Accessibility Tools

বইয়ের নাম - লেখক
পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী
পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী
0/50
New Courseপেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

বেগম কুঠি – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

অফিসের কাজে গিয়েছিলাম উত্তর বিহারের এক ছোটো শহরে। এক দিনেই কাজ শেষ হয়ে গেল। মাঝখানে দিন দুয়েক ছুটিও ছিল। বাড়ি ফেরবার কোনো তাড়া ছিল না। কী করে সময়টা কাটাব তাই ভাবছি, হঠাৎ মনে পড়ে গেল।

আমার দূর সম্পর্কের এক মামাতো বোন। পূরবী। বছর দশেক আগে এই শহরের কাছাকাছিই কোথায় বিয়ে হয়েছিল। পূরবী বিয়ের পর তার শ্বশুরবাড়ি যাবার জন্য আমাকে অনেকবার চিঠি লিখেছিল। চিঠির উত্তর দিয়েছিলাম, কিন্তু তার কথা রাখা সম্ভব হয়নি। বোধ হয় রাগ করেই পূরবী চিঠি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। অনেক বছর তার কোনো খবর পাইনি।

সেই সুযোগ যখন এসেছে আর হাতে সময়ও আছে, তখন ভাবলাম পূরবীর ওখানে একবার ঘুরেই আসি। খবর না দিয়ে গিয়ে তাকে একেবারে চমকে দেব।

ডায়েরি খুলে পূরবীর ঠিকানাটা দেখে নিলাম। সুলতানপুর। বাড়ির নাম বেগম কুঠি।

সুলতানপুর এখান থেকে মাইল তিনেক। বাস চলে।

ভাবলাম যাবার আগে বোনের জন্য কিছু জিনিস নিয়ে যাই। এই প্রথম যাচ্ছি, কাজেই একেবারে খালি হাতে যাওয়াটা শোভন হবে না। কিন্তু নিয়ে যাবার মতন জিনিস এই ছোটো শহরে পাওয়া সম্ভব নয়।

কিছু কাচের চুড়ি, এক বাক্স মিষ্টি আর দুটো কারুকার্যকরা কাঠের ফুলদানি নিয়ে বিকেলবেলা বাসে চড়ে বসলাম।

সুলতানপুর আরও ছোটো শহর। এখানে গুটিপোকার চাষ হয়। রেশমের কারবার। শুনেছিলাম পূরবীর স্বামী অদিতিবাবু গুটিপোকার ব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞ। এই নিয়ে গবেষণা করছেন।

বেগম কুঠি যখন পৌঁছোলাম, তখন বিকেলের আলো স্নান হয়ে এসেছে। অনেকখানি জায়গা নিয়ে দু-তলা বাড়ি। চারদিকে বাগান। বড়ো বড়ো গাছে ভরতি বোধ হয়, একসময়ে মোগল সুবাদারের কোনো বউ থাকত এখানে। তখন সুবাদারদের দোর্দণ্ড প্রতাপ। দিল্লি অনেক দূর, কাজেই লোকেদের কাছে তারাই বাদশার সামিল ছিল। তাদের পরিবারদের লোকে বেগমের সম্মান দিত।

গেটের কাছেই দুটি ছোটো ছেলের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। কাছাকাছি বয়সের দু-জন। ছুটে ছুটে প্রজাপতি ধরবার চেষ্টা করছে।

আমাকে দেখে খেলা থামিয়ে তারা থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। একজন হিন্দিতে বলল, কাকে চান?

বললাম, পূরবীকে চাই। আমার বোন পূরবী।

অপেক্ষাকৃত কম বয়সের ছেলেটা হাততালি দিয়ে বলে উঠল, আরে, ও তো আমার মা।

একটু লজ্জা পেলাম, কারণ পূরবীর সন্তান থাকতে পারে এ সম্ভাবনার কথা একবারও মনে হয়নি। লজ্জা পেলাম এই জন্য যে এদের জন্য কিছু খেলনা হাতে করে আসা উচিত ছিল।

বড়ো ছেলেটি বলল, আসুন। মা বাগানে আছে।

সব কথাবার্তাই কিন্তু হিন্দিতে চলল।

একটা নিমগাছের কাছ বরাবর আসতেই চমকে উঠলাম।

আরে পানুদা যে!

