আলোক ভাষা – শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
আমি জীবনে প্রথম সমুদ্র দেখেছিলাম ওয়ালটেয়ারে। যে-বাড়িতে উঠেছিলাম, সেটিকে বাড়ি না বলে অট্টালিকা বলাই বোধ হয় ভালো। ওয়ালটেয়ার রেলস্টেশনে নেমে ঘোড়ায় টানা যে গাড়িতে উঠেছিলাম, সে গাড়ির গাড়োয়ান আমার কাছ থেকে ‘কোথায় যাব’ সেই ঠিকানা শুনে এরাস্তা-সেরাস্তা করে এই অট্টালিকারই পিছনের উঠোনে এনে নামিয়ে বলল, এই সেই বাড়ি।
আমি নতুন এসেছি, কাগজে লেখা ঠিকানাটা আবার দেখে নিয়ে বললাম, এই যে রাস্তায় এসে পড়লাম, এটাই কি বিচ রোড?
সে তার ভাষায় যা বললে তার বাংলা হল, না বাবু, এটা বিচ রোড নয়, সেটা গেছে বাড়ির সামনে দিয়ে। সেদিকে যেতে গেলে একটু ঘুর হত বলে এই রাস্তায় এলাম, এটাই সংক্ষিপ্ত পথ
আমার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ওয়ালটেয়ার নামটা শুধু জানা ছিল, এ সম্বন্ধে আর কিছু ধারণায় ছিল না। তাই ওর ভাড়া মিটিয়ে আমার সুটকেস-বেডিং হাতে নিয়ে একটু এগিয়েই আমার চেনা লোকটির সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। আমার এখানে এসে এঁরই সঙ্গে দেখা করার কথা। ইনিই আমার কোম্পানির মালিকদের একজন। আমাকে দেখে একটু হেসে বললেন, এসেছ? এসো। এই গলি দিয়ে সামনে চলে যাও। সামনের দিকেই আমাদের ঘর। বাক্স-বেডিং নামাও, ওসব রামলু নেবে খন।
পরে জেনেছিলাম রামলু হচ্ছে চাকরের নাম। ওঁর হাঁক ডাকে সে এসে গেল। ছোকরা চাকর, বয়স ষোলো-সতেরোর বেশি নয়। সে আমাকে পথ দেখিয়ে সামনের দিকে নিয়ে চলল। মালিকদের যিনি একজন, তিনি বললেন, তুমি যাও, আমি মিনিট দশেক পরে আসছি একটা দরকারি কাজ সেরে। উনি চলে গেলেন।
আমি যে পথটি ধরলাম সেটি ‘পথ’ নয়, সাড়ে তিন ফিট চওড়া ভিতরের বারান্দা। তার ডান দিকে সারি সারি ঘরের দরজা, যেখানে অন্য ভাড়াটেরা থাকে। রামলুর পিছন পিছন পা ফেলতে গিয়ে বুঝলাম, সামনে একটু এগোলেই আমাদের ঘরে পৌঁছে যাব। ডান দিকে পড়ল অন্য দুটি ঘরের দুটি দরজা, তাদের সামনে পর্দা টাঙানো আর বাঁ-দিকে নিরেট দেওয়াল, ওটা নিশ্চয়ই কোনো ঘর তার দরজা সামনের দিকে। রামলুকে দেখলাম সামনের ঘরের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল। বুঝলাম ওটাই আমাদের ঘর। সরু বারান্দাটা শেষ হয়েছে ওই ঘরের দরজা ছাড়িয়ে দু-পা ফেলবার পর। এখানে একটা রেলিং, রেলিং-এর বাঁ-দিক দিয়ে সিঁড়ি নেমে গেছে নীচে। সেটা ভালো করে দেখবার জন্য রেলিং-এর কাছে এগিয়ে যেতেই সামনে যে দৃশ্য পড়ল, তা দেখে চমকে গেলাম।
