব না।’
‘কেলি ঠিক কী বলেছিল? টিম ‘‘খতম’’? ‘‘মারা গেছে’’ বা ‘‘মৃতদেহ পাওয়া গেছে’’ এরকম কিছু নয়? তুমি নিশ্চিত?’
‘আমি নিশ্চিত যে ও ‘‘খতম’’ কথাটাই বলেছিল।’
‘হুঁ। ধন্যবাদ পিক।’ একটা বড়ো শ্বাস ফেলে বলল নুনান, ‘তখন মিথ্যে বলে তুমি ঠিক করনি। তবে ওই নিয়ে তো আর কিছু করার নেই। যা হওয়ার হয়ে গেছে। তা বাচ্চারা কেমন আছে?’
মারি জানাল, বাচ্চারা ভালোই আছে।
নুনান প্রসিকিউটিং অ্যাটর্নির অফিসে ফোন করে ডার্ট আর একজন স্টেনোগ্রাফারকে ডেকে পাঠাল। পিকের কথা টাইপ ও সই হলে তবে সে ছাড়া পেল। নুনান, ডার্ট আর স্টেনোগ্রাফার এবার হাসপাতালের দিকে রওনা হল মির্টলের কথা লিখবে বলে। আমি ওদের সঙ্গে গেলাম না। নুনানের সঙ্গে পরে দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমি হোটেলে ফিরলাম ঘুমের আশায়।
