Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী
0/59
রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

মরণ ঘুম – ৯

পরদিন সকালে দু-কাপ কফি শেষ করার ফাঁকে খবরের কাগজগুলো আদ্যোপান্ত পড়ে শেষ করলাম। শ্রীযুক্ত আর্থার গুইন গাইগার-এর কোনো উল্লেখ কোত্থাও খুঁজে পেলাম না। ভেজা সুটটাই ইস্ত্রি করে ভদ্রস্থ চেহারা দিচ্ছিলাম, এমন সময় ফোন বাজল। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির চিফ ইনভেস্টিগেটর বার্নি ওল্্স, মানে যাঁর সুবাদে আমি এই কেসটা পেয়েছিলাম, ফোন করেছিলেন।

‘তারপর?’ বেশ সুখী সুখী গলায় প্রশ্নটা এল, ‘খবর-টবর ভালো তো?’

‘ওই আর কি।’ আমি সংক্ষেপে বললাম।

‘বেশ।’ এবার ওলসের গলায় একটা আলগা টেনশন টের পেলাম, ‘এর মধ্যে জেনারেল স্টার্নউডের সঙ্গে দেখা করেছিলে?’

‘হুঁ।’

‘ওঁর কাজটা হল?’

‘এত বৃষ্টি…’ আমি কথাটা অসমাপ্ত রেখে দিলাম, যাতে ওল্্স নিজের মতো একটা ব্যাখ্যা খুঁজে নেন।

‘ওদের নিয়ে এত ঝামেলা পোয়াতে হয়, কী বলব! ওদের একজনের একটা বড়ো গাড়ি লিডো-র কাছে মাছধরার জেটিতে পড়ে গেছিল। এখন সেটা তোলা হচ্ছে।’

আমি ফোনটা এত শক্ত করে ধরেছিলাম যে আশঙ্কা হচ্ছিল, ওটা ভেঙে না যায়। তবে কিছু বলিনি।

‘একটা নতুন সেডান, বুঝলে। কিন্তু বালি আর জলে সেটার যা-তা অবস্থা হয়েছে।’ ওলস্‌ বেশ খুশি-খুশি ভঙ্গিতে বলছিলেন, ‘আরে হ্যাঁ! বলতে ভুলেই যাচ্ছিলাম। ওটার মধ্যে একটা লোককেও পাওয়া গেছে।’

খুব ধীরে ধীরে শ্বাস ফেলে আমি জানতে চাইলাম, ‘রেগান?’

‘কে? ও, ওই মদের চোরাচালান করা কাপ্তেন, যাকে বড়োমেয়ে বিয়ে করেছিল? আমি তাকে দেখিনি অবশ্য। কিন্তু জলের তলায় ওই গাড়িতে সে কেন থাকবে?’

‘গাড়ি নিয়ে জলের তলায় কেউ কি স্বেচ্ছায় যায়?’

‘তাও বটে। যাকগে, আমি ব্যাপারটা স্বচক্ষে দেখতে যাচ্ছি। তুমি সঙ্গে যাবে?’

‘যাব।’

‘তাহলে ঝটপট চলে এসো। আমি অফিসেই আছি।’

এক ঘণ্টারও কম সময়ে আমি হল অফ জাস্টিসের সাততলায় বার্নি ওল্্সের ঘরে পৌঁছে গেলাম। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির লোকেরা খুব বড়ো ঘর পায় না। এই ঘরটাও ব্যতিক্রম নয়। একটা ফাঁকা টেবিলে পা তুলে দিয়ে ঢিলেঢালা ভঙ্গিতে বসে ছিলেন ভদ্রলোক। মাঝারি উচ্চতা, সাদা ভ্রূ, শান্ত চোখ, সোনালি চুল– সব মিলিয়ে বার্নি ওল্্স-কে রাস্তায় দেখলে মনে রাখার কোনো কারণই নেই। কিন্তু আমি জানি, এখনও অবধি ন’টা লোক ওঁর হাতে মরেছে।

