Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী
পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী
0/50
New Courseপেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

পপি – সাধনা মুখোপাধ্যায়

বাদলার দিনে আকাশটা যেন মুখ ভার করে নীচের দিকে নেমে এসেছিল। দু- দিন থেকে নাগাড়ে বৃষ্টির পর অবিরল ধারাটা একটু ধরলেও চারদিক কেমন যেন থমকে রয়েছে আবার বর্ষণের আশঙ্কায়। দিনেরবেলাও অন্ধকার অন্ধকার ভাব। আজ অলি, তুলির স্কুল হয়নি, ‘রেনি ডে’ হয়ে গেছে। স্কুলের জামা জলে ভিজে সপসপে, জুতোর অবস্থাও সেই রকমই। বাড়ি ফিরে এসে গরম গরম খিচুড়ি আর বেগুনি খাওয়ার পর ওরা দু-জনেই মাকে ধরে বসেছে একটা গল্প বলতেই হবে। আর যেমন-তেমন গল্প নয়, আজকে এই বাদলার দিনে একটা ভূতের গল্প শুনতে চায় ওরা, যা শুনলে দিনের আলোতেও গা ছমছম করবে। মা সারাদিনের খাটাখাটুনির পর ভাবছিলেন একটু ঘুমিয়ে নেবেন, কিন্তু অলি, তুলি কী সেকথা শুনবে! তার ওপর মজাটা হয়েছে, দু-দিন ধরে দুই মাসির দুই মেয়ে তিতলি আর চিকুলিও তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে বৃষ্টির জন্য আটকা পড়ে গেছে। অলি, তুলিরাও তাদের দু-দিন ধরে বাড়ি ফিরে যেতে দেয়নি। ওরা যখন অলি, তুলির সঙ্গে গলা মিলিয়ে আবদার ধরল, ‘ও মাসিমণি, ভূতের গল্প বলো, সত্যিকারের ভূতের গল্প’, তখন আর মা না বলেন কী করে।

মা বলতে শুরু করলেন, ‘আচ্ছা, আমি একটা ভূতের গল্প বলছি যেটা শুনেছি তোদের দিদার কাছে। এটা দিদার ছেলেবেলার গল্প। তোরা তো আমার কাছে শুনেছিস আগেই, তোদের দিদা ছেলেবেলায় থাকতেন বেরেলিতে। সেখানেই থাকতেন তাঁর বাবা-মা। বাবা-মায়ের আদরে খুব আনন্দে কেটে যেত তাঁর দিনগুলো। আমার দাদু ছিলেন সেখানকার একটা বিরাট দেশলাই কারখানার জেনারেল ম্যানেজার। বিশাল বাগানওলা বাড়ি, অনেক কাজের লোকজন, এমনকী তখনকার দিনে দাদুর একটা মোটরগাড়িও ছিল। মা যখন যা আবদার করতেন, তাই পেতেন। কিন্তু আমার দাদু ও দিদার ভাবনা হল তোদের দিদার পড়াশোনা নিয়ে। বেরেলিতে স্কুল থাকলেও সেখানে তো বাংলা পড়ানোর ব্যবস্থা নেই, আর মেয়েকে বাংলা শেখাবেন না— এ-কথা আমার দাদু, দিদিমা চিন্তাও করতে পারতেন না। দাদু তো সুদূর বেরেলিতে থেকেও ডাকযোগে বঙ্কিমচন্দ্ৰ, রমেশচন্দ্র দত্ত, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্রের বই আনাতেন কলকাতা থেকে। দিদিমাও সেইসব বই পড়তে খুব ভালোবাসতেন। দাদু বিকেলে অফিস থেকে ফিরে এলে সন্ধেবেলা দু-জনে একসঙ্গে বসে পড়তেন বাংলা বই। কাজেই তোদের দিদা একটু, বড়ো হতেই তাঁরা ঠিক করলেন তাঁকে ইলাহাবাদের স্কুলে ভরতি করে দেবেন। সেখানে বাংলার চর্চা আছে। বকুলবাসিনী বালিকা বিদ্যালয় তো ছিল খুবই নামকরা। যেসব জায়গায় বাংলা পড়ার ব্যবস্থা নেই সেসব জায়গার মেয়েদের অভিভাবকরা বকুলবাসিনীর হস্টেলে পাঠিয়ে দিতেন পড়াশোনার জন্য। হস্টেলের ব্যবস্থা ভালো ছিল, পড়ালেখাও ভালো হত, সেইসঙ্গে মেয়েরা বাংলাও শিখত।