সেই আমার প্রথম সমুদ্র দর্শন। রেলিং-এর বাঁ-দিকে যে সিঁড়ির কথা বলেছিলাম, সেই সিঁড়ি দিয়ে আট-দশটা ধাপ নামলেই সবুজ ঘাসে-মোড়া চমৎকার ‘লন’ একটি। তার বাঁ-পাশ দিয়ে পাথরে-গাঁথা অট্টালিকাটির প্রশস্ত সিঁড়ি নেমে গেছে একটা পিচ ঢালা রাস্তার ওপর, চওড়ায় যেটা যোলো ফিটের বেশি হবে না। পরে জেনেছিলাম, এরই নাম ‘বিচ রোড।’ এই বিচ রোডটি পার হলেই সমুদ্রের অপরিসর বালুবেলা। তারপরেই সমগ্র দিগন্ত জুড়ে সমুদ্রের বিস্তার হয়েছে। বালুবেলার ওপর ঢেউ এসে পড়ছে সাদা সাদা ফেনা নিয়ে। অদূরে বিশাল সমুদ্রের ঢেউ ভাঙছে, যাকে বলে ‘ব্রেকার’। আর ভাঙার পরেই শব্দ হচ্ছে, যেন কোনো ক্রুদ্ধ সিংহ গর্জন করছে! সমুদ্র জুড়ে রং-ই বা কী! আকাশটা ফিকে নীল। দিগন্তের কাছে সমুদ্র যেখানে আকাশের সঙ্গে মিশেছে, সেখানটা একটু কালো। যেন দিগন্ত জুড়ে কেউ একটা কালো সরলরেখা টেনে দিয়েছে। তার ওপরে আকাশে শোভা পাচ্ছে সাদা সাদা মেঘ; তারা যেন দলবেঁধে নিরুদ্দেশ যাত্রা করেছে।
সমুদ্রের রং ঘোর নীল, কিন্তু তীরের দিকে যেখানে ঢেউ ভাঙছে, সেখানকার রং সবুজ-সবুজ আর ঢেউয়ের মুখে সাদা ফেনা। সেই সাদা রং তার সঙ্গে মিশে সবুজ, নীল ঘোর নীল, আর দিগন্তে কালোর আভাষ— সব মিলিয়ে রঙের যে সমাবেশ ঘটিয়েছে, তা দেখে অভিভূত হয়ে যেতে হয়।
এই পরিবেশে আমি সাত বছর কাটিয়েছিলাম। মাঝে কিছু কালের সমুদ্র ভ্রমণ বাদ দিলে ওই অট্টালিকার ডান পাশের সামনের দিককার ঘরখানায় আমার কেটেছিল সমস্তটা সময়। অট্টালিকার ডান পাশের বর্ণনা দিয়েছি, বাঁ-পাশেও ঠিক ওইরকম ঘর রয়েছে। রয়েছে ওইরকম সবুজ ঘাসে মোড়া লন। ডাইনে- বাঁয়ে সামনের ঘরগুলিকে রেখে চওড়া সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলা পর্যন্ত। বাড়িটা দোতলা। বিচরোডে বা সমুদ্রের অপরিসর বালুবেলায় দাঁড়ালে বাড়িটাকে চমৎকার দেখা যায়। সামনে, মাঝখানে মূল সিঁড়ি, সিঁড়ি দিয়ে মূল বাড়িটিতে ঢুকলে একটা বাঁধানো চাতাল পড়বে। তার দু-পাশে অর্থাৎ ডাইনে-বাঁয়ে দুটি বিশাল দরজা। সামনে সিঁড়ি, একটু ঘুরে একটা ল্যান্ডিং বা পাঠাতন তৈরি করে দোতলায় উঠে গেছে। দোতলায় ওঠবার আগে যে চাতালটির কথা বললাম, তার ডাইনে-বাঁয়ের যেকোনো দরজা দিয়ে ঢুকলেই পড়বে চওড়া বারান্দা। তার একপাশে পড়বে একটা করে বেশ বড়ো ঘর। তার সামনেও আর একটা ঘর। সমুদ্রের দিক থেকে তাকালে বাঁ-দিকে পড়বে আমাদের সেই শোবার ঘরখানা। আর আমাদের দিকে চওড়া বারান্দার ধারের যে ঘরটার কথা বললাম, সেটা ছিল আমাদের অফিস ঘর। শোভা পাচ্ছে চওড়া একটা টেবিল, চেয়ার, টেলিফোন ইত্যাদি। তার মানে আমাদের শোবার ঘর থেকে বেরুলেই সামনে চওড়া বারান্দা, তার বাঁ-দিকে আমাদের অফিস ঘর। ডান দিকে রেলিং, ওখানে পরে একটা ইজিচেয়ার পেতে রেখেছিলাম বসে বসে সমুদ্র দেখার জন্য। এই বারান্দার পরেই দরজা, যেটা খুলে চাতালে পা দিয়ে ডান দিকে ঘুরে চওড়া পাথরের সিঁড়ি ভেঙে বিচ রোডে নেমে যাওয়া যায়। আবার আমাদের শোবার ঘরের ডান দিকেও একটা অপরিসর সিঁড়ি আছে রেলিং দেওয়া। অনায়াসে সিঁড়ি দিয়ে আমাদের দিককার সবুজ ‘লনে নেমে যাওয়া যায়, যার কথা আমি সবার আগেই বলেছি।