আমাকে দেখে ভদ্রলোক উঠে দাঁড়ালেন। সিগারের একটা টিন পকেটে ভরে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার আপাদমস্তক মাপলেন।

‘রেগান নয়।’ ওল্্সের গলাটা এমনিতে সহজ থাকলেও আমি সেখানে একটা চাপা উত্তেজনা টের পাচ্ছিলাম, ‘গাড়িতে যাকে পাওয়া গেছে সে একটা অল্পবয়সি ছেলে। রেগান বয়সে আর গায়ে-গতরে অনেক বড়ো– লম্বায় তোমার মতো, চওড়ায় আরও বেশি।’

আমি চুপ করে রইলাম।

‘রেগান ওই বাড়ি থেকে ভাগলবা হল কেন?’ ওল্্স বললেন, ‘তুমি ওটাই জানতে চেষ্টা করছ নাকি?’

‘আমার ওতে কোনো ইন্টারেস্ট নেই।’

‘ওই লাইনের একটা লোক বিশাল পয়সাওলা ঘরের জামাই হয়ে সেখান থেকে কেটে পড়ল! আরে, আমার মতো লোকই তো এতে ইন্টারেস্টেড হবে! সেখানে তুমি এরকম বলছ? ব্যাপারটা ঠিক কী, বলো তো।’

‘আমি রেগানকে খুঁজছি না, সত্যি।’

‘বুঝলাম।’ ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে বললেন বার্নি। আমরা নীচে নামলাম, পার্কিং লট থেকে একটা ছোটো গাড়িতে চেপে রওনা হলাম। রাস্তা ফাঁকাই ছিল। দিনটাও ছিল রোদ-ঝলমলে। কিন্তু আমার মাথার মধ্যে শুধু মেঘ জমছিল। কেন– জানি না।

কোস্ট হাইওয়ে ধরে মাইল ত্রিশেক গেলে লিডো। পৌনে এক ঘণ্টায় রাস্তাটা পেরোলাম আমরা। গাড়ি থামল জেটির এক মাথায়। জলে মাছধরার নৌকো একেবারে থিকথিক করছে। জেটির শেষ প্রান্তে একগাদা লোক জটলা করেছে। আমাদের সামনেও বিশাল ভিড়– এক নওজোয়ান পুলিশ তাদের সামলাচ্ছে, যাতে জনতা জেটিতে ঢুকতে না পারে। হাইওয়ের দু-পাশেও প্রচুর লোক গাড়ি দাঁড় করিয়ে ব্যাপারটা দেখছে। অনেক কষ্টে তাদের সরিয়ে, ব্যাজ দেখিয়ে আমরা জেটিতে ঢুকলাম।

‘ওই যে,’ বার্নি দেখালেন, ‘বার্জের ওপর দেখো।’

জেটির শেষ মাথায় একটা নীচু কালো বার্জ ভেসে ছিল। তার ডেকে রাখা কিছু একটা জিনিস রোদে ঝলমল করছিল। আরেকটু এগোতেই কালো, চেন-জড়ানো সেডানের চেহারাটা স্পষ্ট হল। লোকজন গাড়িটার চারপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। পিছল সিঁড়ি বেয়ে আমরা ডেকে নামলাম। সবজেটে উর্দিপরা এক শেরিফ, এক সাদা পোশাকের ডেপুটি, বার্জ আর হয়েস্ট চালানোর জনাতিনেক লোক– এদের সবার ওপর ঘুরে এসে আমার নজর গাড়িটাতেই স্থির হল।

সামনের বাম্পার বেঁকেছে। একটা হেডলাইট ভেঙেছে, অন্যটা তুবড়ে গেলেও জ্বলছে। রেডিয়েটরের খাঁচাটা দুমড়ে গেছে। গাড়িটার সর্বাঙ্গে অজস্র ঘষা খাওয়ার দাগ দেখা যাচ্ছিল। সিটগুলো জলে ভিজে ঢোল হয়ে গেছে, তবে টায়ার চারটেই অক্ষত।