চেয়ে দেখি পূরবী দাঁড়িয়ে রয়েছে। আগের চেয়ে একটু ভারী হয়েছে শরীর। একটু ফর্সাও হয়েছে।

কোথায় ছিলে?

নিমগাছে। তোমায় দেখে সড়াৎ করে নেমে এলাম।

কথাটা বলে পূরবী মুখে আঁচল চাপা দিয়ে হেসে লুটিয়ে পড়ল।

পূরবী চিরকালই এইরকম। ছোটোবেলা থেকে। মজার মজার কথা বলবে আর হেসে লুটিয়ে পড়বে। এতদিন পরেও ওর স্বভাব বদলায়নি।

তারপর, হঠাৎ যে বোনের কথা মনে পড়ল?

কাছাকাছি একজায়গায় অফিসের কাজে এসেছিলাম, ভাবলাম ঘুরে যাই।

অভিমানে পূরবী মুখটা ভার করল, ও, তাই বলো, শুধু বোনকে দেখতে আসোনি? বোনের কথা মনে ছিল না?

হেসে বললাম, বোনের কথা মনে না থাকলে আর চলে এলাম কী করে? নে, বড্ড তেষ্টা পেয়েছে, একটু চা খাওয়া।

মিষ্টির বাক্সটা একটা ছেলের হাতে তুলে দিলাম। চুড়ি আর ফুলদানি দিলাম পূরবীকে। বললাম, তোর ছেলেদের কথা আমার জানা ছিল না। তুই তো লিখিসনি কিছু!

তোমায় যখন চিঠি লিখতাম তখন এরা হয়নি যে।

এরা বাংলা বলতে পারে না?

কী করে পারবে। ধারে-কাছে কোনো বাঙালি পরিবার তো নেই। ওদের নামগুলো শুনবে?

কী?

বাবুয়া আর ছবুয়া।

ভালো নাম?

ভালো নাম হয়ইনি। এসো, বাড়ির মধ্যে এসো।

বাড়ির মধ্যে ঢুকলাম। সাজানো গোছানো ঘর। একটা চেয়ারে বসলাম। ছেলেদুটিকে কাছে ডাকলাম, কিন্তু তারা এল না।

একজন বলল, বাড়ির মধ্যে ভালো লাগে না। ভয় করে। আমরা বাগানে যাচ্ছি।

দু-জনেই ছুটে বেরিয়ে গেল।

প্রায় আধ ঘণ্টা পর পূরবী এল। এক হাতে থালায় গোটা কয়েক লাল আটার লুচি আর তরকারি, আর এক হাতে কাচের গ্লাসে দুধ।

কীরে চা কী হল?

এখানে চা কেউ খায় না। খুব ভালো দুধ পাওয়া যায়, তাই সবাই দুধ খায়।

ও, এইবার বুঝতে পারছি তুই এত মোটা হলি কী করে। খাঁটি দুধে চর্বি বাড়ায়।

পূরবী আবার হাসতে আরম্ভ করল। তবে থালা বাটি আর গ্লাস তার আগেই আমার সামনে নামিয়ে রেখেছিল।

তোর ছেলেরা এইরকম বাগানে বাগানে ঘোরে? বাড়িতে ঢুকতে চায় না?