এর থেকে বোঝা যায়, আমাদের শোবার ঘর আর অফিস ঘর খুব কাছাকছি। অফিস ঘরের কথা আমাদের এ-কাহিনিতে অনাবশ্যক, কিন্তু শোবার ঘরটার কথা একটু বলতে হবে। এ-ঘরটার সামনের দিকটা একটু গোলাকার, তাতে বড়ো বড়ো তিনটি জানলা বসানো। সমুদ্র দেখা যায় শুয়ে শুয়ে। ছুটির দিনে দুপুরে একটু ঘুমোবার পর যখন চোখ মেলেছি, তাকিয়ে দেখি, সমুদ্রশিয়রী জানালগুলিতে যেন নীল পর্দা ঝুলছে! ঝড়-বাদলের দিনে আরও চমৎকার। ঢেউগুলি আরও উঁচু উঁচু হয়ে এসে ভেঙে পড়েছে। তার জলের কণা এসে লেগেছে আমার বিছানায়, আমার শরীরে।
এই ঘরে আমার একা কেটেছিল পুরো একটি বছর। দ্বিতীয় বছরেই আমার বাড়ির লোকজন এসে ঘর ভরিয়ে ফেলল, হইচই চিৎকার! এটা আসেনি, ওটা নিয়ে এসো, এঃ! এ আবার কী মাছ! এ আবার খাওয়া যায় নাকি! দে ফেলে দে, নিয়ে আয় নতুন মাছ! কিংবা এ আবার কীরকম দেশ বাবা! এখানে পটল পাওয়া যায় না— ইত্যাদি। সবই খাওয়া পরার গল্প, দেওয়া-নেওয়ার হিসেব।
কিন্তু যখন আমি একা ছিলাম, আমার মালিকদের একজন যিনি ছিলেন, তিনি আমাকে কাজ-টাজ বুঝিয়ে দিয়েই চলে গেলেন। কোথাও কোনো অসুবিধা নেই। অফিস ঘরে চলছে অফিসের কাজ। অফিস ঘরের পিছনেই ছিল বিরাট রান্নাঘর, তার এক পাশে খাবার টেবিল। তার পিছনের বারান্দার অংশটা আমি কাঠের তক্তা দিয়ে ঘিরে স্নানের ঘর-টর করিয়ে নিয়েছিলাম। ফলে, আমার শোবার ঘরের লাগোয়া যে ঘরখানা স্নানের ঘরের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, সেটা আর একটি শোবার ঘরে পরিণত হল। সেখানেও বড়ো একখানা খাট পাতা বাড়তি বিছানা বিছানো, অন্য কেউ এলে ওখানে থাকতে পারে। আমার শোবার আসল ঘরখানাও আমি মনের মতো সাজিয়ে নিয়েছিলাম। এখানেও ছিল বড়ো খাট বা পালঙ্ক, ছিল বই রাখার আলমারি, ছিল আমার লেখবার টেবিল ও চেয়ার। চেয়ারে বসে একটু লিখি আর একটু তাকাই জানালা দিয়ে নীল সমুদ্রের দিকে। দিনেরবেলা অফিসের লোকজন আসে, আসে আমার রান্নার লোক আর কাজের লোক। রাত আটটা- সাড়ে আটটার মধ্যেই তাদের কাজকর্ম সেরে চলে যায়, তারপরে আমি একেবারে একা। ছুটির দিনে যদি সিনেমা দেখতে যাই, তাহলেও ন-টার পরে ফিরে আসি। বাকি রাতটাও আমার কাটে একা। আমি, আর জানলার বাইরে আমার সমুদ্র।
সমুদ্রকে দিনেও যেমন দেখি, রাতেও তেমনি দেখি। চাঁদ যখন ওঠে, সমুদ্র জুড়ে যখন অবারিত জ্যোৎস্না ঝিকমিক করতে থাকে, তখন এক দৃশ্য। আবার অন্ধকার রাত্রে তারায় ভরা আকাশের নীচে সমুদ্রের আর এক দৃশ্য। ঢেউয়ের মাথায় ফসফরাস জ্বলানো সবুজ আলো যখন ঝিলিক দেয়, তখন সব দেখে-টেখে অভিভূত হয়ে যেতে হয়।
কখনো কখনো আমার ঘুম ভেঙে যেত রাত তিনটে নাগাদ। কোণের দিকের একটা জানালাই ছিল আমার সব থেকে পছন্দের। সেখানে গিয়ে দাঁড়াতাম। জ্যোৎস্নারাতে মনে হত সমুদ্র আর আকাশের মাঝখানটা যেন আলোয় আলোয় ভরে গেছে। একধরনের চাপা স্নিগ্ধ আলো। জ্যোৎস্নার আলো। মেঘের কোলে আকাশে সাঁতার দিচ্ছে চাঁদ। আর তার স্নিগ্ধ নরম আলো যেন পুঞ্জ পুঞ্জ হয়ে সারা সমুদ্রের বুক জুড়ে ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে।