‘এদিকে তোদের দিদার তো কী কান্না, বাবা-মাকে ছেড়ে থাকবার কথা তো তিনি ভাবতেই পারতেন না। দাদু, দিদিমারও খুব মনখারাপ। তাঁরাও লুকিয়ে লুকিয়ে চোখের জল ফেলছেন। কিন্তু তাঁদের কাছে মেয়েকে বাংলা শেখানোর ব্যাপারটা সবচেয়ে আগে। কাজেই মন শক্ত করে তাঁরা তোদের দিদা অর্থাৎ আমার মাকে ইলাহাবাদে বকুলবাসিনী বালিকা বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে মা থাকতে লাগলেন হস্টেলের মেয়েদের সঙ্গে। হস্টেলটা ঠিক অন্য পাঁচটা হস্টেলের মতো ছিল না, সব মিলিয়ে ছিল একটা ঘরোয়া ভাব। ছিল নানা বয়সের মেয়েরা। কেউ এসেছে জব্বলপুর থেকে, কেউ-বা মিরাট থেকে, কেউ- বা গোয়ালিয়র থেকে। হস্টেল দেখাশোনা করেন একজন মাসিমা, আর আছেন স্নেহময়ী নিত্যপ্রিয়াদি। সকলের প্রতি তাঁর এত যত্ন, এত প্রখর মনোযোগ যে, কোনো কিছুই তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে যায় না। রবিবার সকালে আসেন স্বাস্থ্যদিদিমণি সুশীলাদি। তিনি বাংলা জানেন না। তাঁর নিয়মকানুন কড়া ধরনের। ছোটো-বড়ো সকলকেই লাইন করে দাঁড়াতে হয়। সুশীলাদি এসেই মিলিটারি কায়দায় হাঁক পাড়েন, “নাখুন কি সফাই কে লিয়ে হাত উপর।” অমনই সকলে দু-হাতের পাতা উলটো করে উঁচুতে ধরে রাখে। সুশীলাদি কড়া চোখে তাকিয়ে দেখেন কার নখ অপরিষ্কার। সুশীলাদি খাতায় নোট করে নেন। তিনি চলে যাওয়ার আগে নেলকাটার দিয়ে নখ কেটে তাকে দেখাতে হয়— হাত আর অপরিষ্কার নেই। এইরকমই ব্যাপার হয় দাঁতের ক্ষেত্রে, এমনকী, অনেক সময় চুলের ব্যাপারেও।

‘এইভাবেই সকলের সঙ্গে মিলেমিশে দিদার আর ততটা মনখারাপ লাগছিল না, বিশেষত অতজন সঙ্গী তিনি কখনোই পাননি, বেরেলির বাড়িতে তাঁর একলা সময় কাটত। এর ওপর আবার ছিল হস্টেলের মেয়েদের বেড়াতে যাওয়ার প্রোগ্রাম। কোনো রবিবারে চড়ুইভাতি হত খুসরুবাগের পেয়ারাবাগানে। শীতকালে সেখানে কত বড়ো বড়ো গোলাপ আর গাছে গাছে সাদার ওপর লালচে ছিট দেওয়া মিষ্টি পেয়ারা। বাগানরক্ষককে বড়োদিদিমণি পৃথাদি বলেই রাখতেন মেয়েরা ইচ্ছেমতো পেয়ারা পেড়ে খাবে গাছ থেকে। পরে হিসেব করে দাম দেওয়া হবে।

‘কোনোদিন-বা নৌকো চড়ে চলে যাওয়া হত ত্রিবেণী সঙ্গমে, যেখানে গঙ্গা, যমুনা ও লুপ্তধারা সরস্বতী এসে মিশেছে। সরস্বতী ঘাটের পাশে গভীর

যমুনার জলের ওপর এসে পড়েছে সম্রাট আকবরের তৈরি দুর্গের ছায়া, ওপাশে মাঘমেলার সাধুসন্তদের ভিড়। দিদা ক্রমশই অভ্যস্ত হয়ে উঠছিলেন হস্টেলের জীবনের সঙ্গে। সবচেয়ে আনন্দ হত বড়োদিদিমণি পৃথাদি যখন প্রত্যেকের জন্মদিন ঠিক ঠিক মনে রেখে জন্মদিনের কার্ড ও ছোটো ছোটো উপহার পাঠাতেন। পৃথাদি থাকতেন হস্টেলের কম্পাউন্ডের পাশের একটি খুব পুরোনো আমলের বাড়িতে। স্কুলটা তাঁর বাবা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং পৃথাদির যত্নেই স্কুলটার এত নামডাক হয়েছিল।

