পেতনির নাতজামাই – উজ্জ্বলকুমার দাস
এক গাবগাছে এক বুড়ি পেতনি ও তার নাতনি বসবাস করত। বুড়ি পেতনি ভাবল নাতনির বিয়ে দিতে হবে।
বুড়ি পেতনি একজন ঘটক ভূতকে বলল, ‘ভাই, একটা ভালো ভূত জোগাড় করে দাও না। আমার নাতনির বিয়ে দেব।’
ঘটক ভূত বলল, ‘আচ্ছা দেখি চেষ্টা করে। আমার সন্ধানে অনেক ভালো ভালো ভূত পাত্র আছে— উমদো ভূত, জামদা ভূত, কত…! এক-একটা ভূতকে এক-একদিন তোমার কাছে ধরে নিয়ে আসব। তোমার নাতনি যাকে পছন্দ করবে, তার সঙ্গেই বিয়ে দিয়ে দেব।’
ঘটক ভূত পেতনি বুড়িকে এই কথা বলে বিদায় নিল।
পেতনিরা দেখতে এমনিতেই খুব বিশ্রী হয়। এই বুড়ি পেতনিকেও দেখতে দারুণ বিশ্রী। তবে পেতনি বুড়ির কিছু সম্পত্তি আছে। তা ছাড়া গাবগাছটাও বেশ বিরাট। যে নাতনিকে বিয়ে করবে ভবিষ্যতে সে গাবগাছটাও পাবে।
গাবগাছের মালিকানা আর ঘটকের মুখে বুড়ির সম্পত্তির কথা শুনে উমদো ভূত পেতনি বুড়ির নাতনিকে বিয়ে করতে রাজি হল।
কারণ উমদো ভূতের কোনো আস্তানা ছিল না বলে সে রাস্তাঘাটে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াত।
ঘটক ভূতের মুখে আস্তানা আর বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে উমদো ভূত মনের আনন্দে নাচতে লাগল।
অমাবস্যার রাতে ঘটক ভূতকে সঙ্গে করে উমদো ভূত পেতনি বুড়ির নাতনিকে দেখতে এল।
বুড়ি ঘটক আর ভাবী নাতজামাইকে আদর যত্ন করে বসাল। ভূত পেতনির প্রিয় খাদ্য পচা বাসি কাঁচা মাছ খেতে দিল। উমদো ভূত আর ঘটক ভূত মনের আনন্দে তা পেট ভরে খেয়ে নিল।
খাওয়া-দাওয়ার পর ঘটক ভূত বলল, ‘খাওয়া-দাওয়া তো ভালোই হল। এবার কনে দেখে নিয়ে বিয়ের কথাবার্তা পাকা করা যাক।’
উমদো ভূত বলল, ‘সে তো বটেই।’
বুড়ি পেতনির নাতনি ছাই মাটি মেখে ভীষণরকম সেজে এল। কনের চেহারা দেখে ঘটক ভূত ভিরমি খেয়ে পড়ল, উমদো ভূত যা খেয়েছিল কনের এমন বিশ্রী চেহারা দেখে বমি করে ফেলল।
উমদো ভূতের এরকম : অবস্থা দেখে পেতনি জিজ্ঞেস করল, ‘কী হয়েছে বাবা?’
উমদো ভূত বলল, ‘কিছু না— মাথা ঘুরছিল তাই। হাওয়ায় একটু ঘুরে এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’
উমদো ভূত ঘুরে আসার নাম করে বাইরে এসে সেই যে ছুট লাগাল আর সে ফিরে এল না।
বুড়ি পেতনি আর নাতনি জল ছিটিয়ে দিয়ে ঘটক ভূতের জ্ঞান ফিরিয়ে আনল।
জ্ঞান ফিরে পেয়ে ঘটক বলল, ‘উমদো ভূত বাবাজি কোথায়?’
বুড়ি পেতনি বলল, ‘তার মাথা ঘুরে গিয়েছিল তাই সে একটু হাওয়া খেতে বাইরে গেছে।
ঘটক ভূত আসল রহস্যটা বুঝতে পারল। তাই সে আর কথা বাড়াল না। বুড়ি পেতনি জিজ্ঞেস করল, ‘ভাবী নাতজামাইয়ের হঠাৎ করে মাথা ঘুরল কেন?’