এরকমই একটি দিনে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। অন্তত আমার কাছে— অদ্ভুত। সেদিন আকাশে চাঁদ ছিল না। কালো আকাশ জুড়ে তারার মেলা। রাত তিনটে হবে, ঘুম ভেঙে উঠে সেই আমার প্রিয় কোণের জানালাটার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছি, একটা ব্যাপার দেখে অবাক হয়ে গেলাম। আকাশের এক প্রান্তে একটা একটু বড়ো তারা জ্বল জ্বল করে জ্বলছে। তার থেকে একটা আলোর রেখা ঠিকরে পড়েছে সমুদ্রের বুকে, আর সেখান থেকে সেই আলোর রেখা এসে সমুদ্র পার হয়ে ঠিক যেন এসে ছুঁয়েছে আমাকে।
এরকম হয়তো আগেও হয়েছে এই এক বছরের মধ্যে, কিন্তু আমার লক্ষ পড়ল সেদিন সেই প্রথম। স্নিগ্ধ তারাটির দিকে অপলক তাকিয়ে আছি। একসময় মনে হল সে যেন আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার আলোর সংকেত পাঠাচ্ছে আমার কাছে। আলোর সেই সরলরেখা সমুদ্র স্পর্শ করে সমুদ্রকে সাক্ষী রেখে আমার অন্তরে এসে প্রবেশ করছে। আজও সেকথা ভাবতে অবাক লাগে। সেদিন সেই আলোর ভাষায় আমি যেন অনেক কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম। যেন অনেকে মিলে একসঙ্গে কথা বলতে চাইছে। কেউ তারা থেকে আমার সঙ্গে কথা বলছে না। আমার নিজেরই মনের মধ্যে কথাগুলি যেন সরব হয়ে উঠছে। চারদিক নিস্তব্ধ, সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই, শুধু আমারই কানে বাজছে একসঙ্গে অনেক কণ্ঠের কাকলি। কিন্তু কথাগুলো যে কী তা বুঝতে পারছি না।
একসময় বিরক্ত হয়ে নিজেই বলে উঠলাম আঃ!
বলতে বলতে হাত দিয়ে কান দুটো চেপেও ধরলাম।
মুহূর্তে সব চুপ হয়ে গেল। কানের ওপর থেকে হাত সরালাম। সমুদ্রের সংগীত শুধু শোনা যায়। শুনতে শুনতে মনে হল, এ সংগীতেও একটা ছন্দ আছে। যেন তালে তালে বাজছে সমুদ্রের এই সংগীত! দিনেরবেলা যাকে গর্জন বলে ধারণা হয়, নিশুতি রাত্রে কান পেতে শুনছি বলে তাকেই এখন সংগীত বলে মনে হচ্ছে। কণ্ঠসংগীত নয়— যন্ত্রসংগীত। তবলা অথবা পাখোয়াজের তাল সমৃদ্ধ বোলের মতো। তালটাকেও মনে হচ্ছে ‘যৎ’ তাল। যেন সে অশ্রুত মহান সংগীতের সঙ্গে সমুদ্র তাল রেখে যাচ্ছে।
এই সব ভাবছি আর সংগীত শোনবার চেষ্টা করছি, এমন সময় মনে হল, সেই আলোর ভাষা যেন আবার মুখর হয়ে উঠেছে। এবার অনেকের কণ্ঠস্বর নয়, একটিমাত্র কণ্ঠ। যেন আমার ছেলেবেলাকার ডাকনাম ধরে কে যেন বহুদূর থেকে হঠাৎ ডেকে উঠল!
চমকে উঠলাম। এ যে অত্যন্ত চেনা গলা ওয়ালটেয়ারের যে সময়কার কথা বলছি, তখন আমার বয়স পঁচিশ-ছাব্বিশ। আর যার কণ্ঠস্বর শুনলাম, তার কণ্ঠস্বর শেষ শুনেছি আমি দশ বছর বয়সে। যখন আমার দশ বছর বয়স, তখনি তো আমার দিদি মারা গিয়েছিল।
আবার দিদি ডেকে উঠল আমার নাম ধরে। এবার গলা আরও স্পষ্ট, তবু আমার সন্দেহ গেল না। নিজের মনেই প্রশ্ন করলাম, কে তুমি? সত্যি বলো।
সে বললে, আমি স্মৃতি।
তুমি আমার দিদি নও?
হ্যাঁ, দিদি। তবে, স্মৃতি। বলতে পারো, তোমার দিদির স্মৃতি।
আমাকে ডাকছ কেন?
সে বলল, এখানে কী করতে এসেছিস?
চাকরি।
হ্যাঁ রে, আমার সেই হারমোনিয়ামটা আছে না?