পূরবী সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর হয়ে গেল। থেমে থেমে বলল, ভালোই করে পানুদা। বাড়ির মধ্যে না ঢোকাই ভালো। আমি ঢুকেছি আমারই যেন শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।

ব্যাপারটা কিছুই বুঝতে পারলাম না। চারদিকে অবশ্য প্রচুর খোলা জায়গা। অবারিত বাতাস। সেই তুলনায় বাড়ির মধ্যে একটু গুমোট। পূরবী বোধ হয় তারই ইঙ্গিত দিল। কিন্তু অন্ধকার হয়ে এসেছে, এসময় বাগানের মধ্যে ছেলেদের ঘোরাফেরা না করাই ভালো। সাপ থাকতে পারে, কত রকমের বিষাক্ত কীট।

আমি অন্য প্রসঙ্গ আরম্ভ করলাম।

হ্যাঁরে, অদিতিবাবু কখন ফেরেন?

ওর ফেরারও কিছু ঠিক নেই। বাইরে বাইরেই বেশি থাকে।

উনি কী একটা গবেষণা করছিলেন, না?

হ্যাঁ, ওই সব গুটিপোকা নিয়ে। তা গুটিপোকা তো অনেক মরে গেছে।

মরে গেল? কী করে?

আবার পূরবীর মুখের ওপর গাম্ভীর্যের ছায়া নামল। পিছিয়ে গিয়ে দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে বলল, চলি পানুদা তোমার খাবার ব্যবস্থা করি গে।

পূরবী বেরিয়ে গেল।

এতক্ষণ লক্ষ করিনি, ঘরের কোণে একটা হ্যারিকেন জ্বলছিল। বাইরে অন্ধকার গাঢ় হবার সঙ্গে সঙ্গে হ্যারিকেনের দীপ্তি উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

আস্তে আস্তে বেরিয়ে বাইরের রোয়াকে গিয়ে দাঁড়ালাম।

নিকষকালো অন্ধকার। কোথাও আলোর ক্ষীণ দীপ্তিও নেই। ওপরের দিকে চেয়ে দেখলাম, দু-তলার কোনো ঘরে আলো জ্বলছে না।

একটু দূরে একতলা একটা ঘর। সম্ভবত সেটাই রান্নাঘর। কিন্তু সেখানেও ঘুটঘুটে আঁধার।

তাহলে রান্নার ব্যবস্থা করতে পূরবী গেল কোথায়?

এতক্ষণ পরে সব কিছু যেন একটু অস্বাভাবিক ঠেকল। মনে হল, এভাবে আমি আসাতে পূরবী যেন খুব খুশি হয়নি। আশা করেছিলাম, আমার কাছে বসে গল্প করবে। আমার মা-বাবার কথা জিজ্ঞাসা করবে। আমার বউ-ছেলে-মেয়ের খবর নেবে। কিন্তু সেসব কিছুই করল না।

ক্ষুণ্ণমনে আবার ঘরের মধ্যে গিয়ে ঢুকলাম। রাত বাড়ছে। বাইরে একটা পেঁচা ডেকে উঠল। ঘরের কোণে একটা তক্ষকের ডাকও শোনা গেল।

বেশ খিদে পেয়েছে। পেটের নাড়িগুলো মোচড় দিয়ে উঠল। আস্তে আস্তে পায়চারি করতে আরম্ভ করলাম। নিঃঝুম বাড়ি। বাবুয়া ছবুয়ার গলার স্বরও শোনা গেল না।

বড্ড দেরি হয়ে গেল পানুদা। পোড়াবাড়িতে কিছু নেই। সব আনতে হল। নিজেকে ছুটতে হল দোকানে।

ঘরের মধ্যে ঢুকতে ঢুকতে পূরবী বলল।

তোকে? কেন, বাড়িতে কি চাকর কেউ নেই?