স্টিয়ারিঙের সঙ্গে প্রায় লেপটে ছিল ড্রাইভারের শরীরটা। ছিপছিপে চেহারা আর একমাথা কালো চুল নিয়ে ছেলেটা জীবদ্দশায় নির্ঘাত অনেকের মাথা চিবিয়েছে। তবে এখন ওর নীলচে-সাদা মুখ, কপালের বাঁ-দিকে একটা গাঢ় কালশিটে, বন্ধ মুখে লেগে থাকা বালি, আধখোলা চোখের নির্জীব দৃষ্টি, মাথা আর কাঁধের মধ্যে একটা অস্বাভাবিক কোণ– এগুলোই চোখে পড়ছিল।

‘ঠিক কী হয়েছিল এখানে?’ হাওয়া থেকে ঠোঁট আড়াল করে সিগার ধরালেন ওল্্স।

উর্দিপরা শেরিফ জেটির ধারের সাদা রেলিঙের একটা অংশ দেখালেন। বেশ বড়ো একটা অংশ ভেঙে গেছে সেখানে। ফেটে যাওয়া পাইনকাঠের আসল হলুদ রং দেখা যাচ্ছে ওই জায়গাটায়।

‘ওখান দিয়ে পড়েছিল গাড়িটা।’ শেরিফ বললেন, ‘বেশ জোরে ছুটে এসে ধাক্কা মেরেছিল। বৃষ্টি থেমেছিল রাত ন-টা নাগাদ। জেটির ভাঙা অংশের কাঠ শুকনোই আছে, তার মানে ঘটনাটা ঘটেছে ন-টার পর। যখন পড়েছিল তখন জল ভালোই ছিল, নইলে নীচের কাদা আর পাথরে আরও বেশি চোট লাগত। কিন্তু তখনও জোয়ার পুরোপুরি আসেনি, নইলে গাড়িটা আরও দূরে ভেসে যেত। আবার ভাটাও লাগেনি, নইলে জেটির আরও কাছে চলে আসত। সব মিলিয়ে মনে হয়, রাত দশটা নাগাদ ব্যাপারটা হয়েছে। সাড়ে ন-টা হতে পারে, তবে তার আগে কিছুতেই নয়। সকালে লোকজন মাছ ধরতে এলে জলের নীচে গাড়িটা দেখতে পায়। তারপর আমরা বার্জ নিয়ে আসি। গাড়িতে চেইন লাগানোর সময় দেখা যায় যে ভেতরেও একজন আছে। ব্যস।’

‘মাতাল?’ প্রশ্নটা বাতাসে ভাসিয়ে দিলেন ওল্্স।

‘হতে পারে।’ শেরিফ বললেন, ‘মদ খেলে লোকে যে জোশের বশে হুঁশ হারিয়ে ফেলে, এ আমরা এই তল্লাটে বহুবার দেখেছি। হয়তো কাউকে দেখানোর চেষ্টা করছিল, ও কত ভালো গাড়ি চালায়।’

‘ধুর!’ গলায় একরাশ বিরক্তি মিশিয়ে এতক্ষণে মুখ খুলল সাদাপোশাকের ডেপুটি, ‘হাতের থ্রটল অর্ধেকটা নামানো। মাথার একপাশে মারের চিহ্ন। এ পরিষ্কার খুনের কেস!’

ডেকে দাঁড়িয়ে একটা নোংরা তোয়ালে দিয়ে নিজের মাথা মুছছিল একটা লোক। জলে নেমে গাড়িতে চেইন জড়ানোর কাজটা নির্ঘাত ও-ই করেছিল। তার দিকে ঘুরে ওল্্স জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কী মনে হয়?’

