Accessibility Tools

শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

জনসংখ্যা

মহকুমা সদর মির্জাপুর মাঠের এক কোণে নির্ধারিত হওয়ায় আলোচিত গ্রামগুলো সদরের দক্ষিণ, দক্ষিণ পশ্চিম ও পশ্চিমের দু’মাইলের মধ্যে অবস্থিত এবং গ্রামগুলি ঘনবসতিপূর্ণ ছিল না। আলোচ্য সময়ের (১৮৪০-৫০) জন- সংখ্যার কোন পরিসংখ্যান পওয়া যায় না। পরবর্তী সময়ে (১৮৫৩) জেলার বাড়ীর সংখ্যা গুনে প্রতি বাড়ীতে পাঁচজন লোক ধরে সার্ভে বিভাগ এক জরিপ করে। জরিপ রিপোর্ট অনুযায়ী গ্রামগুলোর জনসংখ্যা নির্ণয় সম্ভব নয়। পরবর্তী আধুনিক শুমারী পদ্ধতিতে ১৮৮১ সালে খুলনা শহরের জনসংখ্যা হয় ৭,৫৬৩ জন এবং মহকুমা সদরসহ পার্শ্ববর্তী গ্রাম সমূহ এই গণনায় ধরা হয়েছিল। ১৮১১ সালে খুলনা শহরের জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৮,৪১৬ জন। এই গণনায় কর্তৃপক্ষ শহর কতদূর গণ্য করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। তবে যে এলাকা নিয়ে পৌরসভা গঠিত হয়েছিল সে এলাকা যোগ ভিন্ন এ জনসংখ্যা স্বাভাবিক নয়। এ পরিসংখ্যান জেল, শহর প্রতিষ্ঠার ন’বছর পরের এবং এ সময়ের মধ্যে রেল লাইন ও ষ্টীমার সার্ভিস চালু হওয়ায় যাতায়াত ও তাদের শ্রমিক কর্মচারী এবং নবগঠিত জেলাসদরে নবাগতদের বসতির সমাগম ও পরিসংখ্যান। এ থেকে অনুমান করা যায় ১৮৯১ সালের পরিসংখ্যানের পঞ্চাশ বছর আগের জনসংখ্যা।

মহকুমা সদর প্রতিষ্ঠার পর চল্লিশ বছর আয়ুষ্কালের মধ্যে সদরের কাছা- কাছি কিছু সরকারী কর্মচারী ও আইনজীবীর বাস ছাড়া গ্রামগুলোতে কোন নতুন বসতির সৃষ্টি হয়নি।