হ্যাঁ আছে। কলকাতার বাড়িতে।
কেউ বাজায়?
না।
বাজাবেই বা কী করে? সময় কোথায়?
বলে, দিদির স্মৃতি আবার সরব হল, গান গাইতে কত ভালোবাসতুম। রেকর্ড শুনে রেডিয়ো শুনে গান তুলতুম। মাস্টার রেখে গান শেখাবার পয়সা কোথায় বাবার? অতি কষ্টে আমার আবদার রাখতে গিয়ে বাবা একটা হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছিল। যখন-তখন সেই হারমোনিয়াম নিয়ে বসতুম বলে মা কত বকত।
সঙ্গে সঙ্গে সব আমার মনে পড়ে গেল। বাবা হচ্ছেন সামান্য স্কুল মাস্টার। ক-টা টাকাই বা তখন মাস্টারদের মাইনে ছিল? আমরা সব ছোটো ছোটো, বাবার একার আয়েই সংসার চলে। পাঁচ-পাঁচটি ভাই-বোন আমরা। দিদি সবার বড়ো, তারপরে আমি। দিদি আর আমার মধ্যে ছিল ছয় বছরের ব্যবধান, আমাদের দু-জনের মধ্যে আরও দুটি ভাই ছিল, তারা জন্মেই মারা গিয়েছিল। তাদের বাদ দিয়েই আমাদের সংখ্যা ছিল পাঁচ। আমাদের সংসারে দেওয়া-নেওয়ারই হিসেব ছিল বেশি। বাবা স্কুলে পড়ানো ছাড়াও টিউশানি করতেন। কিন্তু তাতেও কুলোত না। এটা চাই ওটা চাই শুনে শুনে বাবা অতিষ্ট হয়ে উঠতেন। তার ওপরে ছিল আমাদের আবদার। দিদির অবশ্য কোনো চাহিদা ছিল না। সে যখন হারমোনিয়াম পেয়ে গেল, তখন যেন হাতে একেবারে স্বর্গ পেল। আর তার কিছু চায় না। সত্যি, আমার দিদিটা ছিল একেবারে অন্যরকম। বিভোর হয়ে গান গাইত। কখনো মীরার ভজন, কখনো রবীন্দ্রনাথ, এক এক করে কম গান গলায় তোলেনি আমার দিদি। স্কুলে যেত, বইও পড়ত, কিন্তু সময় ও সুযোগ পেলে গানই ছিল তার চর্চার বিষয়। কিন্তু কতটুকু সময় সে দিতে পারত? হয়তো তন্ময় হয়ে গাইছে, ‘শূন্য হাতে ফিরি হে নাথ, পথে পথে’, –অমনি রান্নাঘর থেকে ভেসে এল মায়ের দাবড়ানি, রাখ এখন তোর পাগলামি, আগে এসে কচিটাকে ধর, ককিয়ে সারা হচ্ছে।
গান থামিয়ে দিদিকে ছুটতে হত আমার সব থেকে ছোটো ভাইটাকে ধরতে, শান্ত করতে। কিছুক্ষণ পরে ভাই শান্ত হলে দিদি হয়তো হারমোনিয়াম ছেড়ে খালি গলাতেই গুন গুন করছে, ‘মৈনে চাকর রাখো জি’, –মার বকুনি শুরু হল আবার, ওসব ছেড়ে রান্না ঘরে একটু এসো না! এদিকে যে হিমসিম খেয়ে গেলুম! দাওনা রুটি ক-খানা একটু বেলে!
আমার সন্দেহ হত, মা কি দিদিকে দেখতে পারে না? উঠতে-বসতে দিদিকে বকত মা। অথচ দিদি কখনো টু শব্দটি করত না। আমি যখন আরও একটু বড়ো হলাম, তখন বড়ো মায়া হতে লাগলো দিদির ওপর। ওকে বাবাও বকে পড়া ঠিকমতো না করলে, মা-ও বকে মার হাতে হাতে কাজে সাহায্য না করলে। তবু ওরই মধ্যে ওর গুনগুনানি শেষ হত না। কতদিন দিদির কাজ আমি গিয়ে করে দিতাম। ঝি আসেনি, দিদি বাসন মাজছে। এ আমি গিয়ে হাত লাগাতাম। দিদি আঁতকে উঠত, বলত, পড়া ছেড়ে তুই উঠে এলি? মা কী বাবা দেখতে পেলে আমাকে আর আস্ত রাখবে না।
তা হোক, তুই সর তো, আমি ঠিক মেজে দেবো।
কথা হত আমাদের দুই ভাই-বোনে রাত্রিবেলায়। মা-বাবা আর ভাই-বোনরা ঘুমিয়ে পড়লে মাঝে মাঝে আমরা পা টিপেটিপে সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠতাম। আমাদের বাড়িটা ছিল ছোটো, আর একতলা। আমার ছোটোবেলায় ধারণা ছিল বাড়িটা বুঝি আমাদের। কিন্তু বড়ো হয়ে জানলাম, তা নয়। বাড়িটা ভাড়াবাড়িই বটে। কিন্তু সে যাক। সেসব রাত্তিরে হয়তো ছিল এমনি তারায় ভরা কালো আকাশ। আজ ঠিক মনে করতে পারছি না। দিদি আর আমি এক কোণে বসেছি, দিদি চাপা গলায় গুনগুন করে গাইত, ‘তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যতদূরে আমি যাই!’