ঘটক বলল, ‘আপনার নাতনির সুন্দর চেহারা দেখেই বোধহয় – যাই, উমদো ভূতকে ডেকে নিয়ে এসে বিয়ের ব্যবস্থাটা পাকাপাকি করে ফেলি।’
উমদো ভূতকে ডাকার অজুহাতে ঘটক ভূতও সেখান থেকে মানে মানে সরে পড়ল, আর গাবগাছের কাছাকাছি গেল না।
ঘটক ভূত আর উমদো ভূতের মুখে বুড়ি পেতনির নাতনির রূপের কথা শুনে কোনো ভূতই আর বুড়ি পেতনির নাতনিকে বিয়ে করতে রাজি হল না।
এদিকে বুড়ির নাতনিরও বিয়ে করবার ভীষণ শখ। মহা সমস্যা। কিছুতেই আর পাত্র পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও দু-একটা ভূত মাঝে মাঝে এ পথ দিয়ে চলাচল করত— তারাও বুড়ির নাতনির ভয়ে এখন আর এ পথে আসে না।
বুড়ি পেতনি এখন কী করে। নাতনির বিয়ে দেওয়া দরকার। এদিকে বুড়ির বয়স হয়েছে কখন মরবে কে জানে? এদিকে নাতনিটার একটা হিল্লে করতে না পারলে বুড়ি মরেও যে কোনো সুখ পাবে না।
এদিকে নাতনি এক বিষম পণ করল, তার নাকি দু-মাসের মধ্যে বিয়ে না হলে, সে আত্মহত্যা করবে। বড়ি পেতনি পড়ল মহা চিন্তায়।
বুড়ি নাতনিকে বলল, ‘আমি তো চেষ্টার কোনো ত্রুটি করছি না। কিন্তু কোনো ভূত পাত্রই যে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না।’
বুড়ি পেতনির নাতনি মুখ বেঁকিয়ে বলল, ‘ভূত ছাড়া কী এ জগতে আর কোনো পাত্র নেই? আমাকে মানুষ পাত্রের সঙ্গেই বিয়ে দাও। আমি ওই ভূতদের বিয়েই করব না।’
বুড়ি পেতনি বলল, ‘গাবগাছের পেতনির নাতজামাই হওয়ার জন্য মানুষের বয়েই গেছে! ঘটক ভূতকে আরও বেশি লোভ দেখিয়ে উমদো ভূতটাকে যদি কোনোরকমে বাগিয়ে দেওয়া যায় তাহলেই নিশ্চিন্ত। একবার বিয়ে হয়ে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
বুড়ি পেতনির নাতনি বলল, ‘আমি বাপু ওইসব উমদো সুমদো ভূতকে বিয়ে করব না। আমি মানুষকেই বিয়ে করব, এই আমার শেষ কথা, নইলে আত্মহত্যা করব সেও ভালো।’
নাতনিকে বুড়ি পেতনি খুব ভালোবাসত। জগতে ওই নাতনি ছাড়া বুড়ি পেতনির আর কেউ নেই। নাতনি গোঁ ধরেছে মানুষ বিয়ে করবে। কিন্তু কোনো মানুষ কি তার নাতজামাই হতে রাজি হবে? মানুষ আর ভূত পেতনি তো এক কথা নয়।
বুড়ি পেতনি নাতনিকে বুঝিয়ে বলতে লাগল ‘বল না নাতনি, মানুষ বিয়ে করা কি সম্ভব? ওরা এক জাত, আর আমরা এক জাত।’
নাতনি বলল, ‘ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। মানুষের রূপ ধরে তুমি আর আমি ওদের পাড়ায় বসবাস করব। টাকার লোভেই হোক আর ছদ্মবেশের ফলেই হোক দু-একটা মানুষ বর জুটে যাবেই।’
বুড়ি পেতনি বলল, ‘সব কথাই বুঝলাম। মানুষের রূপ ধরে ওদের পাড়ায় বসবাস করে তোর না-হয় একটা বিয়ের ব্যবস্থা করা গেল— কিন্তু বাপু, আমি তো আর মানুষের খাবার খেয়ে বাঁচতে পারব না।’
‘তা কেন? লুকিয়ে লুকিয়ে তুমি ও আমি আমাদের খাবারই খাব।’
‘যদি ধরা পড়ে যাই?’
