বসতি
পূর্বেই আলোচিত হয়েছে যে, মির্জাপুর মাঠের মধ্যে মহকুমা সদর বাদে নদীর পাড় ধরে কয়েক ঘর বাইতি ও পশ্চিমে পরামানিক ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মুচিদের বসতি ছাড়া সর্বত্র বিক্ষিপ্তভাবে বুনোদের বাস ছিল। বাইতিরা ভৈরব নদীর ওপার থেকে এসে এখানে বসতি করে। নদীর ওপারে তাদের বসতি এলাকা এখনও লোকে বাতীভিটা বলে অভিহিত করে। সুন্দরবন থেকে চোঙ (এক প্রকার শামুক) সংগ্রহ ও চুন তৈরী করে সেনের বাজারের সাথে ব্যবসায়িক কারণে নদীর ওপারে বাজারের নিকট বসতি স্থাপন করে। সুন্দরবন থেকে সংগৃহীত চোঙের পচা গঞ্জের জন্যে লোকালয় থেকে দূরে নদীর এপারের সুবিধাজনক ফাঁকা জায়গায় নতুন করে বসতি স্থাপনে আকর্ষিত করেছিল।
কয়েকজন প্রবীণ বাইতীও এ ধরনের মত প্রকাশ করেন। অন্যমতে নীল কুঠিতে প্রচুর চুনের প্রয়োজন হতো। একারণে বাইতীদের নীলকুঠির কাছে চলে আসা অস্বাভাবিক নয়।
পরামানিকেরাও জমি ও চার্লীগঞ্জে ব্যবসায়ের জন্য অধিকাংশ নদীর ওপার ও সেনের বাজার এলাকা থেকে এসে বসতি করে। বাইতি ও পরামানিকদের অনেক আগে থেকে মির্জাপুর মাঠের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে (ডাক বাংলা মোড় থেকে যশোর রোড়, ফেরীঘাট রোড ও সিমেট্রী রোডের মধ্যবর্তী স্থান) মুচিদের বসতি। জনশূন্য মির্জাপুর মাঠে নদীর ওপার দেয়াড়া ও ডুমুরিয়া অঞ্চল থেকে মুচিরা সম্ভবতঃ প্রথম বসতি গড়ে তোলে। মির্জাপুর মাঠের মুচিদের বসতি অংশ কোন গ্রাম বা নামে পরিচিত ছিলনা। এখানের মুচিরাও দেয়াড়া ও ডুমুরিয়ার স্বগোত্রীয়দের মত মরা পশুর চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাঁশ বেত দিয়ে ধামা, কুলো, ডালা ইত্যাদি তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করত। মুচিদের উৎপন্ন মালামাল চার্লীগঞ্জে বিক্রয় ও ব্যবসায়িক কারণে এ এলাকায় তাদের বসতির প্রধান কারণ।