আমি ওর গান শুনতে শুনতে এক-একদিন বলতাম, হ্যাঁ দিদি, তুই সবসময় এত দুঃখের গান গাস কেন?
দুঃখের গান বুঝি। দিদি বলত, অতশত জানি না, এসব গাইতেই আমার ভালো লাগে। ওসব চটুল গান আমার একটুও পছন্দ নয়। জানিস, আমাদের ক্লাসের কবিতা? কবিতা কর? সে একটা গান শিখেছে। কী সুন্দর সে গান! আমি সবটা এখনও তুলতে পারিনি। সুরটা শুনবি? ‘আবার যদি ইচ্ছা করো আবার আসি ফিরে। দুঃখ-সুখের ঢেউ খেলানো এই সাগরের তীরে!’
সেই আমার দিদি আমার গান-পাগল দিদি হঠাৎ চলে গেল মাত্র ষোলো বছর বয়সে আমাদের সবাইকে ছেড়ে। খুব জ্বর হল, তারপরে বলত, মাথা ব্যথা মাথা ব্যথা! ডাক্তার এসে ওষুধ দিল, কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে। তারা বলল, এখন এনেছেন? অনেক দেরি হয়ে গেছে!
এখনকার দিন হলে হয়তো বাঁচানো যেত, কিন্তু তখনকার দিনে সন্ন্যাস রোগের তেমন কোনো চিকিৎসা ছিল না। গোড়ায় ধরা পড়লে হয়তো বাঁচানো যেত, কিন্তু যখন হাসপাতালে দেওয়া হল, তখন আর করবার কিছু ছিল না। হাসপাতালের ডাক্তাররা খুবই চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কিছুতেই আর শেষ রক্ষা হল না। দিদি যখন গেল, তখন আমার বয়স মাত্র দশ বছর। কতটুকুই বা বুঝতাম সংসারকে?
যাই হোক, দিদির স্মৃতি মনে পড়ার জন্যই হোক আর তার আলোর ভাষায় তার কণ্ঠস্বর শুনেই হোক, ভিতরটা যেন মুচড়ে উঠল! নিজেকে সামলাতে একটু দেরি হল।
কী ভাবছিস? –আবার সেই কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম।
বললাম, ভাবছি? তোর সব কথাই। দিদি, তুই হঠাৎ চলে গেলি কেন রে? ও রোগটা তোর হল কেন? ওই বয়সে?
দিদি বলল, রোগটা কেন হল জানি না। কিন্তু চলে আসতে হল কেন, সেটা জানি।
বল না শুনি?
দিদি বলল, আমার গান ছিল আমার প্রাণের জিনিস। সেটা কেউ বুঝল না, সেটার কেউ কদর করল না, তাই আমাকে চলে আসতে হল।
বললাম, দিদি, তোর একটা গান এখন খুবই মনে পড়ছে। সেই যে গাইতিস না? আবার যদি ইচ্ছা করো আবার আসি ফিরে। সত্যি বল, ফিরতে তোর ইচ্ছা করে না?
দিদির কণ্ঠস্বর বললে, আমি তো ফিরেছিলুম। কিন্তু —
দিদি ‘কিন্তু’ বলেই চুপ করে গেল, আর কথা বলল না।
আমি বললাম, ‘কিন্তু’ কী? বল? এই দিদি?