‘আগে বিয়েটা তো হয়ে যাক।’
নাতনিকে সুখী করার জন্য বুড়ি পেতনি আর তার নাতনি মানুষের রূপ ধরে আদুল গাঁয়ের চাষিপাড়ায় এসে উপস্থিত হল।
চাষিরা সরল লোক। বুড়ি পেতনি আর নাতনিকে মানুষ বলেই তারা মনে করল।
পেতনিদের পক্ষে টাকাপয়সা জোগাড় করা অসম্ভব নয়।
বুড়ি পেতনি গ্রামের প্রান্তে টাকার বিনিময়ে পেয়ে গেল একটা কুঁড়েঘর।
বুড়ি পেতনি আর তার নাতনি সেই কুঁড়েঘরে মনের সুখে মানুষ সেজে বসবাস করতে লাগল আর নাতজামাই খুঁজতে লাগল।
সেই গ্রামে রাজীব নামে এক চাষি ছিল। তার কোনো আত্মীয়স্বজন ছিল না। ছেলেবেলাতেই তার বাবা-মা মারা যায়।
জমিজমা যা ছিল আত্মীয়স্বজনরা সব কিছু ঠকিয়ে নেয়। এতদিন ওর এক আত্মীয় দু-বেলা দু-মুঠো ভাতের বিনিময়ে তাকে খাটিয়ে নিত।
রাজীব একদিন খেতের কাজ শেষ করে বাড়ি এল, খিদের জ্বালায় তখন তার পেট জ্বলছিল।
সে বলল, ‘আজ আর কিছু পারব না।’
বাড়ির কর্তা বলল, ‘বেরিয়ে যাও তবে। আমার বাড়িতে আর তোমার কোনো খাওয়া জুটবে না।’
রাজীব আর কী করে!
সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজের বাড়ির দাওয়াতে মনমরা হয়ে বসে রইল।
পাশের বাড়িতেই বুড়ি পেতনি আর তার নাতনির আস্তানা।
বুড়ি পেতনি রাজীবের এই অবস্থার সুযোগ নিতে ভুলল না। বলল, ‘আমার নাতনিকে বিয়ে করলে তোমার আর কোনো দুঃখ থাকবে না। জমিজমাও পাবে অনেক।’
রাজীব অনেক ভেবে-চিন্তে বুড়ি পেতনির কথায় রাজি হয়ে গেল। তারপর?
তারপর এক শুভদিন দেখে বুড়ি পেতনির নাতনির সঙ্গে রাজীবের বিয়ে হয়ে গেল।
গাঁয়ের মুরুব্বি আর মাতব্বরদের পেট পুরে খাওয়ানো হল। নাতনির বাবার নাম গোত্র ইত্যাদি নিয়ে কিছু গোলমাল সৃষ্টি হলেও টাকার লোভ দেখিয়ে বুড়ি পেতনি সকলের মুখ বন্ধ করে দিল।
রাজীব পেতনিদের বাড়িতে উঠে এল। বুড়ি পেতনি নাতজামাইকে বেশ আদর যত্ন করতে লাগল।
রাজীব প্রথমে কিন্তু কিছুই বুঝতে পারল না। কিন্তু দু-দিন যেতে না যেতেই সে বুঝতে পারল যে এদের আচার ব্যবহার ঠিক মানুষের মতো নয়। হাবভাব কথাবার্তা চলার ধরনও স্বাভাবিক নয়।
ওদের মুখেও পচা গন্ধ। এত দুর্গন্ধ যে, এক ঘরে থাকা পর্যন্ত যায় না। বুড়ি পেতনি নাতজামাইকে কিছু জমিজমাও দিল।
এদিকে রাজীব দিন দিন ভাবনা-চিন্তায় শুকিয়ে যেতে লাগল। সে পুষবার জন্য কতকগুলো মুরগি আর ছাগল হাট থেকে কিনে এনেছিল। একটা ঘরে ছাগল আর মুরগিগুলো শিকল দিয়ে বন্ধ করে রেখেছিল।
একদিন ভোরে সে দরজা খুলে দেখে দুটো ছাগল আর চারটে মুরগি নেই।
সে তার দিদি-শাশুড়ি আর বউকে জিজ্ঞেস করল, ‘কী ব্যাপার দুটো ছাগল আর চারটে মুরগি গেল কোথায়?’