‘আ-আমার?’ লোকটা একটু তুতলে গেল চাপে পড়ে, ‘আমার মনে হয়, আত্মহত্যা। লোকটা পুরো স্পিডে জেটির ওই জায়গাটায় এসে ধাক্কা মেরেছিল। চাকার দাগ একদম স্পষ্ট– তাই শেরিফ যেমন বলেছেন, মানে রাত সাড়ে ন’টা নাগাদই এটা হয়েছে। গাড়িটা ঠেলা হয়নি, বরং চালানো হয়েছিল। সেজন্যই ওটা সোজা এসেছিল। জলে পড়ে ওটা হয়তো বারদুয়েক উলটেও গেছিল। মাথায় চোট তখনই লাগতে পারে, হাত আপনা থেকেই থ্রটলে চলেও যেতে পারে।’

‘বাহ, তোমার চোখগুলো তো বেশ ধারালো আছে হে।’ তারিফের ভঙ্গিতে মাথা হেলিয়ে ওল্্স ডেপুটির দিকে ঘুরলেন, ‘ওর তল্লাশি নেওয়া হয়েছিল তো?’

ডেস্কে সবাই এ ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। ওল্্স দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তখনই, একজন নিতান্ত ছোটোখাটো চেহারার মাঝবয়সি ভদ্রলোক হাতে একটা কালো ব্যাগ নিয়ে সাবধানে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে এলেন।

‘ওইখানে, ডক্টর।’ খুশিয়াল গলায় বললেন ওল্্স, ‘কাল রাত ন-টা থেকে দশটার মধ্যে জেটি থেকে নীচে পড়েছিল গাড়ি নিয়ে– এটুকুই জানি আমরা। এবার আপনি যা বলবেন…’

ভদ্রলোক বিরসবদনে মৃত লোকটিকে দেখলেন। মাথায় খোঁচা দিলেন, কালশিটের দাগটা দেখলেন, দু-হাত দিয়ে মাথাটা ধরে সেটা এদিক-ওদিক হেলালেন, পাঁজরায় হাত দিয়ে কী যেন খুঁজলেন, একটা অসাড় হাত তুলে নখের নীচটা খুঁটিয়ে দেখলেন, তারপর বারকয়েক হাতটা তুলে আর ছেড়ে দিয়ে সেটার পড়া দেখলেন। অবশেষে, নীচু হয়ে ব্যাগ থেকে বেশ কয়েকটা ছাপানো ফর্ম বের করে কার্বন লাগিয়ে লিখতে শুরু করলেন।

‘ঘাড় ভেঙেই মারা গেছে বলে মনে হচ্ছে।’ লিখতে লিখতেই বললেন ভদ্রলোক, ‘তাই ওর পেটে খুব বেশি জল থাকার কথা নয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওর শরীর শক্ত হয়ে যাবে। ওকে এখনই গাড়ি থেকে বের করার ব্যবস্থা করুন– নইলে পরে আপনাদেরই সমস্যা হবে।’

‘ও কতক্ষণ হল মারা গেছে?’ ওল্্স জিজ্ঞেস করলেন।

‘জানি না।’

‘যাক!’ ওল্্সের গলায় ব্যঙ্গ ক্ষুরধার হয়ে উঠল, ‘এতদিনে করোনারের অফিসের কাউকে পেলাম যিনি মৃত্যুর সময় নিয়ে কিছুই বলতে পারেন না।’

‘যদি কাল রাতে লোকটা কিছু খেয়ে থাকে,’ প্যাড আর পেনসিল ব্যাগে রাখতে-রাখতে বললেন ভদ্রলোক, ‘তাহলে বলতে পারব। তবে সেটা ওই ‘‘কিছুই’’ হবে, একেবারে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে মেলানো জিনিস হবে না।’

‘ওর মাথায় ওই চোটটা লাগল কখন? পড়ার সময়?’

‘উঁহু।’ দাগটা আরেকবার দেখে বললেন ভদ্রলোক, ‘এমন কিছুর থেকে আঘাতটা লেগেছে যেটা একটা কাপড় বা আবরণে ঢাকা ছিল। তা ছাড়া জীবিত অবস্থাতেই আঘাতটা থেকে রক্ত বেরিয়েছে, চামড়ার ঠিক নীচে।’

‘ব্ল্যাকজ্যাক? মানে চামড়ায় ঢাকা মুগুর দিয়ে কেউ মেরেছে?’