দিদি উত্তরে সেকথা এড়িয়ে গেল, বললে, হ্যাঁ রে, আমাদের বাড়ির পশ্চিম দেওয়ালের পিছনে যে কদম্ব গাছটা ছিল, তাতে আজও ফুল ফোটে, তাই না? আহা, বাদলার কালে যখন ফুল ফুটত, সে একটা দেখবার মতো দৃশ্য হত বটে! একটু হাওয়া বাড়লে আমাদের সারা বাড়ি জুড়ে কদমফুলের কেশর ছড়িয়ে পড়ত।
বললাম, একবার হল কী জানিস? ফুলে ফুলে গাছটা একেবারে ভরে গেল। অত ফুল কোনো বার হয় না। সেবার হল। ছাদে উঠে দেখি, গাছটা যেন সর্বাঙ্গ দুলিয়ে নিঃশব্দে হাসছে। ফুলে ফুলে ছড়িয়ে পড়েছে সে হাসির রেশ! সেদিনই মনে হয়েছিল, গাছটা বুঝি জীবন্ত, তার মুখে কথা ফোটে না, কিন্তু সে সর্বাঙ্গ দুলিয়ে- সারা ডালপালা জুড়ে ফুল ফুটিয়ে সে তার ভাব প্রকাশ করতে জানে। ছাদে আমাকে দেখামাত্রই যেন আমাকে বলল, দেখো তুমি। কত ফুল এবার ফুটিয়েছি।
কিন্তু সে-ই শেষবার। এরপরেই যাদের গাছ তারা গাছটাকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খণ্ড খণ্ড করে কেটে ফেলল। কোথায় গেল তার হাসি, কোথায় গেল তার অমন খুশি হওয়ার বহিঃপ্রকাশ!
দিদি শুনে বললে, ইস!
তারপরে কিছুক্ষণ কাটল নীরবতার মধ্যে, তারপরে আবার শোনা গেল তার কণ্ঠস্বর, হ্যাঁ রে, আমাদের দক্ষিণের দেওয়াল ঘেঁষে যে বাতাবি লেবুর গাছটা উঠেছিল, সেটা কাটা পড়েনি তো?
না। সে এখন ফল দিচ্ছে, জানিস দিদি?
দিদির কণ্ঠস্বরে খুশির আবেশ লাগলো, আহা, তাই বুঝি? হ্যাঁ রে, লেবু গাছের গা জড়িয়ে একটা তেলাকুচো উঠেছিল, সেটার কী খবর? কী সুন্দর সাদা সাদা ফুল ফোটাত সে। তাই না?
আজও ফোটায় দিদি। হাওয়ায় হাওয়ায় সে ফুলগুলি যখন দোলে, তখন মনে হয় নীরব কোনো সংগীতের সঙ্গে তারা যেন তালু রাখছে।
হ্যাঁ, ওই তাল। ছন্দ। সমস্ত জগৎ জুড়েই এই ছন্দের দোলা। ছন্দহীনতা এই জগতের নিয়ম নয়। হ্যাঁ রে, সেই পেয়ারা গাছটা আছে? আজও ফল দেয়?
বললাম, হ্যাঁ দিদি। আজও দেয়। তুই কত ভালোবাসতিস ওই পেয়ারা খেতে!
দিদি বলল, কত পাখি আসত, না রে?
পাখি? বললাম, কদম গাছে কত পাখিই না আসত! দুর্গা-টুনটুনি, দোয়েল, শ্যামা, এ ছাড়া শালিকের দল তো ছিলই। তা ছাড়া, নাম না-জানা কত পাখি আসত। একটা পাখির বুক ছিল টকটকে লাল। পাখি এখনও কিছু কিছু আসে, লেবু গাছটায় গিয়ে বসে, কিংবা পেয়ারা গাছটায়। কিন্তু তেমন সমারোহ আর নেই।
দিদি বলল, একটা বুলবুল পাখি আসত মনে আছে? মাথার ঝুঁটি? ভোরবেলায় কদম গাছে বসে বসে গান গাইত। কী তার সুরেলা গলা! তোদের ঘুম ভাঙাতে রোজ সে আসত, তোর মনে পড়ে?
হ্যাঁ, তা পড়ে বই কী!
দিদি বলল, কদম্ব গাছে সে এসে বসত, গান গাইত, তবু তোদের ঘুম ভাঙত না বলে সে চলে আসত তোদের জানালার কাছে লেবু-গাছটায়, কখনো-বা পেয়ারা গাছটায়। প্রাণ ঢেলে সে গান গাইত। আরও তো বাড়ি ছিল ও অঞ্চলে, আরও তো কত গাছ ছিল। সেসব জায়গায় সে যেত না, যেত শুধু তোদের বাড়িতেই। তোদেরকেই গান শোনাতে সে ভালোবাসত। তার গান যদি তোরা মন দিয়ে শুনতিস। তো বুঝতে পারতিস, অনেক গানই ওর গানের ছন্দের সঙ্গে মিলে যায়! তুই যদি গাইতিস, ‘মৈনে চাকর রাখো জি’, দেখতিস মিলে যেত। যদি গাইতিস, ‘শূন্য হাতে ফিরি হে নাথ পথে পথে’, দেখতিস সে-ও মিলে যেত। এমনকী ‘তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যতদূরে আমি যাই’, কিংবা ‘আবার যদি ইচ্ছা করে আবার আসি ফিরে’ গাইলে তা-ও মিলে যেত।
সত্যি দিদি!