আর বলো না। এ হতভাগা দেশে মানুষ আছে নাকি! নাও, বসো।

পূরবী টেবিলের ওপর থালা রাখল। পাশে জলের গ্লাস।

বসেই হতাশ হলাম। ক-খানা আধপোড়া রুটি, একটা কুমড়োর তরকারি আর সঙ্গে আমারই দেওয়া একটা মিষ্টি।

এই সামান্য রান্নার জোগাড় করতেই পূরবী রাত কাবার করে ফেলল। বেশ বুঝতে পারলাম আমি অবাঞ্ছিত অতিথি। আমার এখানে আসাটা পূরবীর মোটেই মনঃপূত নয়। ঠিক করলাম, ভোরের আলো ফোটবার সঙ্গে সঙ্গেই পালাব। আর এক দিনও এখানে নয়।

পেটে আগুন জ্বলছিল, কাজেই নির্বিচারে সেই আধপোড়া রুটিগুলোর সদ্‌ব্যবহার করলাম। মুখ ধুয়ে পূরবীকে বললাম, শোবার ব্যবস্থা করে দে। বড্ড ক্লান্ত লাগছে কাল সকালেই বরং অদিতিবাবুর সঙ্গে দেখা করব।

এদিকের ঘরে এসো।

পূরবী আঙুল দিয়ে পাশের ঘরের দিকে দেখাল।

তার পিছন পিছন পাশের ঘরে ঢুকলাম। জানলা নেই, একটা ঘুলঘুলি তার নীচে একটা দড়ির খাটিয়া পাতা। বিছানার যে ব্যবস্থা তাতে রাত্রে যে ঘুম হবে, এমন আশা দুরাশা।

একটি কথাও না বলে, মনের রাগ মনে চেপে খাটিয়ায় শুয়ে পড়লাম। শোবার সঙ্গেই দড়িগুলো আর্তনাদ করে উঠল। এপাশ-ওপাশ করতে সাহস হল না, কী জানি, যদি ছিঁড়ে যায়!

শুয়ে শুয়ে ঘরটা নিরীক্ষণ করলাম। বোধ হয় মোগলযুগে বদমাইশ প্রজাদের শায়েস্তা করার জন্য এ ঘরটা ব্যবহৃত হত। ঘুলঘুলিটা কোনোরকমে বন্ধ করে দিলে, বাইরের আলো বাতাসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকবে না।

শরীর আর মন দুইই ক্লান্ত ছিল। নানা চিন্তা করতে করতে একসময় ঘুমের কোলে ঢলে পড়েছিলাম। হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম না ভেঙে উপায়ও ছিল না। মনে হল, খাটিয়াটা ধরে হিড়হিড় করে কারা যেন ঘরময় টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে!

চোখ খুলতেই খাটিয়াটা স্থির হয়ে গেল। ভাবলাম, ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু ভালো করে এদিক-ওদিক দেখেই আশ্চর্য হয়ে গেলাম।

শোবার সময় খাটিয়াটা ঘুলঘুলির তলায় ছিল, কিন্তু এখন খাটিয়াটা একেবারে উলটোদিকে, অর্থাৎ চৌকাঠের কাছে।

ধড়মড় করে উঠে বসলাম। আমার ওঠার সঙ্গে সঙ্গে খাটিয়াটাও যেন দু-ফিট শূন্যে উঠে আবার আস্তে আস্তে মেঝের ওপর নেমে এল।

গতিক মোটেই সুবিধার নয়। নেমে পড়ে পাশে রাখা পাঞ্জাবিটা গায়ে দিয়ে নিলাম। জুতোজোড়াও পরলাম।

বাইরে যেন কাদের গুঞ্জন। চাপা হাসি আর কথাবার্তার আওয়াজ। পা টিপে টিপে বাইরে এসে দাঁড়ালাম।

অবারিত জ্যোৎস্না। চারদিক দিনের আলোর মতন পরিষ্কার। দেখতে একটুও অসুবিধা হল না। নিমগাছের তলায় চারজন বসে। পূরবী, বাবুয়া, ছবুয়া আর একজন ভদ্রলোক, তিনিই নিশ্চয় অদিতিবাবু। কিন্তু কারোরই রক্তমাংসের শরীর নয়, শুধু কঙ্কাল। সবাইয়ের মাঝখানে কী-একটা পড়ে আছে, হাত দিয়ে তুলে তুলে চারজনেই একটু একটু করে মুখে দিচ্ছে।