বুড়ি পেতনি বলল, ‘আমি তো কিছু জানি না বাবা।’
বউ বলল, ‘বোধহয় শেয়ালে নিয়ে গেছে। ‘রাজীব বলল, শেয়াল তো আর শেকল খুলতে পারে না।
‘আমি জানি না, বাপু।’
কয়েক দিন পরে দেখা গেল যে আর একটা ছাগলও নেই, একটা মুরগিও নেই। রাজীব কিছুই বুঝতে পারল না। আর একদিন রাজীব হাট থেকে অনেক মাছ আনল।
পেতনি বউ বলল, ‘আমি আজ এত রাতে মাছ রাঁধতে পারব না। কাল সকালে যা হয় করা যাবে।’
পরদিন ভোরে দেখা গেল কাঁচা মাছও একটাও নেই। বুড়ি পেতনি আর তার নাতনির মুখে কাঁচা মাছের গন্ধ
রাজীবের মনে খুব সন্দেহ হল, কিন্তু সে মুখে কিছু বলল না। পরদিন হাট থেকে সে আবার অনেকগুলো ছাগল আর মুরগি কিনে নিয়ে এল।
একটা ঘরে বেশ ভালো করে ছাগল আর মুরগিগুলোকে বন্ধ করে রাখল।
সে রাতে সে আর ঘুমাল না। খাটের উপর চুপচাপ চোখ বুজে পড়ে রইল।
মাঝরাতে সে, শুনতে পেলে দিদি-শাশুড়ি বাইরে থেকে তার বউকে ডাকছে— ‘নাতনি ও নাতনি ওঠ, নাতজামাই নিশ্চয়ই এতক্ষণে ঘুমিয়েছে। এবার উঠে আয় আমার ভীষণ খিদে পেয়েছে, আর তো সহ্য হচ্ছে না।’
বুড়ি পেতনির ডাক শুনে পাশ থেকে তার বউ দরজা খুলে বেরিয়ে গেল। একটু পরে ছাগল ও মুরগির ডাক আর বুড়ি পেতনি ও তার নাতনির অট্টহাসি শোনা গেল।
রাজীব বিছানা থেকে উঠে ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে ছাগল-মুরগির ঘরের দিকে তাকিয়ে ভীষণ ভয় পেয়ে গেল।
বুড়ি পেতনি আর তার নাতনি তাদের আসল পেতনি রূপ ধারণ করে এক-একটা ছাগল আর মুরগি ধরে ধরে রক্ত চুষে খাচ্ছে। সে কী ভীষণ চেহারা! সে চেহারা দেখলে অনেক সাহসী বীরও ভয় পেয়ে যাবে।
বুড়ি পেতনি আর তার নাতনি যখন ছাগল ও মুরগির রক্ত খেতে ব্যস্ত রাজীব সেই অবস্থায় বাইরে থেকে দরজার খিল বন্ধ করে দিয়ে চিৎকার করে ডাকতে লাগল— ‘কে কোথায় আছ— বাঁচাও! আমি পেতনির পাল্লায় পড়েছি!
মাঝরাতে রাজীবের এই ধরনের চিৎকার শুনে গ্রামের মুরুব্বিরা লাঠি সড়কি নিয়ে ছুটে এল।
দু-একজন ওঝাও এল। রাজীব গ্রামের লোকদের কাছে সব কথা খুলে বলল।
গ্রামের মুরব্বি বলল, ‘আমার আগে থেকেই কেমন যেন সন্দেহ হয়েছিল।’
এদিকে বুড়ি পেতনি ঘরের ভেতর থেকে খোনা সুরে চিৎকার করে বলতে লাগল ‘নাঁতজামাই দরজা খুলে দে নইলে তোঁর রক্ত চুষে খাব। এতদিন খেতুম— শুধু নাঁতনির মুখ চেঁয়ে তোঁর রক্ত চুষতে পাঁরিনি— নাঁতজামাই তোঁ বঁটে।’
বাইরে থেকে গ্রামের বুড়ো ওঝা চেঁচিয়ে উঠল, ‘বল তোরা কোথাকার পেতনি? এই গ্রামে আসার আগে কোথায় ছিলি?’
বুড়ি পেতনি খোনা গলায় বলল, ‘আমরা ভূঁচণ্ডী মাঁঠের ওঁধারের গাঁব গাঁছের পেঁতনি, নাঁতনিটার মানুষ বিয়ে করার শখ হয়েছিল, তাঁই আঁমরা এই গাঁয়ে এঁসে বাঁসা বেঁধেছি।’
ওঝা তখন বন্ধ ঘরের চারপাশে মন্ত্র পড়ে জল ছিটিয়ে দিতে লাগল।
গ্রামের মোড়ল বলল, ‘পেতনিদের ছাড়া হবে না, দাও ঘরে আগুন লাগিয়ে।’
গাঁয়ের লোকেরা ঘরে আগুন লাগিয়ে দিল।
সবাই ভাবল বুড়ি পেতনি আর তার নাতনি পুড়ে মারা গেছে।
ওঝা বলল, ‘পেতনিদের পুড়িয়ে কখনোই মারা যায় না, ওরা আবার গাবগাছে ফিরে গেছে। আমি মন্ত্র পড়ে দিয়েছি। পেতনিরা আর এ বাড়ির আশপাশে আসতে পারবে না। রাজীব বাবাজি, তুমি কিন্তু আর গাবগাছের কাছে যেও না, হাজার হলেও তুমি নাতজামাই তো!’
সেই থেকে গাঁয়ের লোকেরা রাজীবকে পেতনির নাতজামাই বলে ডাকতে লাগল। পেতনির দেওয়া জমিজমা চাষ করে রাজীবের আর কোনো অভাব রইল না। কিন্তু ‘পেতনির নাতজামাই’ এই বদনামটা আর তার কোনোদিনই ঘুচল না।
[ ছুটির সুবাস (নির্মল বুক এজেন্সী), ২০১৮ ]