একেবারে সত্যি। যদি ধৈর্য ধরে কান পেতে শুনতিস, তাহলে ওর ছন্দটাকে ধরতে পারতিস। দেখতিস ওইসব গানগুলিই মিলে যাচ্ছে।
তখন যে ছোটো ছিলাম, ছটফটে ছিলাম। বুঝতাম না কিছুই। খেলায় মত্ত হতাম, কখনো ড্যাংগুলি খেলছি, কখনো গুলতি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি।
দিদি বললে, আমি চলে যাবার পর দুটি বছর কেটে গিয়েছিল। তখন তোর বারো বছর বয়স, বুঝলি? যখন বুলবুলি পাখিটা তোদের কাছে আসত, তখন তোর বারো বছর বয়স। তখন একটু বুঝে চলবার বুদ্ধি তোর হয়েছিল। ওর গান শুনতে শুনতে আমার কথা যদি একটু ভাবতিস, তাহলে ওই গানগুলি তোর ঠিক মনে পড়ত। আর যদি মনে পড়ত, তাহলে তুই যা করেছিলি, তা কি করতে পারতিস?
কী করেছিলাম দিদি!
ভুলে গেলি! –দিদির কণ্ঠস্বর ভেসে এল, কদম্ব গাছটার ডালে বসে ভোরবেলা সে বিভোর হয়ে গান গাইছে, অন্য কোনো দিকে তার দৃষ্টি ছিল না। সে যদি বুঝত গুলতি নিয়ে তুই তাকে তাক করছিস, তাহলে সে ঠিক উড়ে পালাত। তোর কি মনে আছে? তুই তাকে গুলি দিয়ে গুলতি ছুড়লি, লাগলো গিয়ে ঠিক তার মুখে। যে ঠোঁটে সে গান গাইছিল, সেখান দিয়ে বেরিয়ে এল রক্ত, সে টপ করে মাথা ঘুরে রক্তবমি করতে করতে মাটিতে পড়ে গেল। তুই তোর এক বন্ধুর সঙ্গে দেওয়াল টপকে কদম্ব গাছটার তলায় এসে ওকে তুলে নিলি দুই হাতে। তখনও ওর প্রাণটা যায়নি, বুকের কাছটা ধুকপুক করছে, তোর নাম ধরে ডাকবার চেষ্টা করছে, বলছে, তুই! তুই আমাকে মারলি! আমাকে! যে আমি তোকে ভালোবাসি বলে তোকেই ভোরবেলা গান শোনাতে আসতাম!
কী বলছ তুমি, দিদি!
দিদি বলল, অমিই আবার ওই বুলবুল হয়ে জন্মেছিলাম। বিশেষ করে তোর মায়া কাটাতে পারিনি বলে তোর কাছে গিয়ে প্রাণমন ঢেলে তোকে গান শোনাতাম। কে যে কীভাবে তোদের আশেপাশে আসে, তা তোরা জানবার চেষ্টা করিস না, বুঝবার চেষ্টা করিস না। ওই কদম্ব গাছটারও প্রাণ ছিল, সেও এক জন্মে আমাদের আত্মীয় ছিল। ওই পেয়ারা গাছ, ওই লেবু গাছ, ওরাও আমাদের পরমাত্মীয়। শুধু আমরা চিনতে পারি না। তাই ভুল করি। কেন ভুল করিস ভাই? যখন তোদের ‘দিদি’ হয়ে ছিলাম, আমাকে গান গাইতে দেওয়া হল না, মর্মে মর্মে দুঃখ অনুভব করেছিলাম বলে চলে এলাম তোদের ছেড়ে। কিন্তু মায়া যাই কোথা? পাখি হয়ে আবার গেলাম তোদের গান শোনাতে। কোনো ক্ষতি তো করিনি? তবু আমাকে অমন করে হঠাৎ মেরে ফেললি কেন ভাই, এক অসৎ বন্ধুর প্ররোচনায়?
আমি ওর কথা শুনে ডুকরে উঠলাম, দিদি!
চমকে চোখ তুলে দেখি কখন ভোর হয়ে গেছে! বিচ রোডে বেড়াতে বেরিয়েছেন একটি মানুষ, তিনি হঠাৎ আমার ওই কান্নাভরা চিৎকার শুনে থমকে দাঁড়িয়েছেন, মুখ ফিরিয়ে আমাকে দেখছেন, ভাবতে চেষ্টা করছেন। কী হল ব্যাপারটা?
আমি চট করে জানালা থেকে সরে এলাম। ওঁকে মুখ দেখাতে পারলাম না।
[ সেরা ভূত সেরা গোয়েন্দা, আনন্দ প্রকাশন, ১৯৯৯ (প্রথম প্রকাশকাল অজ্ঞাত)]
