চলাচল
মহকুমা সদর ও জেলা সদরের মধ্যবর্তী সময় খুলনা সদর যে ক্ষুদ্র পরিসরে গঠিত হয়েছিল, সে এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা গ্রাম পরিবেশ ভিন্ন শহর পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। মহকুমা কাছারির দক্ষিণ পাশ দিয়ে একটা রাস্তা চার্লীগঞ্জের হাটের সাথে সংযোগ ও কয়েকটা রাস্তার সামান্য সংস্কার ছাড়া কোন নতুন রাস্তা তৈরী হয়নি। মহকুমা সদর থেকে মহকুমার অভ্যন্তরে একমাত্র নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোন বিকল্প ছিলনা। তুর্ক-আফগান ও মুঘল যুগের যে-সব উন্নত রাস্তা ও যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল কোম্পানী শাসনের আগে থেকে ও কোম্পানী শাসনের দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংস্কারের অভাবে জীর্ণ ও ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছিল ফলে নৌকাই একমাত্র চলাচলের অবলম্বন হয়। এ সময়ে মহকুমা প্রশাসক মহকুমার অভ্যস্তরে নৌকায় যাতায়াত করতেন। সাধারণ লোক যশোরে মামলা-মোকদ্দমা বা অন্যকোন কাজের প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে বা নৌকায় যেতো। উল্লেখ্য খুলনা থেকে যশোর সাধারণ যাত্রীবাহী কোন নৌচলাচলের ব্যবস্থা ছিল না। প্রয়োজন মত পানসী বা ভাওয়ালে (পূর্ব বঙ্গের ভাওয়াল অঞ্চলের যাত্রীবাহী এক প্রকার সৌখিন নৌকা) ভাড়া করে যেতে হোত।
রূপসা খালের অপর পারের লোকেরা মহকুমা সদর ও বেনেখামার মিয়াবাগ-শিববাড়ী—বয়রা—মুজগুন্নী ও খালিশপুর যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা ছিল যশোর রোড। এ রাস্তার পূর্ব প্রান্তে জেলাস্কুল বোর্ডিং এর দক্ষিণ পুব কোনায় একটা প্রাচীন বটগাছের কাছে সরু রূপসা খালের উপর বাঁশের সাকো পার হয়ে এ পথে যাতায়াত করতো। পরে স্রোতাবেগ বৃদ্ধি পেয়ে খাল প্রশস্ত হলে এখানে খেয়া পারাপারের ব্যবস্থা হয়। এছাড়াও বর্তমান জেলখানা খেয়াঘাট বরাবর ও চার্লীগঞ্জের পশ্চিমে রেল এলাকা দিয়েও দুটো খেয়া পারাপারের ঘাট ছিল। ডেলটা ঘাট থেকে ষ্টীমার ঘাট রেল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পর এ খেয়া ডেলটা ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এ ছাড়া টুটপাড়া এলাকার লোকদের পারাপারের জন্য রূপসা শ্মশান ঘাটের উত্তর পাশের রাস্তার প্রান্তে রূপসা নদীর খেয়াঘাট ছিল।