‘খুব সম্ভবত।’

ভদ্রলোক ব্যাগ হাতে আবার জেটিতে উঠে গেলেন। ততক্ষণে মেডিক্যাল এগজামিনারের অফিস থেকে পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সটা জেটির মুখে এসে গেছিল। ওল্্স আমার দিকে ঘুরে বললেন, ‘আর থাকার কোনো মানে হয় না, কী বল?’

আমরা ফিরে চললাম। বেশ কিছুটা আসার পর ওল্্স আবার দিকে ঘুরে বললেন, ‘লোকটাকে চিনলে?’

‘হ্যাঁ। স্টার্নউডদের ড্রাইভার। কাল ওই গাড়িটাই ওকে সাফ করতে দেখেছিলাম।’

‘তোমাকে চাপ দেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই, মার্লো। স্রেফ এটা বলো, তোমাকে যে কাজটা জেনারেল দিয়েছেন, তার সঙ্গে কি লোকটার কোনো সম্পর্ক আছে?’

‘না। আমি লোকটার নামও জানি না।’

‘ওয়েন টেলর। আমি কীভাবে জানলাম বলো তো? বছরখানেক আগে আমরা হতভাগাকে জেলে ভরেছিলাম। ও নাকি জেনারেল স্টার্নউডের ছোটোমেয়েকে নিয়ে ইয়ুমা পালিয়ে গেছিল। বড়োবোন তাদের পিছু নেয় এবং শ্রীমানকে ফাটকে ঢোকায়। কিন্তু পরদিনই মেয়েটা একেবারে লোকজন নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি-র অফিসে এসে সবাইকে বোঝায়, ছেলেটা নাকি সত্যিই ওই কারমেনকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু কারমেন ভেবেছিল, ওরা বাড়ি থেকে পালিয়ে হইচই আর পার্টি করতে যাচ্ছে, তাই এতে ছেলেটার কোনো দোষ নেই… ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে ছোকরাকে ছেড়ে দিই। কিন্তু ওর ফিংগারপ্রিন্ট ওয়াশিংটনে পাঠানোর পর জানা যায়, ও মোটেই সাধুপুরুষ নয়। বছর ছয়েক আগে একটা ডাকাতির মামলায় যুক্ত থাকার ফলে ওকে শ্রীঘরে যেতে হয়েছিল। আমরা এগুলো সব জেনারেল স্টার্নউডকে জানাই। কিন্তু তারপরেও ও ওখানেই ডিউটি করছিল! এটা কীভাবে সম্ভব?’

‘স্টার্নউড পরিবারে বিস্তর গোলমাল আছে।’ আমি বললাম, ‘কাল রাতের এই ঘটনার ব্যাপারে ওঁরা কিছু জানেন?’

‘না। আমি এখন সেটাই বলতে যাচ্ছি।’

‘যদি পারেন, জেনারেলকে এর মধ্যে জড়াবেন না।’

‘কেন?’

‘মানুষটা মুমূর্ষু, তার ওপর অন্য নানা ঝামেলায় একেবারে জর্জরিত হয়ে আছেন।’

‘মানে রেগানের ব্যাপারটা?’

‘আমি রেগানের ব্যাপারে কিচ্ছু জানি না।’ এবার আমি বিরক্তই হলাম, ‘আপনাকে আগেও বলেছি, আবারও বলছি– আমি রেগানকে খুঁজছি না।’

‘অ।’ বলে ওল্্স একেবারে মুখে তালা আঁটলেন। চাইনিজ থিয়েটারের কাছে আমাকে নামিয়ে দেওয়া অবধি উনি আর কিছুই বললেন না। ওঁর গাড়ি অল্টা ব্রিয়া-র দিকে ঘুরল। আমি লাঞ্চ সারলাম। কাগজ পড়ে তখনও গাইগারের কোনো উল্লেখ পেলাম না। ঠিক করলাম, ওর দোকানেই আবার যাব।