‘গরমের ছুটি হত দীর্ঘ দু-মাসের; মেয়েরা যে-যার বাড়ি চলে যেত। দিদাও বাড়ি গিয়ে দু-মাস ধরে দুপুরবেলা খসখসের পর্দা ঘেরা ঠান্ডা ঘরে শুয়ে, গল্পের বই পড়ে এবং রাত্তিরে বাড়ির লনে চাঁদের আলোয় চারপাইয়ে পাতা বিছানায় শুয়ে তরমুজের শরবত ও কুলফি মালাই খেয়ে আরাম করতেন। তারপর জুলাই মাসে আবার ইলাহাবাদের বকুলবাসিনীর হস্টেল। গোলমালটা বাঁধল ঠিক তখনই। সাধারণত এই সময়ে এত বৃষ্টি পড়ে না। কিন্তু বৃষ্টি চলল দিনে-রাতে নাগাড়ে সাতদিন। হস্টেলটা ছিল একটা একতলা বাড়ি। ছাত থেকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে জল পড়ে দিদাদের বিছানা ভিজে যেতে লাগল। আলকাতরা, পিচের চট, সিমেন্টের প্রলেপ সবই ধুয়ে যেতে লাগল বৃষ্টির তোড়ে। তখন উপায় বের করলেন পৃথাদি। বললেন, ‘আমার বাড়ির একতলাটা তো খালিই পড়ে থাকে। হস্টেলের মেয়েরা ওখানেই থাকবে বর্ষা কালটা। তারপর বৃষ্টি ধরলে, ছাত সারাই হলে আবার হস্টেলে ফিরে যাবে।’ দিদারা তো সকলে দল বেঁধে চলে গেলেন পাশের কম্পাউন্ডে পৃথাদির বাড়ি। পুরোনো আমলের বাড়ি, সামনে গাড়িবারান্দা, চারপাশের কম্পাউন্ড ঘিরে পাঁচিল।

‘দিনেরবেলাটা তো স্কুলেই কেটে যেত, বিকেলবেলা সবাই এসে জড়ো হত পৃথাদির বাড়ির একতলার বিরাট বড়ো হল ঘরে। সেখানে সারি সারি খাট পাতা, মেয়েরা সেই ঘরেই শোয়। বর্ষার রাত্তিরে খাওয়া-দাওয়ার পাট চুকে যেত তাড়াতাড়ি। সকলেই যে-যার খাটে বসে বই পড়ত। একসময় সকলেরই চোখ ঢুলে আসত ঘুমে। কেউ আগে, কেউ-বা একটু পরে ঘুমিয়ে পড়ত। মাসিমা এসে আলো নিভিয়ে দিয়ে যেতেন। প্রথম দু-এক রাত দিদার ঘুমের কোনো ব্যাঘাত হয়নি। তৃতীয় দিন একটা কুকুরের একটানা ঘেউ ঘেউ ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। পাশের খাটে দীপালিরও ঘুম ভেঙেছে বোঝা গেল। ঘুম ভেঙেছে রূপারও। দিদা শুনলেন দীপালি আর রূপা বলাবলি করছে, ‘রোজ রাত্তিরে কুকুরের ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন ঠিক ঘরের বাইরেই ডাকছে। দিনের বেলায় তো কোনো কুকুর দেখি না এখানে। পৃথাদির তো কোনো পোষা কুকুর নেই।’ দিদার যেন কেমন একটা অস্বস্তি হতে লাগল। এমন সময় জানলার পাশের খাটে শুয়ে থাকা বাণী হঠাৎ হাউমাউ করে চেঁচিয়ে উঠল, কে যেন তার বুকের ওপর চেপে বসেছে, উঠছে না কিছুতেই! দীপালি সকলের চেয়ে একটু বড়ো। তাড়াতাড়ি সুইচ টিপে আলো জ্বালিয়ে দিল। কেউ কোথাও নেই। যে-যার খাটে যে যেমন ছিল ঠিক তেমন ভাবেই শুয়ে আছে। কেউ বলল, হজম হয়নি তাই বুকচাপা হয়েছে, কেউ বলল সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে শ্বাস আটকে গেছে। বাণী কিন্তু আর জানলার ধারের খাটে শুতে রাজি হল না। দীপালির খাটে এসে দীপালির হাত জড়িয়ে ধরে তবেই ঘুমোল। দিদার তো সারারাত আর অস্বস্তিতে ঘুমই এল না, শুধু এপাশ আর ওপাশ করলেন।