বাইরে যেতে হলে ওই নিমগাছের পাশ দিয়েই যেতে হবে। উপায় নেই, যেমন করেই হোক আমাকে এই বেগম কুঠি ছেড়ে পালাতেই হবে।

খুব সন্তর্পণে গাছের আড়াল দিয়ে এগোতে আরম্ভ করলাম। জুতোজোড়া খুলে হাতে নিয়ে। একেবারে নিমগাছটার কাছাকাছি যেতে বুঝতে পারলাম ওদের সামনে একটা মরা ছাগল। তারই নাড়িভুঁড়িগুলো টেনে টেনে বের করে সবাই মুখে দিচ্ছে মুখের দু-পাশ বেয়ে টাটকা রক্তের ধারা গড়িয়ে পড়ছে। হাত তোলা আর নামানোর সঙ্গে সঙ্গে হাড়ে হাড়ে লেগে শব্দ হচ্ছে ঠক, ঠক, ঠক!

কোনোরকমে ফটকের বাইরে কয়েক পা আসতেই পিছনে একটা দারুণ শব্দ। চমকে ঘাড় ফিরিয়ে দেখলাম বেগম কুঠি ভেঙে পড়ছে। ইঁটের টুকরো, দরজা জানলার কাঠ ছিটকে পড়ছে চারদিকে।

জুতো হাতে করেই তিরবেগে ছুটতে শুরু করলাম। কেবল মনে হতে লাগল পিছনে পিছনে চারটে কঙ্কালমূর্তিও ছুটে আসছে। ধরতে পারলে ওই ছাগলটায় মতনই রক্তমাখা আমার নাড়িভুঁড়িগুলো টেনে বের করে জলযোগ সারবে।

কতক্ষণ দৌড়েছিলাম মনে নেই। শেষদিকে পথ ছেড়ে মাঠে নেমে পড়েছিলাম। কাঁটাগাছ, জল, কাদা কোনোদিকে দৃকপাত করিনি। চলতে চলতেই দূরের পেটা ঘড়িতে ঢং ঢং ঢং করে তিনটে বাজতে শুনলাম।

আচমকা একটা লোকের সঙ্গে ধাক্কা লাগতে ছিটকে পড়ে গেলাম। মুখ দিয়ে কেবল গোঁ-গোঁ শব্দ বের হল।

একটু পরে জ্ঞান ফিরতে দেখলাম একজন চৌকিদার আমার মুখের ওপর ঝুঁকে রয়েছে। বুঝতে পারলাম তার সঙ্গেই ধাক্কা লেগেছিল।

সব শুনে চৌকিদার বলল, আরে রামজী, বেগম কুঠি তো সেই বড়ো ভূমিকম্পের সময় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এক বাঙ্গালিবাবু, তার আওরত, দুই ছেলে সব বাড়ি চাপা পড়ে খতম। ও জায়গার পাশ দিয়ে কেউ যায় না। নানারকম শব্দ শোনে, হরেকরকমের মূর্তি দেখে। আমিও ওদিকে পাহারায় যাই না। আমি নিজে এক আওরতকে নিমগাছের মধ্যে মিশে যেতে দেখেছি।

এ ঘটনার পর অনেকদিন কেটে গেছে। এখনও মাঝে মাঝে বেগম কুঠির সে রাতের ঘটনাটা স্বপ্নে দেখা দেয়। আর্তনাদ করে বিছানার ওপর উঠে বসি। বাকি রাতটা আর ঘুমাতে পারি না।

পাড়ার দু-একজন মাতব্বর বলছে গয়ায় এদের পিণ্ড দিয়ে আসতে। ভাবছি কী করব!

[ শুকতারা, ভাদ্র ১৩৭৪ (অগাস্ট ১৯৬৭) ]