‘পরের রাত্তিরে মেয়েরা যে-যার খাটে শুয়ে ছিল। সকলেই যেন উৎকর্ণ হয়ে আছে কুকুরের ডাক শোনবার অপেক্ষায়। এর মধ্যে মিনতির আবার একটু টয়লেট যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। টয়লেট থেকেই ওর তীব্র চিৎকার শোনা গেল। দীপালি, রূপা আর অন্য মেয়েরাও ছুটে গেল সেদিকে। জানলা দিয়ে অস্পষ্ট তারার আলোয় যেন দেখা গেল একটা লাল শাড়ি পরা মেয়ে, মাথায় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুল, হাতে চেনে বাঁধা একটা কুকুর, মিশে যাচ্ছে অন্ধকারের গভীরে। কুকুরের অস্পষ্ট ডাক শোনা যাচ্ছে, ঘেউ ঘেউ…।

‘মিনতি হাঁফাতে হাঁফাতে বলল, ‘ওই মেয়েটা। তার চোখ দুটো অন্ধকারে ধকধক করে জ্বলছে, যেন কুকুর নিয়ে তার বুকে চেপে বসতে চাইছিল।’ এই কথা ক-টা বলে মিনতি যেন আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না। কাঁপছিল।

‘গোলমাল শুনে পৃথাদি দোতলা থেকে নেমে এলেন। সব শুনে কিন্তু মেয়েদের ভীরু বলে উপহাস করলেন না। বরং বললেন, ‘সব ঠিকই তো মিলে যাচ্ছে। তোমরা যে বর্ণনা দিচ্ছ, তা ঠিক আমার বোন বকুলের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তার নামেই হয়েছে আমাদের এই বকুলবাসিনী বালিকা বিদ্যালয়। তার পোষা কুকুরের নাম ছিল পপি। লাল শাড়ি ছিল বকুলের খুব প্রিয়। রোজ বিকেল থেকে সন্ধে অবধি সে লাল শাড়ি পরে ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুল খুলে ঘুরে বেড়াত পপিকে নিয়ে। সেই পপিই একদিন পাগল হয়ে কামড়ে দিল বকুলকে। বকুলের মৃত্যু হল জলাতঙ্কে। পপিকে গুলি করে মেরে ফেলা হল। আমার বাবা তার নামেই গড়ে তুলেছিলেন এই বকুলবাসিনী বালিকা বিদ্যালয়। আমি তাকে আর কোনোদিন দেখিনি, কিন্তু অনুভব করি সে যেন আছে কাছে-কাছেই।

‘পৃথাদির কথায় সকলেই আরও ভয় পেয়ে গেল। ওদিকে বাইরে তখন অন্ধকারের বুক চিরে আবার পড়তে শুরু করেছে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি। ক্রমশ মুষলধারে। পৃথাদি সকলকে সাহস দিয়ে বললেন, ‘কোনো ভয় নেই। ঘরের আর টয়লেটের আলো জ্বালা থাকুক, আমি আজ তোমাদের সঙ্গেই থাকব সারারাত্তির। চলো, লুডো আর ক্যারম খেলা যাক। যাদের ঘুম পাবে, ঘুমিয়ে পড়বে। আমি জেগে আছি।’

‘পৃথাদির দেওয়া এই সাহসে মেয়েরা ক্যারম, লুডো এইসব খেলতে খেলতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ল। তারপর ঘুম ভেঙে দেখে সকাল হয়ে গেছে। আকাশ পরিষ্কার। সূর্যদেব উঁকি মারছেন। গতকাল রাত্তিরের অন্ধকারের আর ভয়ের কোনো চিহ্ন নেই কোথাও।

‘পৃথাদি কিন্তু আর কোনো ঝুঁকি নেননি। পরের দিন থেকেই হস্টেলের মেয়েদের থাকবার ব্যবস্থা করা হয় স্কুলের নতুন বাড়িতে। তারপর বর্ষার পরে ছাত সারাই হওয়ার পর পুরোনো হস্টেলে ফিরে যাওয়া। সে তো আর এক কাহিনি।’

.

এতক্ষণ একটানা গল্প বলার পর মা এবারে থামলেন। বাইরে আবার যেন একটা ঘোর লাগা কাজল কাজল ভাব। তুলি, অলি, তিতলি, চিকুলি সকলেই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বসে ছিল আর মন দিয়ে গল্প শুনছিল। তিতলি হঠাৎ একটু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ও মাসিমণি, এখানে কোনো কুকুর নেই তো। ওই যে ঘেউ ঘেউ একটা ডাক শুনতে পাচ্ছি।’

মা বললেন, ‘ও তো রাস্তার কুকুর, পোষা কুকুর নয়। ওর নাম পপি নয়, ওর নাম ভোম্বল। ওকে আমরা বাসি রুটি খেতে দিই, খিদে পেয়েছে তাই ডাকছে।’

[ আনন্দমেলা, ২৭ এপ্রিল ১৯৯৪ ]